Academy for Law & Islamic Banking -ALIB, Bangladesh

Academy for Law & Islamic Banking -ALIB, Bangladesh Law and Banking

24/07/2026
বিচারকের কটূক্তি মুছে দিয়ে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ: 'বিচারক-উকিল সমান, কেউ বড় নয়।Protection of Women from Dome...
11/07/2026

বিচারকের কটূক্তি মুছে দিয়ে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ: 'বিচারক-উকিল সমান, কেউ বড় নয়।

Protection of Women from Domestic Violence এর মামলায় আদালত স্থানান্তরের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়া বিচারিক অঙ্গনে নতুন কিছু নয়। কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায় (CRM(M) No. 94/2022) সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে আইনি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেল। নিম্ন আদালতের একজন বিচারক আইনজীবীদের বিরুদ্ধে যে সাধারণীকৃত বা ঢালাও কটূক্তি করেছিলেন, মহামান্য হাইকোর্ট তা কেবল বাতিলই করেননি, বরং বার ও বেঞ্চের পারস্পরিক সম্পর্ক ও মর্যাদা নিয়ে এক ঐতিহাসিক বার্তা দিয়েছেন। হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি সঞ্জয় ধর তাঁর রায়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন—বিচারক এবং আইনজীবী হলেন ন্যায়ের রথের দুই চাকা, কেউ কারও চেয়ে বড় বা ছোট নন।

মামলার পটভূমি: একতরফা আদেশ ও বেঞ্চ-বার সংঘাত:

মামলাটির সূত্রপাত শ্রীনগরের একটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। শফিকা ভাট নামের এক নারী তাঁর স্বামী লতিফ আহমদ রাদার ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে Protection of Women from Domestic Violence Act, 2005-এর Section 12-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করেন। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

উক্ত মামলায় ট্রায়াল কোর্ট ০৮.১১.২০২১ তারিখে আবেদনকারীদের অনুপস্থিতিতে একটি একতরফা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ (Ex-parte Order) প্রদান করে। আবেদনকারীরা সেই আদেশ সংশোধন (Modification) বা বাতিলের (Vacation) জন্য আবেদন করলেও ট্রায়াল ম্যাজিস্ট্রেট তা দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখেন। এর মাঝে শুনানির সময় আদালত কক্ষেই বিচারক ও আইনজীবীর মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয় এবং বিচারকের কিছু মন্তব্য আইনজীবীদের ক্ষুব্ধ করে।

নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত এবং বিতর্কিত মন্তব্য:
ক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারীরা শ্রীনগরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM)-এর কাছে মামলাটি অন্য কোনো আদালতে স্থানান্তরের আবেদন (Transfer Application) জানান। ০৯.০৩.২০২২ তারিখে CJM সাহেব স্থানান্তর আবেদনটি খারিজ করে দেন। আবেদন খারিজের সিদ্ধান্তটি আইনগতভাবে সঠিক হলেও, আদেশে তিনি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি লেখেন—আইনজীবীরা প্রায়শই নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধার্থে বিচারকদের বিরুদ্ধে অহেতুক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন। এই ঢালাও মন্তব্যটির বিরুদ্ধেই সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

হাইকোর্টের দ্বৈত সিদ্ধান্ত: আইনের শাসন ও পেশাগত মর্যাদার ভারসাম্য

হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় ধর মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে একটি যুগান্তকারী রায় দেন, যা মূলত দুটি অংশে বিভক্ত:

প্রথম অংশ হলো ট্রান্সফার আবেদন খারিজের সিদ্ধান্ত। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানান, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তটি আইনগতভাবে সঠিক ছিল। কোনো বিচারক আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব করছেন—কেবল এই কারণে মামলা স্থানান্তর করা যায় না। এটি প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি (Principles of Natural Justice)-এর পরিপন্থী নয়, বরং সাধারণ বিচারিক বিলম্বকে ট্রান্সফারের কারণ করা যায় না। এজলাসে বিচারক ও আইনজীবীর মধ্যে কোনো কারণে উত্তপ্ত কথোপকথন বা ভুল বোঝাবুঝি হলেও তা মামলা বদলের সুনির্দিষ্ট বা যৌক্তিক কারণ (Cogent Ground) হতে পারে না। আদালত স্থানান্তরের জন্য পক্ষপাতিত্বের আসন্ন আশঙ্কা (Apprehension of Bias) বা ন্যায়বিচার লঙ্ঘনের প্রকৃত সম্ভাবনা প্রমাণ করতে হয়, যা আবেদনকারীরা করতে পারেননি। তাই হাইকোর্ট ট্রান্সফার আবেদন খারিজের সিদ্ধান্তটি বহাল রাখেন।

দ্বিতীয় অংশ হলো আইনজীবীদের মর্যাদা রক্ষা ও মন্তব্য প্রত্যাহারের নির্দেশ:
CJM-এর ঢালাও মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিচারপতি সঞ্জয় ধর বলেন, এই ধরণের সুইপিং রিমার্ক (Sweeping Remarks) বা সাধারণীকরণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং অপ্রয়োজনীয় ছিল। রায়ে বিচারক বলেন—আইনজীবীরা কোনো বহিরাগত নন, তাঁরা আদালতের কর্মকর্তা (Officers of the Court) এবং বিচারকদের মতোই সমান সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করেন "Bench and Bar are two wheels of the chariot of justice. Both are equal and no one is superior to the other." প্রতি পেশার ন্যায় আইন পেশাতেও কিছু খারাপ আপেল (Rotten Apples) থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য সামগ্রিকভাবে পুরো বার বা আইনজীবী সমাজকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সঠিক নয় এবং এটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। হাইকোর্ট অবিলম্বে CJM-এর আদেশ থেকে আইনজীবীদের প্রতি করা সেই আপত্তিকর মন্তব্যটি চিরতরে মুছে ফেলার (Expunging the Remarks) নির্দেশ দেন এবং বলেন, এটি যেন আদেশের অংশ হিসেবে বিবেচিত না হয়।

দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণে কঠোর নির্দেশনা:
আইনজীবীদের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের অধিকারের কথাও ভোলেননি হাইকোর্ট। ট্রান্সফার আবেদন খারিজ করলেও ট্রায়াল কোর্টের বিচারককে (২য় অতিরিক্ত মুনসিফ, শ্রীনগর) কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন—আদেশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনকারীদের ঝুলে থাকা সংশোধনের আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে হবে। এটি দ্রুত বিচারের অধিকার (Right to Speedy Trial)-এর নীতির প্রতিফলন।

আইনি বিশ্লেষণ ও প্রাসঙ্গিক নীতি:
এই রায়ে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা ট্রান্সফারের প্রধান শর্ত, যা আবেদনকারীরা কেবল ধীরগতির কারণে প্রমাণ করতে পারেননি। উকিলদের আদালতের কর্মকর্তা হিসেবে মর্যাদা বিচারকদের সমকক্ষ—এই নীতি পুনরায় শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিচারিক শিষ্টাচার (Judicial Restraint and Etiquette) অনুযায়ী বিচারকদের উচিত রায়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা সাধারণীকৃত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা। এছাড়াও, আদালতের অপ্রাসঙ্গিক বা আপত্তিকর মন্তব্য মুছে ফেলার (Inherent Power to Expunge) এখতিয়ার উচ্চ আদালতের রয়েছে, যা তিনি এখানে সফলভাবে প্রয়োগ করেছেন।

রায়ের মূল নির্যাস:
মামলা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিলম্ব বা তপ্ত বাক্যবিনিময় যথেষ্ট নয়; বাস্তবিক ও বস্তুনিষ্ঠ পক্ষপাতিত্ব প্রমাণ করতে হবে। বিচারক ও উকিলের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার; কেউ কারও অধীনস্থ বা ছোট নয়। রায়ে কোনো পেশা বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঢালাও নেতিবাচক মন্তব্য করা বিচারিক নীতিমালার পরিপন্থী। উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকারকে সমুন্নত করে।

10/07/2026

বৃষ্টিবিলাস ও বকেয়া আদায়ের খতিয়ান: একজন ক্রেডিট অফিসারের শুক্রবার

​জানালার কাচে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ শুনলে যেকোনো সাধারণ মানুষের মনে হয়তো কবিত্ব জেগে ওঠে। মনে হয়, এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা হাতে নিয়ে জানালার পাশে বসে রবীন্দ্রনাথের কোনো গান শোনা যাক। কিন্তু আমি যখন জানালার গ্রিল ধরে বাইরের অবিশ্রান্ত বর্ষণ দেখি, আমার মনে তখন মেঘের চেয়েও ঘন হয়ে ঘনিয়ে আসে অন্য এক চিন্তা—"রিকভারি" (Recovery) বা বকেয়া ঋণ আদায়!

​আমি একজন ব্যাংকার, আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে—ক্রেডিট অফিসার। সাধারণ মানুষের কাছে শুক্রবার মানে সপ্তাহান্তের অনাবিল ছুটি, আর আমার কাছে শুক্রবার মানে নতুন স্ট্র্যাটেজি সাজানোর দিন, যাতে আগামী রোববার থেকে খেলাপি গ্রাহকদের পেছনে আরও জোরালো তাগাদা দেওয়া যায়।

​১. জানালার ওপাশে বৃষ্টি, এপাশে রিকভারির খাতা
​আজ শুক্রবার। সকাল থেকেই আকাশটা মেঘলা ছিল, বেলা বাড়তেই ঝুম বৃষ্টি নামল। চায়ের কাপে প্রথম চুমুকটা দিতেই মুঠোফোনটা কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল অফিসের এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট হেড স্যার এর নাম। ছুটির দিনেও ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল চেনা কণ্ঠস্বর:
​" স্যারের নরম সুরে আদর মাখা কন্ঠে, রাশেদ কেমন আছেন, আপনাদের শাখার প্রস্তাবিত পুনঃ তফসিল গ্রাহকদের পেন্ডিং ডকূমেন্ট গুলো তাড়াতাড়ি দিয়ে দিয়েন, যাতে দ্রুত পুনঃ তফসিল কার্যকর করা যায়।"

​চায়ের কাপটা টেবিলে নামিয়ে রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। বৃষ্টিবিলাস নিমেষেই কর্পূরের মতো উড়ে গেল। চোখের সামনে ভেসে উঠল এক বিশাল এক্সেল শিট—যেখানে লাল রঙে চিহ্নিত হয়ে আছে ক্লাসিফাইড ইনভেস্টমেন্ট (Classified Loan) আর সাব-স্ট্যান্ডার্ড (Sub-standard) অ্যাকাউন্টগুলো।

​২. বৃষ্টির সুর বনাম ওভারডিউ গ্রাহকের বাহানাঃ

​বৃষ্টির জল যেমন একটানা ঝরে পড়ে, ক্রেডিট অফিসারের কানে খেলাপি গ্রাহকদের অজুহাতও ঠিক তেমনি অবিরাম ধারায় বর্ষিত হতে থাকে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটার সাথে যেন আমি গ্রাহকদের চেনা চেনা বাহানাগুলো মেলাতে পারি।

​​বৃষ্টির কারণে আজ হয়তো অনেক গ্রাহকই বাড়িতে থাকবেন, ফোনে সহজেই পাওয়া যাবে—এই ভেবে ছুটির দিনেও খাতা-কলম আর ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়তে হয়। বৃষ্টির রিদমিক শব্দের ব্যাকগ্রাউন্ডে আমি মনে মনে ড্রাফট করতে থাকি পরের সপ্তাহের "ডিমান্ড নোটিশ" কিংবা "রিকল নোটিশ"।

​৩. রিকভারি ও বৃষ্টির এক অদ্ভুত সমীকরণঃ

​আসলে বৃষ্টি এবং ব্যাংকের রিকভারির মধ্যে একটা গভীর মিল আছে। প্রচণ্ড খরা কাটাতে যেমন এক পশলা বৃষ্টির প্রয়োজন হয়, তেমনি ব্যাংকের তারল্য সংকট কিংবা ক্লাসিফিকেশনের খরা কাটাতে আমাদের দরকার হয় কাঙ্ক্ষিত বকেয়া আদায় বা রিকভারি।

৪. দিনের শেষভাগ: মেঘ কাটার অপেক্ষায়
​বিকেলের দিকে বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমে এসেছে। আকাশ জুড়ে একটা হালকা ধূসর আভা। চায়ের কাপটা নিয়ে আবার জানালার পাশে এসে দাঁড়ালাম। বৃষ্টি হয়তো একসময় থেমে যাবে, কিন্তু একজন ক্রেডিট অফিসারের এই রিকভারির যুদ্ধ কখনো থামে না।
​আজকের এই ছুটির দিনেও মনের ভেতরের ব্যাংকার সত্তাটা ফিসফিস করে বলছে—নরম মাটিতে যেমন গাছ দ্রুত শিকড় চালায়, তেমনি এই বৃষ্টির দিনেও যদি কোনো গ্রাহকের মন একটু নরম হতো, আর বকেয়া কিস্তিটা শোধ করে দিত!

​সবশেষে, একজন ব্যাংকারের বৃষ্টিবিলাস মানে শুধু বৃষ্টি উপভোগ করা নয়; বরং প্রকৃতির এই শীতলতায় নিজের ক্লান্ত মনটাকে রিচার্জ করে নেওয়া, যাতে আগামী রোববার থেকে আবার নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়া যায়—খেলাপি ঋণ আদায়ের সেই চিরচেনা যুদ্ধক্ষেত্রে।

06/06/2026

নেইমার

05/06/2026

ব্রাজিল

02/06/2026

বাংলার কাশ্মীর ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর ।

02/06/2026

এক জন আইনজীবী অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির হলেন। বিচারক একজন দায়রা জজ। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আইনজীবীর মনে হলো, তদন্তে এমন কোনো উপাদান নেই যা দিয়ে অভিযোগ গঠন করা যায়। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন অব্যাহতির আবেদন করবেন।

কিন্তু তখনই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এলো।

যেহেতু বিচারক দায়রা জজ, তাহলে কি অব্যাহতির আবেদন দায়রা মামলার বিধান অনুযায়ী হবে?
নাকি অন্য কোনো ধারা প্রযোজ্য হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমে দেখতে হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোন পদ্ধতিতে বিচার পরিচালনা করে।

প্রথম ধাপ: Special Powers Act কী বলছে?
The Special Powers Act, 1974-এর Section 27(4) স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেয়:

“A Special Tribunal trying an offence under this Act shall try such offence summarily and in trying such offence such Special Tribunal shall follow the procedure laid down in the Code for summary trial of summons cases.”

অর্থাৎ, বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে মামলার বিচার করতে হবে summary trial পদ্ধতিতে এবং সেই ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্ণিত summons case-এর summary trial-এর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আইন বিচারকের পদমর্যাদাকে গুরুত্ব দেয়নি; বরং বিচারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ: Summary Trial-এর পদ্ধতি কোথায়?

এবার আসতে হবে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 262-এ।

Section 262 অনুযায়ী:
“In trials under this Chapter, the procedure prescribed in Chapter XX shall be followed…”
অর্থাৎ, summary trial পরিচালনার ক্ষেত্রে Chapter XX-এর বিধান অনুসরণ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: Chapter XX-এ কী আছে?
Criminal Procedure Code-এর Chapter XX গঠিত হয়েছে Section 241 থেকে Section 250 পর্যন্ত ধারাসমূহ নিয়ে।

এই অধ্যায়েই রয়েছে Section 241A, যা আদালতকে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে, যদি অভিযোগ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকে।

আইনের যৌক্তিক ফলাফল যেহেতু—

১. Special Powers Act-এর Section 27(4) summary trial বাধ্যতামূলক করেছে;

২. CrPC-এর Section 262 summary trial-এর জন্য Chapter XX অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে;

৩. Chapter XX-এর অন্তর্ভুক্ত Section 241A অব্যাহতির বিধান প্রদান করেছে;

সেহেতু অস্ত্র মামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হোক, বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট হোন বা দায়রা জজ হোন, অব্যাহতির আবেদন দাখিল করতে হবে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 241A অনুযায়ী। উদাহরণ স্বরূপ দেখা যায় :

১. H.M. Ershad Vs. The State (45 DLR 534)
এই বিখ্যাত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, মামলাটি যখন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়, তখন চার্জ গঠনের বা অব্যাহতির ক্ষেত্রে সমন মামলার অধ্যায় অর্থাৎ Section 241A-এর পদ্ধতিই অনুসরণযোগ্য। বিচারকের পদমর্যাদা উচ্চতর হলেও বিশেষ আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে সাধারণ দায়রা পদ্ধতির (Section 265C) প্রয়োগ এখানে বার (Barred) বা রহিত হয়ে যায়।

২. Md. Sirajul Islam and others Vs. The State (2005 / 22 BLC (AD) 141) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সমগোত্রীয় অন্যান্য বিশেষ আদালতের বিচার কার্যপদ্ধতি নিয়ে আপিল বিভাগের এই মামলাটিতে এটি প্রতিফলিত হয়েছে যে— যেখানে বিশেষ বিধান বা সংক্ষিপ্ত বিচারপতির নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে, সেখানে চার্জ শুনানির দিনে আসামিরা Section 241A CrPC-এর অধীনেই অব্যাহতির আবেদন দাখিল করবেন।

ফৌজদারি রিভিশন এখতিয়ারের অসংখ্য নজিরে (যেমন- AKMM Saleh vs State 45 DLR 386) দেখা যায়, যখনই কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের চার্জ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ৫৬১এ (561A) ধারায় কোয়াশমেন্ট (Quashing) বা রিভিশন করা হয়, তখন উচ্চ আদালত দেখেন যে নিম্ন আদালতে ২৪১এ (241A) ধারার সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে কিনা।

অনেক সময় আদালতের বিচারকের পদবী দেখে আইনজীবীরা বিভ্রান্ত হন। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আদালতের নাম নয়, বরং আইন দ্বারা নির্ধারিত বিচার-পদ্ধতি।

অস্ত্র মামলায় Special Tribunal যখন summary procedure অনুসরণ করে বিচার পরিচালনা করে, তখন অব্যাহতির প্রশ্নেও সেই একই পদ্ধতির অংশ হিসেবে CrPC-এর Section 241A-ই প্রযোজ্য হবে।

অতএব, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দায়রা আদালত হিসেবে গঠিত হলেও অস্ত্র মামলায় অব্যাহতির দরখাস্ত The Code of Criminal Procedure, 1898-এর 241A ধারার অধীনেই দাখিল করতে হবে।.

02/06/2026

মায়ের ম'রদেহ ৭ দিন ধরে একা ফ্ল্যাটে পড়ে ছিল।
নিঃসঙ্গতায় একা মারা গেলেন। মৃত্যুর পরও সাত দিন কেউ তাঁর খোঁজ নিল না। লাশ পঁচে গলে গেছে, পোকায় খেয়েছে। আজকের ঘটনা,মিরপুরের।

তাঁর এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। মেয়ে ও জামাতাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

তবুও ঈদের আনন্দের দিনগুলোতে কেউ একবার ফোন করেনি, কেউ খোঁজ নেয়নি।

উনার বাসার অবস্থা দেখলে মনে হয় দীর্ঘদিন অবহেলায় ছিলেন। কতদিন ঠিকমতো খেতে পারেননি, কত রোগ-শোক আর কষ্ট বুকে নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন—তা কল্পনা করতেও কষ্ট হয়।
অথচ এই মা-ই ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ করেছিলেন সন্তানদের। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে মমতা আর ত্যাগে তাদের লালন-পালন করেছেন। শিক্ষিত করেছেন, প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সমাজে সম্মানিত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন।

কিন্তু শেষ বয়সে তাঁর প্রাপ্য হলো নিঃসঙ্গতা, অবহেলা আর একাকী মৃত্যু।
কী নির্মম পরিণতি!
কেউ শেষবারের মতো কোন সন্তানকে পাশে পেলেন না।

তাঁদের নীরব কান্না আমরা অনেক সময় শুনতে পাই না।
আজ যাদের মা-বাবা বেঁচে আছেন, একবার ফোন করুন। তাঁদের গলার স্বর শুনুন। একটু সময় দিন। পাশে বসুন। খোঁজ নিন তাঁরা কেমন আছেন।

আজ আমরা ব্যস্ত, কাল হয়তো আমাদের সন্তানেরাও ব্যস্ত থাকবে।তখন যেন আমাদেরও একই পরিণতি না হয়।
মা-বাবাকে ভুলে যাবেন না। তাঁরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ, সবচেয়ে বড় ঋণ।
যাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন, তাঁদের খোঁজ নিন, সেবা করুন, সম্মান করুন।

আজ আপনি যা করবেন, আগামী প্রজন্মও সেটাই শিখবে।

Dr. Aminul Islam

Address

Dhanmondi
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Academy for Law & Islamic Banking -ALIB, Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Academy for Law & Islamic Banking -ALIB, Bangladesh:

Shortcuts

Share