12/06/2026
প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭: আপনার আয়করের বোঝা কি কমছে, নাকি বাড়ছে?
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য কর কাঠামোয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু আয়ের স্তরে করের চাপ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য কয়েকটি উদাহরণ নিচে উপস্থাপন করা হলো।
উদাহরণ ১: করযোগ্য আয় ৮ লাখ টাকা
ধরা যাক, একজন করদাতার করযোগ্য আয় গত অর্থবছর (২০২৫-২৬) এবং প্রস্তাবিত অর্থবছর (২০২৬-২৭) উভয় ক্ষেত্রেই ৮ লাখ টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার কর দায় ছিল প্রায় ১৬,০০০ টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে একই আয়ের ক্ষেত্রে তার কর দায় দাঁড়াবে প্রায় ২৪,৭৫০ টাকা।
যদি তিনি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন, তাহলে প্রায় ১,২৩৮ টাকা কর প্রণোদনা (Tax Rebate) প্রযোজ্য হবে। ফলে তার কার্যকর করের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা প্রায় ১.০০% পয়েন্টের কাছাকাছি
উদাহরণ ২: করযোগ্য আয় ২০ লাখ টাকা
একইভাবে, করযোগ্য আয় যদি ২০ লাখ টাকা হয়—
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর দায় ছিল প্রায় ১,৯৭,৫০০ টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটে একই আয়ের ক্ষেত্রে কর দায় দাঁড়াবে প্রায় ২,৩৬,২৫০ টাকা। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে প্রযোজ্য কর প্রণোদনা হবে প্রায় ১১,৮১৩ টাকা। এর ফলে কার্যকর কর হার ৯.৮৮% থেকে বেড়ে প্রায় ১১.২২% হবে, অর্থাৎ করের বোঝা প্রায় ১.৩৫ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পাবে। এই আয়ের শ্রেণিতে করদাতারা তুলনামূলকভাবে বেশি চাপের মুখে পড়বেন।
উদাহরণ ৩: করযোগ্য আয় ১ কোটি টাকা
যদি কোনো করদাতার করযোগ্য আয় ১ কোটি টাকা হয়—
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর দায় ছিল প্রায় ২২,৬৫,০০০ টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটে একই আয়ের ক্ষেত্রে কর দায় দাঁড়াবে প্রায় ২২,৯২,০০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে কার্যকর করের হার খুব সামান্য, প্রায় ০.২৮ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর করের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ছে, বিশেষভাবে করযোগ্য আয় ২০ লাখ টাকা।
Disclaimer
১. করদাতা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সর্বোচ্চ সুবিধা গ্রহণ করবেন।
২. করদাতা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে প্রযোজ্য প্রণোদনার জন্য যোগ্য হবেন।
৩. করদাতার আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ যদি আর্থিক সম্পদ (Financial Assets) থেকে আসে, তাহলে কার্যকর করহার বাস্তব ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে।