Know Your Rights with Adv. Byezid Hossain

Know Your Rights with Adv. Byezid Hossain আইনানুযায়ী সকল নাগরিককে তাঁর প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করাই আমাদের লক্ষ্য।

17/09/2025

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে বাজার মূল্য প্রদর্শন করা যাবে না। পূর্ববর্তী বছরে প্রদর্শিত মূল্যই দিতে হবে। তবে নতুন সম্পদ হলে প্রকৃত ক্রয়মূল্য উল্লেখ করতে হবে।

18/08/2025

আপনাদের অধীর আগ্রহ আর উৎসাহে লিখতে সাহস পেলাম অনেকটা। যদি আপনাদের মাধ্যমে কোন পরিবর্তন আসে। কিছু উপকৃত হলে নিজেরও ভালো লাগবে। যদিও খুব বড় পোস্ট তবে একবার জেনে গেলেই হবে।
#পার্ট০১
----------------------------
এই অংশে থাকছে যারা একদম নতুন পাসপোর্ট (ORDINARY PASSPORTS) করতে চান তাঁদের আবেদনের প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় যা যা লাগবে তার বিস্তারিত বিবরণ। তবে যাঁদের রিনিউ আবেদন এবং GO/NOC/ সরকারি অবসরপ্রাপ্ত সুবিধায় সাধারণ বা অফিসিয়াল পাসপোর্ট করবেন তাঁদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কিছু ক্ষেত্রেই চেঞ্জ থাকবে। তাই অবশ্যই জানার জন্য এই পার্ট সংগ্রহে রাখতে হবে। কারণ পরের পার্টে কেবল পরিবর্তিত অংশটুকুই আলোচনা করা হবে। ইনশাল্লাহ!!
শুরুতেই বলে নিই আপনার হাতে যদি একটা স্মার্ট ফোন থাকে আর যদি অনলাইনে ব্রাউজ করতে পারেন তাহলে নিজে নিজেই সব সম্ভব। দরকার শুধু নিজের ইচ্ছেটুকু। আপনার মাধ্যমেই চেঞ্জ আনা সম্ভব।

** *****অনলাইনে আবেদন করতে বসার আগে আপনার সাথে প্রয়োজনীয় যা লাগবে -
- একটি এক্টিভ ইমেইল আইডি
- বয়স ০-২০ হলে অনলাইনে থাকা ENGLISH VERSION BRC এর মূল কপি
- বয়স ২০ এর বেশি হলে বাধ্যতামূলক NID এর মূল কপি
- একাডেমিক সনদ(যদি থাকে)
- পিতামাতার NID এর কপি
- জরুরী ভিত্তিতে যোগাযোগের জন্য যার তথ্য দিবেন তাঁর BRC (English Version) /NID, Mobile number, Email ID
- বিবাহিত হলে স্ত্রীর NID
- বাসার যেকোন বিলের কপি ( বিদ্যুত/ গ্যাস/ পানি) অথবা শহরে হলে কাউন্সিলর সনদ যাতে বাসার এড্রেস আছে বা ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকলে তার আইডি
- গ্রামের যারা তাঁরা চেয়ারম্যান সনদ সংগ্রহ করে নিবেন
এবার আসা যাক অনলাইনে আবেদন করার মূল প্রক্রিয়ায়। শুরুতেই আপনাকে epassport.gov.bd তে গিয়ে ইমেইল আইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সেখানে আপনার নাম(Given Name & Surname), বর্তমান ঠিকানা এবং একটি পাসওয়ার্ড দিতে হবে (পাসওয়ার্ড অবশ্যই কোথাও লিখে রাখবেন)।
I am human এ টিক দেন। এই রেজি: দিয়ে আপনি ৬ টি আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। রেজি: করা হলে আপনার ইমেইলে একটি লিংক যাবে। সেটা ওপেন করে HERE অপশনে ক্লিক করবেন, মূল পেইজ চলে আসবে।
আপনি যদি নিজের জন্য আবেদন করেন তাহলে I apply for myself অপশনে ক্লিক করবেন। আর অন্যের হলে দরকার নাই।
অনলাইনে একদম নতুন আবেদনকারীদের মোট ১০ টি বিষয় ফিল আপ করতে হবে।সেগুলা হলো -
1. Passport Type
2. Personal Information
3. Address ( permanent and present)
4. ID Documents
5. Parental Information
6. Spouse Information
7. Emergency Contact
8. Passport Options
9. Delivery Options & Appointment
10. Payment Type & Final Submission

*******এবার প্রতিটা বিষয় পূরণের নিয়ম দেয়া হলো-
★★1. Passport Type --

এই ধাপে আপনাকে শুধু সিলেক্ট করতে হবে কি ধরণের পাসপোর্ট করবেন। ( এখানে শুধু একদম সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়া জানানো হবে। যারা সরকারি চাকুরীজীবী, পিতামাতা সরকারি চাকুরীজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরীজীবী, স্বামী/ স্ত্রী সরকারি চাকুরীজীবী তাঁদের বিষয়ে পরের পোস্টে জানানো হবে)। তাই ORDINARY সিলেক্ট করবেন। তারপর save দিলে পরের ধাপ আসবে। আপনি চাইলে তা আবারো এডিট করতে পারবেন।

★★2. Personal Information --
- শুরুতেই বলেছি যদি নিজের জন্য আবেদন করেন তাহলে I apply for myself সিলেক্ট করে থাকলে এখানে আপনার নাম অটো চলে আসবে আর অন্যজনের আবেদন করলে নাম লিখতে হবে।
- এক্ষেত্রে সমস্যা যা হয় তা হলো Given name (GN)& Surname(SN) নিয়ে। এটা আপনার ইচ্ছে মতো সাজিয়ে লিখতে পারবেন।
যদি আপনার নাম একটি শব্দে হয় তাহলে GN skip করে শুধু SN ফিল আপ করবেন।
যেমন - শুধু Abul হলে
GN :................
SN : ABUL
যদি দুই শব্দের হয় ABUL KALAM
GN: ABUL
SN : KALAM
এক্ষেত্রে MD/MRS/MST বা Short Name হলেও এভাবেই দিবেন।
যদি তিন শব্দের হয় ABUL KALAM AZAD তাহলে -
GN - ABUL / ABUL KALAM
SN : KALAM AZAD / AZAD
যদি চার শব্দের হয় MD ABUL KALAM AZAD তাহলে-
GN : MD ABUL KALAM
SN : AZAD
অর্থাৎ কঠিন কিছুই না। আপনার ইচ্ছে মতো সাজাবেন। তবে কোন ডট, হাইফেন প্রিন্ট হয় না, তাই তা দিবেন না। যেমন - A. K. AZAD বা A. B. M. SAYEM SHAH তাহলে
GN: A K / A B M
SN : AZAD / SAYEM SHAH
-- Religion সিলেক্ট করতে হবে
- Gender সঠিকভাবে সিলেক্ট করবেন, অনেকেই ভুল করে male এর স্থলে female দিয়ে দেন। প্রিন্ট হয়ে গেলে তারপর দেখতে পান।
- আপনার পেশার অপশন আসবে। এটা খুব গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ পেশা অনুযায়ী অনেকসময় ডকুমেন্ট চাওয়া হয়। আবেদনের সময় প্রায় ৬৪ টি পেশার অপশন আছে। যেহেতু সাধারণের জন্য তাই বেশিরভাগ সিলেক্ট হবে Private / student / farmer / housewife /business / Artist/ Journalist / Doctor / Engineer/Driver/ dependent (for child) / others etc. আপনি যদি টেকনিকাল পেশা দেন যেমন - DOCTOR তাহলে BMDC সনদ দিবেন, Business হলে TIN সনদ (যদি থাকে)। মূল কথা পেশাগত ডকুমেন্ট থাকলে অবশ্যই দিতে হবে।

