04/03/2020
হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার।
হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারের ব্যাপারে দুইটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। (১) মিতাক্ষরা পদ্ধতি (২) দায়ভাগ পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মনিপুর ও আসামে প্রচলিত। ভারতের বাদবাকী অঞ্চলে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রচলিত। মনু তাহার গ্রন্থে স্পষ্ট বলিয়াছেন, রক্ত সম্পর্কীয় নিকটতর ব্যক্তিই হইবো মৃতের যোগ্য উত্তরাধিকারী। দায়ভাগ মতে সপিন্ড মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্য। দায়ভাগ প্রনেতা জীমুতবাহনের মতে মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যাহারা শাস্ত্র মতে পিন্ড দানের অধিকারী তাহারাই মৃত ব্যক্তির সপিন্ড। হিন্দুদের কেহ মারা গেলে শ্রাদ্ধ করিতে হয়। শ্রাদ্ধের সময় মৃত ব্যক্তিসহ পিতৃকুলে উর্দ্ধতন তিনপুরুষ এবং মাতৃকুলের উর্দ্ধতন তিনপুরুষের আত্মাদের আহবান করা হয় এবং তাহাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়, এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করিবার নামই শ্রাদ্ধ। দায়ভাগ মতে উত্তরাধিকার তিন প্রকারের। যথা- সপিন্ড, সকুল্য, এবং সমানোদক।
(১) সপিন্ড: সাধারণভাবে পিন্ডদানের অধিকারীই সপিন্ড। বিজ্ঞানেশ্বর মনে করেন,পিন্ডের অর্থ শরীর এবং মৃত ব্যক্তির শরীরের সহিত যাহারা সম্পর্কযুক্ত তাহারাই মৃত ব্যক্তির সপিন্ড এবং তাহারাই মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী হইবে। পুত্র পিতার ঔরসজাত এবং মাতার গর্ভজাত, তাই সে পিতামাতার সপিন্ড। কোন ব্যক্তি তাহার পিতৃকুল এবং মাতৃকুলের তিনপুরুষকে অর্থাৎ পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ এবং মাতা, মাতামহী, প্রমাতামহীকে পিন্ডদান করিতে পারে, তাই সে ব্যক্তি তাহাদের প্রত্যেকের সপিন্ড। ৫ জন মহিলা সপিন্ড হিসাবে গন্য। তাহারা হইল বিধবা, কন্যা, মাতা, মাতামহী, প্রমাতামহী। এই ৫ জন মহিলাসহ মোট সপিন্ডের সংখ্যা ৫৩ জন। কোন পুরুষ যখন উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পায়, তাহা সে মহিলা অথবা পুরুষ যাহার নিকট হইতেই হউক না কেন, সে ঐ সম্পত্তি সম্পূর্ণ স্বত্বে পায়। পক্ষান্তরে কোন মহিলা যখন উত্তরাধিকারসূত্রে কোন সম্পত্তি পায়, তাহা সে মহিলা অথবা পুরুষ যাহার নিকট হইতেই হউক না কেন, সে ঐ সম্পত্তি সীমিত অর্থাৎ জীবন স্বত্বে পায়। তদাবস্থায় মহিলা ঐ সম্পত্তি জীবিতকাল পর্যন্ত ভোগ দখলের অধিকারী হয় এবং তাহার মৃত্যুর পর ঐ সম্পত্তি সে যাহার নিকট হইতে পাইয়াছিল তাহার নিকটবর্তী সপিন্ড নিকট চলিয়া যায়। এই রকম নিকটবর্তী সপিন্ডদের বলা হয় ভাবী উত্তরাধিকারী।
