18/08/2026
👉আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬৩(৫) মূলত গ্রস প্রাপ্তির ওপর ন্যূনতম কর (Minimum Tax on Gross Receipts) আরোপ করে। বর্তমান বিধান অনুযায়ী, মুনাফা হোক বা ক্ষতি—নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতাকে গ্রস প্রাপ্তির ওপর নির্ধারিত হারে ন্যূনতম কর দিতে হয়।
📌আয়কর আইন, ২০২৩ এর
ধারা ১৬৩(৫)-এর মূল সমস্যা
বাংলাদেশের আয়কর ব্যবস্থার “ability-to-pay” বা করদাতার প্রকৃত কর-সক্ষমতার নীতির সঙ্গে একটি মৌলিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।
১. আয় নয়, মোট প্রাপ্তির ওপর কর নির্ধারণ করে। আয়কর সাধারণত নিট আয়/মুনাফার ওপর আরোপিত হওয়ার কথা। কিন্তু ১৬৩(৫)-এ করের ভিত্তি করা হয়েছে gross receipts। আইনে gross receipts-এর মধ্যে পণ্য বিক্রয় থেকে প্রাপ্তি, সেবা/সুবিধার fee বা charge এবং যেকোনো আয়খাতের প্রাপ্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উদাহরণ: একটি ব্যবসার—
Gross sales = ১০ কোটি টাকা
প্রকৃত net profit = ১০ লাখ টাকা
যদি তার ওপর প্রযোজ্য minimum tax ১% হয়, তাহলে gross receipt-এর ভিত্তিতে কর হবে:
১০ কোটি × ১% = ১০ লাখ টাকা।
অর্থাৎ ব্যবসার প্রকৃত লাভ মাত্র ১০ লাখ টাকা হলেও gross receipt-এর ভিত্তিতে ১০ লাখ টাকা minimum tax দিতে হবে। আর ব্যবসাটি ক্ষতিতে থাকলেও ১৬৩(৫)-এর মূলনীতিতে minimum tax প্রযোজ্য হবে।
২. “Income Tax” এবং “Turnover Tax”-এর মধ্যে বিভ্রান্তি ধারা ১৬৩(৫) এর সবচেয়ে শক্তিশালী সমালোচনা এখানেই। আয়কর হলো আয় বা taxable income-এর ওপর কর।
কিন্তু gross receipt-এর ওপর নির্দিষ্ট হারে কর আরোপ করলে সেটি turnover tax হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফলে প্রশ্ন ওঠে: করদাতার প্রকৃত taxable income না থাকলেও কীভাবে তাকে “income tax” হিসেবে turnover tax দিতে বাধ্য করা হচ্ছে? রাষ্ট্রের রাজস্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য যৌক্তিক; কিন্তু সেই উদ্দেশ্যে করদাতার প্রকৃত আয়কে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হলে income taxation-এর মৌলিক দর্শনের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে।
৩. ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসার ওপরও কর:
ধরা যাক একটি কোম্পানির:
Gross receipts = ৫০ কোটি টাকা, কিন্তু বিভিন্ন কারনে বছর শেষ এ হিসাব করে দেখা গেল Net loss = ২ কোটি টাকা। অর্থাৎ কোম্পানির কোনো taxable business profit নেই। তারপরও ১৬৩(৫)-এর কারণে gross receipt-এর ওপর minimum tax দিতে হবে ৫২ লাখ টাকা।
এটি বিশেষ করে— নতুন ব্যবসা,
startup, manufacturing industry,
low-margin business, আমদানি-নির্ভর ব্যবসা, অর্থনৈতিক মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান এর জন্য অত্যন্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
৪. Low-margin business-এর ক্ষেত্রে বৈষম্য একই ১০ কোটি টাকার turnover-এর দুইটি ব্যবসা বিবেচনা করুন:
ব্যবসা–A: লাভের margin ২০%
ব্যবসা–B: লাভের margin ১%
উভয়ের gross receipt ১০ কোটি টাকা হলেও তাদের প্রকৃত অর্থনৈতিক সক্ষমতা এক নয়। কিন্তু gross receipt ভিত্তিক minimum tax ব্যবস্থায় দুটির ওপর একই ভিত্তিতে কর আরোপিত হতে পারে।
এ কারণে profitability neutral taxation-এর সমস্যা দেখা দেয়।
