Law and jurists

Law and jurists LAW AND JURISTS is a leading commercial litigation and corporate law firm in Dhaka. We provide leg
(1)

যৌথ সম্পত্তিতে কোনো অংশীদার অন্য অংশীদারকে তার বৈধ অংশের দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন আদালত Order XL অনুযায়ী ...
29/08/2026

যৌথ সম্পত্তিতে কোনো অংশীদার অন্য অংশীদারকে তার বৈধ অংশের দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন আদালত Order XL অনুযায়ী Receiver নিয়োগ করতে পারেন

যৌথ সম্পত্তিতে কোনো অংশীদার যদি যৌথ সম্পত্তির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অন্য অংশীদারকে তার বৈধ অংশের দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন, বিশেষ করে ভাড়াযোগ্য সম্পত্তির সম্পূর্ণ ভাড়া নিজে আদায় করে অন্য শরিকের প্রাপ্য অংশ না দেন, তাহলে আদালত Order XL অনুযায়ী Receiver নিয়োগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সম্পত্তি নষ্ট বা অপচয় হচ্ছে—এমন প্রমাণ না থাকলেও Receiver নিয়োগ ন্যায়সঙ্গত হতে পারে।

অর্থাৎ, Receiver নিয়োগের প্রশ্নে শুধু সম্পত্তি রক্ষা নয়, শরিকের সম্পত্তিগত অধিকার ও সেই সম্পত্তি থেকে প্রাপ্য সুবিধা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

একজন শরিক ভাড়া তুলছেন, অন্য শরিক কিছুই পাচ্ছেন না—তাহলে?
ধরুন, একটি যৌথ সম্পত্তিতে কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং সেগুলো থেকে নিয়মিত ভাড়া আসে। এক শরিক সম্পূর্ণ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন, ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে সব ভাড়া তিনিই নিচ্ছেন। অন্য শরিকেরও আইনগত অংশ রয়েছে, কিন্তু তিনি সম্পত্তির দখলে নেই এবং তার অংশের ভাড়াও পাচ্ছেন না।

এখানে প্রশ্ন শুধু “সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে কি না?”—এতটুকু নয়।
প্রশ্ন হলো, একজন শরিক কি অন্য শরিকের বৈধ অংশের সুবিধা একাই ভোগ করতে পারেন?
এই ধরনের পরিস্থিতিতে আদালত দেখতে পারেন যে একজন শরিক একচ্ছত্রভাবে সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ ও আয় ভোগ করছেন এবং অন্য শরিককে তার বৈধ অংশ থেকে বঞ্চিত করছেন কি না। যদি তা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আলাদা প্রমাণ না থাকলেও Receiver নিয়োগের ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

এই নীতিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যখন বঞ্চিত শরিক একজন নারী। আলোচিত মামলায় বাদী ছিলেন মৃত শরিকের বিধবা ও কন্যা। উত্তরাধিকার আইনের অধীনে তারা মৃতের অংশ থেকে ৫/৮ অংশের অধিকারী ছিলেন, আর বিবাদী ছিলেন মৃতের ভাই এবং ৩/৮ অংশের অধিকারী। অথচ বিবাদী সম্পত্তির ভাড়া একাই আদায় করছিলেন এবং বাদীরা তাদের বৈধ অংশের ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার—উত্তরাধিকারসূত্রে অংশ পাওয়া আর সেই অংশের বাস্তব সুবিধা পাওয়া এক জিনিস নয়।
কাগজে আপনার অংশ আছে, কিন্তু যৌথ সম্পত্তির ভাড়া অন্য একজন শরিক একাই নিয়ে যাচ্ছেন এবং আপনাকে আপনার অংশ দিচ্ছেন না—তাহলে শুধু “আপনার অংশ তো কাগজে আছে” বলে বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। সেই অংশের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তিগত সুবিধা থেকেও আপনি বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, সেটিও আদালতের বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
Receiver কি তাহলে যেকোনো পারিবারিক সম্পত্তিতে নিয়োগ করা যাবে?
না।

রায়ে Appellate Division-এর পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের নীতিও বিবেচনা করা হয়েছে—শুধু শরিকদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলেই Receiver নিয়োগের কারণ তৈরি হয় না। বিশেষ করে পারিবারিক জমিজমার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে পক্ষদের সম্মতি এবং মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়। কিন্তু যখন একজন শরিক অন্য শরিককে দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে নিজেই যৌথ সম্পত্তির আয় একচেটিয়াভাবে ভোগ করেন, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

সুতরাং, কোনো মামলায় Receiver চাওয়া হলে শুধু “আমাদের মধ্যে বিরোধ আছে” বললেই যথেষ্ট নয়। আদালতের সামনে দেখাতে হবে—কে সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন, কে ভাড়া আদায় করছেন, অন্য শরিকের কী বৈধ অংশ রয়েছে, সেই অংশের সুবিধা তিনি পাচ্ছেন কি না এবং কেন আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আলোচিত মামলায় বাদীরা দাবি করেছিলেন যে তাদের অংশের মাসিক ভাড়া ২,৬২,৫০০ টাকা। বিবাদী প্রথমে কিছু টাকা দিলেও পরবর্তীতে অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেন এবং সম্পূর্ণ ভাড়া নিজে গ্রহণ করতে থাকেন—এমন অভিযোগ ছিল। এই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আদালত দেখেছেন যে বাদীরা তাদের বৈধ অংশের সম্পত্তিগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এখানেই মামলার practical গুরুত্ব।

