29/06/2026
দুবাই নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা
দুবাইয়ে কি কাজ আছে?
জি, দুবাইয়ে কাজ আছে।
High Professional Visa-তে কি দুবাই আসা উচিত?
অবশ্যই আসা উচিত, যদি আপনার Bachelor's Degree সম্পন্ন থাকে।
দুবাইয়ে কী কী কাজ আছে?
দুবাইয়ে অনেক কাজ আছে।
শিক্ষিতদের জন্য:
* ওয়েটার: বেতন ১৩০০–১৫০০ দিরহাম। বাংলা টাকা ৫০.০০০ টাকা সাথে খাবার + থাকার ব্যবস্থা ফ্রি
* সুপার শপ: বেতন ১৮০০ দিরহাম।
* ৫-স্টার হোটেলে ওয়েটার: প্রতি ঘণ্টা ৮ দিরহাম। ১২ ঘণ্টা ডিউটি করলে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০০০ টাকা।
মাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকা।
* ডেলিভারি বয় (বাইক/সাইকেল): প্রতি ডেলিভারিতে ৫.৫–৮ দিরহাম (প্রায় ২৬৮ টাকা)।
ইত্যাদি।
* বারের ওয়েটার: বেতন ৮০০–১০০০ দিরহাম। টিপসসহ মোট আয় প্রায় ২৫০০ দিরহাম (প্রায় ৮৫,০০০ টাকা)।
দুবাইয়ে তাদেরই প্রভাব বেশি। কারণ আগে দুবাইয়ে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষিত মানুষ খুব কম আসত। বেশিরভাগই ভিজিট ভিসায় অল্প টাকায় আসত।
রাজমিস্ত্রি, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, পাইপ মিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রি ও শ্রমিকরা দুবাইয়ে এসেছে। দুবাই হলো মুলত তাদেরই।
দক্ষ লোকদের কাজের সুযোগ ও আয়:
রাজমিস্ত্রি: দৈনিক ১৫০ দিরহাম (প্রায় ৫০৩৪ টাকা)। মাসে ২৬ দিন কাজ করলে প্রায় ১,৩০,০০০ টাকা।
টাইলস মিস্ত্রি: একই আয়।
ইলেকট্রিক মিস্ত্রি: একই আয়।
হেলপার: দৈনিক ৯০–১০০ দিরহাম (প্রায় ৩৩৫৬ টাকা)।
যারা কোম্পানিতে শ্রমিক সাপ্লাই দেয়, তাদের দৈনিক আয়ও অনেক বেশি।
ইত্যাদি।
এবার আসুন, দুবাই নিয়ে কারা এত অভিযোগ করে?
যারা দুই বছরেও নিজের ভিসা নবায়ন করেনি, যারা ভিজিট ভিসায় এসেছে, যারা অবৈধ, যাদের আইডি নেই, যারা অবৈধ কাজ করে—তারাই বেশি অভিযোগ করে।
শ্রমিকরা মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করে। তারপরও কি আপনারা নিজেদের ভিসা নবায়ন করতে পারেন না? এত টাকা কোথায় যায়? আবার আপনাদের হাজার হাজার দেরহাম জরিমানা, আবার জরিমানা না দিয়ে আউটপাস নিয়ে দেশে চলে যান। আবার বলেন দুবাই খারাপ।
আবার দুবাই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে পালিয়ে যাইতেসেন।
এতে কি দেশের সুনাম থাকছে।
কেন High Professional Visa-তে আসতে অনেকেই নিষেধ করে জানেন?
কারণ শিক্ষিত মানুষ এলে অশিক্ষিতদের প্রভাব কমে যাবে। তাই তারা বলে, "দুবাইয়ে কাজ নেই।"
কিন্তু যারা আইডি ছাড়াই লাখ টাকা আয় করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের Bachelor's Degree পাস করা ছেলে-মেয়েরা কেন পারবে না?
এবার আসুন, দুবাইয়ে ব্যবসার কথা বলি।
দুবাইয়ে ব্যবসার লাইসেন্স করা অনেক সহজ। টাকা থাকলেই লাইসেন্স করা যায়।
দুবাইয়ে গাড়ির দাম তুলনামূলক কম। ড্রাইভিং লাইসেন্স করে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে নিজের গাড়ি চালানো যায়। সেখান থেকেও মাসে লাখ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব।
দুবাইয়ে থাকা ও খাওয়ার খরচ
বেড রেন্ট: ৩০০–৩৫০ দিরহাম (প্রায় ১২,০০০ টাকা)।
খাওয়া: ৩৫০–৪০০ দিরহাম।
অর্থাৎ মাসে ২৫–৩০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা-খাওয়া সম্ভব। ভালোভাবে কাজ করলে বাংলাদেশে ২৫–৩০ হাজার টাকা সহজেই পাঠানো যায়।
High Professional Visa সম্পর্কে
এটি শিক্ষিত মানুষের জন্য একটি ভালো সুযোগ।
কিন্তু কিছু মানুষ সার্টিফিকেট ছাড়াই একই ভিসায় আসছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। কেউ ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে আসে, আবার কেউ দেশে নানা সমস্যায় জড়িয়ে এখানে আসে।
দুবাই আয়ের জন্য একটি ভালো জায়গা—এতে কোনো সন্দেহ নেই।
শুধু অভাব ভালো মানুষের। এখানে অনেক সময় একজন বাংলাদেশির সবচেয়ে বড় শত্রু আরেকজন বাংলাদেশিই। কীভাবে অন্যের ক্ষতি করা যায়, সেই চিন্তায় অনেকেই ব্যস্ত থাকে। আবার বাংলাদেশী ভাইরাই আপনাকে চাকরি তে নিয়ে যাবে।