৫. কর-পরিশোধের সক্ষমতার নীতির সঙ্গে প্রশ্ন আধুনিক taxation এর একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো ability to pay—যার আয়/সামর্থ্য বেশি, তার করদায়ও সেই অনুযায়ী বেশি হওয়া উচিত। কিন্তু ১৬৩(৫)-এ gross receipt অনেক সময় প্রকৃত অর্থনৈতিক সক্ষমতার যথাযথ প্রতিফলন করে না। বিশেষ করে wholesale, trading, distribution বা low-margin business-এ: High turnover ≠ High profit. অতএব turnover বেশি হলেই করদাতার প্রকৃত কর-সক্ষমতা বেশি—এমন ধারণা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়।
📌সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি সমালোচনা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ distinction করা প্রয়োজন।
📃বিশেষ করে আলোচনায় আসতে পারে—
আইনানুযায়ী কর আরোপের ক্ষেত্রে reasonable classification এবং করদাতার প্রকৃত অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে করের সম্পর্ক। এই ধারা অনুযায়ী শুধু “ক্ষতি হলেও tax দিতে হচ্ছে” ফলে এই বিধানটি সকল শ্রেণির ওপর অযৌক্তিক/বৈষম্যমূলক burden সৃষ্টি করছে।
৬. আমার মতে এই ধারাটি সংশোধন করা উচিত ধারা ১৬৩(৫) সম্পূর্ণ বাতিল না করে restructure করা অধিক যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।
🚨প্রস্তাবিত সংস্কার
১. Loss-making taxpayer-এর জন্য relief, যদি audited accounts অনুযায়ী genuine business loss থাকে, তাহলে minimum tax স্থগিত/কমিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
২. Low-margin sector-এর জন্য পৃথক হার Trading, manufacturing, service, distribution ইত্যাদি খাতের প্রকৃত profit margin বিবেচনায় পৃথক minimum tax rate নির্ধারণ করা উচিত।
৩. Carry-forward mechanism
আজকের minimum tax যদি প্রকৃত tax liability-এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে অতিরিক্ত অংশ পরবর্তী কয়েক বছরের income tax-এর সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ আরও কার্যকর করা যেতে পারে।
৪. নতুন উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা
Startup এবং নতুন ব্যবসার প্রথম কয়েক বছর minimum tax-এর ক্ষেত্রে বিশেষ exemption বা reduced rate দেওয়া যেতে পারে।
৫. Genuine business loss-এর ক্ষেত্রে statutory safeguard
Tax authority যেন শুধু gross receipt দেখে minimum tax আরোপ না করে, বরং audited accounts ও business circumstances বিবেচনা করতে পারে—এমন একটি স্পষ্ট statutory mechanism থাকা উচিত।
ধারা ১৬৩(৫)-এর উদ্দেশ্য রাজস্ব সুরক্ষা এবং tax avoidance প্রতিরোধ হলেও এর মূল দুর্বলতা হলো—এটি অনেক ক্ষেত্রে করদাতার প্রকৃত “income” বা “profit”-এর পরিবর্তে “gross receipt”-কে করের ভিত্তি করে। ফলে প্রকৃত লাভ কম, এমনকি ব্যবসায়িক ক্ষতি থাকলেও minimum tax liability সৃষ্টি হতে পারে।
তাই বলা যায়:
“ধারা ১৬৩(৫) রাজস্ব আদায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে কার্যকর হলেও ন্যায়সঙ্গত আয়কর ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি পুনর্মূল্যায়নযোগ্য; বিশেষ করে ability-to-pay, proportionality, equality এবং low-margin/loss-making business-এর ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বিধানটির সংস্কার প্রয়োজন।”
এডভোকেট আফসানা নুসরাত মীম
সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড ফাউন্ডেশন।