- তারপর মোবাইল নম্বর। এতে প্রয়োজনীয় আপডেট মেসেজ যাবে। তাই নিজের নম্বরটা দিবেন। অনেকেই দোকানের কারো নম্বর দিয়ে দেয়, পরে মেসেজ পায় অন্যজন।
- District of Birth আপনার BRC/ NID তে উল্লেখ আছে সেটা দেখে পূরণ করবেন।
- Date of Birth ( BRC/ NID তে যা আছে তাই দিবেন)। যদি একাডেমিক সনদের সাথে মিল না থাকে তাহলে কারেকশন করে নিবেন আগেই।
এইবার save দিলেই পরের ধাপ আসবে।

★★3. Address

address -
- আপনার NID তে স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ নাই তাই সঠিকটা জেনেই পূরণ করবেন। NID র পিছনে যা থাকে তা মূলত আপনি কোন এলাকার ভোটার হয়েছেন সেটা । যদিও অনেকেই স্থায়ী ঠিকানায় ভোটার হন। তবে ব্যতিক্রম থাকে অনেক। দেখা যায় ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভোটার হয়েছিল সেটা কিন্তু তার স্থায়ী ঠিকানা না। এখন আবার পড়া শেষে থাকেন অন্য জেলায় কিন্তু আইডি চেঞ্জ করেননি। পিছনের অংশটা ভালোভাবে দেখেই পূরণ করতে হবে। আর যারা স্থায়ী ঠিকানায় ভোটার হয়েছেন তাঁরা NID অনুযায়ী স্থায়ী ঠিকানা দিবেন। এখানে যা দিতে হয় -
- District ( সিলেক্ট করতে হবে)
- City/village / House (শহরে হলে যে এলাকায় থাকেন সেটা এবং বাড়ি নং আর গ্রামে হলে শুধু গ্রামের নাম ; বিলের কপিটা হাতে নিয়ে দেখবেন মিল দিয়েছেন কিনা)
- Road/block/ sector ( শহরে হলে ভালোভাবে উল্লেখ করবেন আর গ্রামের হলে পাড়া/বাড়ির নাম দিবেন)
- Post office (এটা সিলেক্ট করতে হবে, তা দিলেই Post code চলে আসবে)
- Police Station ( এটাও সিলেক্ট করতে হবে)
★ভেরিফিকেশনে যাবে তাই ভালোভাবে দেখে পূরণ করবেন। (যাঁদের স্থায়ী ঠিকানা নদী ভাঙ্গনজনিত কারণে হারিয়ে গেছে বা অন্য যেকোন কারণে তাঁরা অবশ্যই চেয়ারম্যান সনদ ও উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ভূমিহীন সনদ নিবেন, নতুবা পুলিশের রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে)!

Address -
মনে রাখতে হবে আপনার present address যা দিবেন সেই অনুযায়ী পাসপোর্ট অফিস সিলেক্ট হবে অটোমেটিক যেখানে আপনার সমস্ত
কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সেখানের বাসার বিলের কপি অফিসে জমা দিতে হবে।
- আপনি যদি স্থায়ী ঠিকানায় থাকেন তাহলে শুধু Same as Permanent বক্সে ক্লিক করবেন। সব অটো চলে আসবে। নিচে দেখবেন আপনার অফিসের নাম চলে আসছে। ঢাকায় বিভিন্ন থানা অনুযায়ী অফিস আসবে, সেটা খেয়াল করবেন, এই ধাপেই নিচে দেখবেন Passport Office..আর জেলায় হলে সেই জেলার অফিস।
- আর যদি প্রেজেন্ট এড্রেস স্থায়ী ঠিকানায় না হয় তাহলে বাসার বিলের কপিটা সাথে নিয়ে রাখবেন।
- District সিলেক্ট করুন
- city/village /house আগের মতই
- Road/block/ sector (House & Road no. বিলের কপি দেখে দিবেন কারণ শহরে হলে আবেদনের সাথে বিলের এড্রেস না মিললে আবেদন জমা নিবে না।)
- Post office, Post code ( শহরে হলে জেনে নিন কোনটা)
- Police station (এটা অনুযায়ী অফিস আসবে নিচে, ঢাকায় হলে দেখে নিন কোন অফিস আসছে। অনেকেই উত্তরা আবেদন করে ভুলে আগারগাও চলে আসেন) বর্তমান ঠিকানা যদি ভোটার আইডির সাথে মিল থাকে তাহলে তা দেখে নিতে হবে। BRC (English Version) তে যেভাবে আছে সেভাবে পূরণ করবেন।
★ ভেরিফিকেশনে ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে, তাই সঠিক ঠিকানা দিবেন।

★★4. ID Document--
যেহেতু আপনার আগের কোন MRP পাসপোর্ট নাই তাই এখানে "NO, I don't have " অপশন সিলেক্ট করতে হবে। তবে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে আপনার যদি আগের পাসপোর্ট থাকে এবং সেটা যদি হাতে লেখা পাসপোর্ট যা 2010 সালের আগের হয় তাহলেও এই একই অপশন সিলেক্ট করতে হবে কারণ সিস্টেমে হাতে লেখা পাসপোর্ট চেক হয় না) ★আর যাঁদের আগের MRP পাসপোর্ট আছে তাঁদের প্রক্রিয়া পরের পোস্টে জানানো হবে।★
- আপনার BRC / NID নম্বরটা দিতে হবে। ভালো করে চেক করে তারপর পূরণ করবেন। এটা ভুল করবেন না। BRC ( English Version) যদি অনলাইনে না থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। নতুবা আপনার কাজ কিছুই হবে না।

