29/08/2026
যৌথ সম্পত্তিতে কোনো অংশীদার অন্য অংশীদারকে তার বৈধ অংশের দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন আদালত Order XL অনুযায়ী Receiver নিয়োগ করতে পারেন
যৌথ সম্পত্তিতে কোনো অংশীদার যদি যৌথ সম্পত্তির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অন্য অংশীদারকে তার বৈধ অংশের দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন, বিশেষ করে ভাড়াযোগ্য সম্পত্তির সম্পূর্ণ ভাড়া নিজে আদায় করে অন্য শরিকের প্রাপ্য অংশ না দেন, তাহলে আদালত Order XL অনুযায়ী Receiver নিয়োগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সম্পত্তি নষ্ট বা অপচয় হচ্ছে—এমন প্রমাণ না থাকলেও Receiver নিয়োগ ন্যায়সঙ্গত হতে পারে।
অর্থাৎ, Receiver নিয়োগের প্রশ্নে শুধু সম্পত্তি রক্ষা নয়, শরিকের সম্পত্তিগত অধিকার ও সেই সম্পত্তি থেকে প্রাপ্য সুবিধা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
একজন শরিক ভাড়া তুলছেন, অন্য শরিক কিছুই পাচ্ছেন না—তাহলে?
ধরুন, একটি যৌথ সম্পত্তিতে কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং সেগুলো থেকে নিয়মিত ভাড়া আসে। এক শরিক সম্পূর্ণ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন, ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে সব ভাড়া তিনিই নিচ্ছেন। অন্য শরিকেরও আইনগত অংশ রয়েছে, কিন্তু তিনি সম্পত্তির দখলে নেই এবং তার অংশের ভাড়াও পাচ্ছেন না।
এখানে প্রশ্ন শুধু “সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে কি না?”—এতটুকু নয়।
প্রশ্ন হলো, একজন শরিক কি অন্য শরিকের বৈধ অংশের সুবিধা একাই ভোগ করতে পারেন?
এই ধরনের পরিস্থিতিতে আদালত দেখতে পারেন যে একজন শরিক একচ্ছত্রভাবে সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ ও আয় ভোগ করছেন এবং অন্য শরিককে তার বৈধ অংশ থেকে বঞ্চিত করছেন কি না। যদি তা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আলাদা প্রমাণ না থাকলেও Receiver নিয়োগের ভিত্তি তৈরি হতে পারে।
এই নীতিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যখন বঞ্চিত শরিক একজন নারী। আলোচিত মামলায় বাদী ছিলেন মৃত শরিকের বিধবা ও কন্যা। উত্তরাধিকার আইনের অধীনে তারা মৃতের অংশ থেকে ৫/৮ অংশের অধিকারী ছিলেন, আর বিবাদী ছিলেন মৃতের ভাই এবং ৩/৮ অংশের অধিকারী। অথচ বিবাদী সম্পত্তির ভাড়া একাই আদায় করছিলেন এবং বাদীরা তাদের বৈধ অংশের ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার—উত্তরাধিকারসূত্রে অংশ পাওয়া আর সেই অংশের বাস্তব সুবিধা পাওয়া এক জিনিস নয়।
কাগজে আপনার অংশ আছে, কিন্তু যৌথ সম্পত্তির ভাড়া অন্য একজন শরিক একাই নিয়ে যাচ্ছেন এবং আপনাকে আপনার অংশ দিচ্ছেন না—তাহলে শুধু “আপনার অংশ তো কাগজে আছে” বলে বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। সেই অংশের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তিগত সুবিধা থেকেও আপনি বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, সেটিও আদালতের বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
Receiver কি তাহলে যেকোনো পারিবারিক সম্পত্তিতে নিয়োগ করা যাবে?
না।
রায়ে Appellate Division-এর পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের নীতিও বিবেচনা করা হয়েছে—শুধু শরিকদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলেই Receiver নিয়োগের কারণ তৈরি হয় না। বিশেষ করে পারিবারিক জমিজমার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে পক্ষদের সম্মতি এবং মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়। কিন্তু যখন একজন শরিক অন্য শরিককে দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে নিজেই যৌথ সম্পত্তির আয় একচেটিয়াভাবে ভোগ করেন, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
সুতরাং, কোনো মামলায় Receiver চাওয়া হলে শুধু “আমাদের মধ্যে বিরোধ আছে” বললেই যথেষ্ট নয়। আদালতের সামনে দেখাতে হবে—কে সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন, কে ভাড়া আদায় করছেন, অন্য শরিকের কী বৈধ অংশ রয়েছে, সেই অংশের সুবিধা তিনি পাচ্ছেন কি না এবং কেন আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
আলোচিত মামলায় বাদীরা দাবি করেছিলেন যে তাদের অংশের মাসিক ভাড়া ২,৬২,৫০০ টাকা। বিবাদী প্রথমে কিছু টাকা দিলেও পরবর্তীতে অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেন এবং সম্পূর্ণ ভাড়া নিজে গ্রহণ করতে থাকেন—এমন অভিযোগ ছিল। এই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আদালত দেখেছেন যে বাদীরা তাদের বৈধ অংশের সম্পত্তিগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এখানেই মামলার practical গুরুত্ব।
কোনো যৌথ সম্পত্তি নিয়ে মামলা হলে শুধু মূল মালিকানা বা অংশের দলিল দেখলেই সবসময় যথেষ্ট নাও হতে পারে। সম্পত্তি বর্তমানে কার নিয়ন্ত্রণে, ভাড়াটিয়া কার কাছে ভাড়া দিচ্ছে, ভাড়ার পরিমাণ কত, কে কত টাকা পেয়েছেন, অন্য শরিককে কী দেওয়া হয়েছে—এসব বাস্তব তথ্য ও নথিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আর যদি প্রশ্ন হয়—“আমার অংশ আছে, কিন্তু অন্য শরিক আমাকে সম্পত্তিতে ঢুকতে দিচ্ছেন না এবং পুরো ভাড়া নিজে নিচ্ছেন; মামলা চলাকালীন আমি কীভাবে আমার স্বার্থ রক্ষা করব?”—তখন মূল মামলার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার হিসেবে Receiver নিয়োগের বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। তবে সেটি স্বয়ংক্রিয় কোনো অধিকার নয়; আদালত মামলার প্রকৃত তথ্য, নথি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে Order XL-এর অধীনে তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
এই মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ শেষ পর্যন্ত দেখতে পান যে বাদীদের দখল থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল এবং তারা সম্পত্তি থেকে প্রাপ্য ভাড়ার সুবিধাও পাচ্ছিলেন না, অন্যদিকে বিবাদী সম্পত্তির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও ভোগদখলে ছিলেন। ফলে নিম্ন আদালতের Receiver নিয়োগের আদেশে কোনো বেআইনি বা অনিয়ম পাওয়া যায়নি।
এই নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হলো Md. Harisur Rahman (Masum) vs. Fahima Rahman and another, First Miscellaneous Appeal No. 75 of 2026, judgment dated 10 June 2026, High Court Division, Supreme Court of Bangladesh.
আপিলটি খারিজ করা হয়, কোনো খরচের আদেশ দেওয়া হয়নি এবং নিম্ন আদালতকে আইন অনুযায়ী মূল মামলা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়।