কোনো যৌথ সম্পত্তি নিয়ে মামলা হলে শুধু মূল মালিকানা বা অংশের দলিল দেখলেই সবসময় যথেষ্ট নাও হতে পারে। সম্পত্তি বর্তমানে কার নিয়ন্ত্রণে, ভাড়াটিয়া কার কাছে ভাড়া দিচ্ছে, ভাড়ার পরিমাণ কত, কে কত টাকা পেয়েছেন, অন্য শরিককে কী দেওয়া হয়েছে—এসব বাস্তব তথ্য ও নথিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আর যদি প্রশ্ন হয়—“আমার অংশ আছে, কিন্তু অন্য শরিক আমাকে সম্পত্তিতে ঢুকতে দিচ্ছেন না এবং পুরো ভাড়া নিজে নিচ্ছেন; মামলা চলাকালীন আমি কীভাবে আমার স্বার্থ রক্ষা করব?”—তখন মূল মামলার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার হিসেবে Receiver নিয়োগের বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। তবে সেটি স্বয়ংক্রিয় কোনো অধিকার নয়; আদালত মামলার প্রকৃত তথ্য, নথি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে Order XL-এর অধীনে তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
এই মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ শেষ পর্যন্ত দেখতে পান যে বাদীদের দখল থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল এবং তারা সম্পত্তি থেকে প্রাপ্য ভাড়ার সুবিধাও পাচ্ছিলেন না, অন্যদিকে বিবাদী সম্পত্তির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও ভোগদখলে ছিলেন। ফলে নিম্ন আদালতের Receiver নিয়োগের আদেশে কোনো বেআইনি বা অনিয়ম পাওয়া যায়নি।

এই নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হলো Md. Harisur Rahman (Masum) vs. Fahima Rahman and another, First Miscellaneous Appeal No. 75 of 2026, judgment dated 10 June 2026, High Court Division, Supreme Court of Bangladesh.

আপিলটি খারিজ করা হয়, কোনো খরচের আদেশ দেওয়া হয়নি এবং নিম্ন আদালতকে আইন অনুযায়ী মূল মামলা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়।

  ক্ষেত্রে  AGM এ বিলম্ব মার্জনা: প্রতিকার যেন দায়মুক্তি না হয়? সুশাসন (Good Governance) শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার দিয়েই...
26/08/2026

ক্ষেত্রে AGM এ বিলম্ব মার্জনা: প্রতিকার যেন দায়মুক্তি না হয়?

সুশাসন (Good Governance) শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ নয়;

একটি কোম্পানি পরিচালনার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব সমান। করপোরেট সু শাসনের (Corporate Governance) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)। এই সভায় কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও পরিচালনার সামগ্রিক চিত্র শেয়ারহোল্ডারদের সামনে তুলে ধরা হয় এবং পরিচালকদের কাজ জবাবদিহির আওতায় আসে। শেয়ারহোল্ডাররা প্রশ্ন করতে পারেন, মতামত দিতে পারেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারেন। তাই AGM নিছক কোনো আইনি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি কোম্পানির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আর এ কারণেই কোম্পানি আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে AGM অনুষ্ঠানকে একটি বাধ্যতামূলক আইনি দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

বাংলাদেশে পাবলিক কোম্পানি এবং প্রাইভেট কোম্পানি – উভয়ের ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ে এজিএম (AGM) অনুষ্ঠিত না হওয়ার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৮১ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এজিএমের সময় বাড়ানোর সীমিত ক্ষমতা Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC)-এর রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি যখন সেই সীমা অতিক্রম করে, তখন কোম্পানিগুলো বা কোম্পানির যেকোনো সদস্য ধারা ৮১(২), ধারা ৮৫(৩) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ধারা ৩৯৬-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চে আবেদন করে।

এ ধরনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত একটি উদার (liberal) ও প্রতিকারমূলক (curative) দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন। বিলম্বের সন্তোষজনক কারণ দেখানো হলে আদালত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া (delayed) এজিএম করার অনুমতি দেন। অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বের যথাযথ কারণ না দেখালেও আদালত উদার নীতি গ্রহণ করেন। এর যৌক্তিক কারণও রয়েছে। একটি কোম্পানিকে অনির্দিষ্টকাল আইনি ব্যত্যয়ের মধ্যে রেখে দেওয়া কোম্পানি বা তার শেয়ারহোল্ডার—কারও স্বার্থেই প্রত্যাশিত নয়। বরং এজিএম অনুষ্ঠানের সুযোগ দিয়ে কোম্পানির কার্যক্রমকে আবার আইনের ধারায় ফিরিয়ে আনাই অধিকতর কার্যকর।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই উদারতা কত দূর পর্যন্ত যাওয়া উচিত?

এজিএমে বিলম্ব মার্জনার আবেদনে সাধারণত বলা হয়, বিলম্বটি ইচ্ছাকৃত ছিল না অথবা নির্ধারিত সময়ে সভা করতে না পারার যথেষ্ট কারণ ছিল। এমন বক্তব্য যদি বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও দলিল দিয়ে সমর্থিত হয় এবং দেখা যায় যে পরিস্থিতি সত্যিই কোম্পানি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, তাহলে বিলম্ব মার্জনার যথেষ্ট যুক্তি থাকতে পারে।

কিন্তু শুধু বললেই কি যথেষ্ট যে—‘বিলম্বটি ইচ্ছাকৃত ছিল না’?