*★★5. Parental Information --
যেহেতু NID তে পিতামাতার নাম বাংলায় লেখা থাকে আবার মহিলাদের আইডিতে আগে স্বামীর নাম দেয়া তাই আপনার একাডেমিক সনদ থাকলে সেখানে পিতামাতার English Name দেখে নিতে হবে অবশ্যই। আপনি যদি পড়াশোনা করে থাকেন তাহলে ভুলেও পিতামাতার NID দেখে তাঁদের নাম দিবেন না কারণ অনেকের NID তে পিতামাতার নামে MD/MST নাই যদিও পিতামাতার NIDতে তা আছে। আপনার NID তে যেভাবে আছে ঠিক সেভাবে পূরণ করুন। আর যাঁদের একাডেমিক সনদ নাই তাঁরা সঠিকভাবে Spelling দিবেন, তবে ভিসা জটিলতা এড়াতে পিতামাতার NID র নাম অনুযায়ী আপনার NID ঠিক করে তারপর আবেদন করুন। আর যারা সচেতন তাঁদের ধন্যবাদ।
- যাঁরা BRC দিয়ে আবেদন করবেন তাঁদের পিতামাতার নাম English দেয়া আছে যেহেতু BRC অবশ্যই ENGLISH VERSION হতে হবে।বাংলা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আবেদন করে অফিসে গেলে আবেদন গ্রহণ হবে না। সেটা দেখেই তাঁদের নাম দিবেন।
- পিতামাতার পেশা ভালোভাবে সিলেক্ট করবেন। (যাঁদের পিতামাতা GOVERNMENT SERVICE এবং ১৫ বছরের নিচে বয়স তাহলে NOC নিয়ে নিবেন, ইহার বিস্তারিত পরের পোস্টে পাবেন)।
- পিতামাতার NID নম্বর উল্লেখ করতে হবে। যদি আপনার নিজের NID থাকে তাহলে এটা বাধ্যতামূলক নয় তবে BRC থাকলে পিতামাতার NID/BRC নম্বর উল্লেখ করতেই হবে যা বাধ্যতামূলক এবং সেটা অফিসে অবশ্যই জমা দিতে হবে।
★ এখানে আরেকটা অংশ থাকে তা হলো Legal Guardian. আপনার যদি কোন Legal Guardian না থাকে তাহলে এই অংশ পূরণ করতে হবে না। অনেকেই ভুল করে স্থানীয় কারো নাম দিয়ে রাখেন আবেদনের সময়, পরে অফিসে জমা নেয় না। সুতরাং " আমার অভিভাবক " টাইপের কারো নাম বসিয়ে দিবেন না। এইসব আইনি বিষয়। তাই দরকার নাই।

★★6. Spouse Information --
এই ধাপে Single /married /Divorced /widower(বিপত্নীক) /widow(বিধবা) অপশন থাকবে।
- যদি Single /Divorced হয়ে থাকেন তাহলে শুধু এটা সিলেক্ট করলেই হবে। save করে চলে যাবেন পরের ধাপে।( Divorce কপি সাথে রাখবেন, ভেরিফিকেশনে চাইতে পারে এবং অফিসে জমা দিবেন প্রয়োজনে)
- আর যদি Married /Widower/Widow হন তাহলে স্বামী-স্ত্রীর NID/BRC অনুযায়ী নাম উল্লেখ করতে হবে।
- NID/BRC নম্বর উল্লেখ করতে হবে (অপশনাল তবে দেয়াটাই উত্তম)
- স্বামী/স্ত্রীর পেশা GOVERNMENT SERVICE (GS)হলে NOC নিতে হবে, সেক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা আছে, ভেরিফিকেশনে যায় না সেটা পরের পোস্টে পাবেন।
- তবে স্বামী /স্ত্রীর পেশা Retired GS (RGS) হলে, যাঁরা সম্পূর্ণ রাজস্বখাতের ছিলেন, তাঁদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। এই আবেদনকারীর কোন ভেরিফিকেশন হবে না এবং বাড়তি একধাপ সুবিধা পাবেন। তবে অবশ্যই স্বামী/স্ত্রীর অবসরের আদেশ কপি বা অবসরবহি বা PRL কপি জমা দিতে হবে। জমা না দিলে সে সুবিধা পাবেন না।
এরপরে save দিলেই পরের ধাপ আসবে।

★★7.. Emergency Contact --
মনে রাখবেন এই অংশটুকু আপনার পাসপোর্টে প্রিন্ট হবে। তাই গুরুত্ব দিয়ে পূরণ করতে হবে।
- এক্ষেত্রে পরিবারের কারো তথ্য দিবেন (কোন GF/BF এর তথ্য না দেয়াই শ্রেয়)
- Relationship select করতে হবে।
- তাঁর NID/BRC অনুযায়ী নাম দিবেন
- এক্টিভ মোবাইল নম্বর খুব ভালোভাবে দেখে দিবেন কারণ পাসপোর্টে এই নম্বরটাই আসবে, আপনার নম্বর না।
- তাঁর ঠিকানা (যতটা সম্ভব স্থায়ী ঠিকানা দিবেন)
- তাঁর ইমেইল আইডি (অপশনাল, তবে দিয়ে রাখাই উত্তম)।
এরপর save দিয়ে পরে ধাপে যাবেন।

★★8. Passport Options ---
এই অংশটুকু ডিপেন্ড করবে আপনি শুরুতেই Passport Type কি দিয়েছেন তার উপর।
- ৬৪ পাতার পাসপোর্ট অনেকসময় বন্ধ থাকে যা নোটিশ দিয়ে জানানো হয় এবং সিস্টেমে অফ করে রাখা হয়। তাই অটো সিলেক্ট হয়ে যায়।
- আগেই যেহেতু Ordinary passport সিলেক্ট করা তাই 5/10 years আসবে। আপনাকে সিলেক্ট করতে হবে কত বছরের নিবেন। ১০ বছরের করে নিশ্চিত থাকেন।
- তবে বয়স যাঁদের ১৫ এর নিচে তাঁদের শুধু 5 Years মেয়াদের আসবে। আর ৭৫ বছরের বেশি হলে 5 Years আসবে।(এটা জন্মতারিখ অনুযায়ী অটো চলে আসবে যে কত বছরের পাবেন।)
- Official Passport বা GO/NOC দিয়ে আবেদন যাঁদের তাঁদের কেবল 5 Years আসবে। (তা পরের পোস্টে বিস্তারিত পাবেন)
save দিয়ে পরের ধাপে যাবেন।

★★9. Delivery Options & appointment ---
- এটার উপর ডিপেন্ড করে আপনি কতদিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে চান। যদি Regular সিলেক্ট করেন তাহলে ১৫ কর্মদিবসে এবং Express সিলেক্ট করেন তাহলে ৭ কর্মদিবসে পাবেন। সেই অনুযায়ী আপনাকে টাকা জমা দিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে পুলিশের রিপোর্ট করা দেরি হলে পাসপোর্ট পেতে কিছুদিন দেরি হতে পারে।
- যাঁদের GO/NOC থাকবে তাঁদের জন্য বিশেষ সুবিধা যা পরের পোস্টে জানানো হবে।
- Appointment options কেবল ঢাকা জেলার বিভিন্ন অফিসের জন্য প্রযোজ্য কারণ এখানে ব্যাপক আবেদন জমা হয় এবং শিডিউলিং করতে হয়। তাই আপনাকে কিছু তারিখ দেখাবে এবং সময় দেখাবে। আপনাকে তা নিজের সুবিধামতো সিলেক্ট করতে হবে। Express ফি দিলে দ্রুতই তারিখ পাওয়া যায়।
★★এখানে খুব বেশিবার ট্রাই করবেন না তাহলে আবার রেজিট্রেশন করে সেই শুরু থেকে আবার সব করতে হবে! যে তারিখ পাবেন সেই তারিখেই আপনাকে অফিসে গিয়ে ইন্টার্ভিউ এবং বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে হবে।
- আর যারা ঢাকার বাহিরে আবেদন করবেন তাঁরা যেকোনো দিন অফিস টাইমে অফিসে গিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

