Law with Mia

Law with Mia Legal education | Law insights | Law clinic | Rights activism | Policy analysis | Legal awareness | Social reform
(4)

❝Can Bangladesh Legally Retain Its Maritime Boundaries in the Face of Sea‑Level Rise?❞—Al Muminul MiaChief consultant, L...
17/08/2026

❝Can Bangladesh Legally Retain Its Maritime Boundaries in the Face of Sea‑Level Rise?❞

—Al Muminul Mia
Chief consultant, Law with Mia

https://bdsil.blog/blogs/sinking-states-can-bangladesh-legally-retain-its-maritime-boundaries-in-the-face-of-sealevel-rise-20260817-1424?fbclid=IwcGRvZgRleHRuA2FlbQIxMQBzcnRjBmFwcF9pZA8yNzUyNTQ2OTI1OTgyNzkAAR6c2wLSmwVplsQcgRdLoS2BbhT6OwS8koj838AwhsOSbyA_b6Bi_SObTvjJ1g_aem_7Fw72DDeymlA1O8InD5Gjw

Despite rising sea levels threatening its coastline, Bangladesh can legally retain its maritime boundaries. Unlike nations relying on shifting ambulatory baselines, Bangladesh’s Bay of Bengal boundaries were permanently fixed by coordinate points through 2012 ITLOS and 2014 arbitral awards. Suppor...

ই-বেইলবন্ড সম্পাদন সংক্রান্তে বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রতি অনুসরণীয় বিষয়-অদ্য ১৩ ই আগষ্ট হতে ই-বেইলবন্ড চালুর পর এখন পর্যন্ত ব...
14/08/2026

ই-বেইলবন্ড সম্পাদন সংক্রান্তে বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রতি অনুসরণীয় বিষয়-

অদ্য ১৩ ই আগষ্ট হতে ই-বেইলবন্ড চালুর পর এখন পর্যন্ত বিজ্ঞ আইনজীবীগণ সফলতার সহিত ই-বেইলবন্ড দাখিল করেছেন যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যেহেতু এই সিস্টেম বিচার প্রার্থী এবং বিজ্ঞ আইনজীবীগনের জন্য নতুন একটি ধারনা সেহেতু প্রথমাবস্থায় এই সিস্টেমের সাথে অভ্যস্ত হতে সর্বোচ্চ কয়েকদিন পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হবে।

ই-বেইলবন্ড সম্পাদনের সময় বিচারকের নাম সিলেক্ট করার পরে আদালতের নামের মেনুতে নিম্নে প্রদত্ত আদালতের নামগুলো দেওয়া রয়েছে, ড্রপডাউন বাটনে ক্লিক করে স্ক্রল করলেই নীচের নামগুলো একটির পর একটি আসবে।

সেখান থেকে অত্র ম্যাজিস্ট্রেসি’র যেসকল আদালতে বেইলবন্ড সম্পাদন করবেন, সেই আদালতের নামটি সঠিকভাবে সিলেক্ট করুন।

বিঃদ্রঃ অনেক বিজ্ঞ আইনজীবী অব্যবহৃত ফোন নম্বর বা ভুল ফোন নম্বর সরবরাহ করাতে সেই নম্বর দিয়ে নিজের প্রোফাইলে প্রবেশ করতে পারছেন না। তাঁদের সঠিক নাম (বাংলা-ইংরেজী), বর্তমান ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর আগামী ২ কর্মদিবসের মধ্যে জেলা আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে নাজির,চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্রেরণের অনুরোধ করা হলো।

11/08/2026

🚨 জনস্বার্থে জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ 🚨

রাজধানীর মিরপুর‑১২ নাম্বারের কালশী থেকে পূরবী পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুইপাশের ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে দোকানদারদের দখলে চলে গেছে।

• ফুটপাতের পাশের দোকানদাররা তাদের মালামাল সাজিয়ে রাখায় পথচারীদের চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

• অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কও দখল করা হয়েছে।

• কাঠ, লোহা ইত্যাদি দোকানের কার্যক্রমের কারণে পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এটি শুধু নাগরিক অধিকার হরণের উদাহরণ নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। এবং স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯–এর স্পষ্টত লঙ্ঘন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-র কাছে অনুরোধ করছি, যেন এই বিষয়ে যথাযথ ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

রাত সাড়ে ১১টা।আপনি হয়তো পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করেছেন। বাচ্চারা কেউ পড়াশোনা করছে, কেউ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছ...
08/08/2026

রাত সাড়ে ১১টা।

আপনি হয়তো পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করেছেন। বাচ্চারা কেউ পড়াশোনা করছে, কেউ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময় হঠাৎ দরজায় জোরে ধাক্কা ধাক্বির শব্দ।

— "দরজা খুলুন! পুলিশ!"

সেই মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই আপনার বুক ধড়ফড় করতে শুরু করবে। আপনার পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে যাবে। বাচ্চারা ভয় পাবে। আপনি সাহস করে দরজা খুললেন। বাইরে কয়েকজন লোক। কারও গায়ে ইউনিফর্ম নেই। তারা বলছে, আপনার বাসায় তল্লাশি করতে হবে।

প্রথম কোন প্রশ্নটা মাথায় আসবে?

তারা কি সত্যিই পুলিশ? আর পুলিশ হলেও, কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়া কি আপনার ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালাতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তর জানাটা শুধু আপনার জন্য নয়; বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার ঘর কি আইনের চোখে সুরক্ষিত?

