Adv Afsana Sultana Akhi

Adv Afsana Sultana Akhi I am a Bangladeshi lawyer and Human Rights activist, practicing at the Judge Court of Sirajganj...

06/01/2024

বিবাহ অস্বীকার করলে আপনার করনীয়:

পরিবারকে এড়িয়ে দুজনে মিলে বিয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে বহুল প্রচলিত একটি ঘটনা। বাঁধ ভাঙা জোয়ারের ন্যায় যে প্রেম সমুদ্রে দুজন অবগাহন করে তা কখনো কখনো চিতার আগুনে পরিনত হয়। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা থাকে না। অবিশ্বাস ও ঘৃনা থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতারনার আশ্রয় নেয়। বিয়েকে অস্বীকার করে। এজন্য বিবাহের সময় প্রত্যেক পক্ষকেই নিজের কাছে কিছু প্রমাণ রেখে দেওয়া উচিত।
নিকাহনামা বা কাবিননামা দিয়ে বিয়ে প্রমান:
বিয়ে প্রমাণের সবথেকে কার্যকর উপায় হলো নিকাহনামা সুতরাং উভয়ের পক্ষের কাছে নিকাহনামার সার্টিফাইড কপি রাখা আবশ্যক।
বাচ্চা থাকলে বিয়ের প্রমান
বিয়ে প্রমাণের জন্য বাচ্চাও একটি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব। বাচ্চা থাকলে আদালত ফরেনসিক রিপোর্ট এর মাধ্যমে পিতৃত্ব নির্নয় করে বিয়ের প্রমাণ অনুমান করতে পারে।
এফিডেভিট দিয়ে বিয়ে প্রমাণ:
বিয়ে অস্বীকার করলে যদি নিকাহনামা না থাকে তাহলে এফিডেভিটে যদি দুই পক্ষের স্বাক্ষর থাকে তাহলে বিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব।
ছবি বা ভিডিও দিয়ে বিয়ে প্রমাণ:
বিবাহ অনুষ্ঠানের ছবি কিংবা ভিডিও দিয়ে বিবাহ প্রমান করা সম্ভব। কিন্তু বিয়ে নিবন্ধন করা সবচেয়ে ভালো প্রমাণ। তাহলে এত সমস্যা পোহাতে হয় না। কাবিননামা বা নিবন্ধন না থাকলে তখন বিয়ের সময় কারা উপস্থিত ছিল, তাদের বক্তব্য কিংবা বিয়ের কোনো ছবি বা অন্য কোনো দলিল থাকলে তা প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা যায়। আদালত তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে যে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য যাবতীয় উপাদান সঠিকভাবে পালন হয়েছে কিনা।

কাবিন বা নিবন্ধন না থাকলেও ছবি কিংবা অন্য সাক্ষীদের সহায়তায় বিয়ে প্রমাণ করা যায় এবং পারিবারিক আদালতে সংক্ষুব্ধ নারী তার ও তার সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য মামলা করতে পারেন।বিয়ে পারিবারিকভাবে কিংবা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ীই হোক না কেন, প্রত্যেকেরই নিজের কাছে কাবিননামা সংগ্রহে রাখা উচিত। আর নিজেদের উদ্যোগেই বিয়েটি কোন কাজীর মাধ্যমে হলো, কোন কাজী অফিসে হলো, তা জেনে নেয়া উচিত। পরে কাবিননামা উঠিয়ে রাখা উচিত। কাবিননামার ওপর কাজীর সিল-স্বাক্ষর আছে কিনা, যাচাই করে নিতে হবে। স্বাক্ষর দেয়ার সময় একটু সতর্ক হয়ে দেখা উচিত এটার ওপরে ‘নিকাহনামা’ লেখা আছে কিনা। মুসলিম বিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এটা স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই মনে রাখতে হবে।

10/12/2023

তালাকের পর সন্তান কে পাবে? বাবা না মা ?

মুসলিম আইন অনুযায়ী, বাবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আইনগত অভিভাবক, আর মা হচ্ছেন- সন্তানের জিম্মাদার বা তত্ত্বাবধায়ক। বিচ্ছেদ হলেও মা তার সন্তানের তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা হারান না। ছেলের ক্ষেত্রে সাত বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়ে সন্তানের বয়ঃসন্ধি বয়স পর্যন্ত মা তাদের নিজের কাছে রাখতে পারবেন। সন্তানের মঙ্গলের জন্য যদি সন্তানকে মায়ের তত্ত্বাবধানে রাখার আরো প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে এ বয়সসীমার পরও মা তাকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন। তবে এ জন্য ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন থাকতে পারে। তবে মা যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তাহলে সন্তানকে নিজের হেফাজতে রাখার ক্ষমতা হারাতে হতে পারে।

‘ইমামবন্দী বনাম মুসাদ্দির’ মামলায় বলা হয়েছে, ‘মুসলিম আইনে সন্তানের শরীরের ব্যাপারে লিঙ্গভেদে কিছু বয়স পর্যন্ত মা তত্ত্বাবধানের অধিকারিণী; মা স্বাভাবিক অভিভাবক নন। একমাত্র বাবাই বা যদি তিনি মৃত হন তার নির্বাহক আইনগত বা বৈধ অভিভাবক।’ তবে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করলে মা এ অধিকার হারাবেন [হেদায়া ১৩৮, বেইলি ৪৩৫] সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে বাবার। মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে হলে অবশ্য মায়ের দ্বিতীয় স্বামী সন্তানের রক্ত সম্পর্কীয় নিষিদ্ধ স্তরের মধ্যে একজন না হলে মা তার তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা হারাবেন [২২ ডিএলআর ৬০৮]।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, ১৬ ডিএলআর- এ জোহরা বেগম বনাম মাইমুনা খাতুন মামলায় আদালত বলেছেন, নিষিদ্ধ স্তরের বাইরে মায়ের বিয়ে হলেই মায়ের কাছ থেকে হেফাজতের অধিকার চলে যাবে না। মা যদি তার নতুন সংসারে সন্তানকে হেফাজতে রাখতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তাকে সন্তানের জিম্মাদারি দিতে কোনো সমস্যা নেই।

যদি আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, সন্তান মায়ের হেফাজতে থাকলে তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক হবে, সন্তানের কল্যাণ হবে এবং স্বার্থ রক্ষা পাবে- সেক্ষেত্রে আদালত মাকে ওই বয়সের পরেও সন্তানের জিম্মাদার নিয়োগ করতে পারেন। আবু বকর সিদ্দিকী বনাম এস এম এ বকর ৩৮ ডিএলআরের মামলায় এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নাবালকের কল্যাণের বিষয়ই হচ্ছে মূল কথা। নাবালকের কল্যাণ কিভাবে নিহিত আছে, সেটিই বিবেচনা করবেন আদালত। কোনো বাবা নিজের আচরণের কারণে সন্তানের তত্ত্বাবধানের অধিকার হারাতে পারেন। কোনো বাবা সন্তানের ভরণপোষণ দিতে অপারগ হলে সে ক্ষেত্রে বাবাকে মায়ের কাছ থেকে সন্তানের অধিকার সমর্পণ করা ঠিক নয়। আবার মা যদি তার নাবালক সন্তান স্বামীর আর্থিক সাহায্য ছাড়াই নিজ খরচে লালন-পালন করে থাকেন, তবে সে সন্তানকে আদালত বাবার তত্ত্বাবধানে দিতে অস্বীকার করতে পারেন [১৭ ডিএলআর ১৩৪]। যদি কোনো নাবালকের কেউ না থাকে, আদালত নিজ বিবেচনায় অভিভাবক নিয়োগ করে থাকেন।

মায়ের অগোচরে যদি বাবা জোরপূর্বক সন্তানকে নিজের হেফাজতে গ্রহণ করেন, সে ক্ষেত্রে বাবার বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা পর্যন্ত দায়ের করা যাবে। ‘৪৬ ডিএলআর-এর আয়েশা খানম বনাম মেজর সাব্বির আহমেদ’ মামলার মাধ্যমে এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সন্তানের যদি ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা থাকে, তাহলে সন্তানের মতামতকেও আদালত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন অনেক সময়। এ জন্য প্রয়োজন হলে সন্তানকে আলাদা করে বিচারক নিজের কাছে নিয়ে তার মতামত জেনে নিতে পারেন। আবার মা-বাবা পর্যায়ক্রমে সন্তানকে কাছে রাখা কিংবা একজনের কাছে থাকলে অন্যজনকে দেখা করার অনুমতিও দিয়ে থাকেন। পারিবারিক আদালতে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সন্তানকে কাছে রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ারও সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫-এর ৫ ধারা মতে, সন্তানের কাস্টডির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার একচ্ছত্র এখতিয়ার পারিবারিক আদালতের। আর কাস্টডি প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত কী কী বিবেচনা করবেন, সেগুলো গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট, ১৮৯০-এর ১৭ ধারায় বিস্তারিত বলা রয়েছে। ওই ধারার বিধান মতে, নাবালক-নাবালিকা যে ধর্মীয় অনুশাসনের অধীন, সেই অনুশাসনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং তার সার্বিক কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত অভিভাবক নিয়োগ করবেন। নাবালক-নাবালিকার কল্যাণ কী হবে, তা নির্ধারণ করা হবে নাবালক-নাবালিকার বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, প্রস্তাবিত অভিভাবকের চরিত্র, সামর্থ্য এবং নাবালকের সাথে নৈকট্য ও আত্মীয়তার সম্পর্ক, মৃত মা-বাবার কোনো ইচ্ছা (যদি থাকে) এবং প্রস্তাবিত অভিভাবক নাবালক-নাবালিকার সম্পত্তির বিষয়ে সম্পর্কযুক্ত কি না ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে। এ বিষয়ে নাবালক-নাবালিকার কোনো বুদ্ধিদীপ্ত মতামত থাকলে আদালত সেই মতামতকে প্রাধান্য দেবেন।

