24/12/2025
ওসমান হাদি: একজন নীরব রেমিট্যান্স যোদ্ধার গল্প
ওসমান হাদি একজন ফ্রিল্যান্সার। দেশের বাইরে কোনো অফিসে চাকরি করেন না, কিন্তু তাঁর কাজের বাজার বিশ্বজুড়ে। বছরের পর বছর ধরে তিনি বৈধ পথে বৈদেশিক রেমিট্যান্স দেশে নিয়ে আসেন। সেই আয় দিয়ে তিনি পরিবার চালান, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন, এবং নিয়ম মেনে ট্যাক্স ফাইল জমা দিতে চান।
একদিন ওসমান হাদি তাঁর ব্যাংকে গেলেন। উদ্দেশ্য একটাই—ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য একটি রেমিট্যান্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা। তিনি ভদ্রভাবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বললেন,
“আমি ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আনি। আমাকে একটি রেমিট্যান্স সার্টিফিকেট দিলে আমি ট্যাক্স ফাইল জমা দিতে পারবো।”
কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা খুব একটা আগ্রহ দেখালেন না। কেউ বললেন, “এটা পরে আসবেন,” কেউ আবার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন। ওসমান হাদি বুঝতে পারলেন—সমস্যাটা ইচ্ছার নয়, বরং জ্ঞান ও সচেতনতার অভাব।
ঐ ব্যাংক কর্মকর্তা হয়তো জানেন না, ওসমান হাদির মতো একজন ফ্রিল্যান্সার নিয়মিত রেমিট্যান্স আনায় ব্যাংক নিজেই উপকৃত হয়। তার মাধ্যমে ব্যাংকের ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ বাড়ে, ব্যাংকের লেনদেন বৃদ্ধি পায়, এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যাংকের অবস্থানও শক্ত হয়।
অথচ ব্যাংকের সামান্য সহযোগিতা পেলে ওসমান হাদি আরও উৎসাহিত হতেন নিয়ম মেনে ট্যাক্স দিতে, ব্যাংকের প্রতি আস্থাশীল থাকতে।
ওসমান হাদি মনে মনে আরেকটি বিষয় ভেবে নিলেন—
ফ্রিল্যান্সাররা কারও কাছে বাধ্য নয়। যে ব্যাংক ভালো সার্ভিস দেবে, সময়মতো সহযোগিতা করবে, তারা চাইলে সেই ব্যাংকেই রেমিট্যান্স আনা শুরু করতে পারে। ভালো সার্ভিস মানেই গ্রাহকের আনুগত্য, আর খারাপ সার্ভিস মানেই গ্রাহক হারানোর ঝুঁকি।
এই গল্প শুধু ওসমান হাদির নয়—এটি হাজারো ফ্রিল্যান্সারের বাস্তব চিত্র। ব্যাংক যদি ফ্রিল্যান্সারদের গুরুত্ব বুঝে, সহযোগিতার হাত বাড়ায়, তাহলে লাভবান হবে দু’পক্ষই—গ্রাহকও, ব্যাংকও, এবং সর্বোপরি দেশ।