Law with Mia

Law with Mia Legal education | Law insights | Law clinic | Rights activism | Policy analysis | Legal awareness | Social reform
(4)

বিয়ের দিন কাজি সাহেব একে একে কলামগুলো পূরণ করেন। মোহরানা কত, দেনমোহর কীভাবে পরিশোধ হবে, বহুবিবাহের অনুমতি আছে কিনা—এসবে...
23/06/2026

বিয়ের দিন কাজি সাহেব একে একে কলামগুলো পূরণ করেন। মোহরানা কত, দেনমোহর কীভাবে পরিশোধ হবে, বহুবিবাহের অনুমতি আছে কিনা—এসবের পাশাপাশি একটি কলাম থাকে যা অনেক বিয়েতেই নিঃশব্দে ফাঁকা রয়ে যায়। সেটি ১৮ নম্বর কলাম, যেখানে লেখা থাকে—স্বামী কি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করেছেন কিনা।

বাংলাদেশে কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামটি মূলত স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ (তালাক-ই-তাফউইজ) সংক্রান্ত। এই কলামটি ফাঁকা থাকলে অনেকে ধরে নেন, স্ত্রীর পথ চিরতরে বন্ধ। কিন্তু এই ধারণাটি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ ভুল।

১৮ নম্বর কলাম আসলে কী বলে, কী বলে না?

১৮ নম্বর কলামটি কেবল একটি বিষয়ই নির্ধারণ করে—স্বামী তার স্ত্রীকে একতরফাভাবে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করেছেন কিনা। এটি ফাঁকা থাকার অর্থ শুধু এটুকুই যে স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে unilateral বা একতরফা তালাক দিতে পারবেন না।

কিন্তু, মুসলিম আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের একাধিক পথ আছে। যেমন—
স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক,
স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাক-ই-তাফউইজ ও লিয়ান,
এবং উভয়ের সম্মতিতে খোলা ও মুবারাত।
এর বাইরে ১৯৩৯ সালের আইন সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিচারিক পথ উন্মুক্ত করে রেখেছে।
--------------------

সুতরাং স্ত্রীর সামনে তালাকের জন্য তিনটি পথ খোলা থাকে—

প্রথম পথ: তালাক-ই-তাফউইজ (কাবিন অনুযায়ী)
যদি ১৮ নম্বর কলামে ক্ষমতা দেওয়া থাকে, তাহলে স্ত্রী সেই অর্পিত ক্ষমতা ব্যবহার করে তালাক দিতে পারবেন, তবে নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক-ই-তাফউইজ নিবন্ধন করবেন না যদি না স্বামীর পক্ষ থেকে ক্ষমতা অর্পণের নিবন্ধিত দলিল বা বিবাহ রেজিস্টারে সেই নিবন্ধনের সত্যায়িত কপি উপস্থাপন করা হয়।

দ্বিতীয় পথ: খোলা (Khula)
স্ত্রী স্বামীকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে খোলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারেন। এমনকি স্বামী সম্মত না হলেও আদালত পারে বিচ্ছেদের আদেশ দিতে, যদি প্রমাণিত হয় যে দুজনের একসাথে বসবাস আর সম্ভব নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, খোলা এবং Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 অনুযায়ী বিচারিক বিচ্ছেদ দুটো আলাদা ও স্বতন্ত্র অধিকার—আদালত নিজে থেকে একটিকে অন্যটিতে রূপান্তর করতে পারে না। আর গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, যদি স্ত্রী DMMA-র অধীনে বিচারিক বিচ্ছেদ পান, তাহলে ধারা ৫ অনুযায়ী তার দেনমোহরের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে, কিন্তু খোলার ক্ষেত্রে তাকে সাধারণত দেনমোহর ছেড়ে দিতে হয়।

তৃতীয় পথ: আদালতের মাধ্যমে বিচারিক বিচ্ছেদ
এখানে স্বামীর সম্মতির কোনো প্রয়োজন নেই। Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939-এর ধারা ২ অনুযায়ী, মুসলিম আইনে বিবাহিত একজন স্ত্রী নির্দিষ্ট কারণে আদালতের কাছে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে—

(i) স্বামীর ঠিকানা/অবস্থান ৪ বছর ধরে অজানা থাকলে।
⚠️ বিশেষ শর্ত: এই গ্রাউন্ডে ডিক্রি পাস হলেও তা ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকর হবে না। এই সময়ের মধ্যে স্বামী ব্যক্তিগতভাবে বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে দাম্পত্য দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি দেখাতে পারলে আদালত ডিক্রি বাতিল করবে।
--------------------
(ii) স্বামী ২ বছর ধরে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে অবহেলা করলে বা ব্যর্থ হলে।
--------------------
(iia) স্বামী Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর বিধান লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত বিয়ে করলে।
--------------------
(iii) স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে।
⚠️ বিশেষ শর্ত: সাজা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই গ্রাউন্ডে ডিক্রি পাস হবে না।
--------------------
(iv) স্বামী যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া ৩ বছর ধরে দাম্পত্য দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে।
--------------------
(v) স্বামী বিবাহের সময় পুরুষত্বহীন (impotent) ছিলেন এবং এখনো তাই থাকলে।
⚠️ বিশেষ শর্ত: এই গ্রাউন্ডে ডিক্রি পাসের আগে আদালত স্বামীর আবেদনে ১ বছর সময় দেবে সুস্থতা প্রমাণের জন্য। সেই সময়ের মধ্যে প্রমাণ করতে পারলে ডিক্রি হবে না।
--------------------
(vi) স্বামী ২ বছর ধরে পাগল হলে, বা কুষ্ঠরোগ (leprosy), বা মারাত্মক যৌনরোগে (virulent venereal disease) আক্রান্ত হলে।
--------------------
(vii) স্ত্রীকে পিতা বা অভিভাবক ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দিয়েছিলেন, এবং স্ত্রী ১৯ বছর হওয়ার আগেই সেই বিবাহ অস্বীকার করেছেন।
⚠️ বিশেষ শর্ত: বিবাহ সম্পন্ন (consummated) হয়নি — এই শর্ত পূরণ হতে হবে।
--------------------
(viii) স্বামী নিষ্ঠুরতার সাথে আচরণ করলে, অর্থাৎ:
(a) অভ্যাসগতভাবে শারীরিক আঘাত করলে বা এমন আচরণ করলে যা শারীরিক নির্যাতন না হলেও স্ত্রীর জীবন দুর্বিষহ করে তোলে।
(b) কুখ্যাত চরিত্রের নারীদের সাথে মেলামেশা করলে বা নিজে কুখ্যাত জীবনযাপন করলে।
(c) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করার চেষ্টা করলে।
(d) স্ত্রীর সম্পত্তি বিক্রি/নষ্ট করলে বা স্ত্রীকে তার সম্পত্তির উপর আইনগত অধিকার প্রয়োগ করতে বাধা দিলে।
(e) স্ত্রীকে তার ধর্মীয় বিশ্বাস বা চর্চায় বাধা দিলে।
(f) একাধিক স্ত্রী থাকলে কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সমান আচরণ না করলে।

