12/05/2026
🛑 ডিভিডেন্ড ঘোষণা, পেমেন্ট এবং তার একাউন্টিং
ধরুন, একটি কোম্পানি তার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলো। ডিভিডেন্ড পেমেন্ট করার সময় কোম্পানিকে শেয়ারহোল্ডারের ধরন অনুযায়ী উইথহোল্ডিং ট্যাক্স কর্তন করতে হয়।
🔵 উইথহোল্ডিং ট্যাক্স রেট:
✓ কোম্পানি শেয়ারহোল্ডার হলে - ২০%
✓ ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার, টিআইএন/PSR থাকলে - ১০%
✓ ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার, টিআইএন/PSR না থাকলে - ১৫%
🟣 এখন ধরুন ৫ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড নিচেরভাবে ভাগ হয়েছে:
✓ কোম্পানি শেয়ারহোল্ডাররা পাবে: ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা;
✓ টিআইএন আছে এমন ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডাররা পাবে: ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা; এবং
✓ টিআইএন নেই এমন ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডাররা পাবে: ২০ লাখ টাকা।
🔵 তাহলে হিসাব হবে:
📕 কোম্পানি শেয়ারহোল্ডার:
গ্রস ডিভিডেন্ড: ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা
উইথহোল্ডিং ট্যাক্স ২০%: ৪৬ লাখ টাকা
নেট পেমেন্ট: ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা
📘 ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার (টিআইএন আছে):
গ্রস ডিভিডেন্ড: ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা
উইথহোল্ডিং ট্যাক্স ১০%: ২৫ লাখ টাকা
নেট পেমেন্ট: ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা
📗 ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার (টিআইএন নেই):
গ্রস ডিভিডেন্ড: ২০ লাখ টাকা
উইথহোল্ডিং ট্যাক্স ১৫%: ৩ লাখ টাকা
নেট পেমেন্ট: ১৭ লাখ টাকা
🛑 সুতরাং মোট সিনারিও হলো:
✓ গ্রস ডিভিডেন্ড: ৫ কোটি টাকা
✓ মোট উইথহোল্ডিং ট্যাক্স: ৭৪ লাখ টাকা
✓ শেয়ারহোল্ডারদের নেট পেমেন্ট: ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা
এখন বাস্তবে অনেক সময় কোম্পানি নিজে সরাসরি প্রতিটি শেয়ারহোল্ডারকে পেমেন্ট না করে ব্যাংক বা পেয়িং এজেন্টের মাধ্যমে ডিভিডেন্ড বিতরণ করে।
এই ক্ষেত্রে কোম্পানি প্রথমে ডিভিডেন্ড বিতরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে পুরো ৫ কোটি টাকা ট্রান্সফার করতে পারে। এরপর শেয়ারহোল্ডারভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী ব্যাংক বা পেয়িং এজেন্ট নেট ডিভিডেন্ড বিতরণে সহায়তা করে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে:
ব্যাংক ডিভিডেন্ড বিতরণের প্রক্রিয়াটি সহজ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু ডিভিডেন্ডের উপর প্রযোজ্য উইথহোল্ডিং ট্যাক্স সঠিকভাবে কর্তন হয়েছে কি না, এবং কর্তনকৃত ট্যাক্স সরকারি কোষাগারে যথাসময়ে জমা হয়েছে কি না, এর চূড়ান্ত কমপ্লায়েন্স দায়িত্ব কোম্পানি বা ইস্যুয়ারের উপরই থাকে। কোম্পানিকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে শেয়ারহোল্ডারভিত্তিক সঠিক ট্যাক্স রেট প্রয়োগ করা হয়েছে, ট্যাক্স যথাযথভাবে কর্তন করা হয়েছে এবং সরকারি কোষাগারে জমার চালান বা প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে।
🔵 এখন জার্নালগুলো হবে:
🟣 জার্নাল ১: Dividend Declaration
Debit: Retained Earnings - ৫ কোটি টাকা
Credit: Dividend Payable - ৫ কোটি টাকা
এখানে মনে রাখতে হবে, ডিভিডেন্ড কোনো খরচ নয়। এটি হলো কোম্পানির মুনাফা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন। তাই ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলে প্রফিট অ্যান্ড লস হিসাবে খরচ দেখানো যাবে না; বরং রিটেইনড আর্নিংস বা ইকুইটি থেকে সমন্বয় হবে।
🟣 জার্নাল ২: Fund Transfer to Bank for Dividend Disbursement
Debit: Dividend Disbursement Bank Account - ৫ কোটি টাকা
Credit: Bank - ৫ কোটি টাকা
