Advocate Anika Mitu

Advocate Anika Mitu আইনজীবী, জেলা ও দায়রা জজ আদালত,ঢাকা।

05/03/2026

অপরাধীকে আশ্রয় দিলে কি অপরাধ হবে?

বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া বা লুকিয়ে রাখা একটি স্বতন্ত্র অপরাধ। The Penal Code, 1860-এর ২১২ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি জেনে বা যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোনো অপরাধীকে আশ্রয় দেন বা গোপন রাখেন, এবং তার উদ্দেশ্য থাকে তাকে আইনগত শাস্তি থেকে রক্ষা করা তবে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই বিধান মূলত “Offences Against Public Justice” অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রণীত।

অপরাধের উপাদানসমূহ
ধারা ২১২ প্রযোজ্য হতে হলে কয়েকটি উপাদান পূরণ হওয়া আবশ্যক—
১. একটি অপরাধ সংঘটিত হতে হবে;
২. আশ্রয়দাতা ব্যক্তি জানতেন বা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ ছিল যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী;
৩. আশ্রয় বা গোপন করার উদ্দেশ্য ছিল তাকে আইনগত শাস্তি থেকে রক্ষা করা।
অর্থাৎ, কেবলমাত্র মানবিক সহায়তা বা অজ্ঞতাবশত আশ্রয় দেওয়া হলে তা অপরাধ হবে না; বরং “mens rea” বা অপরাধী মনোভাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

শাস্তির ধরন ও মাত্রা
আইন অপরাধের গুরুতরতার ভিত্তিতে শাস্তির পার্থক্য নির্ধারণ করেছে—
√ যদি মূল অপরাধ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হয়, তবে আশ্রয়দাতার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
√ যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য হয়, তবে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
√ অন্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা যে পরিমাণ, তার এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
এতে বোঝা যায়, আশ্রয়দাতার দায় মূল অপরাধের গুরুত্বের সাথে আনুপাতিক।

বাংলাদেশ বহির্ভূত অপরাধের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্যতা

ধারা ২১২-এ একটি বিশেষ দিক হলো বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত কিছু গুরুতর অপরাধ, যেমন খুন (ধারা ৩০২), ডাকাতি (ধারা ৩৯৫) ইত্যাদি, যদি বাংলাদেশে সংঘটিত হলে দণ্ডবিধির অধীনে শাস্তিযোগ্য হতো তবে সেসব অপরাধীর আশ্রয়দানও এই ধারায় শাস্তিযোগ্য হবে। ফলে আইনের প্রয়োগ কেবল ভৌগোলিক সীমায় আবদ্ধ নয়; বরং অপরাধের প্রকৃতিই এখানে মুখ্য।

স্বামী-স্ত্রীর ব্যতিক্রম
ধারাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম হলো যদি স্বামী তার স্ত্রীকে অথবা স্ত্রী তার স্বামীকে আশ্রয় দেন, তবে তা এই ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। আইন প্রণেতারা পারিবারিক সম্পর্কের বিশেষ অবস্থান বিবেচনায় এই ব্যতিক্রম রেখেছেন। তবে এটি কেবল স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অন্য কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর ক্ষেত্রে নয়।

ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়
অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া কেবল ব্যক্তিগত সহানুভূতির বিষয় নয়; এটি ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করে। সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যদি মানুষ অপরাধীকে লুকিয়ে রাখে, তবে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই ধারা ২১২ মূল অপরাধীর পাশাপাশি সেই সকল ব্যক্তিকেও জবাবদিহির আওতায় আনে, যারা বিচার এড়িয়ে যেতে তাকে সহায়তা করে।

উপসংহার
দণ্ডবিধির ২১২ ধারা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া বা গোপন রাখা একটি গুরুতর আইনভঙ্গ। এটি কেবল নৈতিক বিচ্যুতি নয়, বরং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব হলো অপরাধীকে রক্ষা না করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করা। অন্যথায়, আশ্রয়দাতাও অপরাধের দায় থেকে মুক্ত থাকবেন না।

05/03/2026

মিসকেস (বিবিধ মামলা) হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া যা জমি সংক্রান্ত বিরোধ, মালিকানা সম্পর্কিত জটিলতা বা অন্য কোনো ভূমি সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান করতে ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় জমি সংক্রান্ত আইনি সমস্যা বা দলিলের অমিলের কারণে এই ধরনের মামলা দায়ের করা প্রয়োজন হতে পারে। তবে মিসকেস দায়ের করতে হলে কীভাবে প্রক্রিয়া হবে এবং কিভাবে এটি সমাধান করা যেতে পারে, তা জানুন।

1️⃣ মিসকেস (বিবিধ মামলা) কী?