(২) সকুল্য: পিন্ডলেপ যাহারা দান করিতে পারে তাদের সকুল্য বলা হয়। পিন্ডলেপ দানকারী এবং পিন্ডলেপ গ্রহনকারী উভয় উভয়ের সকুল্য। প্রপিতামহের উর্দ্ধতন তিনপুরুষ সকুল্য নামে অভিহিত। শ্রাদ্ধের সময় সপিন্ডদের পিন্ডদানের পর যাহা অবশিষ্ট থাকে সেই পিন্ডলেপ সকুল্যদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়।
(৩) সমানোদক: সকুল্যের উর্দ্ধতন সাত পুরুষ সমানোদক নামে অভিহিত। শ্রাদ্ধের সময় তাহাদের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র জল নিবেদন করা হয়। সংস্কৃতে উদক শব্দের অর্থ জল।
উত্তরাধিকারীত্বে সপিন্ডদের দাবী অগ্রগণ্য। তাহারা প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারী। সকুল্য দ্বিতীয় এবং সমানোদক তৃতীয় শ্রেণীর উত্তরাধিকারী হিসাবে গন্য। সপিন্ড থাকিলে সকুল্য শ্রেণীর ব্যক্তিগণ উত্তরাধিকার পাইবে না। সপিন্ড না থাকিলেই শুধু সকুল্য শ্রেণীর উত্তরাধিকারীগণ উত্তরাধিকার লাভ করিবে।অনুরুপভাবে সপিন্ড এবং সকুল্য শ্রেণীর উত্তরাধিকারী না থাকিলেই কেবল সমানোদক শ্রেণীর ব্যক্তিগণ উত্তরাধিকার পাইবে। সাধারণত: সপিন্ড শ্রেণীর ৫৩ জন ব্যক্তিগণ থাকে বিধায় সকুল্য এবং সমানোদক শ্রেণীর ব্যক্তিগণের উত্তরাধিকার প্রাপ্তির বিষয়টি সম্ভবপর হয় না।
দায়ভাগ উত্তরাধিকারের ক্রম:
(ক) সপিন্ড:
১-৩: পুত্র, পৌত্র, এবং প্রপৌত্র
৪: বিধবা স্ত্রী
৫: কন্যা
৬: কন্যার পুত্র
৭: পিতা
৮: মাতা
৯: ভাই
(i) সহোদর ভাই
(ii) বৈমাত্রেয় ভাই
১০: ভাইয়ের ছেলে
(i) সহোদর ভাইয়ের ছেলে
(ii) বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে
১১: ভ্রাষ্তপুত্রের ছেলে
(i) সহোদর ভাইয়ের ছেলের ছেলে
(ii) বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলের ছেলে
১২: বোনের ছেলে
১৩: পিতামহ
১৪। পিতামহী
১৫। খুড়ো, জেঠা
১৬। খুড়ো বা জেঠার ছেলে
১৭। খুড়ো বা জেঠার ছেলের ছেলে
১৮। পিতার বোনের ছেলে
১৯। প্রপিতামহ
২০। প্রপিতামহী
২১। পিতামহের ভাই
২২। পিতামহের ভাইয়ের ছেলে
২৩।পিতামহের ভাইয়ের ছেলের ছেলে
২৪। পিতামহের বোনের ছেলে
২৫। পুত্রের কন্যার ছেলে
২৬। পুত্রের পুত্রের কন্যার ছেলে
২৭। ভাইয়ের কন্যার পুত্র
২৮। ভাইয়ের ছেলের কন্যার ছেলে
২৯। খুড়ো বা জেঠার কন্যার ছেলে
৩০। খুড়ো বা জেঠার ছেলের কন্যার ছেলে
৩১। পিতার খুড়ো বা জেঠার কন্যার ছেলে
৩২। পিতার খুড়ো বা জেঠার ছেলের কন্যার ছেলে
৩৩। মাতামহ
৩৪। মাতার ভাই (মামা)
৩৫। মাতার ভাইয়ের পুত্র (মামার পুত্র)
৩৬। মাতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র (মামার পুত্রের পুত্র)
৩৭। মাতার বোনের পুত্র (মাসির পুত্র)
৩৮। মাতার পিতার পিতা
৩৯। মাতার পিতার ভাই
৪০। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্র
৪১। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
৪২। মাতার পিতার বোনের পুত্রের পুত্র
৪৩। মাতার পিতার পিতার পিতা
৪৪। মাতার পিতার পিতার ভাই।
৪৫। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র
৪৬। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
৪৭। মাতার পিতার পিতার বোনের পুত্র
