04/06/2026
"আসামীর দোষ স্বীকারোক্তি "সত্য ও স্বেচ্ছাধীন" হলেও তা হত্যা মামলায় আসামীর বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণ হয়েছে মর্মে গণ্য হবে না।"
Bhuboni Sahu Vs. The King". [1949] UKPC
সাক্ষ্য আইনের -৩০, ১১৪(b) এবং ১৩৩ ধারা অত্যন্ত চেনা। কিন্তু এই ধারাগুলোর মধ্যকার জটিল সম্পর্কের সবচেয়ে সহজ ও ঐতিহাসিক সমাধান এসেছিল ১৯৪৯ সালে প্রিভি কাউন্সিলের একটি বিখ্যাত রায়ের মাধ্যমে— "Bhuboni Sahu Vs. The King"।.
১. সহ-আসামীর জবানবন্দি কোনো ‘মূল সাক্ষ্য’ নয়: প্রিভি কাউন্সিলের লর্ড স্যার জন বিউমন্ট স্পষ্ট জানান, সহ-আসামীর দোষস্বীকারোক্তি (Confession of co-accused) কোনো প্রথাগত বা স্বতন্ত্র সাক্ষ্য (Substantive Evidence) নয়।
কারণ এতে কোনো শপথ নেওয়া হয় না এবং একে জেরা (Cross-examination) করার সুযোগ থাকে না।
২. এটি কেবল আদালতের 'মন ভাঙার' বা 'আশ্বস্ত' করার অস্ত্র: আদালত প্রথমে মামলার অন্যান্য সাধারণ ও অকাট্য প্রমাণগুলো দেখবেন। সেগুলো দিয়ে যদি অপরাধ প্রায় প্রমাণ হয়েই যায়, কিন্তু বিচারকের মনে সামান্য একটু খটকা বা সন্দেহ থাকে— কেবল সেই সন্দেহ দূর করতেই সহ-আসামীর জবানবন্দিকে অতিরিক্ত সাহায্য (Assistance) হিসেবে নেওয়া যাবে।
৩. দুর্বল + দুর্বল = শক্তিশালী নয়! একজন দুষ্কর্মের সহযোগীর (Accomplice) সাক্ষ্য এমনিতেই দুর্বল। সেই দুর্বল সাক্ষ্যকে সমর্থন দেওয়ার জন্য অন্য সহ-আসামীর জবানবন্দি ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ, দুটি দুর্বল প্রমাণ মিলে একটি সবল প্রমাণ তৈরি করতে পারে না।
লর্ড জন বিউমন্টের সেই ঐতিহাসিক উক্তি:
"সহ-আসামীর জবানবন্দি কেবল তখনই মামলা পরিচালনায় সাহায্য করতে পারে, যখন অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ আসামীর বিরুদ্ধে একটি ভিত্তি বা কাঠামো দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। এটি কেবল আদালতের মনকে আশ্বস্ত করার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে, কোনো সাজার মূল ভিত্তি হিসেবে নয়।"
বাংলাদেশ ও ভারতের বিচার ব্যবস্থায় এই রায়টি আজো একটি মাইলফলক। পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থা যাতে কেবল একজনের মুখে দেওয়া স্বীকারোক্তির জোরে অন্য কাউকে ফাঁসিয়ে দিতে না পারে এবং কোনো "স্বেচ্ছাচারী সাজা" যেন না হয়— এই রায় আজো তা নিশ্চিত করে।
এক লাইনে বললে: কারো মুখের কথায় সাজা নয়, সাজা হবে অকাট্য প্রমাণে!