Hosne Ara Begum vs. Alhaj Md. Rezaul Karim (43 DLR 1991 (HCD) 543) মামলায় আদালত বলেছিল, সম্পন্ন পরিবারের একজন স্ত্রীকে গৃহস্থালির কাজ করতে বাধ্য করা, যা তিনি অভ্যস্ত নন, তা নিষ্ঠুরতার সমতুল্য। এই মামলাটি DMMA-র "cruelty" ধারার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।
--------------------
(ix) মুসলিম আইনে বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যেকোনো কারণে।

Nur Nabi (Md) vs. Salima Akter Doly (13 BLC (HCD) 327) মামলায় আদালত বলেছেন, Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ৭ অনুযায়ী নোটিশ প্রদানের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে পালন না করলে কোনো তালাক আইনের দৃষ্টিতে বৈধ হবে না। এই নীতি স্বামী ও স্ত্রী উভয় পক্ষের তালাকের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।
--------------------

প্রচলিত দুটো ভুল ধারণা ও তার সঠিক জবাব

ভুল ধারণা ১: "১৮ নম্বর কলাম ফাঁকা মানে স্ত্রী আর কখনো তালাক দিতে পারবেন না।"
সঠিক: এই কলাম ফাঁকা থাকা কেবল একতরফা তালাক-ই-তাফউইজ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকার ইঙ্গিত দেয়। স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের তিনটি পথ—তাফউইজ, খোলা, এবং আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ—এর মধ্যে শুধু প্রথমটি বন্ধ থাকে, বাকি দুটো পথ সম্পূর্ণ খোলা থাকে।

ভুল ধারণা ২: "স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী আদালতেও যেতে পারবেন না।"
সঠিক: DMMA, 1939-এর অধীনে Family Court-এ মামলা করা স্ত্রীর সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র অধিকার। নির্দিষ্ট কারণ প্রমাণ করতে পারলে আদালত স্বামীর মতামত নির্বিশেষে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি দিতে পারে।
Mrs. Sherin Akhter and another vs. Al-Haj Md. Ismail, 20 BLD (HCD) 159 (2000) মামলায় বৈবাহিক দায়িত্ব ও অধিকারের প্রশ্ন আসলে আদালত স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনের অধিকার স্বীকার করেছে।

কাবিননামার একটি ফাঁকা কলাম কোনো নারীর বিচার চাওয়ার দরজা বন্ধ করতে পারে না—এটাই বাংলাদেশের পারিবারিক আইনের মূল কথা।

আইনি অধিকার জানুন, নিজেকে রক্ষা করুন

#তালাক

🌍 World Refugee Day | 20 JuneEvery refugee story begins with loss, uncertainty, and displacement. Yet behind every stati...
20/06/2026

🌍 World Refugee Day | 20 June

Every refugee story begins with loss, uncertainty, and displacement. Yet behind every statistic is a human being seeking safety, dignity, and a chance to rebuild life.

World Refugee Day reminds us that the right to seek asylum is not an act of charity; it is a fundamental human right recognised under international law. As conflicts, persecution, and climate-related disasters continue to force millions from their homes, our collective responsibility is to uphold compassion, justice, and human dignity.

Let us stand in solidarity with refugees around the world and reaffirm a simple principle: no one chooses to become a refugee, but everyone deserves protection and hope.

"Every person has the right to seek safety and a better future."

কমলাপুর স্টেশনের ভিড়ের মধ্যে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল দুই তরুণ। বয়স বড়জোর ১৮ কিংবা ১৯। পুলিশের নজরে আসে তারা। তল্লাশ...
19/06/2026

কমলাপুর স্টেশনের ভিড়ের মধ্যে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল দুই তরুণ। বয়স বড়জোর ১৮ কিংবা ১৯। পুলিশের নজরে আসে তারা। তল্লাশি চালানো হয়। এরপর যা পাওয়া গেল, তা দেখে উপস্থিত মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়।

আর সেই থলির ভেতরে একটি শিশুর রক্তাক্ত, কাটা মাথা। রক্ত তখনও পুরোপুরি শুকিয়ে যায়নি।

না, এটি কিন্তু কোনো সাইকো-থ্রিলার সিনেমার দৃশ্য নয়।

সহজাতভাবেই প্রশ্ন জাগে—
কে এই শিশুটি?
কেন তাকে হত্যা করা হলো?
আর এই দুই তরুণের কাছে তার মাথা এল কীভাবে?

পুলিশ সাথে সাথে দুই তরুণকে গ্রেফতার করে।
এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। এর কিছুদিনের মধ্যেই বেরিয়ে আসে আরও ভয়ংকর তথ্য।

পুলিশ জানায়, সুজন ও রাকিব নামের এই দুই তরুণ চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করেছিল। পরে তাকে হত্যা করে। শুধু হত্যা করেই থেমে থাকেনি, লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলে। মাথা আলাদা করেছে, ধড় আলাদা করেছে।

আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা অপরাধ স্বীকারও করেছে।

তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গাজীপুরের একটি শালবনে অভিযান চালিয়ে একটি কঙ্কালও উদ্ধার করা হয়।

এখন আপনি একটু ঘটনাটি ভাবুন। ভেবে বলুন এই দুই আসামীর কি শাস্তি হওয়া উচিত?

আপনার ভাবনা যাই হোক, ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত সুজন ও রাকিবকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

মামলাটি এখানেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু....