হ্যাঁ।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৩ প্রত্যেক নাগরিকের গৃহের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে পুলিশ কখনো আপনার বাসায় ঢুকতে পারবে না। বরং অর্থ হলো—আইন কিছু সাধারণ নিয়ম নির্ধারণ করেছে, সেই নিয়মগুলো মেনেই পুলিশকে আপনার বাসায় ঢুকতে হবে।

তাহলে সাধারণ নিয়ম কী?

সাধারণ নিয়মগুলো খুবই সহজ তেমন কোনো জটিল বিষয় না।

পুলিশ যদি কোনো বাসা বা বদ্ধ স্থানে তল্লাশি চালাতে চায়, তাহলে সাধারণত আদালত থেকে সার্চ ওয়ারেন্ট নিতে হবে।

এখন ওয়ারেন্ট হলো আদালতের লিখিত অনুমতি, যেখানে উল্লেখ থাকে—

- কোথায় তল্লাশি হবে,
- কেন হবে,
- কী খোঁজা হচ্ছে।

অর্থাৎ, শুধুমাত্র "আমাদের সন্দেহ হয়েছে"—এই কথাটুকু সাধারণত আইনের চোখে যথেষ্ট নয়। মানতে হবে নিয়মগুলো।

তাহলে ওয়ারেন্ট ছাড়া কখন ঢুকতে পারে?

এখানেই আসে আইনের ব্যতিক্রম।

ধরুন, পুলিশ তাদের গোপন কোনো সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পেল যে একটি বাসায় অবৈধ অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এখন তারা যদি আগে আদালতে ওয়ারেন্ট আনতে যায়, সেই সময়ের মধ্যে দোষীরা সব আলামত খুব সহজেই সরিয়ে ফেলতে পারে এবং নিজেরাও পালিয়ে যেতে পারে।

ঠিক এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৫ ধারায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো- কেন ওয়ারেন্ট নেওয়া সম্ভব হলো না, সেই কারণ লিখিতভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।

অর্থাৎ আইন পুলিশকে ক্ষমতা দিয়েছে, কিন্তু সেই ক্ষমতারও হিসাব তাদের দিতে হবে।

শুধু "পুলিশ" বললেই কি সব শেষ?

না।

আইন আরও কিছু শর্ত দিয়েছে।

ধারা ১০৩ অনুযায়ী তল্লাশির সময় এলাকার অন্তত দুইজন নিরপেক্ষ ও সম্মানিত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে রাখার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া, তল্লাশিতে যদি কোনো জিনিস জব্দ করা হয়, তাহলে তার একটি তালিকা বাসার মালিক বা বাসিন্দাকে দিতে হবে।

এই নিয়মগুলোর উদ্দেশ্য একটাই—ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকানো।

আর গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে?

অনেকেই মনে করেন, ওয়ারেন্ট না থাকলে কাউকে গ্রেপ্তারই করা যায় না।

এটিও পুরোপুরি সঠিক নয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে।

তবে তার জন্য যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকতে হবে যে ব্যক্তি কোনো আমলযোগ্য (Cognizable) অপরাধ করেছেন বা করতে যাচ্ছেন।

অর্থাৎ, শুধু ব্যক্তিগত সন্দেহ বা অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আইন দেয় না।

যদি কেউ সিভিল পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে আসে?

বাস্তবে অনেক সময় পুলিশ সিভিল পোশাকেও দায়িত্ব পালন করেন।

কিন্তু তাই বলে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন না বিষয়টা এমনও না।

আপনি ভদ্রভাবে জানতে চাইতে পারেন—

- আপনার পরিচয়পত্রটি কি দেখাবেন?
- কোন থানার কর্মকর্তা?
- কোনো ওয়ারেন্ট আছে?
- কোন মামলার তদন্তে এসেছেন?

আইন জানা মানে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া নয়।
বরং আইন মেনেই রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করা।

যদি নিয়ম না মেনে তল্লাশি হয়?

যদি কোনো তল্লাশি আইন অনুযায়ী না হয় তখন কি করবেন??
সেক্ষেত্রে আপনি আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট করা যায়।

পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ জানানো যায়।

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কী করবেন?

আতঙ্কিত না হয়ে কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে চান।

সম্ভব হলে পরিবারের অন্য সদস্য বা প্রতিবেশীকে উপস্থিত রাখুন।

তল্লাশির সময় কী হচ্ছে, তা শান্তভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।

কোনো নথি বা জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর করার আগে সেটা সম্পূর্ণ পড়ে নিন।

আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হলে দ্রুত একজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

মনে রাখবেন

রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব।
কিন্তু নাগরিকের অধিকার রক্ষা করাও আইনেরই অংশ।

তাই প্রশ্নটি "পুলিশ এসেছে, তাই যা খুশি করতে পারবে"—এমন নয়।

আসল প্রশ্ন হলো—

কোন আইনের অধীনে?
কোন কারণে?
কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে?
আইনের নিয়ম মোতাবেক হচ্ছে তো সব?

কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, নাগরিকও নয়, পুলিশও নয়।

লেখক: Kazi Fahima Priya
Research Intern, Law with Mia

#পুলিশ

সুন্দরবনের বুক চিরে একসময় যে গম্ভীর গর্জন ভেসে আসত, তা কি শুধুই ইতিহাসের পাতায় আটকে যাবে?বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন স...
07/08/2026

সুন্দরবনের বুক চিরে একসময় যে গম্ভীর গর্জন ভেসে আসত, তা কি শুধুই ইতিহাসের পাতায় আটকে যাবে?