মা কখন সন্তানের জিম্মাদারি হারান-
০১. নীতিহীন জীবনযাপন করলে, ০২. যদি এমন কারো সাথে তার বিয়ে হয়, যিনি শিশুটির নিষিদ্ধ স্তরের মধ্যে ঘটলে তার ওই অধিকার পুনর্জীবিত হয়, ০৩. সন্তানের প্রতি অবহেলা করলে এবং দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে, ০৪. বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় বাবার বসবাসস্থল থেকে দূরে বসবাস করলে, ০৫. যদি তিনি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করেন, ০৬. যদি সন্তানের পিতাকে তার জিম্মায় থাকা অবস্থায় দেখতে না দেয়া হয়।

সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব কার- বিচ্ছেদের পর সন্তান যদি মায়ের কাছেও থাকে, তবে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব পুরোপুরি বাবার। অর্থাৎ মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ হলে কিংবা মা-বাবা আলাদা বসবাস করলে বাবাকেই সন্তানদের ভরণপোষণ করে যেতে হবে। ইচ্ছে করলে মা আলাদা থেকেও- বিয়েবিচ্ছেদ হোক বা না হোক, সন্তানের ভরণপোষণ আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারিবারিক আদালতে মামলা করে ভরণপোষণের অধিকার আদায় করতে পারেন।

08/12/2023

স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করলে স্ত্রীর করনীয় ?

ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী একজন পুরুষ শর্তসাপেক্ষে একত্রে সবোর্চ্চ ৪ টা স্ত্রী রাখতে পারেন। বাংলাদেশের প্রচলিত কোন আইন দ্বারা পুরুষের এই অধিকার খর্ব করা হয়নি। তবে বাংলাদেশের আইনে পরবর্তী বিবাহের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম সংযুক্ত করেছে।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের ধারণা দ্বিতীয় বিবাহ করতে হলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগে কিন্তু বিষয়টা সঠিক নয়।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ 1961 এর 6 ধারা অনুসারে একজন পুরুষ যদি প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করতে চাই তাহলে তাকে সালিশি পরিষদের অনুমতি নিতে হবে।এই সালিশ পরিষদ গঠিত হবে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং স্বামী ও স্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিনিধি দ্বারা।যিনি দ্বিতীয় বিবাহ করতে চান তাকে চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনে স্ত্রী অনুমতি দিয়েছে কিনা উল্লেখ করতে হবে।

স্ত্রী যদি অনুমতি নাও দেয় সলিশ পরিষদ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনুমতি দিতে পারবে।

সালিশ পরিষদ যদি অনুমতি না দেয় তাহলে সহকারী জজ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। তখন সহকারী জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

সালিশ পরিষদ এর অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে বিয়ে হবে না বিষয়টা এমন নয়। সালিশ পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে বিবাহ বৈধ হবে কিন্তু তা একটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং যার শাস্তি 1 বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা 10 হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।এ ধরনের মামলায় শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০%।

দ্বিতীয় বিবাহ করার জন্য স্ত্রী যদি মামলা দায়ের করতে চায় তাহলে স্ত্রীকে পরবর্তী বিবাহের কাবিননামা সংগ্রহ করতে হবে। তাহলে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে।

সুতরাং স্বামী যদি সালিশী পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে তাহলে স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারবে।

স্বামী যদি পূর্বে কোন সময় যৌতুকের দাবি করে থাকে তাহলে যৌতুকের জন্য মামলা দায়ের করা যাবে।

এছাড়াও স্ত্রী বকেয়া দেনমোহর আদায়ের জন্য স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারবে।

03/12/2023

আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়া কী অপরাধ ?

মানুষকে নেতিবাচকভাবে ও মানসিকভাবে আকার-ইঙ্গিত বা কাজের দ্বারা দুর্বল করে তার বেঁচে থাকাটা অর্থহীন করে তোলা যায়। কোনো মানসিক রোগীকে যদি বোঝানো হয় যে, সে সমাজের পরিবারের বোঝা, তাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। তার বেঁচে থাকাটা অপ্রয়োজনীয়, তবে তা আত্মহত্যায় প্ররোচনাদায়ক। তিলে তিলে কারও স্বপ্ন আশা ভেঙে দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা। তীব্র অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, উত্তেজিত করা কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা।

আইন কী বলে?

বাংলদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০৬ ধারা অনুযায়ী-ব্যক্তির আত্মহত্যায় প্ররোচনার শাস্তি ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা। তবে আত্মহত্যা করতে গিয়ে না মরলে আপনাকে আত্মহত্যা বা নিজেকে ধ্বংস করার অপচেষ্টার অপরাধে এক বছরের জেলে যেতে হতে পারে। দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারামতে, যদি আপনি আত্মহত্যা করার উদ্যোগ নেন এবং অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেন তা হলে আপনার এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে বা উভয় শাস্তিই হতে পারে।
যৌতুকসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে অনেক মেয়েকেই বাধ্য করা হচ্ছে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে। কোনো ব্যক্তির স্বেচ্ছায় করা এসব অবৈধ কাজের কারণে কোনো নারী আত্মহত্যা করলেও প্ররোচনার দায়ে শাস্তি দেওয়া যায়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেনো কার্য দ্বারা তার সম্ভ্রমহানি করে এবং এর ফলে সেই নারী আত্মহত্যা করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত নারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনাদানের অভিযোগে অভিযুক্ত হবে, যার শাস্তি অনধিক ১০ বছর কিন্তু কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ড।’

এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করে তাহলে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সাহায্য করেছে এবং প্ররোচনাদান করবে, সে ব্যক্তি ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

29/11/2023

আয়কর রিটার্ন জমা না দিয়ে বিপদে পড়ছেন না তো?