মিসকেস হলো একটি আইনি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ বা অন্য কোনো ভূমি সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান করা হয়। এটি সাধারণত ভূমি অধিকার সংক্রান্ত আইনি অস্থিরতা বা খতিয়ান/নামজারি সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলা করতে ব্যবহৃত হয়।

মিসকেসের উদ্দেশ্য:
জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা
জমির সীমানা সমস্যা সমাধান করা
অন্য কোনো ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা করা

2️⃣ মিসকেস দায়েরের কারণসমূহ:

মিসকেস দায়ের করার কিছু সাধারণ কারণ হলো:
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ:
একাধিক পক্ষের দাবি থাকলে জমির মালিকানা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

সমাধান: মিসকেস দায়ের করে আদালতে শুনানি নিয়ে মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা।

নামজারি বা খতিয়ান সঠিক না হওয়া:
জমির মালিকানা সঠিকভাবে নামজারি বা খতিয়ান
উত্তোলন না হলে মিসকেস দায়ের করা হয়।
সমাধান: মিসকেসের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট দলিলাদি যাচাই করা হয়।

জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ:
জমির সীমানা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ হতে পারে।

সমাধান: মিসকেসের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করা এবং জমির সীমানা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

3️⃣ মিসকেস দায়েরের প্রক্রিয়া:

মিসকেস দায়ের করতে হলে সাধারণত নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে হয়:

1. অভিযোগ দাখিল:

প্রথমে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে অভিযোগ দাখিল করতে হবে, যেখানে জমি বা খতিয়ান সম্পর্কিত সমস্যা উল্লেখ করা হবে।

2. শুনানির আবেদন:

জমির সমস্যা সমাধানের জন্য শুনানির আবেদন করতে হবে। এটি ভূমি আদালতে দায়ের করা হয়, এবং ভূমি কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি নেন।

3. দলিল যাচাই:

জমির মালিকানা সম্পর্কিত দলিল বা সনদ যাচাই করা হয়। যদি দলিলের মধ্যে কোনো অমিল থাকে, তখন তা সংশোধন করার জন্য আবেদন করা হয়।

4. আদালতের সিদ্ধান্ত:
শুনানি শেষে আদালত বা ভূমি অফিসের কর্তৃপক্ষ তার সিদ্ধান্ত দেন। যদি সমস্ত তথ্য সঠিক হয় এবং কোন আইনি সমস্যা না থাকে, তাহলে মিসকেস মীমাংসিত হয়।

4️⃣ মিসকেসে প্রয়োজনীয় দলিল:

মিসকেস দায়ের করতে হলে নিম্নলিখিত দলিলগুলি প্রয়োজন:

জমির ক্রয় দলিল অথবা ওয়ারিশ সনদ
পুরনো খতিয়ান বা পর্চা
জাতীয় পরিচয়পত্র
জমির সীমানা প্রতিবেদন (যদি প্রয়োজন হয়)
নমিনেশন বা ক্ষমতাপ্রদান পত্র (যদি প্রয়োজন হয়)

5️⃣ মিসকেসের সুবিধা:

আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ: মিসকেস দায়েরের মাধ্যমে জমির মালিকানা বা সীমানা সম্পর্কিত বিরোধ মীমাংসা হয় এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

আইনগত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান: মিসকেসের মাধ্যমে আদালত বা ভূমি অফিসের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রদান করতে পারে।

দলিলের সঠিকতা যাচাই: মিসকেসের মাধ্যমে জমির দলিলের সঠিকতা যাচাই করা হয়, যা ভবিষ্যতে যে কোনো আইনি সমস্যার সমাধানে সহায়ক।

6️⃣ সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন:

যদি আপনি মিসকেস দায়ের করতে চান বা জমি সংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন। একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী আপনাকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেবেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের হটলাইন: ১৬১২২

আইনজীবী বা ভূমি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিন।

⚖️ শেষ কথা:

মিসকেস (বিবিধ মামলা) হলো ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের আইনি সমাধান। এটি জমির মালিকানা, সীমানা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধান করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া। সঠিক দলিলাদি, তথ্য এবং আইনি সহায়তার মাধ্যমে আপনি দ্রুত মিসকেস মীমাংসা করতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ - নিজে জানুন এবং অন্য কে জানতে সাহায্য করুন।

©

24/02/2026

আ ত্ন হ ত্যা য় (সু ই সা ই ড) প্ররোচনা কি অপরাধ? আ ত্ন হ ত্যা কি অপরাধ?
আ ত্ম হ ত্যা য় প্ররোচনা দানে ব্যক্তির বিরুদ্ধে মা ম লা:

প্ররোচনা দানকারীর জন্য আমাদের দেশের আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩০৬ ধারায় বলা হয়েছে,
‘‘যদি কোনো ব্যক্তি আ ত্ম হ ত্যা করে, তাহলে যে ব্যক্তি
আ ত্ম হ ত্যা য় সাহায্য করবে এবং প্ররোচনা দান করবে, সে ব্যক্তিকে ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।’’
তবে কারো প্ররোচনার জন্য আ ত্ম হ ত্যা র চেষ্টা করেও যদি কেউ মা রা না যায় তাহলে আ ত্ম হ ত্যা য় প্ররোচনা দানকারীকে সর্বোচ্চ ১ বছরের কা রা দ ন্ড দেওয়া হতে পারে। তবে অবশ্যই তা প্রমাণ সাপেক্ষে।
এছাড়াও সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর ৩২ ধারায় বলা হয়েছে,
‘‘আ ত্ম হ ত্যা কারীর মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া সু ই সা ই ড নোট প্ররোচনা দানকারীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।’’ (১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারামতে ‘কোন নিহত ব্যক্তি
মৃ ত্যু র পূর্বে যদি তার মৃ ত্যু র কারণ, অবস্থা এবং পরিস্থিতি বর্ণনা করে কোন বিবৃতি বা জবানবন্দি প্রদান করে থাকেন তবে তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলা হয়।’)
তবে শুধু একটি সু ই সা ই ড নোটের ভিত্তিতে কাউকে শা স্তি দেওয়া যাবে না। সু ই সা ই ড নোটের সমর্থনে আরও সাক্ষ্য–প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
নারী ও শিশু নি র্যা ত ন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২০ এর ৯(ক) ধারায় বলা হয়েছে,
‘‘কোনো নারীর সম্মতি ছাড়া বা তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত কোনো কাজ দ্বারা সম্ভ্রমহানি হওয়ার প্রত্যক্ষ কারণে কোনো নারী আ ত্ম হ ত্যা করলে তা আ ত্ম হ ত্যা র প্ররোচনার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। যার জন্য সে ব্যক্তির অনধিক ১০ বছর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বছর সশ্রম কা রা দ ণ্ড হবে।’’
আ ত্ম হ ত্যা করতে গিয়ে ব্যর্থ হলে সেই ব্যক্তিকে আ ত্ম হ ত্যা বা নিজেকে ধ্বংস করার অপচেষ্টার অ প রা ধে এক বছরের জ্লে যেতে হতে পারে। দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারামতে,
‘‘যদি কোনো ব্যক্তি আ ত্ম হ ত্যা করার উদ্যোগ নেন এবং অনুরূপ অপরাধ করার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেন, তা হলে তাঁর এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে বা উভয় শাস্তিই হতে পারে।’’
তাই বলা যায় আ ত্ম হ ত্যা র চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

©

পাঁচ লক্ষ-(৫,০০ ০০০/-) টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনার মামলার বিচার করবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্র...
16/02/2026

পাঁচ লক্ষ-(৫,০০ ০০০/-) টাকা পর্যন্ত চেক ডিজঅনার মামলার বিচার করবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026

10/02/2026

চেকের মামলায় আসামী যা প্রমাণ করলেই খালাস পেতে পারেন!

চেক ডিসঅনার মামলায় আসামী তিনটি ডিফেন্স নিয়ে রীতিরকম খালাস পেতে পারেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ গত ১৪/১২/২০১৩ ইং তারিখে দুটি রিট পিটিশন যথাক্রমে ৩৬৮৯/২০১২ এবং ১২৪০১/২০১২ মামলায় অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, আসামী চেক ডিসঅনারের মামলায় তিন ধরণের ডিফেন্স নিতে পারবেন।
১। রিয়েল অর এ্যাবসলুইট ডিফেন্স অথাৎ যুক্তিসঙ্গত ডিফেন্স, ২। সমান্তরাল ডিফেন্স, ৩। লিগ্যাল ডিফেন্স।
এর মধ্যে ১ নং রিয়েল বা যুক্তিসংগত ডিফেন্স হচ্ছে চেক ইস্যু করার সময় আসামী শারীরিকভাবে সুস্থ ছিল না, যেমন-তখন সে পাগল, উম্মাদ বা বিচারবুদ্ধিহীনতায় ভুগছিল এমন বিষয় প্রমাণ করতে পারলে তা যুক্তিসংগত ডিফেন্স হিসেবে বিবেচিত হবে। আমাদের দন্ডবিধির ৮৪ ধারায় অনুরুপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেয়া যায়।

আবার চেক ইস্যু করার সময় আসামী মাতাল বা মানসিকভাবে সুস্থ ছিল না এটাও তার আত্মপক্ষ সমর্থনের উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। চেকে শুধু স্বাক্ষর দিলেই চলে না, তা যে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কোনো দায়/দেনা পরিশোধের জন্য চেক দিয়েছিল তা বাদীকেই প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু আসামী পক্ষে যদি উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমানাদি, যেমন মেডিক্যাল সনদ, রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ইত্যাদি দিয়ে দেখাতে পারেন যে, চেক ইস্যু করার সময় তাকে মাতাল করা হয়েছিল, তাহলে সেটি উপযুক্ত ডিফেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আবার তর্কিত চেক ব্যাংকে উপস্থাপনের আগেই যদি চেকদাতা এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক ঘোষিত হয়, সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল, সেটিও আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থনের ভাল ডিফেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আবার নাবালক কর্তৃক চেক ইস্যু করা হলে বা নাবালকের পক্ষে কোন চেক ইস্যু করা হলে এবং ওই চেক ডিসঅনার হলে তার বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারার মামলা করা যায় না।