প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন একই কোম্পানি বছরের পর বছর এজিএম করতে ব্যর্থ হয়। প্রথম বছরের বিলম্বের পেছনে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ থাকতে পারে। কিন্তু একই ঘটনা দ্বিতীয় বা তৃতীয় বছরেও ঘটলে আদালতের অনুসন্ধান স্বাভাবিকভাবেই আরও গভীর হওয়া উচিত। প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর পরিচালকেরা কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন? একই ব্যত্যয় যাতে আবার না ঘটে, সে জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল? আইন মেনে চলার জন্য তাঁরা কি যথাযথ সতর্কতা ও যত্ন দেখিয়েছিলেন?

কারণ, ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ না করা আর আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া – এক বিষয় নয়। কোম্পানির পরিচালক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানা এবং তা পালনের জন্য যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রত্যাশিত। ফলে শুধু অসৎ উদ্দেশ্য (ill motive) বা অবহেলা (negligence) ছিল না—এটুকু বলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দেখতে হবে, তাঁরা সততা ও যুক্তিসংগত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেছেন কি না এবং সময়মতো আইন পালনের জন্য বাস্তবে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এখানেই ধারা ৩৯৬ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এজিএম করতে দেওয়া এবং এজিএম করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দায়ী পরিচালক বা কর্মকর্তাকে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া—দুটি এক বিষয় নয়।

ধারা ৮১ ও ৮৫-এর অধীনে আদালত বকেয়া (delayed) এজিএম করার সুযোগ দিতে পারেন। এর উদ্দেশ্য কোম্পানিকে আবার আইনসম্মত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু একই আবেদনে ধারা ৩৯৬-এর অধীনে পরিচালক বা কর্মকর্তাদের দায় থেকে অব্যাহতি চাওয়া হলে ভিন্ন একটি প্রশ্ন সামনে আসে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সততা ও যুক্তিসংগতভাবে কাজ করেছেন কি না এবং সামগ্রিক পরিস্থিতিতে তাঁকে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া ন্যায়সংগত হবে কি না—সে প্রশ্নটিও স্বতন্ত্র বিবেচনার দাবি রাখে।

সুতরাং, বিলম্বিত এজিএম করার অনুমতি দেওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট পরিচালক বা কর্মকর্তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়মুক্ত করা নয়। কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে আদালত এজিএম করার অনুমতি দিতে পারেন; একই সঙ্গে বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ধারা ৩৯৬-এর শর্তগুলো পূরণ হয়েছে কি না, সেটিও পৃথকভাবে যাচাই করতে পারেন।

এই পার্থক্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিলম্ব মার্জনার প্রতিকারমূলক ক্ষমতা যদি কার্যত নিয়মিত দায়মুক্তির (routine amnesty) পথ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আইনে নির্ধারিত AGM অনুষ্ঠান সময়সীমার গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে বছরের পর বছর একই ব্যত্যয় ঘটলেও যদি শুধু ‘অনিচ্ছাকৃত বিলম্ব’ বা ‘যথেষ্ট কারণ’-এর সাধারণ বক্তব্যে দায়মুক্তি পাওয়া যায়, তাহলে আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয় তাগিদও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

আইনের উদ্দেশ্য কোম্পানিকে অচল করে দেওয়া নয়; আবার আইনের ব্যত্যয়কে স্বাভাবিক করে তোলাও নয়। তাই প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি। কোম্পানির স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিলম্বিত এজিএম করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সেই বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তির দায়মুক্তির প্রশ্নটি বিচার করা উচিত পৃথকভাবে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতার সঙ্গে। এতে একদিকে কোম্পানি আবার আইনের ধারায় ফিরে আসবে, অন্যদিকে পরিচালক ও ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিও অক্ষুণ্ণ থাকবে।

পরিশেষে বলা যায়, করপোরেট সুশাসন (Corporate Governance)-এর মূল কথা শুধু ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া নয়, একই ভুল যেন বারবার না ঘটে সেটিও নিশ্চিত করা। আদালতের প্রতিকারমূলক ক্ষমতা কোম্পানিকে আইনের পথে ফিরিয়ে আনার মাধ্যম; সেই ক্ষমতা যেন আইনি বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়ার সহজ পথ হয়ে না ওঠে। এখানেই এজিএমে বিলম্ব মার্জনার ক্ষেত্রে বিচারিক উদারতা ও করপোরেট জবাবদিহির মধ্যে সঠিক ভারসাম্যের প্রয়োজন।

আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আয়ের যেসব কাগজপত্র লাগবেবাংলাদেশে শুরু হয়েছে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম। জা...
22/08/2026

আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আয়ের যেসব কাগজপত্র লাগবে

বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ২২ জুলাই থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে।

এবার বছরের বিভিন্ন সময়ে রিটার্ন দাখিলে থাকলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর প্রণোদনা পাওয়া যাবে।

রিটার্ন দেওয়ার সময় শুধু আয়ের অঙ্ক উল্লেখ করলেই হয় না। কোন খাত থেকে কত আয় হয়েছে, তার পক্ষে প্রয়োজনীয় হিসাব, সনদ বা নথি হাতে রাখা জরুরি। আয়কর আইন অনুযায়ী ব্যক্তির আয় সাতটি প্রধান খাত।

রিটান জমা দিতে যেসব কাগজপত্র লাগবে আপনার-

১. চাকরি থেকে আয়

চাকরিজীবীদের রিটার্নে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রযোজ্য আয় সঠিকভাবে দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে বেতনসংক্রান্ত নথি প্রস্তুত রাখা ভালো। যেমন- বেতন বিবরণী বা স্যালারি স্টেটমেন্ট, পে-স্লিপ, নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পাওয়া বেতন ও কর কর্তনের সনদ, উৎসে আয়কর কর্তনের প্রমাণপত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বোনাস বা অন্যান্য ভাতার বিবরণ। এনবিআরের রিটার্ন ফরমের নির্দেশনাতেও বেতনের আয়ের ক্ষেত্রে স্যালারি স্টেটমেন্ট সংযুক্তির কথা বলা হয়েছে।