★★★★ এই ধাপ সম্পন্ন করার আগে প্রতিটা ধাপে ক্লিক করে করে আবার চেক করে নিতে পারবেন। এটা save হয়ে গেলে আপনাকে পুরো Information Show করবে। তারপর Payment options এ নিয়ে যাবে।

★★10. Payment ----
- আপনি যদি কনফিডেন্টলি ফিল আপ করে থাকেন এবং নিশ্চিত থাকেন যে কোন ভুল হয়নি তাহলে Payment Type ONLINE সিলেক্ট করবেন। অনলাইনে টাকা জমা দেয়ার বিভিন্ন মাধ্যম দেখাবে, সেগুলো সিলেক্ট করে টাকা জমা দিবেন। আপনাকে Ekpay থেকে ই-চালান ভাউচার দিবে সেটা ডাউনলোড করে রাখবেন।
- আর যদি ভাবেন যে আবেদনে কোন ভুল হতে পারে বা সঠিক হয়নি তাহলে ভুলেও ONLINE Payment সিলেক্ট করবেন না কারণ কোন ভুল হলে সেই আবেদন অফিসে গিয়ে cancel করতে হবে এবং আপনার টাকা চলে যাবে। আবার নতুন করে টাকা জমা দিতে হবে। তাই OFFLINE Option সিলেক্ট করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে আবেদনে কোন ভুল থাকলেও তা অফিসে গিয়ে cancel করে নতুনভাবে আবেদন করা যায় এবং টাকা লস যাবে না। তারপর ব্যাংকে বা কোন কম্পিউটারের দোকানে গেলে (যাঁরা আবেদন করে দিতে পারে) তাঁরা এ- চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে পারবেন। তাঁদের কাছ থেকে চালানের কপি সংগ্রহ করতে হবে।
- Payment options select করার পর (অনলাইনে দিলে সাথে সাথে নিবে আর অফলাইনে দিলে আবেদন সাবমিট করে টাকা জমা দিবেন) FINAL সাবমিট করতে হবে। যাঁরা অনলাইন পেমেন্ট করবেন তাঁরা আগের ধাপেই সব চেক করে নিয়েই তারপর পেমেন্ট দিবেন। সাবমিট হয়ে গেলে আপনার ৩ পেইজের মূল আবেদন কপি ডাউনলোড করে রেখে দিতে হবে।
- আবেদন জমার পর শিডিউলের কপি ( Print summary copy) ডাউনলোড করতে হবে।

**** OFFLINE টাকা জমা দেয়ার নিয়ম ****
- মনে রাখতে হবে যে আবেদন করেছেন NID/BRC অনুযায়ী, সুতরাং টাকাও জমা দিতে হবে NID/BRC তে থাকা নাম অনুযায়ীই। নামের Spelling খুব ভালোভাবে চেক করে নিতে হবে।
- আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত এমন আসেন যাঁরা ভুল তথ্যে এ চালানের ( A challan) টাকা জমা দিয়েছেন যা তাঁদের NID/BRC তে থাকা নামের সাথে মিলে না বা Spelling ভুল। আপনি অনলাইনে আবেদন ভুল করতে পারেন, তা পাসপোর্ট অফিসে সংশোধনের উপায় আছে কিন্তু টাকা জমায় ভুল করলে তা আমাদের হাতে সুযোগ নাই। আপনাকে আবার টাকা জমা দিতে হবে।
ভুল যেমন হয় - Md Sadik এর জায়গায় ভুলে Md Sabik হয়ে যায়। এতে আপনার পুরো নামই চেঞ্জ হয়ে গেল। সেক্ষেত্রে আবার নতুন করে টাকা জমা দিতে হবে। সুতরাং ব্যাংকে বা যেভাবেই টাকা জমা দেন সঠিক নাম অনুযায়ীই দিবেন।

*******
***এবার অফিসে গিয়ে আপনার কাজ সম্পন্ন করার ধাপ।
অফিসে শিডিউল তারিখে যাবার সময় যে কাগজপত্র নিয়ে যাবেন তা হলো -
১. শিডিউল পেইজ (Print Summary copy)
২. অনলাইন আবেদনপত্র
৩. টাকা জমার চালান কপি
৪. NID/BRC ( English Version) মূল কপি ও ফটোকপি
৫. BRC দিয়ে আবেদন করলে অবশ্যই পিতামাতার NID/BRC (English Version)র মূল কপি ও ফটোকপি
৬. বর্তমান ঠিকানায় বাসার বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানির বিলের কপি/ কাউন্সিলর সনদ/ভার্সিটি আইডি কার্ড
*গ্রামে হলে বিদ্যুৎ বিলের কপি ও চেয়ারম্যান পরিচয়পত্র কপি
৭. পেশা অনুযায়ী প্রযোজ্য পেশাগত ডকুমেন্ট (ব্যবসা হলে TIN /Doctor হলে BMDC/Engineers Certificate /Driving License /Student ID card/ স্বামী-স্ত্রীর অবসরের কপি ইত্যাদি)
৮. ৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য Lab print 3R Size Gray Background রঙিন ১ কপি ছবি।
৯. বয়স যাঁদের ১৮ এর নিচে তাঁদের সাথে অবশ্যই অবশ্যই অভিভাবক (মা-বাবা উভয় বা একজন) আসতেই হবে।
১০. ছবি তোলার সময় কোন াদা ড্রেস গ্রহণযোগ্য না, তাই অন্য যেকোন কালারের ড্রেস পরিধান করবেন। আর সাদা হইলে এতে স্ট্রাইপ বা চেক থাকলে চলবে।
**সকল ডকুমেন্ট ০২( দুই) সেট করে
১ সেট রেখে দিবেন নিজের কাছে, ভেরিফিকেশনে চাইবে এইসব।