আর চেক ইস্যু করার ক্ষেত্রে যদি কোনোরুপ ফ্রড, তঞ্চকতা বা মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে আসামী খালাস পাওয়ার অধিকারী হয়।

আবার এন.আই এ্যাক্টের ৮৭ ধারার বিধান অনুযায়ী চেকের বিষয়বস্তুর কোনো পরিবর্তন দেখা গেলে আসামী সে সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। শুধু তাই নয়, আসামী যদি প্রমাণ করতে পারে যে, তর্কিত চেকটি বাদী জালিয়াতি করে সৃষ্টি করেছে বা চেকে দেয়া স্বাক্ষরটি জাল করা হয়েছে বা চেকে উল্লেখিত টাকার পরিমাণ কাটাকাটি করে লেখা হয়েছে, তবে অনুরুপ ক্ষেত্রে আসামী খালাস পাওয়ার যোগ্য হয়। মামলা দায়েরের আগেই বাদীর দাবীকৃত টাকা আসামী নগদে পরিশোধ করে থাকলে আবার চেকের উপর ওভাররাইটিং থাকলে কিংবা টে¤পারিং করে তর্কিত চেকের টাকার অংক পরিবর্তন করলেও আসামী খালাস পাবে। এক্ষেত্রে ভারতের পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্ট ২০১০ সালে ডিসিআর ১ নং ভলিউমের ১০৮ পৃষ্ঠায় একটি দারুন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

আসামী যদি আরও দেখাতে পারে যে, তাকে অবৈধভাবে ভয় দেখিয়ে বা জোর জবরদস্তি করে চেকে সই করতে বাদীপক্ষ বাধ্য করেছিল তাহলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। উপরোক্ত বিষয়গুলোর যে কোন একটি প্রমাণ করতে পারলেই আসামী চেক ডিসঅনারের মামলায় খালাস পেতে পারে।

প্রতিদান ছাড়া যেমন চুক্তি হয় না, তেমনি প্রতিদান ছাড়া কোন হস্তান্তরযোগ্য দলিল কার্যকর করা যাবে না। কাজেই স্বাক্ষর সহ চেক কারও নিকট হস্তগত হলেই কিংবা ব্যাংক ডিসঅনার করলেই চেকের মামলায় আসামীকে শায়েস্তা করা যাবে না। প্রতিদান বা দেনা পাওনা বা লেনদেন প্রমাণ করতে না পারলে মামলায় আসামী খালাস পাবে-এমনটিই বলেছেন উচ্চ আদালত। (লোকমান বনাম আয়ুব আলী এবং রাষ্ট্র মামলা, যা ৩৮ বিএলডি, পৃষ্ঠা ৬১৬, ৬১৭-৬২০)।

আসামী কোন প্রেক্ষাপটে তর্কিত চেকটি ইস্যু করেছিল আত্মপক্ষ সমর্থনে সেটা প্রমাণ করার অধিকার আসামীর রয়েছে। কারণ এন.আই এ্যাক্টের ১১৮ ধারার অধীনে ধর্তব্য অনুমান খন্ডনযোগ্য। আসামী আত্মপক্ষ সমর্থনে তর্কিত চেকের বিপরীতে কোনো কিছু বলতে চাইলে তা অতি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হয়। কেননা উক্ত চেকটি সে কেন ইস্যু করেছিল তা বলার অধিকার তার রয়েছে। আসামী বাদী পক্ষের সাক্ষীকে জেরা করে কিংবা সাফাই সাক্ষী দিয়ে অথবা উপযুক্ত কোন সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে অনুরুপ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। (মহেষ চন্দ্রিকার বনাম দত্তরাম, বোম্বে হাইকোর্ট, ২০০৯(২) ডিসিআর ১৮৫)।

নালিশী চেকের বিপরীতে বাদী কর্তৃক দাবীকৃত প্রতিদান (কনসিডারেশন) অসম্ভব বা সন্দেহযুক্ত মর্মে যদি আসামী প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা প্রমাণের দায়িত্ব আসামীপক্ষ থেকে বাদীপক্ষের উপর ন্যাস্ত হয়। (ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট (১৯৯৩) ৩ এসসিসি ৩৫)।

এন.আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারা এবং সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারা একত্রে পর্যালোচনা করে ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সোহানলাল সিংহল এবং অন্যান্য বনাম সুনিত জাইন (২০১৫ (২) ডিসিআর ৪৯৬) মামলায় বর্ণনা করেন যে, তর্কিত চেকের লেখার ভিন্নতা বিষয়ে আসামীপক্ষ আপত্তি তোলার পর তা হস্তলেখা বিশারদ দ্বারা পরীক্ষা করানোর আবেদন বিচারিক আদালত কর্তৃক প্রত্যাখান করা বেআইনী আদেশ বলে গণ্য হবে। কেননা উক্ত বিষয়ে আসামী উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে আত্মপক্ষ সমর্থন করার আইনানুগ অধিকারী। কাজেই চেকের স্বাক্ষর না মেলা চেকের অন্যন্য কলামগুলো ভিন্ন হাতের লেখা হলে চেক প্রাপ্তির বিষয়টি সন্দেহের সৃষ্টি করে এবং এ সন্দেহ প্রতিষ্ঠা করে একজন আসামী খালাস পেতে পারে।