যাদের টিআইএন আছে তাদেরকে অবশ্যই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে এবং আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়া একটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে সুতরাং টিআইএন থাকলে অবশ্যই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া উচিত। ইনকাম ট্যাক্স আইন অনুযায়ী সাত ধরনের আয় করের আওতায় পরে। যেমন চাকরী থেকে পাওয়া বেতন, ব্যবসা থেকে আয়, বাড়িভাড়া থেকে পাওয়া অর্থ, কোন সম্পত্তি বিক্রি ও হস্তান্তর ফলে প্রাপ্ত অর্থ, জামানতের সুদ (সঞ্চয়পত্র, বন্ড, ব্যাংকের সুদ ইত্যাদি), কৃষি হতে আয়। আর আছে অন্যান্য যার মধ্যে পরতে পারে অনেক কিছু।

কত আয় হলে কর দিতে হয়
আপনি যদি পুরুষ হন আর আপনার বাৎসরিক আয় যদি তিন লাখ হয় তবে সেই পর্যন্ত আপনার কোন আয়কর নেই। তবে আয় এর উপরে চলে গেলেই আপনি আয়করের আওতায় পরবেন। আর নারীদের জন্য বাৎসরিক সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত কর মওকুফ। কিন্তু তার উপরে গেলেই তিনি করের আওতায় পরবেন। নারী পুরুষ হিসেবে আপনার প্রথম আড়াই লাখ বা তিন লাখ টাকা বাদ দিয়ে পরবর্তী চার লাখ টাকার জন্য দশ শতাংশ কর হবে। আয় যত করের হার তত বাড়তে থাকবে।

আয়কর রিটার্ন কি
প্রতি বছর ৩০ শে নভেম্বরের মধ্যে আপনাকে ট্যাক্স রিটার্ন দিতে হবে। প্রতি অর্থ বছরে এই সময়ের মধ্যে একটি ফর্মে আপনার আয়, সম্পত্তি, আয়কর ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য হালনাগাদ করা। কেননা আপনার এ সম্পর্কিত তথ্য প্রতি বছর বদলে যেতে পারে। একবার টিন নম্বর নিয়ে নিলে সরকারকে জানিয়ে দিতে হবে আপনার বর্তমান অবস্থান। ট্যাক্স রিটার্ন না দিলে শাস্তির ব্যবস্থাও আছে।

কোন ক্ষেত্রে করে ছাড়ের সুবিধা পাবেন
কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনি কিছু ছাড় পাবেন। এর কয়েকটি হল আপনার যদি বিভিন্ন মেয়াদে সরকারি সঞ্চয়পত্র কেনা থাকে, শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করা থাকে, জীবন বীমা করা থাকে এরকম কিছু ক্ষেত্রে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে কর মওকুফের সুবিধা পাবেন। সঞ্চয়পত্রকে সবচাইতে ঝুঁকিমুক্ত মনে করা হয়। সঞ্চয় ব্যুরো, পোষ্ট অফিস অথবা ব্যাংকের মাধ্যমে আপনি এটি কিনতে পারবেন।

অভিযোগ থাকলে কোথায় যাবেন
আপনি যদি মনে করেন কর দেয়ার ক্ষেত্রে আপনার সাথে কোন অন্যায় হয়েছে সেক্ষেত্রে আপনার অভিযোগ জানানোর জায়গা আছে। সেক্ষেত্রে আপনার প্রথম করনীয় হচ্ছে কমিশনার অফ ট্যাক্সেজ আর কাছে আপিল করা। আপনার অভিযোগের ভিত্তিগুলো বিস্তারিত জানিয়ে লিখিতভাবে আপিল করতে হবে। তিনি শুনানির জন্য সময় দেবেন। তাকে যদি সেখানে যুক্তিতর্ক দিয়ে বোঝাতে সক্ষম হন তাহলে সেখানেই আপনার সমস্যার সমাধান হতে পারে। তিনি যদি আপনার বিপক্ষে রায় দেন সেক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় আপিল করা যায়। ট্রাইব্যুনালে গিয়েও যদি আপনি হেরে যান তাহলে হাইকোর্টে গিয়েও আপনি সর্বশেষ আরেকবার আপিল করতে পারবেন। যা income tax reference নামেও পরিচিত।

আয়কর না দিলে আপনি ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারেন। যেমন আপনি যদি ঢাকা শহরে একটি ফ্ল্যাট কিনতে চান তাহলে সরকারকে আপনার টাকার উৎস অবশ্যই দেখাতে হবে এবং আপনার নামে TIN থাকতে হবে। আপনি যদি আপনার আয়ের এর উৎস দেখাতে ব্যর্থ হন তাহলে আপনাকে কর ফাঁকির মামলায় পড়তে হতে পারে।

28/11/2023

পুলিশের হেফাজতে নির্যাতিত হলে আপনার কি কিছু করার আছে ?

