17/05/2026
ব্যাংকিং সেক্টর একের পর এক দেউলিয়া হচ্ছে তাতে ব্যাংক এর প্রতি কোন সমবেদনা নাই। কিঞ্চিৎ সমবেদনা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সমূহের সাথে লেনদেন করা উৎপাদন মুখী খাত বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতি। কেননা কোন দেশের ব্যাংক দেউলিয়া হওয়া মানে সার্বিক ব্যবসা পরিবেশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া। আগে শিল্প ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস প্রাপ্ত হয়, তার অনেক পরে ব্যাংক দেউলিয়া হতে শুরু করে। দেশের চিনিকল, পাটকল, পেপার মিল, চামড়া শিল্প, ওপেক্স সিনহা গ্রুপ, কেয়া কসমেটিকস, সিটিসেল, বাংলালায়ন, অনিক টেলিকম, গাজী গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপের ধ্বংস বা পতন। যেন পতন আর ধ্বংসের মিছিলে সবার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা। পার্থক্য শুধু সময়, কেউ দুদিন আগে কেউ দুদিন পর। কেন এমন হয়? সব ব্যবসায়িক মালিক ই খারাপ? নাকি অন্য কোন রহস্য আছে।
এর পেছনে রয়েছে তথাকথিত অর্থনীতিবিদ বা তথাকথিত সমাজপতি/ রাষ্ট্রপতিদের চাপিয়ে দেয়া প্রতারণাপূর্ণ অর্থব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় কিছু গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত থাকে money creation এর লাগামহীন ক্ষমতা। যা প্রতিনিয়ত ব্যবসায়িক মালিক বা শিল্প পতি দের সম্পদ/ পুঁজি কে তরল করতে থাকে। তরল হতে হতে একসময় সম্পূর্ণ পুঁজি/সম্পদ হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পরে। ফলে পুরাতন রা হারিয়ে যেতে থাকে দিন কে দিন, আর শেষ valuation (real asset to significant amount of fiat currency) অনুসারে হাজির হয় নতুন প্রতিষ্ঠান। কি অদ্ভুদ নীতি। সুদী অর্থব্যবস্থা ও ব্যাংকিং সিস্টেম দেউলিয়া করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কে, শেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক গুলোকে দেউলিয়া করে প্রতিশোধ নেয়। কবে থামবে এই চক্র, কবে ব্যবসার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হবে? Money creation যে ফর্মেই হোক সেটাই মূলত মূল্যস্ফীতি। মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ হলে মানুষ তার জমানো সম্পদ ১০ বছরে সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে। এই জালিয়াতির অর্থনীতির বিকল্প কি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। কোন পথে সে বিকল্প রিপ্লেস করা যাবে তাও অজানা।