আবার আসামীর স্বাক্ষর, টাকার অংক এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখা হলে এন.আই এ্যাক্টের ৩ (ই) ধারার বিধান অনুসারে এটাকে ইস্যুয়েন্স অব চেক বলা যাবে না। সেই চেক আইনানুগভাবে বৈধ হবে না। এ বিষয়ে ৫৬ ডিএলআর ৬৩৬ পৃষ্ঠায় একটি দারুন সিদ্ধান্ত আছে। উপরোক্ত কারণসমূহের যে কোন একটি পালিত না হলে চেক ডিসঅনারের মামলায় আসামী খালাস পেতে পারেন।

লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও পিএইচ. ডি ইন ল।

09/02/2026

ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ফুলকোর্ট সভায় নতুন সিদ্ধান্ত ডিসেম্বর মাসে অধস্তন অাদালতে একটানা ১ মাস ছুটি আর থাকছেনা।জুন মাস...
09/02/2026

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ফুলকোর্ট সভায় নতুন সিদ্ধান্ত ডিসেম্বর মাসে অধস্তন অাদালতে একটানা ১ মাস ছুটি আর থাকছেনা।জুন মাসে ১-১৫ তারিখ পর্যন্ত ও ১৭-৩১ তারিখ পর্যন্ত ডিসেম্বর মাসে ১৫ দিন ছুটিতে থাকবে অধস্তন আদালত।

09/02/2026
09/02/2026

❓প্রশ্ন ১: স্ত্রীর ভরণপোষণ দেওয়া কি স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক?
✅উত্তর: হ্যাঁ, মুসলিম পারিবারিক আইন এবং শরিয়ত অনুযায়ী, স্ত্রীর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান এবং চিকিৎসার খরচ মেটানো স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক। স্ত্রী যদি কর্মজীবী বা ধনীও হন, তবুও স্বামী তার ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।

❓​প্রশ্ন ২: তালাক হয়ে গেলে কি ভরণপোষণ দিতে হয়?
✅উত্তর: তালাকের পর স্ত্রীকে কেবল 'ইদ্দত' কালীন সময়ের (সাধারণত ৩ মাস ১০ দিন) ভরণপোষণ দিতে হয়। তবে বর্তমান আইন অনুযায়ী, বকেয়া দেনমোহর এবং সন্তানদের খরচ স্বামীকেই বহন করতে হয়।
❓​প্রশ্ন ৩: সন্তান মায়ের কাছে থাকলে বাবা কি খরচ দিতে বাধ্য?
✅উত্তর: অবশ্যই। সন্তান কার জিম্মায় (Custody) আছে সেটি বড় কথা নয়, সন্তানের আর্থিক খরচ (ভরণপোষণ) দেওয়া বাবার আইনি দায়িত্ব। বাবা এটি অস্বীকার করতে পারেন না।

❓​প্রশ্ন ৪: কত বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানকে খরচ দিতে হয়?
✅উত্তর: * ছেলে সন্তান: সাবালক বা প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত।
​মেয়ে সন্তান: বিয়ের আগ পর্যন্ত (এমনকি মেয়ে বড় হয়ে গেলেও যদি অবিবাহিত থাকে, তবে বাবা খরচ দিতে বাধ্য)।

👉​অক্ষম সন্তান: সন্তান যদি শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম হয়, তবে আজীবন বাবা তার ভরণপোষণ দেবেন।

❓​প্রশ্ন ৫: স্বামী বা বাবা ভরণপোষণ না দিলে আইনি প্রতিকার কী?
✅উত্তর: যদি স্বামী ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করেন, তবে স্ত্রী 'পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩' অনুযায়ী পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন। আদালত স্বামীর আয় ও সামর্থ্য বিবেচনা করে মাসিক ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করে দেবেন।

❓​প্রশ্ন ৬: দেনমোহর আর ভরণপোষণ কি একই জিনিস?
✅উত্তর: না। দেনমোহর হলো বিয়ের সময় স্ত্রীর প্রাপ্য একটি নির্দিষ্ট অংক। আর ভরণপোষণ হলো দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ। দেনমোহর পরিশোধ করলেও নিয়মিত ভরণপোষণ দিয়ে যেতে হবে।

​👉মনে রাখবেন: ভরণপোষণ কোনো দয়া নয়, এটি স্ত্রী ও সন্তানের আইনি অধিকার। সুখী পরিবার গড়তে একে অপরের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন।

©

08/02/2026

⁉️কোন কোন বিষয়ে সরাসরি কোর্টে মামলা করা যাবে না, বাধ্যতামূলকভাবে প্রথমে লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার জন্য আবেদন করতে হবে। লিগ্যাল এইড অফিসে মীমাংসা না হলেই কেবল কোর্টে মামলা করা যাবে লিগ্যাল এইড অফিসের প্রতিবেদন নিয়ে।
উত্তরঃ-
✅ দেনমোহর ও ভরণপোষণ
✅ বিবাহ বিচ্ছেদ
✅ দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার
✅ নাবালকের শরীর ও সম্পত্তির অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান

✅ জমিজমা বণ্টনের বিরোধ ( সিভিল জজ আদালতের
এখতিয়ারভূক্ত)
✅ অগ্রক্রয় ( প্রিয়েমশন)
✅যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ও ৪ ধারার অভিযোগ
✅ বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের যেকোনো অভিযোগ
✅ পিতামাতার ভরণপোষণ

🚸 এই বিধান কোন কোন জেলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য??
উত্তরঃ
✅ আপাতত প্রজেক্টভূক্ত ২০টি জেলায় প্রযোজ‍্য। ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, রংপুর, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, রাঙ্গামাটি, সিলেট, মুন্সিগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, নরসিংদী, ঝিনাইদহ, মাগুরা এবং লক্ষ্ণীপুর । বাকি জেলাগুলোতে শীঘ্রই চালু হবে ।

⚠️ উল্লিখিত বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে কারো অভিযোগ থাকলে অন‍্য কোথাও না গিয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করুন ।

🚸 উল্লিখিত বিষয় ছাড়া আর কোন কোন বিষয়ে লিগ‍্যাল এইড অফিসে আবেদন করা যায়?
উত্তরঃ
✅ আপসযোগ‍্য যেকোনো পারিবারিক, দেওয়ানি এবং ফৌজদারি বিষয়ে লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করা যায় ।

🚸 লিগ‍্যাল এইড অফিসে অভিযোগ দায়ের করতে/ মামলা করতে কোনো কোর্ট ফি দিতে হয় কিনা?
উত্তরঃ
✅ লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ দায়ের করতে/ মামলা করতে কোনো কোর্ট ফি দিতে হয় না ।

🚸 লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করতে বা প্রতিপক্ষ হিসেবে নোটিশ পাওয়ার পর হাজির হওয়ার জন‍্য আইনজীবী নিয়োগ করতে হয় কিনা ??
উত্তরঃ
✅ কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে হয় না। পক্ষগণ সরাসারি লিগ‍্যাল এইড অফিসে আসতে পারবে ।

🚸 লিগ্যাল এইড অফিসে আপস মীমাংসায় পক্ষগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্রের বিরুদ্ধে কি আপিল বা রিভিশন করা যায়?
উত্তরঃ
✅ লিগ্যাল এইড অফিসে আপস মীমাংসায় পক্ষগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্রের বিরুদ্ধে আপিল, রিভিশন, রিভিউ বা ছানি কিছুই করার সুযোগ নেই ।

🚸 লিগ‍্যাল এইড অফিসে স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র কি চূড়ান্ত??
উত্তরঃ
✅ হ‍্যাঁ, চূড়ান্ত ।

🚸 লিগ্যাল এইড অফিসে পক্ষগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র কি পক্ষগণ মানতে বাধ‍্য ?
উত্তরঃ
✅ হ‍্যাঁ, লিগ্যাল এইড অফিসে পক্ষগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র পক্ষগণের উপর বাধ‍্যকর যা পক্ষগণ মানতে বাধ‍্য থাকে । কারণ উক্ত চুক্তিপত্র আদালতের রায় ও ডিক্রি হিসেবে গণ‍্য হয় ।

🚸 লিগ‍্যাল এইড অফিসে অভিযোগ দায়ের করতে বা অপর পক্ষকে নোটিশ দিতে বা অভিযোগ চালিয়ে যেতে কত টাকা খরচ হয়?
উত্তরঃ
✅ ১ টাকাও খরচ হয় না । লিগ‍্যাল এইড অফিসের সকল সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয় ।

🚸 লিগ‍্যাল এইডে মীমাংসা হলে পক্ষদের কী কী লাভ হয় ?
উত্তরঃ
✅ কোনো টাকা খরচ হয় না
✅ স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি ( অধিকাংশ বিরোধ ১/২ তারিখেই
নিষ্পত্তি হয়ে যায়
✅ পক্ষদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে

©

07/02/2026

চেকের মামলায় বৈধ বিনিময়, লেনদেন, দেনা-পাওনা প্রমাণ ছাড়া আর জেল নয়!