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাণশক্তি এবং আমাদের জাতীয় গর্ব রয়েল বেঙ্গল টাইগার আজ অস্তিত্ব সংকটে। বর্তমানে ১৮৯ টি বাঘের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে সুন্দরবনে। যেটি অতিনগন্য। চোরশিকারি ও অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের লোভের কারণে সুন্দরবন আজ তার রাজাকে হারানোর মুখোমুখি।

সম্প্রীতি যে বাঘটি কে উদ্ধার করে পুনরায় সুন্দরবনে রেখে আশা হলো, সেই বাঘটির খোজও পাওয়া যাচ্ছেনা। আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অবৈধ বাজারে বাঘের চামড়া, হাড়, দাঁত, নখ এবং অঙ্গপ্রত্যাঙ্গের বেশ চড়া চাহিদা রয়েছে। অলংকার, ঐতিহ্যবাহী ভেষজ ওষুধ প্রস্তুত এবং বিলাসিতার প্রতীক হিসেবে এসব পাচার করা হয়।

অথচ অবৈধ অঙ্গপ্রত্যাঙ্গের বাণিজ্য ঠেকাতে বাংলাদেশের আইনগত ভিত্তি ও কঠোর শাস্তির বিধান বিদ্যমান।

বাংলাদেশের সংবিধানেই বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণের মূল ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ক অনুযায়ী, রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবেন। এর অর্থ হলো, বাঘ রক্ষা করা কেবল পরিবেশগত দায়িত্ব নয়, বরং একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

বাঘ হত্যা এবং এর অঙ্গপ্রত্যাঙ্গ কেনাবেচা রোধে বাংলাদেশের প্রধান আইনি হাতিয়ার হলো বন্যপ্রাণী আইন। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের অনুযায়ী অঙ্গপ্রত্যাঙ্গ সংগ্রহ ও বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী তফসিলে উল্লিখিত সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী (যেমন: রয়েল বেঙ্গল টাইগার) শিকার করা, অথবা এর মাংস, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি কিংবা কোনো অঙ্গপ্রত্যাঙ্গ সংগ্রহ, ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বাঘ হত্যায় কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। একই আইনের ধারা ৩৬(১) এবং নতুন অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী বাঘ শিকার বা হত্যা করলে সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে শাস্তি বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

এছাড়াও, বাঘের চামড়া, হাড়, নখ বা কোনো অঙ্গপ্রত্যাঙ্গ অনুমোদন ছাড়া সংগ্রহ, পরিবহন, ক্রয় বা বিক্রয় করলে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা (অথবা উভয় দণ্ড) হতে পারে। পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে এই শাস্তি ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।

আর ধারা ৪১ অনুযায়ী, বাঘ হত্যা বা এর অঙ্গপ্রত্যাঙ্গ কেনাবেচায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্ররোচনা দিলে বা সহায়তা করলেও মূল অপরাধীর সমপরিমাণ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বাঘ ও সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষায় আরও কিছু আইনি কাঠামো পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। যেমন: বন আইন, ১৯২৭ (Forest Act, 1927): সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ প্রবেশ, বন্যপ্রাণীর ক্ষতিসাধন ও চোরাশিকার প্রতিরোধে বন কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (Environment Conservation Act, 1995): সুন্দরবনের মতো প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ECA) পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ড এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দেয়।

আবার আন্তর্জাতিকভাবে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তি CITES-এর অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। রয়েল বেঙ্গল টাইগার CITES-এর Appendix I-এ অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে বাঘের কোনো অঙ্গপ্রত্যাঙ্গ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পাচার করা আন্তর্জাতিকভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

তবুও, কাগজে-কলমে এত এত কঠোর শাস্তি থাকলেও সুন্দরবনের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারির সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সক্রিয়তার কারণে অবৈধ অঙ্গপ্রত্যাঙ্গ বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেজন্য, বাঘকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হলে কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; বরং বনের ভেতরের স্মার্ট টহল (SMART Patrolling) জোরদার করা, বন অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় বাওয়ালি ও জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। রয়েল বেঙ্গল টাইগার কেবল সুন্দরবনের রক্ষক নয়, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের মূল প্রতীক একে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের অস্তিত্বেরই প্রয়াজন।

লেখক: Sabrina Kibria Aboni
Research Intern, Law with Mia

❝আমি শুধু শেয়ার করেছিলাম।❞ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে বিপজ্জনক অজুহাত সম্ভবত এটিই।ধরুন, এক সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি দেখলেন—ফেস...
04/08/2026

❝আমি শুধু শেয়ার করেছিলাম।❞
ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে বিপজ্জনক অজুহাত সম্ভবত এটিই।

ধরুন, এক সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি দেখলেন—ফেসবুকে আপনার একটি বিকৃত ছবি, আপনার নামে বানানো একটি মিথ্যা বক্তব্য, কিংবা একটি সম্পূর্ণ বানোয়াট অভিযোগ হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করছে। আপনার প্রতিবেশীরা আপনাকে সন্দেহের চোখে দেখছে। বন্ধুরা ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে সংকোচ বোধ করছেন।

কিন্তু কয়েক দিন পর প্রমাণ হলো সবই ছিল একটি মিথ্যা।

প্রশ্ন হলো, তখন আপনার হারানো সম্মান, মানসিক শান্তি কিংবা সামাজিক পরিচয় কে ফিরিয়ে দেবে?

এই কারণে Fake News কেবলই প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফল নয়; এটি সমাজের জন্য একটি বহুমাত্রিক সংকট, যেখানে আইন, মানবাধিকার, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিকতার প্রশ্ন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

সচরাচর, Fake News বলতে এমন তথ্যকে বোঝায় যা ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়, যাতে মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, আতঙ্কিত হয়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়, অথবা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি হয়।

আজকের পৃথিবীতে তথ্যের গতি আলোর মতো দ্রুত। কিন্তু সত্যের গতি এখনও ম্যানুয়ালি যাচাইয়ের ওপর নির্ভরশীল।

একটি মিথ্যা পোস্ট কয়েক মিনিটে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, অথচ সেই তথ্যটি ভুল প্রমাণ করতে অনেক সময় দিন, সপ্তাহ কিংবা মাস লেগে যায়।

গবেষণা কী বলে?