**** সকল ডকুমেন্ট নিয়ে অফিসে গিয়ে প্রথমে সমস্ত শৃঙ্খলা অনুসরণ করে একজন অফিসারের কাছে ইন্টার্ভিউ সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আপনার আবেদন ও ডকুমেন্ট চেক করে OID এক্টিভ করে দিবেন এবং সিল স্বাক্ষর দিলে তা নিয়ে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে যাবেন।
★★খেয়াল রাখুন, আপনি যদি অনলাইন আবেদনের সময় কোন ভুল করে থাকেন যেমন : নাম, বয়স, পিতামাতার নাম, আইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, পেশা, ইমেইল এর যেকোনটা তাহলে অফিসারকে বলতে ভুলবেন না অবশ্যই। এটাই লাস্ট সুযোগ। উনি তা দাগ দিয়ে দিলে ছবি তোলার সময় এডিট করে দিবেন যিনি বায়োমেট্রিক নিবেন। সুতরাং ছবি তোলার সময় অবশ্যই কি কি ভুল করেছেন তা আবার মনে করিয়ে দিবেন যেন তা এডিট করে দেয়।
- বায়োমেট্রিক দেয়ার সময় আপনার ১০ আঙ্গুলের ছাপ নিবে
- আপনার দুই চোখের আইরিশ নিবে
- আপনার ছবি তোলা হবে
- আপনার স্বাক্ষর নেয়া হবে
(মনে রাখবেন, কোন নির্দিষ্ট আঙ্গুলের ছাপ না দেয়া গেলে বা কেটে গেলে তার মেডিকেল সনদ দিতে হবে। কোন একটি চোখের আইরিশ নষ্ঠ হয়ে গেলে তার মেডিকেল সনদ দিতে হবে আর দুইটাই নষ্ঠ হলে মেডিকেল সনদ নিয়ে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হবে।
- এইসব শেষ করে আপনাকে একটা Delivery Slip দেয়া হবে। আবারো বলছি কোন ভুল থাকলে সাথে সাথে বলুন, এডিটের শেষ সুযোগ। সাবমিট দিয়ে দিলে আর সুযোগ নাই।!! চেক করেন টাকার পরিমাণ ঠিক দিয়েছে কিনা, Delivery Type, কত বছরের ৫/১০ তা দেখুন। সব ঠিক থাকলে বাসায় যান।

***এর পরেরধাপ পুলিশ ভেরিফিকেশন।***
- মোবাইলে আপনার EID আর Date of Birth দিয়ে Status চেক করে দেখতে পারবেন। অথবা হেল্পলাইনে ফোন দিতে পারেন। যখন দেখবেন Pending Police Clearance তখন থেকেই যেকোন সময় SB/DSB থেকে আপনার নম্বরে ফোন যেতে পারে। স্থায়ী এবং প্রেজেন্ট দুই জায়গায় ভেরিফিকেশনে যাবে। যেকোন একটা দেরি হলে বা নেগেটিভ আসলে ফাইনাল এপ্রোভালে আসবে না। কোন মামলা সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে নেগেটিভ আসবে। তবে বেশিরভাগ ঠিকানা নেগেটিভ আসে। নতুন পাসপোর্ট নিজ জেলায় করা উত্তম কারণ একটাই ভেরিফিকেশন হবে। উনারা সকল ডকুমেন্ট চেক করে তারপর ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট জমা দিলেই তা এপ্রোভালে চলে যাবে।
রিপোর্ট দেরি হলে সময় আরো বাড়বে। তাই যতটা সম্ভব দ্রুত পেতে চাইলে নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ করুন, জরুরি হলেই কেবল।
এপ্রোভাল হয়ে গেলে নিশ্চিন্তে ঘুমান। আপনার পাসপোর্ট প্রিন্ট হবার অপেক্ষায় আছে। তা ৩-৭ দিন পরে প্রিন্ট হয়, তারপর শিপমেন্টে দেয়া হয়। শিপমেন্টে দেয়ার ১-২ দিন পরে পাসপোর্ট পৌঁছে যাবে আপনার আবেদিত অফিসে। প্রতি ধাপেই আপনার মোবাইলে মেসেজ যাবে। সব শেষ মেসেজ Your passports is ready for issuance গেলে সেই ডেলিভারি স্লিপের মূলকপিটা নিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।

🌹🌹Happy Journey 🌹🌹
নেক্সট (পার্ট -২) সরকারি চাকুরীজীবী /স্বায়ত্তশাসিত /সেমি-গভর্নমেন্ট চাকুরীজীবী/রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকার/পূর্ণ সরকারি অবসরপ্রাপ্ত, অফিসিয়াল, রিনিউ পাসপোর্ট করার পদ্ধতি এবং বিস্তারিত আলোচনা। অবশ্যই এই অংশটুকু সংগ্রহে রাখবেন কারণ শুধু কিছু কিছু অংশেই ব্যতিক্রম হবে, বাকিসব এটার
মতোই।..............

#পার্ট০২ লিংক এখানে

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2627185524104941&id=100004405562910&mibextid=Nif5oz

৩য় পর্ব #পার্ট০৩

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2658166771006816&id=100004405562910&mibextid=Nif5oz
#পাসপোর্ট_জিজ্ঞাসা
#ইপাসপোর্ট #পাসপোর্টআবেদন


**Kallul hasan ভাইয়ের টাইম লাইন থেকে নেওয়া

এখন থেকে ২০২৫-২৬ কর বর্ষের আয়কর রিটার্ন কতিপয় ক্ষেত্র ব্যতিত সকল স্বাভাবিক ব্যক্তির জন্য অনলাইনে দাখিল করা বাধ্যতামূলক...
03/08/2025

এখন থেকে ২০২৫-২৬ কর বর্ষের আয়কর রিটার্ন কতিপয় ক্ষেত্র ব্যতিত সকল স্বাভাবিক ব্যক্তির জন্য অনলাইনে দাখিল করা বাধ্যতামূলক ।

আইনও বিচার বিভাগের পদায়ন বিধিমালা-২০২৫
28/07/2025

আইনও বিচার বিভাগের পদায়ন বিধিমালা-২০২৫

24/07/2025

আইন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন আইন ২০২৫ আজ অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। এই আইন কার্যকরী হলে গ্রেফতার ও আটক নিয়ে মানুষের হয়রানী অনেক কমে যাবে, পুলিশের জবাবদিহীতা বাড়বে এবং বিচার কাজ দ্রুততর হবে। এই আইনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হচ্ছে।
• পুলিশকে পরিচয় প্রকাশ করে গ্রেপ্তার করতে হবে। গ্রেপ্তার করলেই মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট পূরণ করতে হবে পুলিশকে। গ্রেপ্তারকৃতের সব আইনি সুরক্ষা প্রতিপালিত হয়েছে কি না, মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্টে তার চেকলিস্ট পূরণ করতে হবে, যা গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
• ৫৪ ধারায় পুলিশের গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা অবারিত থাকছে না। কগনিজেবল অফেন্স পুলিশের সামনে ঘটতে হবে বা পুলিশকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে আসামি এই অপরাধ করেছে। সন্তুষ্টির কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে
• গ্রেপ্তারের পর গ্রেপ্তারকৃতের পরিবারকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে
• গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা রিমান্ডের পর আসামি অসুস্থ বা আহত হলে তাকে ডাক্তার কর্তৃক পরীক্ষা করতে হবে এবং আঘাতের কারণ নিশ্চিত হতে হবে, তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশের দায় থাকলে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে
• যে সংস্থাই গ্রেপ্তার করুক না কেন, গ্রেপ্তারের তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় জিডিভুক্ত করতে হবে। প্রত্যেক থানায় ও জেলা/ মেট্রো পুলিশ হেডকোয়ার্টারে প্রতিদিনের গ্রেপ্তারের তথ্য ও তালিকা প্রদর্শন করতে হবে
• সাক্ষী ও ভিকটিমের সুরক্ষায় আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবে। আদালত সাক্ষীর প্রয়োজনীয় খরচ দিতে পারবে
• এক মামলায় পুলিশ রিমান্ড কোনোভাবে ১৫ দিনের বেশি দেয়া যাবে না, আগে আনলিমিটেড দেয়ার সুযোগ ছিল।
• মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হলে বাধ্যতামূলক সাজা দিতে হবে এবং এক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করা হয়েছে