লেনদেন, দেনা-পাওনা না থাকা সত্ত্বেও যদি কারও কাছে কোনভাবে চেক হস্তগত হয় তাহলে সেই চেক দিয়ে মামলা করে এখন থেকে আসামীকে আর সাজা কিংবা টাকা পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না। কারো সাথে লেনদেন কিংবা দেনা পাওনা নেই এমন ব্যক্তির কাছে থাকা চেক অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। এরকম ঘটনার শিকার হলে কীভাবে আপনি চেকের মামলা থেকে বাঁচবেন, এর জন্য আপনাকে কী করতে হবে, কোর্টের সামনে কোন বিষয়গুলো প্রমাণ করতে পারলেই আপনি মামলা থেকে খালাস কিংবা অব্যহতি পাবেন-সে বিষয়ে আজকের নিবন্ধ।

প্রতিদানবিহীন হস্তান্তরযোগ্য দলিল বিষয়ে যখন পক্ষগণের মধ্যে কোন প্রতিদান (কনসিডারেশন) থাকে না, সেখানে হস্তান্তরযোগ্য দলিল অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিদান ছাড়া যেমন চুক্তি হয় না, তেমনি প্রতিদান ছাড়া কোন হস্তান্তরযোগ্য দলিল চেক কার্যকর করা যাবে না। কাজেই স্বাক্ষরসহ চেক কারও নিকট হস্তগত হলেই কিংবা ব্যাংক ডিসঅনার করলেই চেকের মামলায় আসামীকে শায়েস্তা করা যাবে না।

দেনা পাওনা বা লেনদেন প্রমাণ করতে না পারলে মামলায় আসামী খালাস পাবে-এমনটিই বলেছেন উচ্চ আদালত। (লোকমান বনাম আয়ুব আলী এবং রাষ্ট্র মামলা, যা ৩৮ বিএলডি, পৃষ্ঠা ৬১৬, ৬১৭-৬২০) উল্লেখ রয়েছে। কেস ষ্টাডিটি এরকম যে, বাদী কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামীর বিরুদ্ধে এই মর্মে নালিশী মামলা দাখিল করেন যে, আসামী বাদীর নিকট থেকে ঋণ হিসেবে ৪০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করার পর উক্ত ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে উক্ত পরিমাণ টাকা সম্বলিত একটি চেক বাদীর অনুকূলে ইস্যু করেন। উক্ত চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে ‘সিগনেচার ডিফারস’ অর্থাৎ চেকের স্বাক্ষরে মিল নেই মন্তব্যসহ ডিসঅনার হয়। এরপর বাদী আসামী বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। আসামী উক্ত লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্ত হলেও বাদীর অনুকূলে টাকা পরিশোধের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই। নালিশটি দায়েরের পর আসামী সমন প্রাপ্ত হয়ে জামিন হলে মামলাটি বিচারের জন্য কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ, ৪র্থ আদালতে আসলে আদালত উভয় পক্ষের সাক্ষ্য প্রমাণাদি নিয়ে আসামীকে এ মামলার দায় থেকে খালাস দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন যে, আসামী সাফাই সাক্ষ্যর মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, বাদীর সাথে তার বৈধ কোন লেনদেন বা চেক সম্পর্কিত কোন কনসিডারেশন ছিল না। উক্ত রায় ও আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারী আপিল দায়ের করলে হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ নি¤œ আদালত কর্তৃক প্রচারিত আদেশ বহাল রাখেন। ওই রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ এন.আই এ্যাক্টের ধারা ৯ এবং ৪৩ ধারা ব্যাখ্যা করে মন্তব্য করেন যে, মামলার ঘটনা এবং পরিবেশ পরিস্থিতি প্রমাণ করে না যে, বাদী আপিলকারী নালিশী চেকটির হোল্ডার-ইন-ডিউ কোর্স ছিলেন। আদালত আরও মন্তব্য করেন যে, নালিশী চেকটির বিপরীতে কী কনসিডারেশন ছিল তা বাদী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আসামী সাফাই সাক্ষী দিয়ে ডিফেন্স প্লী প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামী সাফাই সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আসামী কোন ঋণ পরিশোধের জন্য তর্কিত চেকটি বাদীর অনুকুলে ইস্যু করে নাই।

ধারা ১৩৮ এর অধীনে বিচার শুধুমাত্র চেকের বাহ্যিক সত্যতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আদালতকে অভিযোগকারীর দাবির ন্যায্যতা এবং আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়গুলোও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করতে হবে। (১৯ এএলআর, ৫৬)

আবার আসামীর স্বাক্ষর, টাকার অংক এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখা হলে এন.আই এ্যাক্টের ৩ (ই) ধারার বিধান অনুসারে এটাকে ইস্যুয়েন্স অব চেক বলা যাবে না। সেই চেক আইনানুগভাবে বৈধ হবে না। এ বিষয়ে ৫৬ ডিএলআর ৬৩৬ পৃষ্ঠায় একটি দারুন সিদ্ধান্ত আছে।
রাষ্ট্রপক্ষকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, চেক প্রদানের সময় বিনিময় প্রহণ করা হয়েছে। যদি অনুরূপ প্রমাণে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয় তবে মামলা ব্যর্থ হবে। উপসংহারে বলা যায় যে, বিনিময় প্রমাণে ব্যর্থ হলে, নালিশী চেক আসামী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হলেও বিনিময় নেই মর্মে গণ্য হবে। [২৬ বিএলসি (এইচসিডি) ২০২১, ৩১৫, এরশাদ আলী মোঃ এরশাদ উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র]