২. ভাড়া থেকে আয়

বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান বা অন্য কোনো সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে আয় থাকলে সেই আয়ের পক্ষে চুক্তি ও লেনদেনের প্রমাণ রাখা দরকার। যেমন- ভাড়ার চুক্তিপত্র, ভাড়া গ্রহণের রসিদ, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী বা লেনদেনের প্রমাণ, সম্পত্তির মালিকানার দলিল, পৌরকর বা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাড়ির ঋণের সুদ ও অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয়ের নথি

৩. কৃষি থেকে আয়

কৃষিজমি, ফসল, মাছ বা অন্যান্য কৃষিকাজ থেকে আয় থাকলে সেই আয়ের হিসাবের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথি রাখা উচিত। যেমন-জমির মালিকানা বা লিজের কাগজ, কৃষিপণ্য বিক্রির রসিদ বা চালান, কৃষিকাজে করা ব্যয়ের হিসাব
পণ্য বিক্রির ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ, যদি থাকে।

৪. ব্যবসা থেকে আয়

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের হিসাব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি আলাদা হতে পারে। সাধারণভাবে প্রস্তুত রাখুন-আয়-ব্যয়ের হিসাব, ক্যাশবুক, লেজার, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসার নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজ, বিক্রয় ও ক্রয়ের হিসাব, ইনভয়েস ও ভাউচার, স্টক বা মজুতের হিসাব

৫. মূলধনি মুনাফা

জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার বা অন্য কোনো মূলধনি সম্পদ বিক্রি করে লাভ হলে সেটি রিটার্নে দেখাতে হতে পারে। এক্ষেত্রে-সম্পদ কেনার দলিল, বিক্রয় দলিল, নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি, ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উন্নয়ন বা অন্যান্য খরচের নথি সংরক্ষণ করা উচিত। এনবিআরের রিটার্ন নির্দেশনাতেও ক্যাপিটাল গেইনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি রাখার কথা উল্লেখ আছে।

৬. আর্থিক সম্পদ থেকে আয়

ব্যাংক আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ থেকে আয় হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বিবরণী ও সনদ কাজে লাগবে। যেমন- ব্যাংকের সুদ বা মুনাফার সনদ, এফডিআর সনদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার বিবরণী, লভ্যাংশের সনদ বা বিবরণী, শেয়ার বা বিও হিসাবের স্টেটমেন্ট, মিউচুয়াল ফান্ডের বিবরণী

৭. অন্যান্য উৎস থেকে আয়

উপরের খাতগুলোর বাইরে কমিশন, সম্মানী, পরামর্শ ফি, পুরস্কারের অর্থসহ অন্যান্য আয় থাকলে সেই আয়ের উৎস অনুযায়ী প্রমাণপত্র রাখতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পেমেন্ট রসিদ, চুক্তিপত্র বা আয় প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

রিটার্নের জন্য আরও যেসব তথ্য প্রস্তুত রাখবেন

শুধু আয়সংক্রান্ত কাগজপত্র নয়, রিটার্ন পূরণের সময় নিজের ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ, প্রভিডেন্ট ফান্ড, জীবনবিমার প্রিমিয়াম, দান বা কর রেয়াত-সংক্রান্ত নথিও প্রয়োজন হতে পারে। এনবিআরের রিটার্ন ফরমের নির্দেশনায় বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, জীবনবিমা, ডিপিএস, শেয়ারসহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে নথি রাখার কথা বলা হয়েছে।

 #স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় দখলস্বত্বের আইনি সুরক্ষাআব্দুল লতিফ মিল্কি বনাম সৈয়দ মামুন মোরশেদ (Abdul Latif Milki v. Sye...
22/08/2026

#স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় দখলস্বত্বের আইনি সুরক্ষা

আব্দুল লতিফ মিল্কি বনাম সৈয়দ মামুন মোরশেদ (Abdul Latif Milki v. Syed Mamun Murshed)।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ (সিভিল)।

রায়ের তারিখ এপ্রিল, ২০০২।

পক্ষসমূহ: আবেদনকারী (Petitioner): আব্দুল লতিফ মিল্কি বনাম প্রতিপক্ষ (Respondent): সৈয়দ মামুন মোরশেদ।

মামলার মূল বিষয়বস্তু ছিল দক্ষিণ গুলশান মার্কেটের বি/২ নম্বর দোকানটি, যা মূলত বদরুদ্দিন চৌধুরীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

বদরুদ্দিন চৌধুরী এবং ক্রিস্টোফার সি. গোমেজ একটি অংশীদারি দলিলের মাধ্যমে “জি.সি. ট্রেডার্স” নামে ব্যবসা শুরু করেন।

প্রতিপক্ষের (বাদী) দাবি অনুযায়ী, বদরুদ্দিন ব্যবসা থেকে অবসর নেন এবং তার স্বত্ব গোমেজের কাছে হস্তান্তর করেন। গোমেজ ১৯৮০ সালে দোকানটি বাদীর কাছে বিক্রি করেন এবং সেই থেকে বাদী দখলে আছেন।

অন্যদিকে, আবেদনকারীর (বিবাদী) দাবি ছিল গোমেজ ১৯৭৮ সালে ব্যবসা ছেড়ে দেন এবং বদরুদ্দিন ১৯৮৩ সালে দোকানটি আবেদনকারীর কাছে হস্তান্তর করেন।

বিবাদী বাদীকে উচ্ছেদের চেষ্টা করলে বাদী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করেন।

Legal Issue

• মালিকানা সংক্রান্ত জটিল প্রশ্ন জড়িত থাকলে কেবল স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা কি রক্ষণীয়?