2014 সালে ঝনি নামে এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করার ফলে মারা যান। গত ৯/৯/২০২০ তারিখে নির্যাতনের সাথে সংশ্লিষ্ট তিনজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন সেশন জজ কোর্ট।

নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, 2013 অনুসারে বিচার কাজ শেষ করে আদালত এ রায় প্রদান করেছেন। এই আইন অনুসারে যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা কোন ব্যক্তিকে তার হেফাজতে রেখে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করে তাহলে সেই পুলিশ কর্মকর্তা এই আইন অনুসারে দোষী সাব্যস্ত হবে। এই আইনের অধীনে নির্যাতিত ব্যক্তি ছাড়াও যে কোন ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।এই আইনের অধীনে শুধু কেবল নির্যাতনের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তার হেফাজতে থাকা অবস্থায় যদি কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

এই আইনের অধীনে মামলা করতে হলে সরাসরি আদালতে যেতে হবে কোন থানা কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে মামলা করার কোনো বিধান নেই। আদালতই মামলা দায়েরের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এই ধরনের মামলার তদন্তভার আদালত পুলিশ এর পরিবর্তে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।

এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় সকল প্রকার অপরাধ জামিন অযোগ্য এবং আপোষের কোনো সুযোগ নেই।
এই আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দণ্ডাদেশ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে ক্ষতিপূরণের বিধান করা আছে।

2013 সালে এ আইন প্রণয়ন করা হলেও এই আইনের বাস্তব প্রয়োগ খুবই কম তার প্রধান কারণ হলো এই আইন সম্বন্ধে মানুষের অজ্ঞতা এবং আরেকটি কারণ হলো পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বেশিরভাগ লোক অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
সুতরাং ক্ষমতা প্রয়োগের সময় পুলিশ সহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবশ্যই এই আইনের কথা মাথায় রাখতে হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের 35 অনুচ্ছেদ নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক, লাঞ্ছনাকর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। 2013 সালে এসে এ বিষয়ে আইন হয়েছে কিন্তু এই আইন সম্বন্ধে বেশিরভাগ লোক এমনকি আইন অঙ্গনের লোকও খুব কম জানে।

27/11/2023

মুখে তালাক উচ্চারণ করলে কি তালাক হবে?

(বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসারে)
অনেক আশা-স্বপ্ন নিয়ে দুজন মানুষ একসঙ্গে পথচলা শুরু করে। সেই পথচলা সবসময় মসৃণ হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই দুজনের সম্পর্ক এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়ায় যাতে বিচ্ছেদই হয়ে উঠে একমাত্র সমাধান।

অনেকেই মনে করেন তিনবার 'তালাক' উচ্চারণ করলেই তালাক কার্যকর হয়ে যায়। তবে বাস্তব অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কেউ যদি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স বা তালাক দিতে চায় তবে মুখে 'তালাক' বলার পর এই সংক্রান্ত লিখিত নোটিশও দিতে হবে।
তালাক কার্যকর করার ক্ষেত্রে মুখে উচ্চারণের পাশাপাশি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত নোটিশ পাঠাতে হয়।

চেয়ারম্যান বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে— ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, সেনানিবাস এলাকায় এই অধ্যাদেশের অধীনে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারের নিয়োগ করা
ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা অথবা সিটি কর্পোরেশনের স্থগিত (suspended) থাকলে অধ্যাদেশের অধীনে চেয়ারম্যানের কাজ সম্পাদনকারী সরকারের নিয়োগ করা ব্যক্তি।
চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো তালাক নোটিশের একটি অনুলিপি তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে পাঠাতে হবে। তারপর এই নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষের পুনঃমিলনের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান সালিশি কাউন্সিল তৈরি করে দুই পক্ষের পুনঃমিলনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
যদি দুই পক্ষের মধ্যে কোনোভাবেই পুনঃমিলন সম্ভব না হয় তবে তালাক নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।

এই ৯০ দিন পর্যন্ত স্ত্রীর ভরণপোষণ ও অন্যান্য খরচাপাতি বহন করবেন স্বামী।

তালাকের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, যদি তালাক দেওয়ার সময় স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে থাকে তবে তার গর্ভাবস্থার পরিসমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ সন্তান ভূমিষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

মুসলিম আইনে স্ত্রীর তালাক দেওয়ার কোনও ক্ষমতা নেই, যদি না কাবিননামার ১৮তম কলামে স্ত্রীর তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া থাকে।

তবে মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯ অনুযায়ী মুসলিম আইনে বিবাহিত কোনও মহিলা নিচের এক বা একাধিক কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবেন।