কিন্তু, বিশ বছর পর এক হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চের এক সিনিয়র বিচারপতি নিজের ৪১ বছরের কর্মজীবন থেকে অবসরে যাওয়ার মাত্র চারদিন আগে তিনি এই মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের মামলার নথিটি পর্যালোচনার জন্য বাড়িতে নিয়ে যান।

রাত জেগে প্রতিটি পাতা খুঁটিয়ে পড়ার পর তিনি ভয়ংকর কিছু অসামঞ্জস্য খুঁজে পান, যা কেউ দেখতে চায়নি।

প্রথম পোস্টমর্টেম রিপোর্ট যে বিচ্ছিন্ন মাথাকে খুন হওয়া শিশুর মাথা বলা হয়েছিল, সেটি ছিলো ৮ বছরের একটি ছেলে শিশুর।

কিন্তু আসামীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শালবন থেকে যে কঙ্কালকে সেই শিশুর ধড় হিসেবে উদ্ধার হয়েছিল, সেটির বয়স ছিলো ১৪-১৫ বছরের। এমনকি, সেটি ছেলে না মেয়ের কঙ্কাল তাও নিশ্চিত করা হয়নি।

অর্থাৎ, এই মামলার ভিক্টিমের উদ্ধারকৃত মাথা এবং দেহের কঙ্কালের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল না।

পুরো মামলা টিকে আছে, একটি জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি। একটি ভুয়া তদন্ত। একটি সাজানো গল্প।

তারমানে, আর যাদের খুনি বলা হয়েছিল, তারা কোনো খুনই করেনি। সুজন ও রাকিব ছিল একটি সাজানো মামলার শিকার।

অথচ, তারা এই নাটকের মূল্য দিয়েছে তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ২০টি বছর দিয়ে।

এবার ২০ বছর আগে ফিরে যাই, তখনকার সময়ে এটি মিডিয়ায় খুব চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা হিসেবে দৃশ্যায়িত হয়। রাকিব-সুজনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঘৃণার সঞ্চার ঘটে, ফলে তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী লড়েনি। রাষ্ট্র ন্যায়বিচারের স্বার্থে 'স্টেট ডিফেন্স' দিয়েছিলো বটে, তবে স্টেট ডিফেন্স যে অকার্যকর ছিলো তা বলা বাহুল্য।

যাহোক, অতঃপর বিচারপতি দ্রুত একজন 'অ্যামিকাস কিউরি' (আদালতের বন্ধু) হিসেবে নিয়োগ দেন অ্যাডভোকেট মিস্টার মনিরুজ্জামানকে।

বিজ্ঞ আইনজীবী আদালতে ২০ বছর আগের ১০টি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার শিরোনাম উপস্থাপন করে প্রমাণ করেন যে কমলাপুরের সেদিন একটি ট্রেন দুর্ঘটনা একটি শিশু কাটা পরে। এবং সেই দেহাবশেষটি মূলত দূর্ঘটনার শিকার সেই শিশুর।

অবশেষে নিজের বিদায়ী কর্মদিবসে সিনিয়র বিচারপতি সুজন ও রাকিবকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন এবং মিথ্যা সাক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

৪০ বছর বয়সে যেদিন এই দুজন জেল থেকে মুক্তি পায়, তাদের স্বাগত জানাতে কোনো পরিবার জেলগেটে ছিল না। শুধু সেই অ্যামিকাস কিউরি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান জেল গেটে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদে ওঠে সুজন আর রাকিব, যাদের যৌবনের সেরা ২০টি বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে মিথ্যা অভিযোগ।

(এই ঘটনাটি সাবেক বিচারপতি Krishna Debnath ম্যাডামের প্রমাণিত - অপ্রমাণিত অনুষ্ঠান থেকে নেয়া, এবং Add. CJM আসাদুজ্জামান আসাদ স্যারের লেখা থেকে পরিমার্জিত)

এই ঘটনার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক কী বলেন তো?

শিশুটির মৃত্যু নয়। বরং, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো, যদি একজন বিচারপতি অবসরের মাত্র কয়েক দিন আগে কৌতূহলবশত ফাইলটি আরেকবার না পড়তেন, তাহলে আজও আমরা হয়তো বিশ্বাস করে বসে থাকতাম যে সুজন ও রাকিব একজন শিশুহন্তা, এবং তাদের ফাঁসি হয়ে যেতো।

আর দুই নিরপরাধ মানুষ ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকত ঘৃণিত অপরাধী হিসেবে।

আপনার মতে, সুজন ও রাকিবের হারিয়ে যাওয়া ২০ বছর—এর দায় কার? কোনো চাঞ্চল্যকর মামলায় আসামী ধরা পরলে কিংবা স্বীকারোক্তি দিলেই তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাড়ানো—কীভাবে দেখেন?

কমেন্টে আপনার মতামত জানান।

#ন্যায়

কল্পনা করুন, একজন ব্যবসায়ীকে সরকার লিখিতভাবে জানালো যে তিন বছরের জন্য তার শিল্পে কর মওকুফ থাকবে। তিনি সেই আশ্বাসে বিশ্ব...
18/06/2026

কল্পনা করুন, একজন ব্যবসায়ীকে সরকার লিখিতভাবে জানালো যে তিন বছরের জন্য তার শিল্পে কর মওকুফ থাকবে। তিনি সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে কোটি টাকার ঋণ নিয়ে কারখানা গড়লেন। দু'বছর পর সরকার আদেশ পরিবর্তন করে কর আরোপ করলো।

এখন প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র কি তার নিজের দেওয়া কথা থেকে এমনিভাবে সরে যেতে পারে?

এখানেই কাজ করে Legitimate Expectation বা ন্যায্য প্রত্যাশার নীতি।

এই নীতিটির উৎপত্তি কীভাবে?