• একজন অনুপ্রবেশকারী (trespasser) কি প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কারো বিরুদ্ধে তার দখল রক্ষার জন্য নিষেধাজ্ঞার দাবি করতে পারেন?

• মামলাটি কি পক্ষদোষে (defect of parties) দুষ্ট ছিল?

পক্ষসমূহের যুক্তি (Arguments of the Parties):

প্রতিপক্ষ (বাদী):
তারা দাবি করেন যে তারা একচেটিয়া দখলে আছেন এবং নিষেধাজ্ঞার মামলায় মালিকানা কেবল একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়। এমনকি একজন অনুপ্রবেশকারীও আইনানুগ প্রক্রিয়া ব্যতীত প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির দ্বারা উচ্ছেদের বিরোধিতা করতে পারেন।

আবেদনকারী (বিবাদী):
তাদের যুক্তি ছিল যে অংশীদারি আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী গোমেজের এককভাবে দোকানটি বিক্রির অধিকার ছিল না। যেহেতু এখানে মালিকানার জটিল প্রশ্ন জড়িত, তাই শুধু নিষেধাজ্ঞার মামলা চলতে পারে না।

মোড় পরিবর্তনকারী বিষয়সমূহ (The Turning Points):

দখলের প্রমাণ:
বিচারিক আদালত এবং হাইকোর্ট বিভাগ উভয়ই দেখতে পায় যে বাদী দোকানটির দখলে আছেন।

বিবাদীর স্বীকারোক্তি:
বিবাদী তার লিখিত জবাবের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকার করেছেন যে বাদী দোকানটিতে দখলে আছেন, যদিও তিনি দাবি করেছিলেন যে এটি জোরপূর্বক দখল।

আসল মালিকের বিরুদ্ধে মামলা নয়:
আদালত লক্ষ্য করেন যে বাদী প্রকৃত মালিক বদরুদ্দিনের বিরুদ্ধে নয়, বরং একজন তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন।

রায়/সিদ্ধান্ত (Judgment/Decision):

আপিল বিভাগ আবেদনকারীর Leave to Appeal আবেদনটি খারিজ করে দেয়। আদালত হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখে, যার মাধ্যমে বাদীর পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি বজায় থাকে।

যুক্তিতর্ক (Reasoning):
আদালত যুক্তি দেন যে, একটি সাধারণ স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো দখল (possession)।

আদালত মালিকানা নিয়ে অনুসন্ধান করতে পারে কেবল দখলের প্রকৃতি বোঝার জন্য একটি প্রাসঙ্গিক বা incidental বিষয় হিসেবে।

যেহেতু মামলাটি প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে ছিল না, তাই মালিকানার জটিলতা এই মামলার প্রতিবন্ধক নয়।

মামলার মূলনীতি (Ratio Decidendi):
সম্পত্তির দখলে থাকা কোনো ব্যক্তি, এমনকি তিনি যদি একজন অনুপ্রবেশকারী (trespasser) হন, তিনি প্রকৃত মালিক ব্যতীত অন্য যে কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তার দখল রক্ষা করার জন্য স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার অধিকারী।

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি বাস্তবে দখলে আছেন, তাকে প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে পারেন না।

গুরুত্ব (Significance):
এই রায়টি নিশ্চিত করে যে দখলদার ব্যক্তিকে আইনগত পদ্ধতি ছাড়া গায়ের জোরে উচ্ছেদ করা যাবে না।

স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় মালিকানার চেয়ে দখল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন বিবাদী নিজে সম্পত্তির প্রকৃত মালিক নন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে একজন trespasser-এর বিরুদ্ধে প্রকৃত মালিক কোনো প্রতিকার পাবেন না। প্রকৃত মালিক তার স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করে আইনানুগ পদ্ধতিতে দখল পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে পারেন।

মামলায় ব্যবহৃত রেফারেন্স (Case Citation):
রায়ে 43 DLR (AD) 215 মামলার রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় আদালত প্রাসঙ্গিকভাবে মালিকানা যাচাই করতে পারে।

মামলার রিপোর্টেড জার্নাল (Reported Journal):

✅BLR 2002 (AD) 148

✅BLT 12 (AD) 80

#মূল শিক্ষা

“Possession is protected against everyone except the true owner.”

অর্থাৎ, প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো দখলদারকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে পারেন না। দখল নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে আইনানুগ পদ্ধতিতেই প্রতিকার গ্রহণ করতে হবে
সংগৃহীত

#হাইকোর্ট #রায় #আপীল #সুপ্রীম #কোর্ট

ব্যাংকে আমানতের সুদ/মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনে কঠোর নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের!সঞ্চয়ী আমানত, স্থায়ী আমানত, মেয়াদি আমানত...
18/08/2026

ব্যাংকে আমানতের সুদ/মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনে কঠোর নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের!

সঞ্চয়ী আমানত, স্থায়ী আমানত, মেয়াদি আমানত—সব ক্ষেত্রেই উৎসে কর কর্তনের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এক সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ/মুনাফার ওপর সঠিক হারে উৎসে কর কর্তন এবং নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।

#সার্কুলারে কী বলা হয়েছে?