কাজেই শুধু চেক কারও নিকট থাকলেই চেকের মামলায় সাজা দেয়া যাবে না। লেনদেন, দেনা পাওনা কিংবা কোন প্রতিদান, কনসিডারেশন ছিল এমনটি প্রমাণ করতে হবে। নতুবা আসামী খালাস পাবে।

©

01/02/2026

🛑​এক বোন আমাকে নক দিয়ে তার সমস্যার কথা জানালেন সমস্যাটি ছিলো এমন যে, বোনটি ২ বছর আগে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে তার স্বামীকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তখন অসাবধানতাবশত কোনো পোস্টাল রশিদ বা রিসিভ কপি সংগ্রহ করেননি। এখন বোনটি নতুন করে বিয়ে করে সংসার করছেন, কিন্তু তার আগের স্বামী দাবি করছেন তিনি কোনো নোটিশ পাননি এবং এখন আইনি ঝামেলার হুমকি দিচ্ছেন। এই অবস্থায় বোনটির করণীয় কী❓"

👉​এই প্রশ্নটি বর্তমানে অনেক নারীর জীবনের একটি কঠিন বাস্তবতা। সঠিক আইনি প্রক্রিয়া বা নথিপত্র সংরক্ষণে সচেতনতার অভাবে অনেকেই এমন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।

🔵 ডিভোর্স নোটিশ দিয়েছেন কিন্তু রিসিভ কপি নেই? নতুন বিয়ের পর বিপদে পড়েছেন❓
👉চলুন জেনে নিই এর আইনি সমাধান---

​📌 বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি বাস্তবতা:
​মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ (১৯৬১) অনুযায়ী, তালাক কার্যকর করার জন্য তিনটি কাজ বাধ্যতামূলক:
১. তালাকের নোটিশ তৈরি।
২. নোটিশটি স্বামী এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনকে পাঠানো।
৩. নোটিশ পাঠানোর প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বা রিসিভ কপি (এআর কপি) সংগ্রহ করে রাখা।

✅আপনি​ যদি ২ বছর আগে নোটিশ পাঠিয়ে থাকেন কিন্তু কোনো রশিদ না থাকে, তবে আইনিভাবে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে নোটিশটি আসলে পাঠানো হয়েছিল।

​✅ সমাধানের পথসমূহ:
​১. কাজী অফিস বা আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ: তালাকটি যে কাজী অফিসের মাধ্যমে বা যে আইনজীবীর সহায়তায় পাঠানো হয়েছিল, তাদের রেজিস্টার খাতা চেক করুন। সেখানে অবশ্যই ডায়েরি নম্বর বা পাঠানোর তারিখ উল্লেখ থাকার কথা। সেখান থেকে সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের চেষ্টা করুন।

​২. ইউপি/সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়: তালাকের একটি কপি নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় চেয়ারম্যান বা মেয়রের কার্যালয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে গিয়ে খোঁজ নিন কোনো রেকর্ড বা ডায়েরি ভুক্ত তথ্য আছে কিনা। যদি সেখানে রেকর্ড থাকে, তবে সেটিই হবে সবথেকে বড় প্রমাণ।

​৩. পোস্ট অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহ: যদি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করে সেই সময়ের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায় কি না তা যাচাই করুন (যদিও ২ বছর পর পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবুও চেষ্টা করা উচিত)।

​৪. থানায় জিডি করা: যদি আগের স্বামী অযথা হয়রানি, ভয়ভীতি বা ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে, তবে বর্তমান বিয়ের কাবিননামা এবং আগের তালাকের ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করে রাখুন।

​৫. আইনি মোকাবিলা: যদি আগের স্বামী 'ব্যভিচার' বা 'বিনা তালাকের বিয়ে'র মামলা করে, তবে আপনাকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি যথাযোগ্য নিয়মেই তালাক দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে সেই আইনজীবী বা কাজীর সাক্ষ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

​⚠️ বোনদের জন্য সতর্কবার্তা:
​তালাকের নোটিশ পাঠানোর পর পোস্টাল রশিদ (Yellow Slip) এবং এআর (Acknowledgment Receipt) অত্যন্ত যত্ন করে গুছিয়ে রাখুন।

👉​মৌখিক তালাক বা শুধু কাজীর খাতায় সই করলেই তালাক কার্যকর হয় না, নোটিশ পাঠানো এবং ৯০ দিন পার হওয়া বাধ্যতামূলক।

👉​দ্বিতীয় বিয়ের আগে অবশ্যই আগের তালাকের 'তালাকনামা' বা 'সার্টিফাইড কপি' হাতে রাখুন।

✍️​আইনি পরামর্শ: পরিস্থিতি বেশি জটিল মনে হলে একজন দক্ষ ফ্যামিলি কোর্ট আইনজীবীর সাথে সরাসরি কথা বলুন। মনে রাখবেন, আইন সবার জন্য সমান, শুধু সঠিক প্রমাণটি সময়মতো উপস্থাপন করা জরুরি।

©

Address

Dhaka

Telephone

+8801759556706

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Anika Mitu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share