20/07/2026
"বিশ্বে ইসলামী খেলাফত কায়েম”
(বাধা হলো ইংরেজরা কোনো ধর্ম নয়)
আমার টপিক হল শুধুমাত্র দুইটা । একটা হল শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন, আর দুই নম্বরটা হল যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আধিপত্য বিস্তার ।
(১)
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা যেন একটি বাসের মতো। সেই বাসের যাত্রী আমরা শিক্ষার্থীরা। বাসটির চালক হলো ব্রিটিশদের প্রবর্তিত শিক্ষাদর্শন, আর বাসটি চালু রাখার দায়িত্ব পালন করছে আমাদের শিক্ষামন্ত্রণালয় ও শিক্ষানীতির পরিচালকেরা। ফলে বাসটি যে পথে চলছে, সেটি মূলত সেই শিক্ষাব্যবস্থার নির্ধারিত পথ—যেখানে যাত্রীদের গন্তব্যও অনেকাংশে আগে থেকেই ঠিক করে দেওয়া হয়।
Example: আমাদের যে প্রাইমারি স্কুলে বা হাই স্কুলে বা কলেজে যেসব শিক্ষক নিয়োগ করা হয়, ওরা তো যেমন হাই স্কুলের বইগুলো পড়ে কিন্তু হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতে পারে, কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজের বই শেষ করে কিন্তু কলেজে শিক্ষকতা করতে পারে। কিন্তু এটা যে মাস্টার্স শেষ করে এতসব ডিগ্রি নিয়ে যে ওই চাকরিটা করা লাগবে, এই নিয়মটা আসল কীভাবে? এটা হয়তো তাদেরই করে দেওয়া একটা নিয়ম। আর এটা শুধু স্কুল কলেজের ক্ষেত্রে বা জেনারেল লাইনের ক্ষেত্রে না, মাদ্রাসা লাইনের ক্ষেত্রেও এরা একই রকম তাদের আধিপত্য বিস্তার করে থাকে,যদিও তা বুঝা দুষ্কর।
এবার আসি সবচেয়ে বড় যেটা মাস্টারমাইন্ড সেটা হল পরীক্ষা পদ্ধতি। এই পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর ধরে কোনো জ্ঞানই অর্জন করতে পারে না। কারণ উদ্দেশ্য থাকে GPA 5, গোল্ডেন এ প্লাস, কোনো জ্ঞান অর্জন করা নয়। ফলে দেখা যায় যে কলেজের শিক্ষক হলেও বা স্কুলের শিক্ষক হলেও তাকে ঠিকই সেম বিষয়গুলো আবার পড়তে হয় এবং সেগুলো স্টুডেন্টদেরকে পড়াতে হয়। এবং এই ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর একাডেমিক পড়াশোনা করার কারণে দেখা যায় আমাদের জীবনের অর্ধেক সময় চলে গেল। তাহলে এই ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছরে কোনো দীনি শিক্ষা অর্জন করতে পারে না, একাডেমিক শিক্ষার কারণে। যেগুলোও ব্রিটিশদের তৈরি করা জ্ঞান।
যখন আমার ভাইদের দাওয়াত দিতে যায়, তখন আমি তাদের বলি, ভাই আপনি ইসলামিক বই পড়েন বা আউট বই পড়েন, সে বলে একাডেমিক পড়ে শেষ করতে পারতেছি না, একাডেমিক বই পড়ার সময় পাচ্ছি না, আপনি বলতেছেন ইসলামিক বইয়ের কথা। তাছাড়া এই একাডেমিকের পেছনে ঝুঁকে থাকার একটা মেইন রিজন হল ইনকাম সোর্স। ইনকাম সোর্স ওই যে চাকরির দিকেই মানুষ নির্ভরশীল হয়ে থাকে।
Circle : পড়াশোনা করো, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হও, বা চাকরি করো, দুনিয়া থেকে চলে যাও।
তাদের আর একটা নতুন পরিকল্পনা হল, আমাদের আলেম সমাজকে ধ্বংস করার, কীভাবে ধ্বংস করবে? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে ধ্বংস করবে, এবং যখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রতি নির্ভর হয়ে যাবে মানুষ, তখন আলেমরা মনে করবে আমাদের কি দরকার, যেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আছে, সোশ্যাল মিডিয়া আছে, এখন আমাদের কোনো দরকার নাই, তখন তারা জ্ঞান অর্জনে অনিহা প্রকাশ করবে। আপনারাই মনে হয় শেষ আলেম ওলামা, এরপরে হয়তো ভালো কোন আলেম উলামা হবে না।
(২)
দ্বিতীয় বিষয়টা হল আমাদের যেসব দীনি ভাই বোনদের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বা প্রোগ্রামিং সম্পর্কে বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে অনেকজনের যারা অনেকে বাইরের দেশে গিয়ে পড়াশোনা করেছে তাদের মাধ্যমে যদি আমাদের কোনো পার্সোনাল যেমন গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক এসব সোশ্যাল মিডিয়া সফটওয়্যার তৈরি করা যায়, তাহলে আমাদের উপর আর কারো সোশ্যাল মিডিয়ায় আধিপত্যবাদ থাকবে না।
