14/07/2026
কাউকে বিশ্বাস করে ঋণের জামিনদার হচ্ছেন?
তাহলে এক মিনিট ভাবুন! ⚠️
অনেকেই আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিত কারও অনুরোধে না জেনে, না বুঝেই ঋণের জামিনদার (Guarantor) হয়ে যান। কিন্তু একটি স্বাক্ষরই ভবিষ্যতে আপনাকে বড় ধরনের আইনগত ও আর্থিক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
📖 বাংলাদেশের চুক্তি আইন, ১৮৭২ (The Contract Act, 1872)-এর ধারা ১২৬–১৪৭ অনুযায়ী জামিনদার সম্পর্কিত বিধান নির্ধারিত হয়েছে।
জেনে রাখুন—
✅ ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ব্যাংক বা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সরাসরি জামিনদারের কাছ থেকেও টাকা আদায় করতে পারে।
✅ ধারা ১২৮ অনুযায়ী, সাধারণভাবে জামিনদারের দায় ঋণগ্রহীতার দায়ের সমান (Co-extensive Liability)। অর্থাৎ, ঋণগ্রহীতার মতো আপনিও একই পরিমাণ দায় বহন করতে পারেন—যদি চুক্তিতে অন্য কিছু উল্লেখ না থাকে।
✅ এই দায়বদ্ধতা সাধারণত ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে।
✅ ধারা ১৩০ অনুযায়ী, ভবিষ্যতের জন্য দেওয়া গ্যারান্টি লিখিতভাবে প্রত্যাহার করা সম্ভব। তবে ইতোমধ্যে দেওয়া ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।
✅ যদি জামিনদার ঋণ পরিশোধ করেন, তাহলে ধারা ১৪৫ অনুযায়ী তিনি সেই অর্থ ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে আইনগতভাবে ফেরত দাবি করতে পারেন।
⚠️ মনে রাখবেন:
জামিনদার হওয়া শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর নয়; এটি একটি আইনগত অঙ্গীকার, যার আর্থিক দায় অনেক বড় হতে পারে।
তাই সম্পর্কের খাতিরে নয়, সব শর্ত ভালোভাবে বুঝে এবং প্রয়োজনে আইনগত পরামর্শ নিয়ে তবেই জামিনদার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিন।
💬 এই তথ্যটি আপনার পরিবার, বন্ধু বা পরিচিতদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সচেতনতা বাড়াতে পোস্টটি শেয়ার করুন।
✍🏻 কলমে: Urkishika Legal Aspirant 🔏