21/07/2026
বিয়ে পরবর্তী সময়ে স্ত্রীদের উচিত তাদের চাহিদা ও স্বার্থ বুঝে নেওয়া। চলার জন্য যা যা দরকার, তা চাইবে। যা দরকার তা পাওয়ার দাবি করবে। তবে অবশ্যই সেটা বিনয় ও সামর্থ্যের ভিতরে থেকে।
কিন্তু অনেক মেয়েরা এই জায়গায় এসে ভুল করে। তারা ভাবে, বিয়ের পর মেয়েদে চাওয়ার কিছু নাই। ভাবে, সবকিছু এখন স্বামী ও স্বামীর পরিবারের মর্জি মত চলবে। তারা যা দিবে, তা গ্রহণ করব। যদি কোন কিছু না-ও দেয়, চাওয়া যাবে না।
এটা একটা মারাত্মক ভুল। বিয়ে হওয়া মানে আপনার স্বাধীনতা হারিয়ে যাওয়া না। বিয়ে হওয়া মানে আপনার প্রয়োজন ও চাহিদা অন্যের হাতে তুলে দেওয়া না। মানুষের অনেক চাহিদা থাকে, অনেক প্রয়োজন থাকে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো দরকারি এবং উপকারী।
এ দরকারি জিনিসগুলো প্রয়োজনের সময় চেয়ে নেওয়া উচিত। চাহিদার কথা স্বামীকে বলা উচিত। বলা উচিত, আমার দুইটা জামা লাগবে। বলা উচিত, আমার এই কসমেটিকস লাগবে। বলা উচিত, একটু বিশ্রামের জন্য আমি আমার বাবার বাড়ি যেতে চাই। এই চাহিদার কথা তাকে বলার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করবেন। এমনভাবে বলবেন, যেন এটা বেয়াদবি না হয়ে যায়। আবার চাওয়ার ক্ষেত্রেও সীমালঙ্ঘন করা যাবে না। স্বামীর যতটুকু সামর্থ্য আছে, এর ভিতরেই চাইতে হবে।
কিন্তু আপনি যদি আপনার প্রয়োজনগুলো আপনার স্বামীর কাছে না বলেন। যদি আপনার মত প্রকাশ করতে না পারেন। যদি আপনার চাহিদাগুলো অপূর্ণ থেকে যায়। তাহলে এক সময়ে এসে আপনাকে ভুগতে হবে। এই ভোগান্তিটা হবে আভ্যন্তরীণ। মানে, আপনি নিজেই নিজেকে হারিয়ে বসবেন।
একজন বুদ্ধিমতী ও আদর্শ স্ত্রী জানে—নিজের ব্যক্তিগত চাহিদা থাকা মানে স্বার্থপর হওয়া নয়। নিজের মত প্রকাশ মানেই বিয়াদবি নয়। একটু সময় চাওয়া, মানসিক বিশ্রাম চাওয়া, নিজের পছন্দের কাজ করা, নিজের পছন্দের কথা জানানো—এগুলো খারাপ না, বরং স্বাভাবিক।
অনেক সময় দেখা যায়, স্ত্রী সারাদিন সবার প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে নিজের প্রয়োজনের কথায় ভুলে যায়। সে যে একটা মানুষ, তার যে বিশ্রাম দরকার, তার যে শখ আহ্লাদ আছে—এগুলো সে এক প্রকার ভুলেই যায়। এক পর্যায়ে এসে গভীর এক শূন্যতা অনুভব করে। নিজের উপর নিজেই অভিমানী হয়ে ওঠে। নিজেই নিজেকে ভর্ৎসনা করতে শুরু করে।
নিজের স্বার্থ বোঝা, চাহিদা ও প্রয়োজনের কথা জানানো খারাপ না। এগুলো মানুষের বেসিক নিড। এর মাধ্যমে নিজের পছন্দগুলোকে সম্মান জানানো হয়। নিজের চাওয়া ও চাহিদাকে মূল্যায়ন করা হয়।
আপনার লিখতে ভালো লাগে। সময় করে লিখতে চান। তাহলে সবকিছুর পাশাপাশি সময় বের করে লিখে যান। এটা ভেবে লেখা থেকে বিরত থাকবেন না—আমার এই লেখা অন্য কেউ অপছন্দ করে কি না।
আপনি পড়তে ভালোবাসেন, সময় করে অতিরিক্ত সময়টা পড়ার পেছনে ব্যয় করুন। জানুন ও সমৃদ্ধ হন। এটা ভেবে জানা ও পড়া থেকে বিরত থাকবেন না—এই বয়সে আমার পড়া ও জানাটা কারো জন্য অসুবিধার কি না।
মনে রাখবেন, এগুলো খারাপ গুণ নয়। এগুলো বিলাসিতাও নয়। এর মাধ্যমে আপনাকে সমাজে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা দেয়া হবে এমনটাও নয়। এগুলো আপনার মানসিক সুস্থতার অংশ। এর মাধ্যমে আপনি আপনাকে সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিতে পারবেন। নিজের ক্লান্ত মনটাকে প্রশান্তি দিতে পারবেন।
স্বামী যদি আপনার এই অবস্থা বুঝে, তাহলে ভালো। সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। আর যদি না বোঝে, বিনয়ের সাথে তাকে বোঝান। মনের কথা ব্যক্ত করেন। মন দিয়ে তাকে উপলব্ধি করতে বলেন।
যে নারী নিজের চাহিদা ও স্বার্থ বোঝে, সে কারও ওপর বোঝা হয়ে যায় না। বরং সে সম্পর্কের ভেতরে আরও প্রাণবন্ত হয়, আরও শান্ত হয়। তার কথায় ভারসাম্য থাকে, আচরণে থাকে ওয়াক়ার। আর এই ভারসাম্যই তার মূল্য বাড়িয়ে দেয়—নিজের চোখে, আর অন্যের চোখেও।
নিজেকে জানো। নিজের চাহিদাকে ছোট করে দেখো না। কারণ যে নারী নিজের প্রয়োজনকে সম্মান করতে শেখে, সে অন্যের প্রয়োজনকেও সুন্দরভাবে সম্মান করতে পারে।
এজন্য, স্ত্রীদেরকে অবশ্যই কমিউনিকেশনের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ ব্যাপারে তাদেরকে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো মুহূর্তে, স্বামীর সাথে কমিউনিকেশন টা স্বাভাবিক রাখতে হবে। যা বলার, তা পরিষ্কারভাবে খোলাখুলি বলবে। নিজের অনুভূতি, চাহিদা, সমস্যা—সব পরিষ্কারভাবে স্বামীকে বুঝিয়ে বলবে।
—আমিও হব আদর্শ স্ত্রী, পর্ব: ৮
লেখক: মাহমুদ বিন নূর