(১)
সমাধান:
যদি এই শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া যায়, শুধুমাত্র আমাদের যেসব জ্ঞান প্রয়োজন তা আমরা অর্জন করি। তাহলে আমাদের এই চল্লিশটা বছর অন্ততপক্ষে বেঁচে যাবে। যদি আমাদের জ্ঞান বাড়ে ইসলামিক বিষয়ে, তখন আমাদের ইমান মজবুত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তো এখন সেই জ্ঞান অর্জনের জন্য তো চল্লিশটা বছর সময় পাচ্ছে না। সেই জ্ঞান অর্জন করতে পারবে কখন? যদি এই শিক্ষাব্যবস্থাটাকে ভেঙে দেওয়া যায়।
এখন এটা বাস্তবায়ন করবে কারা ,বাস্তবায়ন করবে দেশের জনগণরা কারণ শিক্ষামন্ত্রীর এই ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না । কারণ, তাকে যদি একটা হুমকি দেওয়া হয় তাহলে সে এই রাস্তা থেকে সরে যাবে। যদি দীনদার হয় তাহলে সে অবশ্যই সরবে না(ওল্লাহু আলাম)। তাছাড়া এখানে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের মানুষরাই আসবে না এখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষেরাই আসবে এবং প্রতিবাদ করবে?((ইনশাআল্লাহ))। এটা ছাড়া আর কোনো সহজ উপায় নাই আমার মতে। যদি আমাদের দেশে এটা নিয়ে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, তাহলে ইনশাআল্লাহ সারা বিশ্বে প্রতিবাদ গড়ে উঠতে পারে এটা নিয়ে।
তাহলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হবে? শিক্ষা ব্যবস্থা হবে এরকম যেসব বিষয়গুলো আমাদের জন্য দরকার, যেমন ইতিহাস, ইতিহাস বলতে সবাই নিজ নিজ ধর্মের ইতিহাস সেটা আমাদের এই দেশের জন্মের ইতিহাস হোক, যেকোনো ইতিহাস হোক, ইতিহাস বিষয়ক একটা সাবজেক্ট থাকবে। এবং আমাদের যেসব দক্ষতা অর্জনের জন্য যেসব জ্ঞান অর্জন করতে হয়, এগুলাকে যদি আমরা যদি শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়ে আসি, তাইলে ইনশাআল্লাহ আমাদের আর কোনো আলাদাভাবে কোনো দক্ষতা অর্জন করতে হচ্ছে না। এই যে গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক এগুলো কি আমাদের দেশের মানুষ আবিষ্কার করতে পারত না বা তৈরি করতে পারত না? সব পারেনি কেন? ওই যে আমরা তাদের দেওয়া জ্ঞান নিয়ে আমরা পড়ে থাকি। চীন আজ এত উন্নত কেন? তারা দক্ষতার দিকে ফোকাস দিছে, তারা কারিগরি শিক্ষার দিকে ফোকাস দিছে, তার কারণে আজ তারা এত উন্নত।
থাকবে না কোনো পরীক্ষা ব্যবস্থা, থাকবে না কোনো নিজেকে জাহির ব্যবস্থা,থাকবে শুধু জ্ঞান অর্জন, পড়ালেখা মানে জ্ঞান অর্জন করো, এটাই হচ্ছে মূল কথা। আসিফ আদনান ভাই অনেক ঠিক কথা বলছে। বলছে, আমাদের জ্ঞানের সংজ্ঞাটাই পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে, জ্ঞান কেনো অজর্ন করব? জ্ঞান কি? কোনগুলো জ্ঞান, কোনগুলো জ্ঞান নয়? চৌদ্দশ বছর আগে আমাদের মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মানুষ জ্ঞান অর্জন করত জ্ঞান আহরণের জন্য, আর মানুষ এখন জ্ঞান অর্জন করে পরীক্ষায় গলাত করণের জন্য এবং সেই জ্ঞান ও কোনো কাজের না।
ইনশাআল্লাহ যদি এই শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া যায়, তাহলে আমাদের জ্ঞান অর্জনের জন্য অনেক সময় পাব আমরা এবং সেই জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আমাদের ঈমান মজবুত হবে। আমাদের ঈমান যদি মজবুত হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ জিহাদ অবশ্যই সম্ভব। তখন ইনশাAllah দাওয়া ইফেক্টিভ হবে । যেগুলো দাওয়াত দিব, তখন সেগুলো নিয়ে মানুষ ভাববে, সময় পাবে, ওগুলো নিয়ে জ্ঞান অর্জন করবে।
এখন আমাদের অবস্থাটা হলো আমরা পায়ের মধ্যে খাঁটা ফুটেছি, সেই খাটাটা বের করতে হবে, বের করে সেটাকে ওষুধের মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। ইনশাআল্লাহ,সারা বিশ্বে ইসলামি খেলাফত কায়েম হবে। আমাদের পরিচয় একটাই, আমরা হলাম মুসলিম, আমরা না শিয়া, না সুন্নি, না তাবলিগ, না এই দল না সেই দল, না হিজবুল, আমরা কোনো দল না, আমাদের পরিচয় একটাই, আমরা হলাম মুসলিম, আমাদের বিধান হল কোরআন সুন্নাহ।
جَزَاكَ ٱللَّٰهُ خَيْرًا ✌️✌️