২০১৮ সালে বিশ্বের অন্যতম বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Science–এ Soroush Vosoughi, Deb Roy এবং Sinan Aral-এর প্রকাশিত গবেষণা, "The Spread of True and False News", সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে Fake News নিয়ে পরিচালিত সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং বহুল উদ্ধৃত (highly cited) গবেষণাগুলোর একটি।

গবেষণায় Twitter (বর্তমান X)–এ প্রকাশিত প্রায় 126,000টি সংবাদ (news stories), 3 million (30 লক্ষ)–এরও বেশি ব্যবহারকারী (users) এবং 4.5 million (45 লক্ষ) এরও বেশি retweets/shares বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়

False news spreads significantly faster than true news—অর্থাৎ, মিথ্যা তথ্য সত্য তথ্যের তুলনায় অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

False news reaches more people, more quickly, and more broadly than the truth—মিথ্যা তথ্য সত্য তথ্যের তুলনায় অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে, কম সময়ে এবং আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে যায়।

মানুষ novel (নতুন), surprising (চমকপ্রদ) এবং emotionally engaging (আবেগনির্ভর) তথ্যের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। ফলে তারা এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই দ্রুত শেয়ার করে।

গবেষকরা উল্লেখ করেন, "Falsehood diffused significantly farther, faster, deeper, and more broadly than the truth in all categories of information."

অর্থাৎ, Fake News-এর সবচেয়ে বড় শক্তি প্রযুক্তি (technology) নয়; বরং মানুষের মনস্তত্ত্ব (human psychology), কৌতূহল (novelty bias) এবং আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা (emotional decision-making)।

এখন, Fake News কেন এত বিপজ্জনক?

কারণ এটি শুধু তথ্য বিকৃত করে না; এটি সমাজকেও বিকৃত করে।

এর ফলে—
- নিরপরাধ মানুষ গণপিটুনির শিকার হতে পারে।
- সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
- নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে।
- ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হতে পারে।
- মানুষ মানসিক অবসাদ, সামাজিক বর্জন এবং আত্মহত্যার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

একটি ভুয়া পোস্টের পেছনে কখনও একজন কিশোর, একজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক কিংবা একজন সাধারণ পরিবারের সদস্যের জীবন লুকিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক তেমনই একটি দগদগে উদাহরণ হলো, দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যু।

আইনের দৃষ্টিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু কোনো অধিকারই সীমাহীন নয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ–৩৯ নাগরিককে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রদান করেছে।
কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা, নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, মানহানি এবং অপরাধে প্ররোচনা প্রতিরোধের স্বার্থে যৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগও রেখেছে।
অর্থাৎ, Freedom of Expression is not Freedom to Spread Falsehood.

বাংলাদেশে ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলার জন্য Cyber Security Act, 2026 কার্যকর রয়েছে।
এই আইনের উদ্দেশ্য
- সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ,
- ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
- অনলাইন অপরাধের তদন্ত,
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ডিজিটাল কার্যক্রম পরিচালনা করেন যা প্রতারণা, ক্ষতি, পরিচয় জালিয়াতি বা অন্য অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাহলে এই আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কোন ধারা প্রযোজ্য হবে তা নির্ভর করে ঘটনার প্রকৃতি ও প্রমাণের ওপর

যদিও বাংলাদেশে Fake News-এর জন্য Penal Code, 1860-এ কোনো স্বতন্ত্র অপরাধের সংজ্ঞা নেই। তবে ভুয়া তথ্য প্রচারের ফলে যদি মানহানি, জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, প্রতারণা বা সহিংসতার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে Penal Code, 1860-এর বিভিন্ন ধারা প্রযোজ্য হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ—
Sections 499–502: Defamation (মানহানি) — কোনো ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হলে।
Section 505: Statements conducing to public mischief — এমন গুজব বা বিবৃতি প্রচার করা যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে বা জনগণকে অপরাধ সংঘটনে প্ররোচিত করতে পারে।
Section 153A: Promoting enmity between different groups — ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা অন্যান্য পরিচয়ের ভিত্তিতে বিদ্বেষ বা শত্রুতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া তথ্য প্রচার করা হলে।
Section 295A: Deliberate and malicious acts intended to outrage religious feelings — ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে।

সোজাকথায়, Fake News– এর প্রকৃতি ও পরিণতির ওপর নির্ভর করে এটি ফৌজদারি অপরাধের (criminal offence) রূপ নিতে পারে এবং অপরাধীকে Penal Code, 1860-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় দায়ী করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে—ভুয়া তথ্য মোকাবিলা করতে গিয়ে যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অযথা ক্ষুণ্ন না হয়। আবার UNESCO বলছে, Fake News-এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো—
- Media Literacy,
- Fact Checking,
- Responsible Journalism,
- Digital Citizenship

শুধু কঠোর আইন দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; সচেতন সমাজও গড়ে তুলতে হবে। কারণ, যদি আগামীকাল আপনার সম্পর্কে একটি মিথ্যা পোস্ট ভাইরাল হয়, আদালতের রায় কি আপনার মানসিক ক্ষত মুছে দিতে পারবে?