Legitimate Expectation মূলত প্রশাসনিক আইনের একটি নীতি, যা ব্রিটিশ আদালতে বিকশিত হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে Schmidt v. Secretary of State for Home Affairs মামলায় লর্ড ডেনিং প্রথম এই পরিভাষা ব্যবহার করেন। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, কোনো ব্যক্তির যদি কোনো অধিকার বা স্বার্থ না-ও থাকে, কিন্তু তার যদি ন্যায্য প্রত্যাশা থাকে, তবু প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ তাকে তার বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই নীতি বলে—যদি কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ কাউকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়, বা দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতি অনুসরণ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রত্যাশা করতে পারে যে কর্তৃপক্ষ তার প্রতিশ্রুতি রাখবে। আর কর্তৃপক্ষ যদি তা থেকে সরে যেতে চায়, তাকে অবশ্যই যৌক্তিক ও ন্যায্য কারণ দেখাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে।

দুটি ভিত্তির উপর এই নীতি দাঁড়িয়ে আছে।

প্রথম ভিত্তি, Rule of Estoppel— এই নীতি বলে, কোনো পক্ষ যদি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন প্রতিশ্রুতি দিয়ে অপর পক্ষকে তার ওপর নির্ভর করতে এবং নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে প্রভাবিত করে, তাহলে প্রতিশ্রুতিদাতা পরে তা অস্বীকার করতে পারবে না। এটি মূলত Promissory Estoppel-এর নীতি থেকে এসেছে, যা ন্যায়বিচার ও সমতার (equity) ওপর প্রতিষ্ঠিত।

দ্বিতীয় ভিত্তি, Rule of Enforcement— এই নীতি বলে, ন্যায্য প্রত্যাশা শুধু একটি নৈতিক দাবি নয়, বরং তা প্রয়োগযোগ্য (enforceable) অধিকার হিসেবে আদালতে স্বীকৃত হতে পারে। বাংলাদেশের আদালত একাধিক মামলায় বলেছে, Legitimate Expectation শুধু পদ্ধতিগত (procedural) নয়, বরং তা বিচার বিভাগীয় পুনর্বিবেচনার (judicial review) মাধ্যমে কার্যকরও করা যায়।

এই নীতির সাংবিধানিক ভিত্তি কী?

বাংলাদেশের সংবিধানে সরাসরি "Legitimate Expectation" শব্দটি না থাকলেও, এর তাত্ত্বিক ভিত্তি বেশ কয়েকটি মৌলিক অধিকার-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদে নিহিত।

সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং সমান আইনি আশ্রয়ের অধিকার নিশ্চিত করে। এই অনুচ্ছেদ যেকোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা দূর করার এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়—আর ন্যায্য প্রত্যাশার নীতি ঠিক এই ন্যায্যতারই একটি রূপ।

৩১ অনুচ্ছেদ আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার এবং জীবন, স্বাধীনতা, সম্মান বা সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা (due process) ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার অধিকার দেয়। যখন কোনো ব্যক্তি সরকারি প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে, তখন তার ওপর স্বেচ্ছাচারীভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া এই অনুচ্ছেদের মূল চেতনার পরিপন্থী।

২৯ অনুচ্ছেদ সরকারি নিয়োগ ও পদে সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার অধিকার দেয়, যা চাকরি বা পদোন্নতি-সংক্রান্ত ন্যায্য প্রত্যাশার মামলাগুলোতে সরাসরি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

৩২ অনুচ্ছেদ জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়, আর ৩৫ অনুচ্ছেদ ন্যায্য বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। এবং দুটোই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণের দাবি জোরদার করে।
৪০ ও ৪১ অনুচ্ছেদ পেশা, বৃত্তি ও ব্যবসা পরিচালনার অধিকার এবং ধর্ম পালনের অধিকার দেয়, যেখানে সরকারি নীতি বা লাইসেন্স-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে কেউ যদি তার ব্যবসা বা পেশাগত পরিকল্পনা সাজায়, তাহলে তার সেই প্রত্যাশাও সাংবিধানিক সুরক্ষার আওতায় আসতে পারে।

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৮৭ সাল থেকে এই নীতির প্রতি ইঙ্গিত করতে শুরু করে, এবং ২০০০ সালে প্রথমবার স্পষ্টভাবে রায়ে উল্লেখ করে। Abdul Latif Mirza vs. Government of Bangladesh মামলার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সুবিচারের নীতি (Principles of Natural Justice) দেশের আইনি কাঠামোর অংশ হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে Legitimate Expectation-এর বিকাশের পথ তৈরি করে। এই মামলায় আপিল বিভাগ বলেছিল, যে কোনো কর্তৃপক্ষ যদি কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তাকে অবশ্যই প্রাকৃতিক সুবিচারের নীতি মেনে যথাযথ ভিত্তির ওপর সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Managing Director, Dhaka WASA vs. Superior Builders and Engineers Ltd. (51 DLR (AD) 56) মামলায় আপিল বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেয়। ওয়াসা একটি বাণিজ্যিক চুক্তি বেআইনিভাবে বাতিল করেছিল, এবং আদালত বলেছিল, রিট পিটিশন কেবল চুক্তির ভিত্তিতে দাঁড় করানো না গেলেও, যখন একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যায়, তখন ঠিকাদারের একটি ন্যায্য প্রত্যাশা থাকে যে তার সাথে ন্যায্য আচরণ করা হবে। এই রায়টি বাংলাদেশে Legitimate Expectation নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।

Bangladesh vs. Idrisur Rahman (15 BLC (AD) 49, 2010) মামলায় প্রশ্ন উঠেছিল, হাইকোর্ট বিভাগের একজন অতিরিক্ত বিচারক স্থায়ী বিচারক পদে নিয়োগের ন্যায্য প্রত্যাশা রাখতে পারেন কিনা, যেহেতু সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদের অধীনে অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থায়ী নিয়োগের একটি প্রবেশদ্বার বলে গণ্য করা যায়। এই মামলাটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক রীতিনীতি (constitutional conventions) বলবৎযোগ্য কিনা, তা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছিল।

তবে এই নীতি অসীম ক্ষমতার নয়। ন্যায্য প্রত্যাশা কখনোই সুস্পষ্ট আইন, সংবিধান বা বৃহত্তর জনস্বার্থের ঊর্ধ্বে যেতে পারে না। যদি কোনো প্রতিশ্রুতি আইনের পরিপন্থী হয়, বা তা দেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার না থাকে, তাহলে আদালত সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে বাধ্য নয়। এছাড়া, প্রত্যাশাটি অবশ্যই স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং যুক্তিসঙ্গত হতে হবে—নিছক আশা বা ধারণার ভিত্তিতে এই নীতি প্রয়োগ করা যায় না।

কেন এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ?