আমানতের সুদ/মুনাফায় উৎসে কর কর্তন বাধ্যতামূলক

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০২ অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহকের—

সঞ্চয়ী আমানত
স্থায়ী আমানত (FDR)
মেয়াদি আমানত
অন্যান্য আমানত

এর বিপরীতে পরিশোধিত সুদ/মুনাফার ওপর প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।

অর্থাৎ, ব্যাংকে টাকা রেখে অর্জিত সুদ বা মুনাফার সম্পূর্ণ অর্থ গ্রাহক পাবেন না; আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য উৎসে কর কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ প্রদান করা হবে।

২️. PSR না দিলে উৎসে করের হার ৫০% বেশি হতে পারে!

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী, কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে করদাতা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (Proof of Submission of Return—PSR) উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য উৎসে করের হারের চেয়ে **৫০% বেশি হারে কর কর্তন/সংগ্রহ করতে হবে।

তাই ব্যাংকিং লেনদেনের ক্ষেত্রে PSR-এর বিষয়টি করদাতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩️. ব্যাংক কর্তন করা কর কখন সরকারি কোষাগারে জমা দেবে?

উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তনকৃত কর সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

জুলাই থেকে মে মাসে** কর কর্তন/সংগ্রহ হলে—
কর্তন/সংগ্রহের মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী ২ সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

জুন মাসের ১ম থেকে ২০তম দিনের মধ্যে কর কর্তন/সংগ্রহ হলে—
কর্তন/সংগ্রহের দিনের পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।

জুন মাসের অন্যান্য দিনে** কর কর্তন/সংগ্রহ হলে—
পরবর্তী দিনেই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

ব্যাংকগুলোর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, কর্তনকৃত উৎসে কর যেন নির্ধারিত সময়ের বেশি General Ledger বা অন্য কোনো হিসাবে আটকে রাখা না হয়।

এছাড়াও ব্যাংকগুলোকে—

✅ নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে কর জমা দিতে হবে
✅ উৎসে কর কর্তনের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে
✅ প্রয়োজনীয় বিবরণী ও চালানের কপি সংরক্ষণ/দাখিল করতে হবে
✅ আয়কর আইন, ২০২৩ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর প্রযোজ্য বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

---

করদাতাদের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেকেই মনে করেন—

ব্যাংক আমার সুদ থেকে কর কেটে নিয়েছে, তাই আমার আর কিছু করার নেই।

কিন্তু বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদ/মুনাফা এবং কর্তনকৃত উৎসে করের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে যাচাই করুন—

ব্যাংক হিসাবের তথ্য
আমানতের পরিমাণ
সুদ/মুনাফার আয়
কর্তনকৃত উৎসে কর
PSR
রিটার্নে প্রদর্শিত আয় ও সম্পদের তথ্য

এসব তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে ভবিষ্যতে কর সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মনে রাখবেন

ব্যাংক শুধু টাকা রাখার জায়গা নয়; আপনার ব্যাংক হিসাব, আমানত, সুদ/মুনাফা এবং উৎসে করের তথ্যও কর ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাই আয়কর রিটার্ন দাখিলের আগে অবশ্যই—

ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাই করুন
সুদ/মুনাফার সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন
কর্তনকৃত উৎসে করের তথ্য মিলিয়ে নিন
PSR-এর বিষয়টি নিশ্চিত করুন
রিটার্নে আয় ও সম্পদের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন

আইন মেনে সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিল করুন—ভবিষ্যতের কর-জটিলতা এড়িয়ে চলুন।

#আয়কর #উৎসেকর #ব্যাংকসুদ #ব্যাংকআমানত #করদাতা #আয়কররিটার্ন

ঘরে বসেই যেভাবে সংগ্রহ করবেন সঞ্চয়পত্রের আয়কর প্রত্যয়নপত্রআয়কর রিটার্ন সাবমিটের সময় চলছে। রিটার্ন প্রস্তুত করতে বিভিন্ন ...
17/08/2026

ঘরে বসেই যেভাবে সংগ্রহ করবেন সঞ্চয়পত্রের আয়কর প্রত্যয়নপত্র

আয়কর রিটার্ন সাবমিটের সময় চলছে। রিটার্ন প্রস্তুত করতে বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো সঞ্চয়পত্রের আয়কর প্রত্যয়নপত্র বা Tax Certificate।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই প্রত্যয়নপত্র অনলাইনে সংগ্রহের সুবিধা চালু করা হয়েছে। এখনো সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে ঘরে বসেই সহজে সঞ্চয়পত্রের আয়কর প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

চলুন দেখে নিই, কীভাবে সংগ্রহ করবেন—

প্রথমে. https://nsd.finance.gov.bd/selfreport/ https://nsd.finance.gov.bd/selfreport/
দেওয়া লিংকে প্রবেশ করে নিচের তথ্য দিয়ে Sign In করুন—

NID/Passport No./TIN
Date of Birth
Mobile Number
Captcha

এরপর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি OTP যাবে। প্রাপ্ত OTP নির্ধারিত ঘরে দিয়ে Validate করলে সাইন ইন হয়ে যাবে এবং আপনার তথ্য ও সঞ্চয়পত্রের বিস্তারিত দেখা যাবে।

এবার বাম পাশে থাকা “আয়কর প্রত্যয়নপত্র” অপশনে ক্লিক করুন। প্রয়োজনীয় অর্থবছর (Fiscal Year) নির্বাচন করে Run Report-এ ক্লিক করলে প্রত্যয়নপত্রটি প্রদর্শিত হবে।

সবশেষে প্রত্যয়নপত্রটি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন। আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতের সময় এই প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফা এবং উৎসে কর্তিত করের তথ্য প্রয়োজন হবে।

বিঃ দ্রঃ এই লিংকে যেকোন সময়ে প্রবেশ করা যায় না। অফিস টাইমে করতে হয়।
যদিও ই-রিটার্ন সিস্টেমে অটোমেটেড এড হয়, তথাপি পরবর্তীতে ফাইলে অডিট সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়তে পারে কাজেই সংরক্ষণ করা ভালো।

ধন্যবাদ সবাইকে।









10/08/2026

BS বা BRS রেকর্ড ছাড়া শুধুমাত্র CS, SA ও RS খতিয়ানের বিবরণ দিয়ে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করলে ডিক্রি পাবেন না।

সুতরাং সর্বশেষ রেকর্ড CITY, BRS ও RS যাহা সর্বশেষ রেকর্ড উক্ত রেকর্ড ছাড়া শুধু CS, SA ও RS খতিয়ান এর বিবরন দিয়ে বাটোয়ারা মামলা করে অর্থ ও সময়ের অপচয় না করাই শ্রেয়!

★ইন্দ্র মোহন বসাক ও অন্যান্য VS চঞ্চলা তানি বসাক ও অন্যান্য।
Reported:
[73 DLR (HCD), Page- 111]

Advocate Muhammed Monir Hossain Shaon Muhammed Monir Hossain Shaon Law and jurists M Hossain Chamber

05/08/2026

নাবালক/ পাগলের সম্পত্তি ক্রয়ের বিধান

​১৮ বৎসরের কম বয়সী বালক, বালিকা সাবালকত্ব আইন, ১৮৭৫ (Majority Act, 1875) এর ধারা ৩ অনুযায়ী নাবালক হিসাবে গণ্য হন। নাবালক নিজে কোন সম্পত্তি বা কোন চুক্তি করতে পারেন না। নাবালকের পক্ষে তার পিতা বা মাতা কিংবা অন্য কোন অভিভাবক সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। পিতা স্বাভাবিক অভিভাবক, তাই পিতাকে নাবালকের গার্ডিয়ান নিযুক্ত হতে হয় না। পিতা ব্যতীত অন্যর বেলায় নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয় করতে চাইলে প্রথমে আদালত থেকে গার্ডিয়ান নিযুক্ত হতে হবে। তৎপর ঐ গার্ডিয়ানকে সম্পত্তি বিক্রয়ের অনুমতি নিতে হবে।
কোন মানসিক প্রতিবন্ধী বা পাগলের সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্যেও আদালতের অনুমতি নিতে হয়।

​একজন নাবালক কি হস্তান্তর গ্রহীতা হতে পারে কি?

​১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এবং ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের বিধান অনুযায়ী একজন নাবালক সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না। তবে তার অনুকূলে বা বরাবরে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে আইনে কোন বিধি-নিষেধ নেই। সুতরাং একজন নাবালক হস্তান্তর গ্রহীতা হতে পারে। কিন্তু দাতা হতে পারে না। দাতা হতে হলে যথাযথ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তার পক্ষে তার অভিভাবক সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।

নাবালক ও পাগলের সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বাংলাদেশের আইন

১. চুক্তি আইন (Contract Act, 1872)
ধারা ১১ অনুযায়ী চুক্তি করার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি চুক্তি করতে সক্ষম যদি সে সাবালক হয় (১৮ বছর বা তার বেশি) সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হয় আইনের দ্বারা অযোগ্য ঘোষিত না হয়।

ধারা ১২ — সুস্থ মস্তিষ্কের সংজ্ঞা: চুক্তির সময় যদি কেউ চুক্তির বিষয়বস্তু বুঝতে এবং নিজের স্বার্থ বিচার করতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে সুস্থ মস্তিষ্কের বলে গণ্য হবে না।

২. নাবালকের ক্ষেত্রে আইনি বিধান
সাবালকত্ব আইন (Majority Act, 1875) — ধারা ৩
বাংলাদেশে সাধারণত ১৮ বছর পূর্ণ হলে ব্যক্তি সাবালক হয়। আদালতের অভিভাবকত্বে থাকলে ২১ বছর পর্যন্ত নাবালক।

নাবালকের চুক্তির ফলাফল
নাবালকের চুক্তি সম্পূর্ণ বাতিল (Void ab initio) — Mohori Bibee v. Dharmodas Ghose (1903) মামলার নীতি বাংলাদেশেও প্রযোজ্য
নাবালক কর্তৃক সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি কার্যকর হয় না
এমনকি নাবালক সাবালক হওয়ার পরেও উক্ত চুক্তি অনুমোদন (ratify) করতে পারে না।

অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন (Guardians and Wards Act, 1890)
ধারা ২৮-২৯: অভিভাবক নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বা বন্ধক দিতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর অবৈধ।

৩. পাগল/মানসিক অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইনি বিধান
Contract Act, 1872 — ধারা ১২
চুক্তির সময় যদি কেউ মানসিক অসুস্থ থাকে, তার চুক্তি বাতিলযোগ্য (Voidable) বা পরিস্থিতি অনুযায়ী বাতিল (Void)

​—Contract by minor—A contract by a minor is void ab intio and not merely voidable and hence cannot be sued upon; PLD 1976 (SC) 258.

Court of Wards Act, 1879
ধারা ৪-৫: আদালত মানসিক অক্ষম ব্যক্তির সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক (Receiver/Guardian) নিয়োগ করতে পারে।

তত্ত্বাবধায়কের অনুমতি ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর অবৈধ

৪. সম্পত্তি হস্তান্তর আইন (Transfer of Property Act, 1882) ধারা ৭ অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তরের যোগ্যতা:
হস্তান্তরকারীকে অবশ্যই সাবালক ও সুস্থমনা হতে হবে
নাবালক বা মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি কর্তৃক সরাসরি সম্পত্তি হস্তান্তর অকার্যকর।

৫. নিবন্ধন আইন (Registration Act, 1908)
ধারা ৩২-৩৩: দলিল নিবন্ধনের সময় নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির পক্ষে আইনানুগ অভিভাবক বা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে হবে।

​ #নাবালকের_সম্পত্তি_ক্রয় ​ #জমি_জমার_আইন
​ #সম্পত্তি_আইন ​ #পাগলের_সম্পত্তি_ক্রয়
​ #আদালতের_অনুমতি ​ #গার্ডিয়ান_অ্যাক্ট
​ #জমি_কেনাবেচা ​

29/07/2026

করদাতার সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো কী কী?

১. সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা অন্য কোনো এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাট, জমিসহ স্থাবর সম্পত্তি সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয় না। এতে করদাতার সম্পদের চিত্র উঠে আসে না।

২. বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পেতে বিনিয়োগের হিসাব ভুল দেখানো হয়। এতে করের পরিমাণ কম বা বেশি হয়ে যায়।

৩. মোট আয়ের তুলনায় খরচ বেশি দেখানো, যা আর্থিক তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এতে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

৪. হাতে নগদ অর্থ অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত পরিমাণে দেখানো। আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হলে অস্বাভাবিক নগদ অর্থ দেখানো উচিত নয়।

৫. স্বর্ণালংকারের পরিমাণ অতিরঞ্জিতভাবে উল্লেখ করা হয়, যা বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হতে পারে। যেমন—অনেকে দেখান ৫০ ভরি সোনার গয়না আছে। মনে রাখতে হবে, ৫০ ভরি সোনার গয়নার দাম ১ কোটি টাকার বেশি। এত টাকার সম্পদ রাখার মতো আয় কি আপনার আছে, তা ভাবতে হবে।

৬. সঞ্চয়, ঋণ দেওয়া বা ঋণ নেওয়ার তথ্য অসম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা। রিটার্নে ঋণের তথ্যও দিতে হবে, তা না হলে এই অর্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

৭. উপহার, অনুদান বা অন্যান্য বৈধ প্রাপ্তির তথ্য বাদ দেওয়া। এতে সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

৮. এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য আর্থিক সঞ্চয় বা বিনিয়োগের তথ্য উল্লেখ না করা।

৯. পূর্ববর্তী বছরের নিট সম্পদের তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা।

১০. উৎসে কর্তিত করের তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দেওয়া, অথবা প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে বেশি বা ভুল কর সমন্বয় দাবি করা।

আয়কর রিটার্ন দাখিলের আগে আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় ও কর পরিশোধসংক্রান্ত সব তথ্য ও প্রমাণপত্র ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। একটি সঠিক, পূর্ণাঙ্গ ও আইনসম্মত রিটার্ন ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে সহায়ক হবে।

#আয়কর #আয়কর_রিটার্ন #বাংলাদেশ ামর্শ িটার্ন #এনবিআর

ওয়ারিশসূত্রে অর্জিত সম্পত্তির নামজারি দুইভাবে হতে পারে। ১। বন্টননামা দলিল ব্যতীত:কোন মৃত ব্যক্তির সকল ওয়ারিশের নাম ১টি খ...
29/07/2026

ওয়ারিশসূত্রে অর্জিত সম্পত্তির নামজারি দুইভাবে হতে পারে।

১। বন্টননামা দলিল ব্যতীত:

কোন মৃত ব্যক্তির সকল ওয়ারিশের নাম ১টি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সকল ওয়ারিশ যৌথভাবে নামজারির আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে। এসি (ল্যান্ড) খতিয়ানে মৃত ব্যক্তির মোট জমির মধ্যে প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখপূর্বক নামজারি খতিয়ান সৃজন করে দিবেন। এক্ষেত্রে বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন হবে না।

২। বন্টননামা দলিল সহযোগে:

মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশগণ কে কোন দাগে বা একটি দাগের কোন অংশে জমি ভোগ-দখল করতে চান সকল ওয়ারিশ মিলে তা নির্ধারণপূর্বক একটি আপোষ বন্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এক্ষেত্রে বন্টননামা দলিলমূলে ওয়ারিশগণ পৃথক পৃথকভাবে নামজারির আবেদন করলে প্রত্যেক ওয়ারিশদের নামে পৃথক পৃথক নামজারি খতিয়ান সৃজন করা যাবে এবং সকলে আলাদা হোল্ডিং এ নিজ নিজ অংশের খাজনা দিতে পারবেন।

এছাড়াও, কোন ওয়ারিশ যদি বন্টননামা দলিল করতে বা যৌথভাবে খারিজ করতে আপত্তি বা অনুপস্থিত থাকেন, সেক্ষেত্রে বিজ্ঞ আদালতে বাটোয়ারা মামলা/সোলেনামা মূলে ওয়ারিশগণ আবেদনের প্রেক্ষিতে পৃথক নামজারি করতে পারবেন।

#ওয়ারিশ #খারিজ #নামজারি #মিউটেশন #খাজনা

Address

Polton
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Law and jurists posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share