এই জার্নালের মানে হলো, কোম্পানি ডিভিডেন্ড বিতরণের জন্য ব্যাংক বা পেয়িং এজেন্টের কাছে টাকা পাঠিয়েছে। এই পর্যায়ে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পুরো ৫ কোটি টাকা সরাসরি পেমেন্ট হয়েছে—এভাবে ধরা ঠিক হবে না। বরং এটি ডিভিডেন্ড বিতরণের জন্য একটি ফান্ড ট্রান্সফার।
🟣 জার্নাল ৩: Dividend Payment with Withholding Tax Deduction
Debit: Dividend Payable - ৫ কোটি টাকা
Credit: Withholding Tax Payable on Dividend - ৭৪ লাখ টাকা
Credit: Dividend Disbursement Bank Account - ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা
এই জার্নালের মানে হলো, শেয়ারহোল্ডারদের নেট ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা পেমেন্ট হয়েছে এবং ৭৪ লাখ টাকা উইথহোল্ডিং ট্যাক্স হিসেবে আলাদা করা হয়েছে।
🟣 জার্নাল ৪: Deposit of Withholding Tax to Government Treasury
Debit: Withholding Tax Payable on Dividend - ৭৪ লাখ টাকা
Credit: Dividend Disbursement Bank Account - ৭৪ লাখ টাকা
এই জার্নালের মানে হলো, কর্তনকৃত ৭৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। ব্যাংক বা পেয়িং এজেন্ট কোম্পানির পক্ষে ট্যাক্স জমা দেয়ার পরে কোম্পানিকে সেই জমার চালান বা প্রমাণপত্র পাওয়া সাপেক্ষে এই জার্নাল দিতে হবে এবং চালান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে।
🔴 এখন প্রশ্ন হলো, ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের টিআইএন আছে কি না কোম্পানি কীভাবে বুঝবে?
লিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সাধারণত শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য সিডিবিএল / বিও অ্যাকাউন্টের তথ্য থেকে নেওয়া হয়। বিও অ্যাকাউন্টের সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারের টিআইএন বা ই-টিআইএন তথ্য থাকে।
যদি ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের টিআইএন তথ্য বিও অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায়, তাহলে তার ডিভিডেন্ড থেকে ১০% উইথহোল্ডিং ট্যাক্স কর্তন করা হবে।
আর যদি টিআইএন তথ্য পাওয়া না যায় বা বিও অ্যাকাউন্টে টিআইএন আপডেট না থাকে, তাহলে তার ডিভিডেন্ড থেকে ১৫% উইথহোল্ডিং ট্যাক্স কর্তন করা হবে।
অর্থাৎ সহজ নিয়ম হলো:
✅ বিও অ্যাকাউন্টে টিআইএন তথ্য আছে → ১০% ট্যাক্স কর্তন
✅ বিও অ্যাকাউন্টে টিআইএন তথ্য নেই → ১৫% ট্যাক্স কর্তন
✅ শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি হলে → ২০% ট্যাক্স কর্তন
🔴 তাই ডিভিডেন্ড পেমেন্ট করার আগে কোম্পানির উচিত একটি ডিভিডেন্ড ট্যাক্স রেজিস্টার রাখা।
এই রেজিস্টারে থাকবে:
✓ শেয়ারহোল্ডারের নাম;
✓ শেয়ারহোল্ডারের ধরন;
✓ গ্রস ডিভিডেন্ড;
✓ টিআইএন অবস্থা;
✓ প্রযোজ্য ট্যাক্স রেট;
✓ কর্তনকৃত ট্যাক্স;
✓ নেট পেমেন্ট;
✓ ব্যাংক পেমেন্ট রেফারেন্স;
✓ ট্যাক্স জমার চালান নম্বর; এবং
✓ চালানের তারিখ।
এই রেজিস্টার রাখলে কোম্পানি সহজে প্রমাণ করতে পারবে কেন কার ডিভিডেন্ড থেকে ১০%, ১৫% বা ২০% উইথহোল্ডিং ট্যাক্স কর্তন করা হয়েছে এবং কর্তনকৃত ট্যাক্স সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না।
🔴 মনে রাখবেন:
✅ ডিভিডেন্ড হলো শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে মুনাফা বণ্টন, কোম্পানির খরচ নয়।
✅ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলে ইকুইটি কমে।
✅ ব্যাংকের মাধ্যমে ডিভিডেন্ড বিতরণ করা যেতে পারে।
✅ শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণত গ্রস ডিভিডেন্ড নয়, ট্যাক্স কর্তনের পর নেট ডিভিডেন্ড প্রদান করা হয়।
✅ ব্যাংক বা পেয়িং এজেন্ট ডিভিডেন্ড পেমেন্টের মাধ্যমে হলেও ডিভিডেন্ড ট্যাক্স কমপ্লায়েন্সের দায়িত্ব কোম্পানিরই।
📕 আর শেয়ারহোল্ডারদের উচিত বিও অ্যাকাউন্টে টিআইএন তথ্য ঠিকভাবে আপডেট রাখা। না হলে ডিভিডেন্ড পাওয়ার সময় বেশি হারে ট্যাক্স কর্তন হতে পারে।
লেখা_(কপি)
# Finance & Tax Professionals