১. চার বছর পর্যন্ত স্বামীর কোনও খোঁজখবর পাওয়া না গেলে।

২. দুই বছর যাবত স্বামী কর্তৃক অবহেলিত এবং স্বামী ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে।

৩. মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১'র বিধান লঙ্ঘন করে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করলে।

৪. স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি মেয়াদের জন্য কারাদণ্ড প্রাপ্ত হলে।

৫. স্বামী কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর ধরে বিবাহিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে।

৬. বিয়ে করার সময় স্বামী পুরুষত্বহীন হলে এবং এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে।

৭. দুই বছর ধরে স্বামী অপ্রকৃতিস্থ থাকলে বা, কুষ্ঠ রোগ বা, সংক্রামক যৌন ব্যাধিতে ভুগলে।

৮. ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই যদি অভিভাবকের মাধ্যমে বিয়ে দেওয়া হয় এবং স্বামী-স্ত্রী সহবাস বা, বসবাস না করে তাহলে ১৯ বছর বয়স হওয়ার আগেই এই বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে।

৯. স্ত্রীর প্রতি স্বামী নিষ্ঠুর আচারণ করলে।

এক্ষেত্রে নিষ্ঠুর আচরণগুলো হল:

ক) স্বভাবগতভাবে তাকে মারপিট বা, শারীরিক নির্যাতন ছাড়াও নিষ্ঠুর আচরণ করে স্ত্রীর জীবন দুর্বিষহ করে তুললে।

খ) খারাপ চরিত্রের মহিলাদের সঙ্গে মেলামেশা করলে বা অনৈতিক জীবনযাপন করলে।

গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপানে বাধ্য করার চেষ্টা করলে।

ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করলে বা, তার স্ত্রীর সম্পত্তির অধিকারে বাধা প্রদান করলে।

ঙ) স্ত্রীর ধর্মকর্ম পালনে বাধা দিলে।

চ) একাধীক স্ত্রী থাকলে পবিত্র কোরআনেরর বিধান মোতাবেক সমভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হলে।

এসব নিষ্ঠুর আচরণের জন্য কাবিননামায় তালাকের ক্ষমতা না থাকা সত্বেও স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক প্রদান করতে পারবেন।

অন্য যে কোনও সংগত কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন যে, উল্লেখিত যে কোনও একটি কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে হলে স্ত্রীকে আদালতের মাধ্যমে যেতে হবে।

তালাক স্বামী বা, স্ত্রী যেই দিক না কেন, স্ত্রী তার প্রাপ্য মোহরানা যে কোনও সময় দাবী করতে পারবেন।

মুখে তালাক উচ্চারণ করলে তালাক হবে না এরূপ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ অনেক আগেই দিয়েছেন।তবে ইসলামী শরিয়া আইনের সাথে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কিছুটা অমিল রয়েছে । এক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়া আইন বাংলাদেশের আদালতে প্রযোজ্য হবে না। বাংলাদেশের আদালতে প্রচলিত আইন প্রযোজ্য হবে।

26/11/2023

ফেসবুক আইডি হ্যাক করা কি অপরাধ ?

ফেসবুকে ভুয়া আইডি খোলা কি অপরাধ?

দিনে দিনে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারের সংখ্যা অনেক গুন বেড়ে গেছে এবং এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে গেছে ফেসবুকের সাথে জড়িত বিভিন্ন প্রকার অপরাধসমূহ।
এসকল অপরাধসমূহের মধ্যে সব থেকে মারাত্মক অপরাধ হলো অন্যের ফেসবুক আইডি হ্যাক করা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন 2018 নামে বাংলাদেশে একটি আইন পাস হয়েছে এই আইনের 34 ধারা অন্যের আইডি হ্যাক করার শাস্তি বর্ণিত আছে উত্তর ধারা অনুসারে যদি কোন ব্যক্তি হ্যাকিং করেন তাহলে সেই ব্যক্তি 14 বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন অথবা এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সুতরাং যারা অন্যের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেন এবং বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন তাদের এখনই সাবধান হতে হবে না হলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে।

বর্তমান বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ভিতর হাজার হাজার ব্যবহারকারী ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন কিন্তু বাংলাদেশের সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের 34 ধারা অনুসারে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা এবং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ছদ্মবেশ ধারণ করা, অন্য কারোর ছদ্মবেশ ধারণ করা এবং এইসব যদি কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে হয় বা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে হয় তবে তা অপরাধ এবং উক্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড অথবা 10 লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

25/11/2023

উইল না দান কোনটি করবেন?