Legitimate Expectation নীতির মূল সৌন্দর্য এখানেই যে, এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে এক ধরনের নৈতিক জবাবদেহিতার মধ্যে বেঁধে রাখে। রাষ্ট্র যেহেতু ক্ষমতাবান পক্ষ, তাই তার প্রতিশ্রুতি বা প্রতিষ্ঠিত প্রথার ওপর ভরসা করে যে নাগরিক তার জীবন, ব্যবসা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজায়, তাকে রক্ষা করা আইনের শাসনের (Rule of Law) একটি অপরিহার্য অংশ।

Estoppel নীতি নিশ্চিত করে যে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা সহজ হবে না, আর Enforcement নীতি নিশ্চিত করে যে এই প্রত্যাশা শুধু কাগজে থাকবে না, বরং আদালতের মাধ্যমে বাস্তবে কার্যকর হতে পারবে।

ধরুন, একই অফিসে কাজ করেন দুই নারী। দুজনই গর্ভবতী, দুজনেরই চিকিৎসা, বিশ্রাম, প্রসব-পরবর্তী সেবা এবং নবজাতকের যত্নের প্রয়ো...
16/06/2026

ধরুন, একই অফিসে কাজ করেন দুই নারী। দুজনই গর্ভবতী, দুজনেরই চিকিৎসা, বিশ্রাম, প্রসব-পরবর্তী সেবা এবং নবজাতকের যত্নের প্রয়োজন সমান। কিন্তু সন্তান জন্মের সময় একজনের একটি জীবিত সন্তান আছে, আর অন্যজনের আছে দুইটি। সন্তান জন্মের পর প্রথম নারী মাতৃত্বকালীন সুবিধা পেলেন, কিন্তু দ্বিতীয় নারী পেলেন না। প্রশ্ন হলো—শুধু সন্তানের সংখ্যার কারণে কি একজন মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার কমে যেতে পারে?

এই প্রশ্নটিই এখন বাংলাদেশের শ্রম আইন ও সাংবিধানিক অধিকারের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছেন, যেখানে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের সেইসব বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যেগুলো দুই বা ততোধিক জীবিত সন্তান থাকা নারীদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে।

বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, একজন নারী শ্রমিক সন্তান জন্মদানের আগে ৮ সপ্তাহ এবং পরে ৮ সপ্তাহ, অর্থাৎ মোট ১৬ সপ্তাহ বা ১১২ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। এই সুবিধা মূলত পূর্ণ মজুরিসহ প্রদান করা হয় এবং এর উদ্দেশ্য হলো গর্ভাবস্থা ও প্রসবের সময় মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে একই আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, সন্তান জন্মের সময় যদি ওই নারীর দুই বা ততোধিক জীবিত সন্তান থাকে, তাহলে তিনি মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন না।

এখানেই শুরু হচ্ছে বিতর্ক।

কারণ মাতৃত্বকালীন সুবিধার মূল দর্শন কী—এটি কি সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দেওয়ার একটি আর্থিক সুবিধা, নাকি এটি একজন কর্মজীবী মায়ের স্বাস্থ্য ও মানবিক সুরক্ষার অধিকার?

রিট আবেদনকারীর বক্তব্য হলো, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনো প্রণোদনা নয়। এটি এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা প্রসব-পরবর্তী শারীরিক পুনরুদ্ধার, মানসিক সুস্থতা, নবজাতকের পরিচর্যা এবং স্তন্যদান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন। একজন নারী প্রথম সন্তান জন্ম দিন কিংবা তৃতীয় সন্তান, তার শরীরের ওপর প্রসবের প্রভাব তো একই ধরনের থাকে। চিকিৎসা, বিশ্রাম এবং পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনও একইভাবে বিদ্যমান থাকে। তাহলে শুধুমাত্র সন্তানের সংখ্যার ভিত্তিতে তাকে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা কতটা যৌক্তিক—সেই প্রশ্নই আদালতের সামনে তোলা হয়েছে।

এই রিটে আরও বলা হয়েছে যে, এমন বিধান সংবিধানের সমতা ও বৈষম্যবিরোধী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশের সংবিধান আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা নিশ্চিত করে এবং অযৌক্তিক বৈষম্যকে নিরুৎসাহিত করে। রিট আবেদনকারীর মতে, একই ধরনের স্বাস্থ্যগত অবস্থায় থাকা দুই নারীর মধ্যে কেবল সন্তানের সংখ্যার কারণে ভিন্ন আচরণ করা সংবিধানের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডও ক্রমশ মাতৃত্বকালীন সুবিধাকে স্বাস্থ্যগত ও মানবাধিকারভিত্তিক সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা কনভেনশন এবং নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (CEDAW) উভয়ই মাতৃত্বকালীন সুরক্ষাকে নারীর অধিকার হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্ব দেয়। এসব আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সন্তানের সংখ্যা অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন সুবিধা সীমিত করার ধারণা সাধারণত দেখা যায় না।

অন্যদিকে রাষ্ট্র বা আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকেও কিছু যুক্তি আসতে পারে। তারা বলতে পারেন, এই বিধান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত অথবা এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত, যেখানে আইনসভা কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু এখানেও প্রশ্ন থেকে যায়—জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সীমিত করা কি একটি উপযুক্ত ও সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য উপায়?

এই মামলার গুরুত্ব আসলে একটি নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়া বা না পাওয়ার প্রশ্নের চেয়েও বড়। এটি আমাদেরকে ভাবতে বাধ্য করছে—আমরা মাতৃত্বকালীন সুবিধাকে কীভাবে দেখি? এটি কি একটি কর্মসংস্থানভিত্তিক সুবিধা, নাকি এটি একজন নারীর স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং নিরাপদ মাতৃত্বের অধিকারের অংশ?

হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। তবে যে প্রশ্নটি আদালতের সামনে উঠেছে, সেটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার কী মনে হয়? দুই বা ততোধিক জীবিত সন্তান থাকলে মাতৃত্বকালীন সুবিধা সীমিত করার বিধান কি যৌক্তিক, নাকি এটি বৈষম্যমূলক? আপনার মতামত মন্তব্যে জানাতে পারেন।

#মাতৃত্বকালীন #ছুটি

"রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২৪ ঘণ্টা গোপন রাখা যাবে" — এটা গুম আইন ২০২৬-এর খসড়ায় আছে।মানে? গুমের আইনেই গুমের সুযোগ...
15/06/2026

"রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২৪ ঘণ্টা গোপন রাখা যাবে" — এটা গুম আইন ২০২৬-এর খসড়ায় আছে।

মানে? গুমের আইনেই গুমের সুযোগ।

আমরা এটা নিয়ে চুপ থাকিনি। Law with Mia-এর পক্ষ থেকে তৈরি হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক সংশোধনী প্রস্তাবনা — ১৬টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্টে, আন্তর্জাতিক আইনের নজির দিয়ে।

স্লাইডগুলো দেখুন। পুরোটা পড়ুন। শেয়ার করুন। আপনার মন্তব্য জানান।

কারণ এই আইনটা সবার জন্য।

[মূল ফাইলটি পড়তে কমেন্ট বক্সে দেয়া লিংক দেখুন।]

প্রস্তাবনায়:
Al Muminul Mia
Ahmed Rabiul Zeesun
Sabrina Kibria Aboni
Antum Hossain
Sharmin Akther

ধন্যবাদান্তে টিম Law with Mia

#গুম #মানবাধিকার

📚 ইন্টার্ন ট্রেনিং সেশন রিক্যাপ | Law with Mia১৩ জুন, ২০২৬ তারিখে আমাদের ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে জাতীয় ম...
14/06/2026

📚 ইন্টার্ন ট্রেনিং সেশন রিক্যাপ | Law with Mia

১৩ জুন, ২০২৬ তারিখে আমাদের ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ (খসড়া) এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬ (খসড়া) বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেশনটি পরিচালনা করেন Ahmed Rabiul, Associate, Legal Research।

আলোচনায় খসড়া আইন দুটির উদ্দেশ্য, কাঠামো, নীতিগত ভিত্তি, সম্ভাব্য অসংগতি, বাস্তবায়নগত চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুপারিশ নিয়ে সমালোচনামূলক ও গবেষণাভিত্তিক মতবিনিময় করা হয়। অংশগ্রহণকারী ইন্টার্নরা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গঠনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গভীরতর ধারণা লাভ করে।

আইনকে শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় হিসেবে নয়, বরং নীতি, অধিকার ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করার দক্ষতা গড়ে তোলাই আমাদের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

Ahmed Rabiul-কে তাঁর সময়, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবান দিকনির্দেশনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা থেকেই জন্ম নেয় সুসংহত চিন্তা, আর সুসংহত চিন্তা থেকেই গড়ে ওঠে কার্যকর নেতৃত্ব।

















বৈবাহিক বিচ্ছেদের পর একটা সম্পর্ক যখন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যায়, তখনও কি একজন নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিধি অন্য কার...
13/06/2026

বৈবাহিক বিচ্ছেদের পর একটা সম্পর্ক যখন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যায়, তখনও কি একজন নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিধি অন্য কারও নৈতিক মানদণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে?

বিচ্ছেদের পরও কি একজন নারীর বেঁচে থাকার অর্থনৈতিক অধিকারকে তার ব্যক্তিগত আচরণের শর্তে বেঁধে রাখা যায়?

খ্রিস্টান পারিবারিক আইনে "Dum Casta Vixerit" (ততদিন পর্যন্ত, যতদিন সে সতীত্ব বজায় রাখবে)—নীতিটি আমাদের এই জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

এই নীতিটির শিকড় পোতা রয়েছে ইংরেজি সাধারণ আইন (English Common Law) এবং ইকুইটি (Equity) কোর্টের প্রাচীন ধারণার মধ্যে।
আধুনিক যুগের মতো প্রাচীন ইংল্যান্ডে চাইলেই ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ করা যেত না। ১৮৫৭ সালের আগে ডিভোর্সের বিষয়টি দেখভাল করত 'এক্লেসিয়াস্টিক্যাল কোর্ট' বা চার্চের ধর্মীয় আদালতগুলো। সেসময় কমন ল-তে 'Coverture' (কভারচার) নামে একটি মারাত্মক নীতি প্রচলিত ছিল। এই নীতি অনুযায়ী, বিয়ের পর একজন নারীর নিজস্ব কোনো আইনি বা অর্থনৈতিক সত্তা থাকত না; তার সমস্ত সম্পত্তি, অর্থ এমনকি তার আইনি পরিচয়ও স্বামীর পরিচয়ের ভেতর বিলীন হয়ে যেত।

এখন, কোনো কারণে স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা না হলে তারা যখন আলাদা থাকতে চাইতেন (যাকে বলা হতো Separation of bed and board), তখন স্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় সংকট ছিল খাবার বা বেঁচে থাকার খরচ। কারণ, তার নিজের বলতে কোনো টাকা নেই। এই পরিস্থিতিতে ধর্মীয় আদালত বা স্বামী নিজে একটি নির্দিষ্ট 'ভাতা' (Allowance/Alimony) দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন।

১৮৪০ সালের ইংল্যান্ডের লর্ড এডওয়ার্ড এবং লেডি এলিনরের মধ্যে দাম্পত্য কলহ তখন চরমে। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন তারা আর এক ছাদের নিচে থাকবেন না। কিন্তু লেডি এলিনরের বেঁচে থাকার জন্য তো অর্থের প্রয়োজন!

তখন ​লর্ড এডওয়ার্ডের আইনজীবীরা তখন একটি 'ডিড অব সেপারেশন' (Deed of Separation) বা বিচ্ছেদের চুক্তিপত্র তৈরি করলেন। চুক্তিতে লেখা হলো: লর্ড এডওয়ার্ড প্রতি বছর লেডি এলিনরকে ৫০০ পাউন্ড করে ভাতা দেবেন। কিন্তু লর্ড এডওয়ার্ডের মনে একটি ভয় কাজ করছিল— "আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা দেব, আর সেই টাকা দিয়ে আমার স্ত্রী অন্য কোনো পুরুষের (প্রেমিকের) সাথে বিলাসী জীবনযাপন করবে, তা তো হতে পারে না!"