✒️ডঃ আসিফ নজরুল
মাননীয় উপদেষ্টা, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

পারিবারিক আদালতের মোকদ্দমা, চেক এর মামলা (৫ লক্ষ টাকার কম), যৌতুকের মামলা (৩ ও ৪ ধারা), নারী নির্যাতন মামলা (১১গ) সহ বেশ...
02/07/2025

পারিবারিক আদালতের মোকদ্দমা, চেক এর মামলা (৫ লক্ষ টাকার কম), যৌতুকের মামলা (৩ ও ৪ ধারা), নারী নির্যাতন মামলা (১১গ) সহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে এখন থেকে সরাসরি বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না।

প্রথমে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হবে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান না হলে এরপর মামলা দায়ের করতে হবে। মধ্যস্থতা চেষ্টার সময়টুকু তামাদি থেকে বাদ যাবে।

01/07/2025

Shahidul Islam ভাই লিখেছেন:

আজ থেকে করবর্ষ ২০২৫-২৬ শুরু হয়েছে। যেহেতু ট্যাক্স রিলেটেড জবের সাথে আছি, তাই এ বিষয়ে আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে সহজ ভাষায় আপনাদের সাথে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার করার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

পর্ব-০১ঃ-
রিটার্ন ঃ
আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট একজন করদাতার বার্ষিক আয়, ব্যয় এবং সম্পদের তথ্যাবলী নির্ধারিত ফরমে উপস্থাপন করার মাধ্যম হচ্ছে রিটার্ন। আয়কর আইন অনুযায়ী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার রিটার্নে সকল প্রকার আয়ের বিবরণ, বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত সকল প্রকার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণ এবং, ক্ষেত্রমত, জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার ব্যয়ের বিবরণ উল্লেখ করতে হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

কাদের রিটার্ন দাখিল করতে হয়ঃ-

দুই শ্রেণীর মানুষের রিটার্ন দাখিল করবেন-
ক. যাদের করযোগ্য আয় রয়েছে;
খ. যাদেরকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

যাদের করযোগ্য আয় রয়েছে-

১. কোন স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার আয় যদি কোন আয়বর্ষে ৩,৫০,০০০/- টাকার বেশি হয়;
২. মহিলাা বা ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের ক্ষেত্রে তা যদি ৪,০০,০০০/- টাকার বেশি হয়;
৩. তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং প্রতিবন্ধী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার আয় যদি ৪,৭৫,০০০/- টাকার বেশি হয়;
৪. গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি ৫,০০,০০০/- টাকার বেশি হয়।

যাদেরকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হবেঃ-

আয়কর নির্দেশিকা (2024-25) অনুসারে , মোট ৫১ টি ক্ষেত্রে যাদেরকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। আমি এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্র উল্লেখ করছি-

১. আয়বর্ষের পূর্ববর্তী তিন বছরের যেকোনো বছর করদাতার কর নির্ধারণ হয়ে থাকে বা তার আয় করযোগ্য হয়ে থাকে;
২. ফার্মের অংশীদার হলে;
৩. কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী হলে;
৪. সরকারি কর্মচারী হলে;
৫. কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য আয় থাকলে;
৬. করারোপযোগ্য আয় না থাকা সাপেক্ষে, ২০ (বিশ) লক্ষাধিক টাকার ঋণ গ্রহণে;
৭. আমদানি নিবন্ধন সনদ বা রপ্তানি নিবন্ধন সনদ প্রাপ্তিতে ও বহাল রাখতে;
৮. সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়নের জন্য;
০৯. সমবায় সমিতির নিবন্ধন প্রাপ্তিতে;
১০. সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ১০ (দশ) লক্ষাধিক টাকার জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয় বা লিজ বা হস্তান্তর বা বায়নানামা বা আমমোক্তারনামা নিবন্ধন করতে;
১১. ক্রেডিট কার্ড প্রাপ্তিতে ও বহাল রাখতে;
১২. চিকিৎসক, চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি অথবা সার্ভেয়ার হিসাবে বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসাবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ও বহাল রাখতে;
১৩. ট্রেডবডি বা পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদ প্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;
১৪. ড্রাগ লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই লাইসেন্স ও ছাড়পত্র প্রাপ্তি ও নবায়নে;
১৫. যেকোনো এলাকায় গ্যাসের বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগ পেতে এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রাপ্তি এবং বহাল রাখতে;
১৬. লঞ্চ, স্টিমার, মাছ ধরার ট্রলার, কার্গো, কোস্টার ও ডাম্ব বার্জসহ যেকোনো প্রকারের ভাড়ায় চালিত নৌযানের সার্ভে সার্টিফিকেট প্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;
১৭. ইটভাটা স্থাপনে;
১৮.সিটি কর্পোরেশন বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে;
১৯. আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;
২০. এল/সি বা ঋণপত্র খোলতে;
২১. পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করতে;
২২. বাংলাদেশে অবস্থিত ভোক্তাদের নিকট ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ে;
২৩. ভেন্ডর বা দলিল লেখক হিসাবে নিবন্ধন বা লাইসেন্স পেতে;
২৪. হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মোটেল, হাসপাতাল, ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়নকালে।

রিটার্ন জমা দেওয়া মানেই কি ট্যাক্স দেয়া?

অনেক সময় একটা প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘুরপাক খায় যে, রিটার্ন দাখিল করলেই কি ট্যাক্স আদায় করতে হবে? উত্তর হচ্ছে-রিটার্ন জমা দেয়ার অর্থ এই না যে, রিটার্ন জমা দাখিলকারীকে অবশ্যই কর আদায় করতে হবে। যেমন- ধরুন, আব্দুল করিম নামক একজন সরকারি কর্মচারী, যার বার্ষিক আয় ২,৫০,০০০ টাকা। তাকে আয়কর আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল করতে হবে কিন্তু তার করযোগ্য আয় (৩,৫০,০০০ এর বেশি) না থাকায় কোন কর দিতে হবে না। সুতরাং, রিটার্ন দাখিল করলেই কর আদায় করতে হয় না। কেবল করযোগ্য আয় থাকলেই কর আদায় করতে হয়।

গুরুত্বপুর্ন পদক্ষেপ
26/06/2025

গুরুত্বপুর্ন পদক্ষেপ

সেভ করে রাখুন কাজে লাগবে। পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত ১০০টি শব্দের অর্থের তালিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত অন...
16/06/2025

