16/06/2016
শিশুদের কাছে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পানীয়ের প্রচারণা চালাচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলো
বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যকর খাদ্যের সংরক্ষণে এবং প্রচারে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে কনজ্যুমার ইন্টারন্যাশনাল (সিআই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে একটি ক্যাম্পেইন চালু করেছে। হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে বৈশ্বিক বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়ের প্রচারণার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
সামনে ৫ আগস্ট শুরু হচ্ছে রিও অলিম্পিক গেমস ২০১৬, এছাড়াও ইউরোপে এখন চলছে ইউরো ২০১৬ ফুটবল খেলা। গত ইউরো ২০১২ প্রচার করেছিল ১২০ টি চ্যানেল, যার প্রতিটি ম্যাচ ২০০ টি দেশের প্রায় ১৫ কোটি জনগন দেখেছিল। ধারণা করা যায় যে, এর মধ্যে বেশ বড় অংশ ছিল শিশু।
এর আগে ২০১৪ সালে কনজ্যুমার ইন্টারন্যাশনাল ্যাশট্যাগ দ্বারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছিল। কিন্তু এর দুই বছর পরেও শিশুদের মুটিয়ে যাওয়ার হার বেড়েই চলেছে, যেমনটা বেড়ে চলেছে প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবারের (জাঙ্ক ফুড) বিক্রি। যদি এইধারা চলতে থাকে তবে ২০২৫ সাল নাগাদ ৭ কোটি শিশু বাড়তি ওজন সংক্রান্ত ঝামেলায় ভুগবে।
অস্বাস্থ্যকর পন্য ও ব্র্যান্ডযুক্ত কোম্পানিগুলো এখন শুধু মাত্র টেলিভিশনে এডের মাধ্যমেই প্রচারণা চালায় না, বর্তমানে তারা বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় স্পন্সর করার মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। যাতে করে তারা আরো বেশী করে তাদের বিক্রি বাড়াতে পারছে। এবং আশঙ্কাজনক হল যে, এই সকল বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনেক বড় ভক্ত হল শিশুরা। তারা যখন এই ধরণের অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন দেখে তখন তারা এগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, যাদের কে শিশুরা আইকন হিসেবে মানে তারাও যখন এসব বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ করে তখন শিশুদের এসব অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়াটা স্বাভাবিক।
যে সকল অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি শিশুরা বেশী আকৃষ্ট হয়, সে সকল খাবারের বিজ্ঞাপন সীমিত করে দেওয়ার জন্য ২০১০ সাল থেকে সকল দেশের সরকারকে পরামর্শ দান করে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কনজ্যুমার ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর জেনারেল অ্যামান্ডা লং বলেন, এটা নিশ্চিত যে খেলাধুলা এবং তারকাদের মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পানীয়ের বিপণন শিশুদের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। তাই কনজ্যুমার ইন্টারন্যাশনাল স্বাস্থ্যকর খাদ্যের সংরক্ষণ এবং প্রচারণার জন্য একটি বৈশ্বিক সম্মেলনের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।
তাই কনজ্যুমার ইন্টারন্যাশনাল ইউরো, অলিম্পিক এবং এতে অংশগ্রহণকারী খেলোয়ারদের দ্বারা অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পানীয় যেগুলোতে উচ্চমানের চর্বি, লবন এবং চিনি রয়েছে সে ধরণের বিজ্ঞাপনের নমুনা সংগ্রহ করছে। যেগুলো টুইটার এবং ফেসবুকে হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে প্রচার করা হবে।