সম্ভবত না।

আইন অপরাধীর বিচার করতে পারে।
কিন্তু একটি শিশুর হারিয়ে যাওয়া বাবা, একজন শিক্ষকের নষ্ট হয়ে যাওয়া ক্যারিয়ার, কিংবা একজন তরুণীর ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাস—এসব ফিরিয়ে দিতে পারে না।

এই কারণেই Fake News-এর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হওয়া উচিত আদালতে নয়, আমাদের বিবেক থেকে।

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক কী করবেন?

✔ শেয়ার করার আগে অন্তত দুটি নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করুন।
✔ উত্তেজনাপূর্ণ শিরোনাম দেখেই বিশ্বাস করবেন না।
✔ ছবি বা ভিডিওর উৎস যাচাই করুন।
✔ সন্দেহজনক পোস্ট রিপোর্ট করুন।
✔ ভুল তথ্য শেয়ার করে ফেললে তা মুছে ফেলুন এবং সংশোধন প্রকাশ করুন।

ডিজিটাল যুগে আমরা প্রত্যেকেই একেকজন প্রকাশক (Publisher)। একসময় সংবাদ প্রকাশের দায়িত্ব ছিল কেবল সংবাদমাধ্যমের; আজ একটি স্মার্টফোন হাতে থাকা যেকোনো মানুষ মুহূর্তের মধ্যেই হাজারো, এমনকি লাখো মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে পারে। তাই, এই অভূতপূর্ব ক্ষমতার সঙ্গে আসে সমান মাত্রার দায়িত্ব।

প্রতিটি ‘Share’ একটি সিদ্ধান্ত, আর প্রতিটি সিদ্ধান্তেরই সামাজিক ও আইনি পরিণতি রয়েছে। তাই ‘Share’ বাটনে চাপ দেওয়ার আগে একবার থেমে নিজেকে প্রশ্ন করি—
"আমি যা প্রচার করতে যাচ্ছি, তা কি সত্য, নাকি আরেকটি মিথ্যার যাত্রার সূচনা?"

আপনার মতামত আমাদেরকে কমেন্টে জানান।

লেখক: Hm Bayzid Hossain
Research Intern, Law with Mia

ঢাকার ব্যস্ত সকাল। হাজারো মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জরুরি গন্তব্যে পৌঁছাতে নির্ভর করছে মাথার উপর মেট্রোরেলে...
01/08/2026

ঢাকার ব্যস্ত সকাল। হাজারো মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জরুরি গন্তব্যে পৌঁছাতে নির্ভর করছে মাথার উপর মেট্রোরেলের ওপর। কয়েক মিনিটের যাত্রায় ঘণ্টার যানজট পেরিয়ে যাওয়ার এই সুবিধা নগরজীবনে নতুন গতি আনার পাশাপাশি সৃষ্টি করেছে একটি নতুন উদ্বেগ।

একদিকে ব্যস্ত মেট্রোরেল স্টেশনের পাশে একটি ছাতার ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক। এমনকি আজকেও মিরপুর ১০ মেট্রো স্টেশনে সন্দেহজনক একটি বস্তার জন্য মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোরেল করিডোরে একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে প্রাণ হারান এক পথচারী।
আপাতদৃষ্টিতে দুটি ঘটনার কারণ হয়তো এক নয় কিন্তু তারা একটি অভিন্ন প্রশ্ন ও আতঙ্ক সামনে নিয়ে এসেছে: বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর?

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে উদ্ধার হওয়া Improvised Explosive Device (IED) এবং ফার্মগেটে bearing pad পড়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আধুনিক অবকাঠামোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল নির্মাণই নয় বরং সেটিকে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং ঝুঁকিবিহীন রাখা।

আলাপের শুরুতে বুঝতে হবে যে, মেট্রোরেল শুধু একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা নয়, এটি একটি Critical Urban Infrastructure। অর্থাৎ এমন একটি অবকাঠামো যার কার্যক্রম ব্যাহত হলে নগর অর্থনীতি, জননিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম একযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে কেবল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং এটিকে আইনগত ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখতে হবে।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করেছে। নিরাপদ গণপরিবহন এবং নিরাপদ জনপরিসর নিশ্চিত করা এই সাংবিধানিক অধিকারেরই একটি স্বাভাবিক সম্প্রসারণ।
একই সঙ্গে —
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২
Anti-Terrorism Act, 2009 এবং
Penal Code, 1860
এর বিভিন্ন বিধান গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা, নাশকতা প্রতিরোধ, অবহেলাজনিত প্রাণহানি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার জন্য আইনগত ভিত্তি প্রদান করে।

কাগজে কলমে যদিও এই আইনগত কাঠামো যথেষ্ট বিস্তৃত কিন্তু বাস্তবতা কি আমাদের একই কথা বলে?

মতিঝিলের ঘটনায় একটি ব্যস্ত নগর-এলাকায় বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ফার্মগেটের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করার বহু পূর্বেই বুয়েট থেকে মেট্রোরেলের এই প্যাড বিয়ারিং নিয়ে ঝুকির সতর্কবার্তা ছিলো। এর বাইরেও ডিজাইনগত ত্রুটি, নির্মাণগত ত্রুটি নিয়েও বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন। খোদ তদন্ত কমিটিও প্রযুক্তিগত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি অথবা সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন। কিন্তু, ঘটনা ঘটার পর তদন্ত করার চেয়ে ঘটনার আগে ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ। ঐযে বলে না, ❝Prevention is better than cure❞

