21/07/2026
একটি শিশুর জীবনে পরিবারের সকল সদস্যই গুরুত্বপূর্ণ — ইসলামের আলোকে
ইসলাম একটি শিশুর লালন-পালনকে শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি আমানত হিসেবে বিবেচনা করে। আল্লাহ তাআলা সন্তানকে মা-বাবার কাছে একটি মূল্যবান নিয়ামত ও পরীক্ষা হিসেবে দিয়েছেন। তাই একটি শিশুর সুন্দর চরিত্র, সঠিক আকীদা, উত্তম আখলাক ও দ্বীনি শিক্ষা নিশ্চিত করা পরিবারের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব।
একটি শিশুর জীবনে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, ভাই-বোন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য—সবারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেউ তাকে ভালোবাসা দেন, কেউ শিক্ষা দেন, কেউ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন, আবার কেউ ভুল করলে সংশোধন করেন। এভাবেই একটি শিশু পারিবারিক বন্ধন, সম্মান, দয়া ও দায়িত্ববোধ শিখে বড় হয়।
অনেক শিশু মনে করে, যে বেশি শাসন করে সে হয়তো তাকে কম ভালোবাসে। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা ভিন্ন। প্রকৃত ভালোবাসা শুধু আদর নয়; বরং সন্তানের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করাও ভালোবাসারই অংশ। তাই যে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে, সে প্রয়োজনে কোমল ভাষায় উপদেশ দেয়, ভুল সংশোধন করে এবং শৃঙ্খলা শেখায়।
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।"
— সূরা আত-তাহরীম, আয়াত ৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ শিশুদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু। তিনি ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষা দিতেন, কোমলভাবে ভুল সংশোধন করতেন এবং উত্তম চরিত্র গঠনে উৎসাহ দিতেন। তাই শাসন কখনো রাগ, অপমান বা প্রতিশোধের জন্য নয়; বরং সন্তানের কল্যাণ, চরিত্র গঠন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত।
উদাহরণ:
রাফি নামের একটি শিশু প্রতিদিন নামাজের সময় খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত। তার বাবা কখনো রাগ করে তাকে বকাঝকা করতেন না। বরং ভালোবাসার সঙ্গে নামাজের গুরুত্ব বোঝাতেন, সময়মতো অজু করতে শেখাতেন এবং নিজে নামাজ পড়ে তাকে উৎসাহ দিতেন। শুরুতে রাফি ভাবত, বাবা কেন বারবার তাকে শাসন করেন। কিন্তু বড় হওয়ার পর সে বুঝতে পারে, বাবার সেই ভালোবাসাপূর্ণ শাসনই তাকে আল্লাহর পথে চলতে শিখিয়েছে। তখন সে উপলব্ধি করে—যে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে, সে-ই প্রয়োজনে শাসন করে; কারণ তার উদ্দেশ্য শাস্তি নয়, সন্তানের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা নিশ্চিত করা।
মনে রাখবেন:
"ভালোবাসা মানে শুধু আদর নয়; প্রয়োজনে স্নেহের সঙ্গে সংশোধন করাও ভালোবাসারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।"
মোঃইমরান হোসাইন
এডভোকেট
জজ কোর্ট ঢাকা