উইল বা অছিয়ত হলো ভবিষ্যৎ দান যা কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা সম্পত্তির মুনাফা কিভাবে বিলি-বন্টন করা হবে তা তার মৃত্যুর পূর্বেই লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্ধারণ করে যাওয়ার আইন সম্মত ঘোষণাই হলো উইল বা অছিয়ত।

উইলের শর্ত

উইল করা যায়
(ক) ব্যক্তির উদ্দেশ্যে এবং
(খ) ধর্মীয় উদ্দেশ্যে।

ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উইল আবার দু’প্রকার
(১) ওয়ারিশের বরাবরে উইল এবং
(২) ওয়ারিশ নয় এমন ব্যক্তির বরাবরে উইল।

ওয়ারিশের বরাবরে সম্পাদিত উইলের বিধান

(ক) অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে উইল বাতিল বলে গণ্য হবে।
(খ) অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে উইল সম্পূর্ণ কার্যকরী হবে।
(গ) ওয়ারিশদের সম্মতি কার্যকর হবে উইল দাতার মৃত্যুর পর।
ওয়ারিশের বরাবরে সম্পাদিত উইলের বিধান
(ক) অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে উইল বাতিল বলে গণ্য হবে।
(খ) অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে উইল সম্পূর্ণ কার্যকরী হবে।
(গ) ওয়ারিশদের সম্মতি কার্যকর হবে উইল দাতার মৃত্যুর পর।

ওয়ারিশ নয় এমন ব্যক্তি বরাবরে সম্পাদিত উইলের বিধান

(ক) ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে উইল সম্পূর্ণ কার্যকরী হবে।
(খ) ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে উইল দাতার নিট সম্পত্তির ১/৩ এর উপর উইল কার্যকরী হবে।
নিট সম্পত্তি
উইলদাতার মোট সম্পত্তি হতে নিন্মবরূপ ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি নিট সম্পত্তি বলে গণ্য হবে, উইল সর্বদা নিট সম্পত্তির উপর প্রযোজ্য হবেঃ
(ক) উইল দাতার মৃত্যুর অব্যবহিত ৩ মাস পূর্বের ভৃত্য বা চাকরের পাওয়ানাদি।
(খ) মৃত্যু শয্যাকালীন খরচাদি।
(গ) মৃত্যুর পর দাফন-কাফনের খরচ।
(ঘ) স্ত্রীর দেন-মোহরের পাওয়ানা পরিশোধ ব্যয়।
(ঙ) উইল প্রবেট এবং সাকসেশন সার্টিফিকেট ব্যয়।
(চ) ঋণ পরিশোধ (আগের ঋণ আগে পরিশোধ ভিত্তিতে)।
(ছ) ঋণ পরিশোধের আগে স্ত্রীর দেন-মোহর পরিশোধ করতে হবে।
ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উইল
ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উইল করা হলে তাতে ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে সে উইল সম্পূর্ণ কার্যকর হবে, আর ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে অছিতকারীর নিট সম্পত্তির ১/৩ অংশের উপর উইল কার্যকরী হবে।

ধর্মীয় উইল ৩ প্রকার
যথা-
(১) ফরজ কাজের উদ্দেশ্যে, যেমন- হজ্জ্ব পালন, যাকাত প্রদান ইত্যাদি।
(২) ওয়াজিব কাজের উদ্দেশ্যে, যেমন- ফিতরা প্রদান, কোরবানী করা ইত্যাদি।
(৩) নফল কাজের উদ্দেশ্যে, যেমন- সরাইখানা, রাস্তা-পুল, এতিমখানা নির্মাণ ইত্যাদি।

উইলের উপাদান

(১) একই সম্পত্তি নিয়ে একাধিক উইল করা হলে সর্বশেষ উইলটি সর্বপ্রথম কার্যকরী হবে এবং সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে পরবর্তী উইলগুলো কার্যকরী হবে।
(২) অজাত ব্যক্তি উইলের তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে জন্মগ্রহণ করলে তার বরাবরে করা উইল বৈধ হবে।
(৩) উইল মৌখিক ও লিখিত দু’ভাবেই করা যায়। এমনকি অসামর্থ্যের কারণে ইঙ্গিতেও করা যায়। তবে মৌখিক উইলের ক্ষেত্রে ২ জন পুরুষ বা ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা সাক্ষীর উপস্থিতিতে হতে হবে।
(৪) নাবালক উত্তরাধিকারী সাবলকত্ব লাভের পর উইলে সম্মতি দিতে পারবেন।
(৫) উইল দাতা মৃত্যুর পূর্বে যে কোন সময় উইল বাতিল করতে পারেন। সম্পত্তি একবার উইল করার পর পুনরায় তা অন্য কারো অনুকূলে উইল করলে পূর্বের উইলটি স্বয়ংক্রীয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। উইল বাতিলের জন্য মামলার প্রয়োজন হয় না।
(৬) ১৮৭০ সনের হিন্দু আইন অনুসারে একজন হিন্দু তার সকল সম্পত্তি উইল করতে পারেন, তবে যাদের ভরণপোষনের জন্য তিনি আইনত বাধ্য তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখে বাকী সম্পত্তি উইল করতে হবে।
(৭) উইলকারীর কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে তিনি তার সমস্ত সম্পত্তি যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে উইল করে দিতে পারেন।
(৮) উইল গ্রহণকারীকে দাতার মৃত্যুর সময় জীবিত থাকতে হবে।
(৯) উইলকারী মৃত্যুর মুহূর্ত হতে উইল কার্যকর হবে।