আমাদের অনুভব করা উচিত যে৷ আজকের নগর অবকাঠামো একাধিক ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন। শারীরিক নাশকতা, প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা, মানবিক ভুল, অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সাইবার আক্রমণ সবগুলো ঝুঁকি সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে সিগন্যালিং সিস্টেম, কন্ট্রোল সেন্টার এবং ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তাও এখন জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।

আর এখানেই আসে Risk Management Framework এর আলাপ। আধুনিক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা বলতে শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা বা নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনকে বোঝায় না বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা, নিয়মিত প্রকৌশলগত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, সাইবার অডিট, জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা, পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং স্বাধীন মূল্যায়ন সবকিছুর সমন্বয়ই একটি কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলে।

তবে এগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, উন্নত প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, দক্ষ প্রকৌশলী ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে। ফলে আইন থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌছায় না।

আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় ISO 31000 (Risk Management) এবং ISO/IEC 27001 (Information Security Management System) এর মতো মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। অনেক দেশ পৃথক Critical Infrastructure Protection (CIP) নীতিমালার মাধ্যমে পরিবহন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও ডিজিটাল অবকাঠামোর জন্য সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমন একটি সমন্বিত আইন বা জাতীয় নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তাই কয়েকটি বাস্তবভিত্তিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি:
১। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামোর জন্য একটি জাতীয় Critical Infrastructure Protection Policy প্রণয়ন করা।
২। বাধ্যতামূলক প্রকৌশলগত ও সাইবার নিরাপত্তা অডিট চালু করা।
৩। নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশে অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
৪। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ও ঝুঁকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করা।
৫। নিয়মিত জরুরি মহড়া, আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
৬। নিরাপত্তা অবহেলার ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহিতা ও আইনগত দায় নিশ্চিত করা।

রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে একটি মেট্রোরেল কেবল স্টেশন, রেললাইন বা ট্রেনের সমষ্টি নয় এটি নাগরিকের আস্থা, অর্থনৈতিক প্রবাহ এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার প্রতীক। তাই নিরাপত্তাকে যদি কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখা হয় তবে আমরা মূল সমস্যাটিকেই এড়িয়ে যাব।

মতিঝিল ও ফার্মগেটের দুটি ঘটনা হয়তো ভিন্ন তদন্তের বিষয় কিন্তু তারা একই জিনিস হাইলাইটেড করছে। আর বাংলাদেশের আগামী নগর উন্নয়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও সম্ভবত এখানেই। আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান।

লেখক: Antum Hossain
Research Intern, Law with Mia
সম্পাদনা: Al Muminul Mia

#মেট্রোরেল

প্রবাল বাঁচাতে গিয়ে যদি মানুষের চুলায় আগুন না জ্বলে, তবে সেই পরিবেশ রক্ষা কি সত্যিই টেকসই?সেন্টমার্টিনের এক ক্ষুদ্র হোটে...
29/07/2026

প্রবাল বাঁচাতে গিয়ে যদি মানুষের চুলায় আগুন না জ্বলে, তবে সেই পরিবেশ রক্ষা কি সত্যিই টেকসই?

সেন্টমার্টিনের এক ক্ষুদ্র হোটেল মালিক, একজন নৌকার মাঝি কিংবা সৈকতে নারকেল বিক্রি করা একজন সাধারণ মানুষ—তাদের কাছে পর্যটক মানেই দিনের শেষে পরিবারের খাবারের নিশ্চয়তা। কিন্তু একই দ্বীপে শত শত বছরের পুরোনো প্রবাল, ডিম পাড়তে আসা সামুদ্রিক কাছিম, গোলাপি ডলফিন কিংবা হোয়েল শার্কের জন্য অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন ধীরে ধীরে মৃত্যুঘণ্টা হয়ে উঠছে।

তাই আজ প্রশ্নটি শুধু পরিবেশ বনাম পর্যটনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। এটি এখন প্রকৃতি, আইন এবং মানুষের জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য খোঁজার প্রশ্ন।

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এখানে প্রায় ১,০৭৬ প্রজাতির উদ্ভিদ ও সামুদ্রিক প্রাণী, ৬৮ প্রজাতির জীবন্ত প্রবাল, সি-গ্রাস, অলিভ রিডলি, গ্রিন ও লগারহেড সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্র, গোলাপি ডলফিন, হোয়েল শার্কসহ বিপন্ন নানান সামুদ্রিক জীব এবং অসংখ্য Coral Reef রয়েছে। ইতোমধ্যে, বাংলাদেশ সরকার তাই এসব প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০-এর অধীনে সেন্টমার্টিন সংলগ্ন প্রায় ১,৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে Marine Protected Area (MPA) ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে এটি Ecologically Critical Area (ECA) হিসেবেও বিশেষ সুরক্ষা পেয়েছে।

উপরন্তু, সরকার ২০২৩ সালের নির্দেশিকার মাধ্যমে সেন্টমার্টিন পর্যটনে একাধিক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অনলাইন ট্রাভেল পাস ও QR কোড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, প্রতিদিন সীমিতসংখ্যক পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন, নভেম্বরে শুধু দিনের ভ্রমণ, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সীমিত রাত্রিযাপন এবং ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন ও নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, সৈকতে মোটরযান, প্রবাল বা শামুক সংগ্রহ, উচ্চশব্দে গান, বারবিকিউ ও আলোক দূষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কাগজে-কলমে এই নীতিমালা যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু বাস্তবতা কি একই কথা বলে?

বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে যে— অনুমতিপত্রের শর্তসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না, পরিবেশগত নিরীক্ষা খুবই দুর্বল, মনিটরিং কার্যকর নয় এবং কিছু অননুমোদিত বা আধা-বৈধ পর্যটন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই চলতে থাকে।

ফলে স্বভাবতই এখানে আরেকটি প্রশ্ন ওঠে যে—পর্যটন নিয়ন্ত্রণ কি সত্যিই পরিবেশ রক্ষার জন্য, নাকি এটি নির্বাচিত কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা?