সেভ করে রাখুন কাজে লাগবে। পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত ১০০টি শব্দের অর্থের তালিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত অনেক শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে। কিছু শব্দ খুব কম ব্যবহৃত হয়। যারা পুরাতন দলিলের শব্দের অর্থ বোঝেন না, তাদের জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো —

১) মৌজা: গ্রাম
২) জে.এল. নং: মৌজা নম্বর/গ্রামের নম্বর
৩) ফর্দ: দলিলের পাতা
৪) খং: খতিয়ান
৫) সাবেক: আগের/পূর্বের
৬) হাল: বর্তমান
৭) বং: বাহক (যিনি নিরক্ষর ব্যক্তির নাম লেখেন)
৮) নিং: নিরক্ষর
৯) গং: অন্যান্য অংশীদার
১০) সাং: সাকিন/গ্রাম
১১) তঞ্চকতা: প্রতারণা
১২) সনাক্তকারী: বিক্রেতাকে চিনেন এমন ব্যক্তি
১৩) এজমালি: যৌথ
১৪) মুসাবিদা: দলিল লেখক
১৫) পর্চা: প্রাথমিক খতিয়ানের নকল
১৬) বাস্তু: বসতভিটা
১৭) বাটোয়ারা: সম্পত্তির বণ্টন
১৮) বায়া: বিক্রেতা
১৯) মং: মোট
২০) মবলক: মোট পরিমাণ
২১) এওয়াজ: সমমূল্যের বিনিময়
২২) হিস্যা: অংশ
২৩) একুনে: যোগফল
২৪) জরিপ: ভূমি পরিমাপ
২৫) চৌহদ্দি: সীমানা
২৬) সিট: মানচিত্রের অংশ
২৭) দাখিলা: খাজনার রশিদ
২৮) নক্সা: মানচিত্র
২৯) পিং: পিতা
৩০) জং: স্বামী
৩১) দাগ নং: জমির নম্বর
৩২) স্বজ্ঞানে: নিজের জ্ঞানের ভিত্তিতে
৩৩) সমুদয়: সব কিছু
৩৪) ইয়াদিকৃত: পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু
৩৫) পত্র মিদং: পত্রের মাধ্যমে
৩৬) বিং: বিস্তারিত
৩৭) দং: দখলকারী
৩৮) পত্তন: সাময়িক বন্দোবস্ত
৩৯) বদলসূত্র: জমি বিনিময়
৪০) মৌকুফ: মাফকৃত
৪১) দিশারী রেখা: দিকনির্দেশক রেখা
৪২) হেবা বিল এওয়াজ: বিনিময়সূত্রে জমি দান
৪৩) বাটা দাগ: বিভক্ত দাগ
৪৪) অধুনা: বর্তমান
৪৫) রোক: নগদ অর্থ
৪৬) ভায়া: বিক্রেতার পূর্বের দলিল
৪৭) দানসূত্র: দানকৃত সম্পত্তি
৪৮) দাখিল-খারিজ: মালিকানা পরিবর্তন
৪৯) তফসিল: সম্পত্তির বিবরণ
৫০) খারিজ: পৃথক খাজনা অনুমোদন
৫১) খতিয়ান: ভূমির রেকর্ড
৫২) এওয়াজসূত্র: বিনিময় সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি
৫৩) অছিয়তনামা: উইল/মৃত্যুকালীন নির্দেশ
৫৪) নামজারি: মালিকানা হস্তান্তরের রেকর্ড
৫৫) অধীনস্থ স্বত্ব: নিম্নস্তরের মালিকানা
৫৬) আলামত: মানচিত্রে চিহ্ন
৫৭) আমলনামা: দখলের দলিল
৫৮) আসলি: মূল ভূমি
৫৯) আধি: ফসলের অর্ধেক ভাগ
৬০) ইজারা: নির্দিষ্ট খাজনায় সাময়িক বন্দোবস্ত
৬১) ইন্তেহার: ঘোষণাপত্র
৬২) এস্টেট: জমিদারি সম্পত্তি
৬৩) ওয়াকফ: ধর্মীয় কাজে উৎসর্গকৃত সম্পত্তি
৬৪) কিত্তা: ভূমিখণ্ড
৬৫) কিস্তোয়ার জরিপ: কিত্তা ধরে ভূমি পরিমাপ
৬৬) কায়েম স্বত্ব: চিরস্থায়ী মালিকানা
৬৭) কবুলিয়ত: স্বীকারোক্তি দলিল
৬৮) কান্দা: উচ্চভূমি
৬৯) কিসমত: ভূমির অংশ
৭০) খামার: নিজস্ব দখলীয় ভূমি
৭১) খিরাজ: খাজনা
৭২) খসড়া: প্রাথমিক রেকর্ড
৭৩) গর বন্দোবস্তি: বন্দোবস্তবিহীন জমি
৭৪) গির্ব: বন্ধক
৭৫) জবরদখল: জোরপূর্বক দখল
৭৬) জোত: প্রজাস্বত্ব
৭৭) টেক: নদীর পলি জমে সৃষ্টি ভূমি
৭৮) ঢোল সহরত: ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা
৭৯) তহশিল: রাজস্ব এলাকা
৮০) তামাদি: নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত
৮১) তফসিল: সম্পত্তির বিবরণ
৮২) নামজারি: মালিকানা হস্তান্তর
৮৩) নথি: রেকর্ড
৮৪) দেবোত্তর: দেবতার নামে উৎসর্গকৃত
৮৫) দখলী স্বত্ব: দখলের ভিত্তিতে মালিকানা
৮৬) দশসালা বন্দোবস্ত: দশ বছরের বন্দোবস্ত
৮৭) দাগ নম্বর: জমির ক্রমিক নম্বর
৮৮) দরবস্ত: সব কিছু
৮৯) দিঘলি: নির্দিষ্ট খাজনা প্রদানকারী
৯০) নক্সা ভাওড়ন: পূর্ব জরিপের মানচিত্র
৯১) নাম খারিজ: পৃথককরণ
৯২) তুদাবন্দি: সীমানা নির্ধারণ
৯৩) তরমিম: সংশোধন
৯৪) তৌজি: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রেকর্ড
৯৫) দিয়ারা: নদীর পলিতে গঠিত চর
৯৬) ট্রাভার্স: জরিপের রেখা পরিমাপ
৯৭) খাইখন্দক: জলাশয় বা গর্তযুক্ত ভূমি
৯৮) চর: নদীর পলি জমে গঠিত ভূমি
৯৯) চৌহদ্দি: সম্পত্তির সীমানা
১০০) খাস: সরকারি মালিকানাধীন জমি

বিঃদ্রঃ
এই শব্দগুলো পুরাতন দলিল পড়ার সময় আপনাকে দারুণ সহায়তা করবে। সেভ করে রেখে দিন — প্রয়োজনে অমূল্য হয়ে উঠবে।