তখনই আইনজীবীরা চুক্তির একদম শেষ লাইনে একটি ল্যাটিন শর্ত জুড়ে দিলেন: "Dum sola et casta vixerit" (যতদিন সে একা এবং সতীত্ব বজায় রেখে জীবনযাপন করবে)। লেডি এলিনর ভাতা পাওয়ার আশায় সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন। এভাবেই প্রথমবারের মতো এই ল্যাটিন ম্যাক্সিমটি আইনাঙ্গনে প্রবেশিত হলো।

মজার কাহিনি হলো, বিচ্ছেদের দুই বছর পর, লেডি এলিনর অন্য শহরে গিয়ে একজন তরুণ কবির প্রেমে পড়লেন এবং তার সাথে বসবাস শুরু করলেন। এই খবর লর্ড এডওয়ার্ডের কানে পৌঁছাতেই তিনি এলিনরের বাৎসরিক ৫০০ পাউন্ডের ভাতা বন্ধ করে দিলেন।

​ক্ষুব্ধ এলিনর তখন বিচার চাইতে গেলেন ইকুইটি কোর্টে (Court of Chancery)। ইংল্যান্ডের ইকুইটি কোর্ট পরিচিত ছিল ন্যায়বিচার বা সুষম বিচারের জন্য। এলিনর দাবি করলেন যে, এডওয়ার্ড চুক্তি ভঙ্গ করেছেন।

​কিন্তু ইকুইটি কোর্টের বিচারক যখন চুক্তিপত্রটি হাতে নিলেন, তখন তার চোখ আটকে গেল ওই ল্যাটিন বাক্যটিতে— Dum Casta Vixerit। বিচারক তখন ইকুইটির সেই বিখ্যাত ম্যাক্সিমটি প্রয়োগ করলেন: "যে ন্যায়বিচার চাইতে আসবে, তাকে পরিচ্ছন্ন হাতে আসতে হবে" (Clean hands doctrine)।

​বিচারক তার রায়ে বললেন, "যেহেতু আপনি (এলিনর) সতীত্ব ভঙ্গের মাধ্যমে চুক্তির নৈতিক শর্ত ভঙ্গ করেছেন এবং আপনার হাত পরিচ্ছন্ন নেই, তাই আপনার স্বামী আর আপনাকে এই অর্থ দিতে আইনত বাধ্য নন।"

পরবর্তীতে ১৮৬৯ সালের ডিভোর্স অ্যাক্টের মাধ্যমে এই উপমহাদেশে এবং বাংলাদেশের পারিবারিক আইনি কাঠামোতেও এটি সংবিধিবদ্ধ রূপ পায়।

জুরিসপ্রুডেন্সের দৃষ্টিতে প্রাচীনকাল থেকেই বিবাহকে একটি সামাজিক ও নৈতিক চুক্তি হিসেবে দেখা হতো, যেখানে পারস্পরিক বাধ্যবাধকতা ছিল প্রধান শর্ত। নিয়ম অনুযায়ী, স্বামী স্ত্রীকে অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেবে এবং বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত (Chaste) থাকবে। আইনতত্ত্বের ব্যাখ্যায়, বিবাহ বিচ্ছেদের পরও যখন স্বামী স্ত্রীকে স্থায়ী ভরণপোষণ (Permanent Alimony) দেয়, তখন আইন ধরে নেয় যে বিবাহের মূল চুক্তির 'আর্থিক বাধ্যবাধকতা' অংশটি এখনও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। আর সেই সূত্র ধরেই, অবধারিতভাবে 'বিশ্বস্ততা বা সতীত্ব'-এর শর্তটিও নৈতিকভাবে ছায়ার মতো স্ত্রীর পিছু তাড়া করে।

তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই নীতিটি তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন। এই রক্ষণশীল ধারণার বিরুদ্ধে আধুনিক লিগ্যাল রিয়ালিজম (Legal Realism) এবং ফেমিনিস্ট জুরিসপ্রুডেন্স (Feminist Jurisprudence) শক্ত অবস্থান নিয়েছে। যার প্রধান কারণ চরম লিঙ্গ বৈষম্য।

আইনত, ডিভোর্সের পর স্বামী যদি অনৈতিক জীবনযাপন করেন, তবে তার কোনো শাস্তি হয় না বা স্ত্রীর ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারও বৃদ্ধি পায় না। কেবল স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের ওপর এই শর্ত চাপিয়ে দেওয়া আধুনিক সমতার নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পাশাপাশি, এটি একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকেও (Right to Privacy) ক্ষুণ্ণ করে।

আধুনিক জুরিসপ্রুডেন্স ভরণপোষণকে কোনো 'নৈতিক পুরস্কার' হিসেবে দেখে না, বরং একে দেখে 'অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ' বা 'সুরক্ষা' হিসেবে।

রজনীশ বনাম নেহা (২০২০), শাহ বানু (১৯৮৫), অঞ্জু গার্গ (২০২২), পচন রিকসি দাস (১৯৯৮), নির্মল কান্তি দাস (১৯৯৪) এবং জামিলা খাতুন (১৯৯৬) মামলার মতো যুগান্তকারী রায়গুলোর মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের উচ্চ আদালতসমূহ সমন্বিতভাবে এই আধুনিক আইনি নীতি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে যে, ভরণপোষণ কোনো দয়া বা প্রাচীন সতীত্বের পুরস্কার নয়, বরং এটি স্বামীর ওপর বর্তানো অবশ্যপালনীয় আইনি দায়বদ্ধতা বা ঋণ।

উপরন্তু, জোসেফ শাইন বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (২০১৮) এবং এস. খুশবু বনাম কান্নিয়াম্মাল (২০১০) মামলার যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রাচীন প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, প্রাপ্তবয়স্কদের স্বেচ্ছায় প্রণীত শারীরিক সম্পর্ক বা পরকীয়া কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়।

এই আইনতাত্ত্বিক বিবর্তনের কারণে আধুনিক আদালতগুলো এখন আর এই শব্দবন্ধটিকে অন্ধের মতো বা যান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করে না। আদালতের সমসাময়িক চর্চায় দুটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট।