এবং এই বাস্তবতায় কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠী। পর্যটননির্ভর বহু পরিবার হঠাৎ আয় হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দ্বীপের অধিকাংশ মানুষের আয় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু পর্যটন থেকে যে অর্থনৈতিক সুবিধা সৃষ্টি হয়, তার বড় অংশই অনেক সময় বহিরাগত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যায়; স্থানীয় জনগণ পায় সীমিত অংশ, আর প্রতিশ্রুত কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্পও প্রায়ই বাস্তবায়িত হয় না।

অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থানও সহজ নয়। সীমিত জনবল ও বাজেট নিয়ে বিশাল সামুদ্রিক এলাকা কার্যকরভাবে তদারকি করা কঠিন বটে। অনুমতি প্রদান থেকে রাজস্ব এলেও কার্যকর পরিবেশগত নজরদারি ব্যয়বহুল। ফলে বাস্তবায়নের দুর্বলতা অনেক সময় আইনের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আবার পরিবেশগত ক্ষতির দিক থেকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অতিরিক্ত পর্যটক চাপ প্রবাল ও সামুদ্রিক তৃণভূমির ক্ষতি করছে, প্রজনন মৌসুমে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে প্লাস্টিক ও জৈব দূষণ বাড়ছে। এই প্রবণতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখান থেকে পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

অন্যদিকে এই বিতর্কে সংবিধানও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। অনুচ্ছেদ ১৮ক রাষ্ট্রকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে অনুচ্ছেদ ১৫, ৩১, ৩২ এবং ৪০ নাগরিকের জীবন, জীবিকা ও পেশার অধিকারের কথাও বলে। ফলে পরিবেশ রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ যদি মানুষের জীবিকা সম্পূর্ণভাবে বিপন্ন করে, তবে এখানে একটি সাংবিধানিক ভারসাম্যের প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।

আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইনও একই ভারসাম্যের কথা বলে। Vellore Citizens Welfare Forum v Union of India (AIR 1996 SC 2715) মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট Sustainable Development, Precautionary Principle এবং Polluter Pays Principle-কে স্বীকৃতি দেন। বাংলাদেশেও BELA-এর বিভিন্ন জনস্বার্থ মামলায় আদালত পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিলেও টেকসই উন্নয়নের ধারণাকে সমর্থন করেছেন।

তাই সেন্টমার্টিনের বিধিনিষেধ নিয়েও আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ উত্থাপিত হয়েছে। তাহলে সমাধানটা আসলে কোথায়?

সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পর্যটন—কোনোটিই কার্যকর সমাধান নয়। বরং প্রয়োজন সাসটেইনেবল ট্যুরিজম ভিত্তিক আইনি কাঠামো।

এর জন্য কয়েকটি বাস্তবসম্মত সংস্কার বিবেচনা করা যেতে পারে—
• সকল পারমিট, শর্ত ও পরিবেশগত নিরীক্ষা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা।
• স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পরিবেশগত অডিট বাধ্যতামূলক করা।
• স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা।
• সেন্টমার্টিনকে Core Zone, Buffer Zone এবং Tourist Zone-এ ভাগ করে বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যটন পরিচালনা করা।
• পর্যটকদের ওপর Eco-Tax আরোপ করে সেই অর্থ স্থানীয় জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যয়ের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা।
• পর্যটন আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্থানীয় উন্নয়ন তহবিলে বরাদ্দ করা।
• পরিবেশ রক্ষার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আইনি ভিত্তিতে বিকল্প জীবিকা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
• পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত এবং কার্যকর মনিটরিং আরও শক্তিশালী করা।

দেখুন রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে যে, পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের জীবন-জীবিকার সংস্থাপন—দুটিই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রবাল বাঁচাতে গিয়ে মানুষকে অনাহারে রাখা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি জীবিকার অজুহাতে প্রকৃতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়াও ন্যায়সংগত হতে পারে না। প্রকৃত সমাধান এমন একটি আইনি কাঠামো, যেখানে Ecocentric এবং Anthropocentric—উভয় দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় থাকবে। যাতে যেখানে প্রবালও বাঁচবে, আবার স্থানীয় মানুষের ভবিষ্যৎও নিরাপদ থাকবে।

আপনার মতে, সেন্টমার্টিনে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কঠোর বিধিনিষেধের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জন্য আইনি ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প কর্মসংস্থান বাধ্যতামূলক করা উচিত কি? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

লেখক: Sabrina Kibria Aboni, Marzia Atiya, Sadik Mahmud Siam
Research Intern, Law with Mia
সম্পাদনা: Al Muminul Mia

#মানবাধিকার

28/07/2026

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে বিএনপি এমপি সানজিদা আক্তার তুলির বক্তব্য | BNP MP Sanjida Tuli's remark on the National Human Rights Commission

#মানবাধিকার

রাত তখন প্রায় ১টা।পাশের রুম থেকে বাবা-মায়ের তুমুল ঝগড়ার শব্দ ভেসে আসছে।— ❝আমি কোর্টে যাব!❞— ❝সন্তান আমার কাছেই থাকবে!❞...
25/07/2026

রাত তখন প্রায় ১টা।
পাশের রুম থেকে বাবা-মায়ের তুমুল ঝগড়ার শব্দ ভেসে আসছে।
— ❝আমি কোর্টে যাব!❞
— ❝সন্তান আমার কাছেই থাকবে!❞
— ❝তুমি ওকে আর কোনোদিন দেখতে পাবে না!...❞