উইল বিলুপ্তি

নিন্মোক্ত কারণে উইল বাতিল বলে গণ্য হবেঃ

(১) উইলের পর উইলদাতা বিকৃত মস্তিষ্ক হলে, মৃত্যুর পূর্বে তিনি সুস্থ হলেও।
(২) উইল গ্রহীতা দাতার আগে মারা গেলে।
(৩) উইল দাতা বা গ্রহীতা ধর্ম ত্যাগ করলে
(৪) উইল গ্রহীতা দাতাকে হত্যা করলে।
(৫) উইলকৃত সম্পত্তির উপর অন্য কারো অধিকার সাব্যস্ত হলে।
(৬) উইলকারী উইলকৃত সম্পত্তি বিক্রি বা দান করলে বা তাতে বাড়ি তৈরি করলে।

উইল প্রবেট

উইল বা অছিয়তের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে তার সম্পত্তি উইল করে গেলে উইলটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারবান দেওয়ানি আদালতের অনুমোদন লাগবে, এরূপ অনুমোদন নেয়াকেই বরে উইল প্রবেট। প্রবেট মুসলিম উইলে আবশ্যকীয় নয়। প্রবেটের জন্য আদালতে আবেদন করা হলে অপরাপর ওযারিশদের মতামত জানার জন্য আদালত হতে নোটিশ দেয়া হয়, এ সময় ওয়ারিশগণ উইলের বিরুদ্ধে অসম্মতি জানাতে পারেন। এছাড়া আদালত কালেক্টরের নিকট সম্পত্তির কোর্ট ফি সঠিক আছে কিনা, সম্পত্তিটি সরকারের কিনা, সম্পত্তিটি উইলদাতার কিনা এতে আর কারো স্বার্থ আছে কিনা ইত্যাদি জানতে চেয়ে থাকেন।
ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উইল

ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উইল করা হলে তাতে ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে সে উইল সম্পূর্ণ কার্যকর হবে, আর ওয়ারিশদের সম্মতি না থাকলে অছিতকারীর নিট সম্পত্তির ১/৩ অংশের উপর উইল কার্যকরী হবে।

দান ও উইলের পার্থক্য

(১) দান সাথে সাথে কার্যকর হয়, উইল কার্যকর হয় অছিয়তকারীর মৃত্যুর পর।
(২) দান সম্পনড়ব হওয়ার পর আদালতের রায় ব্যতীত তা আর প্রত্যাহার করা যায় না। কিন্তু উইল ইচ্ছেমত বাতিল করা যায়।
(৩) দান করার সময় দানের সম্পত্তিতে দাতার মালিকানা ও দখল থাকতে হবে অন্যদিকে মৃত্যুর পূর্বে পাওয়া যাবে এরূপ যে কোন সম্পত্তি উইল করা যাবে।

19/11/2023

ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ, কটুক্তি বা আজেবাজে কথা অর্থাৎ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত কি বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য?

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে ধর্ম অবমাননা কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত প্রদানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

গ্রিক শব্দ ব্লাসফেমেন থেকে ব্লাসফেমি শব্দের উৎপত্তি। যার অর্থ ধর্ম নিন্দা বা ঈশ্বর নিন্দা। এক কথায় কারো ওপর অপবাদ বা কলঙ্ক আরোপ করা বা সম্মানে আঘাত করাই ব্লাসফেমি। তবে ব্লাসফেমি বলতে প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অসম্মান বোঝায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ধর্মীয় অবমাননাকে সংজ্ঞায়িত না করার কারণে অনেকেই হয়রানির শিকার হতে পারে।

আদালতে মামলা কে করতে পারবেন ?
ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হলে যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনের সহায়তা নিতে পারেন। তিনি যেমন থানায় মামলা করতে পারেন, আবার সরাসরি আদালতেও মামলা করতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার পর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিচার ও শাস্তি হতে পারে। তবে বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতি আহত হওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ-সমাবেশ হলেও আইনের আশ্রয় নেয়ার উদাহরণ খুবই কম।

২০১৮ সালে বাংলাদেশে যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়েছে, সেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত করার শাস্তি বাড়ানো হয়েছে।

এই আইনের ২৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ কোন কিছু প্রকাশ, সম্প্রচার, ওয়েবসাইট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারো ধর্মীয় বিশ্বাস বা মূল্যবোধে আঘাত করেন, তাহলে সেটা একটা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

এ ধরণের অপরাধ করলে অনূর্ধ্ব সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

তবে কেউ যদি দ্বিতীয়বার একই ধরণের অপরাধ করেন, তাহলে তার অনূর্ধ্ব ১০ বছরের কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ২৯৫ক ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অসদুদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য দ্বারা কিংবা দৃশ্যমান অঙ্গভঙ্গি দ্বারা সংশ্লিষ্ট ধর্মটিকে বা কারো ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা করে বা অবমাননার চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকে দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। ১৮৬০ সালের মূল আইনে এ ধারাটি ছিল না। পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে এক সংশোধনীর মাধ্যমে এ ধারাটি যুক্ত করা হয়।

Address

Judge Court, Sirajganj
Dhaka

Telephone

+8801797604548

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Adv Afsana Sultana Akhi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Adv Afsana Sultana Akhi:

Share