06/06/2025

সবাইকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা
ঈদ মোবারক

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর কাংখিত মাসআলাটি আল-কাউছারে চলে আসল৬১৮৪. প্রশ্নদেশের কোনো কোনো এলাকায় কুরবানীর গোশত বণ্টনের একটি সমা...
04/06/2025

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর কাংখিত মাসআলাটি আল-কাউছারে চলে আসল

৬১৮৪. প্রশ্ন
দেশের কোনো কোনো এলাকায় কুরবানীর গোশত বণ্টনের একটি সমাজপ্রথা চালু আছে। এই সমাজের নিয়ম ‎হল, এলাকার যারা কুরবানী করেন, তাদের কুরবানীর গোশতের তিন ভাগের একভাগ বাধ্যতামূলকভাবে সমাজে জমা ‎করতে হয়। পরবতীর্তে এই গোশত নির্দিষ্ট সমাজভুক্ত সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা কুরবানী করেছেন এবং যারা কুরবানী ‎করেননি সবার মধ্যে বণ্টন করা হয়। এরূপ বণ্টন কি শরীয়মসম্মত? এক্ষেত্রে করণীয় কী?‎

উত্তর

কুরবানীর গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটি আমাদের দেশের কোনো কোনো এলাকায় প্রচলিত একটি সমাজপ্রথা। ‎সাধারণ দৃষ্টিতে এটি একটি ভালো উদ্যোগ মনে হতে পারে; কিন্তু কোনো সামাজিক প্রথা বা রীতি পালন করার জন্য তা ‎শরীয়তের দৃষ্টিতে শুদ্ধ ও আমলযোগ্য কি না— তাও নিশ্চিত হতে হয়। ভালো নিয়ত থাকলেও শরীয়ত সমর্থন করে না ‎অথবা ইসলামের নীতির সাথে মানানসই নয় এমন কোনো কাজ করা বা এমন কোনো রীতি অনুসরণ করার সুযোগ ‎নেই।
প্রশ্নোক্ত সমাজপ্রথাটিতে উদ্দেশ্য ভালো হলেও যে পদ্ধতিতে তা করা হয় এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে মৌলিক কিছু আপত্তি ‎রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, সামাজিক এ প্রথার কারণে সকলেই তার কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজের ‎লোকদের হাতে দিতে বাধ্য থাকে। এবং এর বিলি-বণ্টন ও গ্রহিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু সমাজপতিদেরই হাত থাকে। ‎গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা শরীয়তসম্মত নয়। কেননা শরীয়তে কুরবানী ও গোশত বণ্টন একান্তই ‎কুরবানীদাতার নিজস্ব কাজ।
ঈদের দিন সম্মিলিতভাবে জামাতে নামায আদায় করতে বলা হলেও কুরবানীর জন্য কত মূল্যের পশু কিনবে, সে পশু ‎কোথায় জবাই করবে, গোশত কীভাবে বণ্টন করবে—এ বিষয়গুলো কুরবানীদাতার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ‎শরীয়তে কুরবানীর কিছু গোশত সদকা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-দুঃখীদের কুরবানীর ‎গোশত দিতে তাকিদও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা কুরবানীদাতার উপর অপরিহার্য করা হয়নি। বরং কুরবানীদাতা কী ‎পরিমাণ গোশত নিজে রাখবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কাকে কাকে বিলি করবে আর কী পরিমাণ আগামীর ‎জন্য সংরক্ষণ করবে— এগুলো কুরবানীদাতার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার এবং ব্যক্তিগতভাবে করার কাজ। এটিকে ‎সামাজিক নিয়মে নিয়ে আসা ঠিক নয়।
তাই শরীয়তের মাসআলা জানা না থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত যে পদ্ধতি প্রচলিত ‎হয়েছে, তা পরিহারযোগ্য। নিম্নে সংক্ষেপে প্রশ্নোক্ত প্রথাটির কিছু ক্ষতির দিক উল্লেখ করা হল—‎
১. অনেক কুরবানীদাতার পরিবারের সদস্য-সংখ্যা বেশি হওয়ায় অথবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নিজ পরিবারের ‎জন্য বেশি গোশত রাখার প্রয়োজন হয়; ফলে সে পরিবারের জন্য বেশি গোশত রাখতে চায়। আবার অনেকে তার ‎কোনো দরিদ্র আত্মীয়কে কুরবানীর গোশত দিতে চায়। কিন্তু সামাজিক এই বাধ্যবাধকতার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ‎সামাজিক রীতি অনুযায়ী কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজে দিতে বাধ্য হয়। অথচ হাদীস শরীফে ইরশাদ ‎হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—‎
إِنَّهُ لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ‎.‎
কোনো মুসলমানের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল নয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২০৬৯৫)‎
২. প্রশ্নোক্ত প্রথায় গোশতদাতা তার দানের অংশটি কাকে দেবে সে স্বাধীনতা হারায়। হয়তো সে তার নিকটাত্মীয় অথবা ‎পরিচিত কাউকে একটু বেশি পরিমাণে দিত, কিন্তু এক্ষেত্রে তার জন্য এমনটি করার সুযোগ থাকে না।
৩. অনেক মানুষ এমন আছেন, যারা প্রত্যেকের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে চান না। আর শরীয়তও কাউকে সকলের ‎হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য করেনি। কিন্তু সামাজিক এই রীতির কারণে গোশত গ্রহণকারী প্রত্যেকেই অন্য ‎সকলের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। বলাবাহুল্য এ ধরনের ঐচ্ছিক বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ‎মোটেই উচিত নয়।
৪. এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপের আরেকটি ক্ষতির দিক হল, সমাজের কিছু মানুষ এমন থাকে, যাদের আয় ‎রোজগার হারাম পন্থায় হয়। সেক্ষেত্রে জেনে বুঝে তাদের কুরবানীর গোশত সমাজের সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া ‎হয়। অথচ হারাম উপার্জনের মাধ্যমে কুরবানীকৃত পশুর গোশত খাওয়া জায়েয নয়।
মোটকথা, শরীয়তের শিক্ষা মোতাবেক প্রত্যেককে তার কুরবানীর অংশ দান করার বিষয়ে স্বাধীন রাখতে হবে। প্রশ্নোক্ত ‎পদ্ধতিতে বা অন্য কোনোভাবে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যাবে না। কুরবানীদাতা নিজ দায়িত্ব ও বিবেচনা মতো যাকে ‎যে পরিমাণ হাদিয়া করতে চায় করবে এবং গরীব-মিসকীনকে যে পরিমাণ সদকা করতে চায় করবে। রাসূলুল্লাহ ‎সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে শত শত বছর যাবৎ এ পদ্ধতিই চলমান আছে। এই পদ্ধতিই অবলম্বন ‎করা জরুরি। শরীয়ত যা চালু করতে বলেনি এমন কোনো প্রথা চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
‎—সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭২; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ‎৬/৪৮২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৭৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০; রদ্দুল মুহতার ‎৬/৩২৮

Address

Islam Estate (6th Floor), 55/1, Purana Paltan
Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Know Your Rights with Adv. Byezid Hossain posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share