আট বছরের ছোট্ট রাফি বালিশ দিয়ে দুই কান চেপে ধরে আছে। শব্দগুলো যেন আর শুনতে না হয়। তবুও শুনতে পাচ্ছে। সে কিছুই বুঝতে পারছে না। সে শুধু জানে আজ রাতেও আব্বু-আম্মু একসঙ্গে বসে খাবে না।

পরদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় সে মাকে জিজ্ঞেস করল,
❝আম্মু... আমি যদি তোমার কাছে থাকি, তাহলে আব্বু কি আর আমাকে ভালোবাসবে না?❞
মা উত্তর দিতে পারলেন না। কিছুক্ষণ পর আবার প্রশ্ন করলো—
❝আমি কি দুজনের কাছেই থাকতে পারি না?❞
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু ওই মায়ের কাছে নেই।
বাংলাদেশের হাজারো বিচ্ছিন্ন পরিবারের কাছেও নেই। বিচ্ছেদের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উদ্ভব হয় সন্তান কার কাছে বড় হবে ? আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো এই সিদ্ধান্ত কীসের ভিত্তিতে হবে?

হানাফি মাজহাবের প্রচলিত হিযানত (Hizanat) নীতি অনুযায়ী সাধারণভাবে বিচ্ছেদের পর পুত্রসন্তান সাত বছর বয়স পর্যন্ত এবং কন্যাসন্তান বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মায়ের হেফাজতে থাকার অনুমতি পায়। এখন হিজানত মূলত কী?

"হিজানত" (Hizanat) বলতে বোঝায় শিশুর দৈনন্দিন পরিচর্যা, লালন-পালন ও শারীরিক হেফাজতের অধিকার। তবে এটি Legal Guardianship-এর মতো নয়। এখানেই বেশিরভাগ মানুষ ভুল করেন। অনেকে ভাবেন Custody আর Guardianship একই বিষয়। কিন্তু আইন তা বলে না।

Custody (হেফাজত) অর্থ—শিশু কার সঙ্গে থাকবে, কে তার দৈনন্দিন যত্ন নেবে। আর Guardianship (আইনগত অভিভাবকত্ব) অর্থ—শিশুর শিক্ষা, সম্পত্তি, চিকিৎসা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। দুটো সম্পূর্ণ পৃথক আইনগত বিষয়।

এখন লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশে মুসলিমদের জন্য Muslim Family Laws Ordinance, 1961–এ ছেলে সাত বছর বা মেয়ে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মায়ের কাস্টডিতে থাকবে এমন কোনো বিধান কিন্তু নেই।

বাংলাদেশে মুসলিম-হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ ধর্ম নির্বিশেষে কাস্টডি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্ব-স্ব ধর্মীয় রীতি-নীতির পাশাপাশি The Guardians and Wards Act, 1890 হচ্ছে প্রধানতম আইন। এই আইনই আদালতকে সন্তানের কাস্টডি নির্ধারণের ক্ষমতা দেয়।

এই আইনের ধারা ৭ অনুযায়ী আদালত তখনই কাস্টোডিয়ান (অভিভাবক) নিয়োগ করবেন, যখন তা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় বলে প্রতীয়মান হবে। ধারা ১৭ মোতাবেক, অভিভাবক নিয়োগের সময় প্রধান বিবেচ্য হবে সন্তানের কল্যাণ (Welfare of the Minor)। এক্ষেত্রে আদালত সন্তানের বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, প্রস্তাবিত অভিভাবকের চরিত্র ও সক্ষমতা, সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, প্রয়োজনে সন্তানের নিজস্ব মতামত এবং মামলার সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনা করবেন।

একইভাবে আন্তর্জাতিক আইনও শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের কথা বলে। Convention on the Rights of the Child 1989 (CRC) এর Article 3(1) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:
“In all actions...the best interests of the child shall be a primary consideration.” এবং Article 12 অনুচ্ছেদে শিশুকে তার বয়স ও পরিপক্বতা অনুযায়ী নিজস্ব মতামত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে।

তাহলে যদি কোনো শিশু যথেষ্ট পরিপক্ব হয়, আদালতের উচিত তার মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া। এবং আধুনিক প্যারেন্টিং আমাদেরকে বলে যে, অপত্যলালনের ক্ষেত্রে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও সন্তানের পরিচর্যায় সমান ভূমিকা রাখতে সমর্থ।

তাই বাচ্চার বয়স, মাতৃস্নেহ, পিতৃদায় ইত্যাদি বিবেচ্য বিষয় হলেও কোনোটিই চূড়ান্ত মানদণ্ড নয়। আদালতকে বরং একটি প্রশ্ন করতে হবে যে, ❝বাচ্চাটি কেমন আছে?❞ আদালতকে আমলে নিতে হবে যে, এই শিশুটির জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং কল্যাণকর পরিবেশ কোথায়?"

বহুল আলোচিত Eriko Nakano, Tokyo, Japan Vs. Bangladesh and Ors. মামলাটি বাংলাদেশের কাস্টডি আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যেখানে আদালত রায়ে স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন যে মা বা বাবার আইনি দাবির চেয়ে সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ (Best Interest of the Child) সর্বোচ্চ বিবেচ্য।

কাস্টডির মামলায় অভিভাবক এবং আদালতকে বুঝতে হবে যে, এটি কোনো অভিভাবকের জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

লেখক: Antum Hossain , Hm Bayzid Hossain
Research Intern, Law with Mia
সম্পাদনা: Al Muminul Mia

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Law with Mia posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category