প্রথমত, এই নীতিটি এখন আর স্বয়ংক্রিয় (Not Automatic) নয়। ডিভোর্সের ডিক্রি দেওয়ার সময় আদালত যদি সুনির্দিষ্টভাবে রায়ের ভেতর এই Dum Casta Vixerit ক্লজটি যুক্ত না করেন, তবে স্বামী চাইলেই পরবর্তী সময়ে স্ত্রীর চারিত্রিক বিচ্যুতির অজুহাত তুলে ভরণপোষণ বন্ধ করতে পারেন না।

দ্বিতীয়ত, প্রমাণের কঠোর দায়ভার (Burden of Proof) এখন স্বামীর ওপর বর্তায়। স্বামী যদি স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনৈতিক জীবনযাপনের অভিযোগ এনে ভরণপোষণ বন্ধ করতে চান, তবে সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।

আইনতত্ত্বের সুদীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাসে Dum Casta Vixerit নীতিটি ১৮৬৯ সালের আইনের সুবাদে এটি আজও এক প্রকার টিকে থাকলেও, বর্তমান যুগের আদালতগুলো 'স্ত্রীর অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও মানবিক প্রয়োজনীয়তা'-কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এই নীতিকে অনেকটাই শিথিল করে এনেছে।

আপনার কী মত, ডিভোর্সের ক্ষেত্রে এই নীতি থাকা উচিত? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

#ডিভোর্স #নাসির

প্রতিবছর ১২ জুন পালিত হয় ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’। ২০২৬ সালের এই দিবসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধা...
12/06/2026

প্রতিবছর ১২ জুন পালিত হয় ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’। ২০২৬ সালের এই দিবসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিপাদ্য—“শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি”—অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার শিশুশ্রম বন্ধে এবং কিশোরদের অধিকার রক্ষায় আইনি কাঠামো তৈরি করেছে, যার মূল ভিত্তি হলো ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ এবং ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫’।

১. শিশু ও কিশোরের আইনি সংজ্ঞা
বাংলাদেশ শ্রম আইনে বয়সভেদে শিশু ও কিশোরের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য টেনে দেওয়া হয়েছে, যা জানা অত্যন্ত জরুরি:

শিশু (Child): বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২(৬৩) অনুযায়ী, যিনি ১৪ বছর বয়স পূর্ণ করেননি, তিনি ‘শিশু’ হিসেবে গণ্য হবেন।

কিশোর (Adolescent): আইনের ধারা ২(৮) অনুযায়ী, যিনি ১৪ বছর বয়স পূর্ণ করেছেন কিন্তু ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করেননি, তিনি ‘কিশোর’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

শিশুশ্রম প্রতিরোধে প্রচলিত শ্রম আইন ও বিধিমালা

২. শিশুশ্রমের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা
আইনের ধারা ৩৪(১) অনুযায়ী, কোনো পেশায় বা কারখানায় কোনো শিশুকে (১৪ বছরের কম) কাজে নিয়োগ করা যাবে না বা কাজ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এমনকি শিশুর পিতা-মাতা বা অভিভাবকও শিশুকে কোনো কাজে খাটানোর জন্য অন্য কারও সাথে কোনো প্রকার চুক্তি করতে পারবেন না।

৩. কিশোর নিয়োগের শর্তাবলী ও কাজের সময়সীমা
১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে:

সক্ষমতার শংসাপত্র (ধারা ৩৫ ও ৩৭): একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত ‘কাজে সক্ষমতার শংসাপত্র’ (Fitness Certificate) ছাড়া কোনো কিশোরকে কারখানায় নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এই সনদের মেয়াদ থাকে মাত্র ১২ মাস।

কাজের সময়সীমা (ধারা ৩৯): কোনো কিশোরকে কারখানা বা খনিতে দিনে ৫ ঘণ্টার বেশি এবং সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে এই সময়সীমা দিনে ৭ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টা।

রাতের বেলা কাজ নিষিদ্ধ: সন্ধ্যা ৭:০০ টা থেকে সকাল ৬:০০ টার মধ্যবর্তী সময়ে কোনো কিশোরকে কোনোভাবেই কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
আইনের ধারা ৩৯ ও ৪০ অনুযায়ী, কিশোরদের সুরক্ষায় বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকার কর্তৃক ঘোষিত ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় (যেমন: ট্যানারি, ইটভাটা, রাসায়নিক কারখানা, ঝালাই ইত্যাদি) কোনো শিশু বা কিশোরকে নিযুক্ত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

৫. শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এর সংশ্লিষ্ট বিধি

বিধি ৩০: কিশোর শ্রমিকের বয়স প্রমাণের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ, স্কুল সার্টিফিকেট বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

বিধি ৩২: কারখানায় কিশোর শ্রমিকদের জন্য একটি পৃথক রেজিস্টার খাতা রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে, যেখানে তাদের কাজের ধরণ, সময় এবং সক্ষমতার সনদের বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকবে।

৬. আইন লঙ্ঘনের শাস্তি
শ্রম আইনের বিধি-নিষেধ অমান্য করে কোনো মালিক যদি শিশু বা কিশোরকে বেআইনিভাবে নিয়োগ করেন, তবে ধারা ২৮৪ অনুযায়ী তিনি অনূর্ধ্ব ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া শিশুকে দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করালে বা জোরপূর্বক শ্রম করালে শাস্তির মাত্রা আরও কঠোর হতে পারে।

“শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি”

এই প্রতিপাদ্যের মূল বাণী হলো—অনূর্ধ্ব ১৪ বছরের শিশুদের জন্য কাজকে সম্পূর্ণ 'না' বলা এবং ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের জন্য শ্রম আইনের শর্ত মেনে একটি নিরাপদ ও 'শোভন কর্মপরিবেশ' (Decent Work Environment) নিশ্চিত করা।

কেবল আইন প্রণয়ন বা দিবস পালনের মাধ্যমেই শিশুশ্রম পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ, মালিকপক্ষের সচেতনতা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ও স্বাভাবিক শৈশব ফিরিয়ে দিতে পারলে তবেই ২০২৬ সালের বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসের এই প্রতিপাদ্য বাস্তব রূপ লাভ করবে।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Law with Mia posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category