৪৮। মাতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র
৪৯। মাতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র
৫০। মাতার পিতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র
৫১। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র
৫২। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র
৫৩। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র
ব্যাখা: পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র: তাহারা স্থলবর্তী নিয়ম অনুসারে সর্বাগ্রে এবং একই সঙ্গে উত্তরাধিকারিত্বের দাবিদার। সকল মতপন্হীদের মতেই ব্রাক্ষন, ক্ষত্রীয় এবং বৈশ্য পিতার অবৈধ সন্তান অর্থাৎ রক্ষিতার সন্তান কোন উত্তরাধিকারত্ব দাবি করিতে পারে না। তবে সেই সব অবৈধ অবৈধ সন্তান পিতার ত্যাজ্যবিত্ত হইতে ভরণপোষণ রাওতার অধিকারী। শূদ্রের বেলায় দাসী অথবা রক্ষিতার অবৈধ পুত্র বৈধ পুত্রের চারের এক ভাগ পাওয়ার অধিকারী। অর্থাৎ অবৈধ পুত্র বৈধ হইলে যে অংশ পাইত তাহার অর্ধেক পাইবে।
বিধবা: ১৯৩৭ সালে সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার সংক্রান্ত আইন পাশ হওয়ার পর হইতে বিধবা বা একের অধিক বিধবা হইলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান অংশ জীবন স্বত্বে পাইবে। মৃতকের পুত্র, পৌত্র, এবং প্রপৌত্র না থাকিলে স্বামীর সাকুল্য ত্যাজাবিত্তে বিধবার জীবন স্বত্ব হইবে।
কন্যা: কন্যাদের মধ্যে অবিবাহিতা কন্যার দাবী প্রথম। পরে পুত্রবতী বা পুত্র সম্ভবা কন্যাদের দাবী। বন্ধ্যা কন্যা, পুত্র সন্তানহীনা বিধবা কন্যা এবং যেসব কন্যাদের কেবলমাত্র কন্যা সন্তান আছে তাহারা উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হইবে।
দৌহিত্র: মৃতকের দৌহিত্রের সংখ্যা ভিত্তিক মাথাপিছু সমান হারে সম্পত্তি বন্টিত হইবে। মৃতকের তিনটি কন্যা থাকিলে এবং ঐ তিনটি কন্যার মধ্যে প্রথম কন্যার গর্ভজাত দুই পুত্র, দ্বিতীয় কন্যার গর্ভজাত তিন পুত্র এবং তৃতীয় কন্যার গর্ভজাত এক পুত্র থাকিলে মৃতকের সম্পত্তি ৬ ভাগে ভাগ হইয়া প্রত্যেক দৌহিত্র ছয় ভাগের এক ভাগ অংশ হারে পাইবে। উল্লেখ্য যে মৃতকের এক পুত্র এবং পূর্ব মৃত পুত্রের দুই পুত্র অর্থাৎ মৃতকের এক পুত্র এবং দুই পৌত্র থাকিলে মৃতকের সম্পত্তির মধ্যে পুত্র দুই ভাগের এক ভাগ এবং ঐ দুই পৌত্র একত্রে দুই ভাগের এক ভাগ পাবে।
(খ) সকুল্য: উপরোক্ত সপিন্ডদের অবর্তমানে সকুল্যগণ সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করেন।
(গ) সমানোদক: সকুল্য পর্যায়ে কেহ না থাকিলে সমানোদকগণ সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করেন।
(ঘ) উপরোক্ত সকল শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের কেহ অর্থাৎ সপিন্ড, সকুল্য বা সমানোদক না থাকিলে সম্পত্তির উত্তরাধিকার বর্তায়-
(i) ধর্মগুরু, (ii) শিষ্য, (iii) সতীর্থ এর উপর।
(ঙ) উপরোক্ত পর্যায়ের কেহ না থাকিলে উত্তরাধিকার বর্তাইবে একই গ্রামে বসবাসকারী- (i) সগোত্রীয় ব্যক্তিদের উপর, (ii) সমান প্রবরভূক্ত ব্যক্তিদের উপর, ইহাদের কেহ না থাকিলে (iii) গ্রামের ব্রাক্ষনের উপর।
উপরোক্ত সকল শ্রেণীর ব্যক্তির অবর্তমানে মৃতের সম্পত্তি চলিয়া যাইবে রাজকোষে।
হিন্দু পুরুষ মারা গেলে তাহার উত্তরাধিকার নির্ণয়ের নিয়মাবলী কোন স্ত্রীলোক স্ত্রীধন রাখিয়া মারা গেলে তাহার উত্তরাধিকার নির্ণয়ের নিয়মাবলী হইতে পৃথক। উপরোক্ত উত্তরাধিকারীত্বের আলোচনা শুধুমাত্র দায়ভাগ শাসিত হিন্দুদের সম্পর্কিত। বাংলাদেশে মিতাক্ষরা মতপন্থী নাই বিধায় মিতাক্ষরা উত্তরাধিকারী পদ্ধতি প্রযোজ্য নহে।
উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত ব্যক্তিবর্গ: বাংলাদেশ হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদ প্রচলিত। এই মতবাদ অনুযায়ী উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হওয়ার কারণসমূহ নিম্নরূপ:
(১) অসতীত্ব: স্বামীর মৃত্যুর সময়ে যে মহিলা অসতী, সে স্বামীর উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হয়। কিন্তু একবার উত্তরাধিকার লাভ করিবার পর পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ বিধবা অবস্থায় অসতীত্বের দরুন উত্তরাধিকার ফেরত নেওয়া যায় না। অসতীত্বের প্রশ্ন শুধু বিধবাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নহে। দায়ভাগ মতে যে কোন মহিলা উত্তরাধিকারীর উপরই উহা প্রযোজ্য। বিধবা স্ত্রীর মতই কন্যা এবং মাতা অসতীত্বের দরুণ উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হয়। শুধুমাত্র পুরুষের সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বেলায় অসতীত্বের প্রশ্নটি বিবেচ্য। নারীর সম্পত্তিতে মহিলার উত্তরাধিকার লাভের সময় উহা বিবেচনা করা হয় না।
(২) জাতিচ্যুতি ও ধর্মান্তর গ্রহন: ধর্মান্তরিত হইলে বা জাতিচ্যুত হইলে হিন্দুর উত্তরাধিকার দাবী পূর্বে বাতিল হইয়া যাইত। ১৮৫০ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার (অযোগ্যতা ও অসমর্থতা) দূরীকরণ আইন দ্বারা এই ব্যবস্থা রহিত হইয়া গিয়াছে। তবে কোন হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিলে তাহার সম্পত্তি ইসলামী আইন অনুসারে বন্টিত হইলে তাহার হিন্দু উত্তরাধিকারগণ এই আইন আইন অনুযায়ী হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার দাবী করিতে পারে না।
(৩) দৈহিক এবং মানসিক ত্রুটি: দৈহিক এবং মানসিক ত্রুটির জন্য এইরূপ ত্রুটিপূর্ণ স্বাস্থ্যের অধিকারীগণ উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হয়। আদালতের বিভিন্ন ব্যাখা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণ উত্তরাধিকার পায় না।
(ক) অন্ধ, বোবা ও কালা ব্যক্তি: ইহারা উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হয়। তবে শর্ত হইতেছে যে, ঐরুপ ত্রুটি জন্মগত এবং দূরারোগ্য হইতে হইবে। ব্যতিক্রম হইতেছে একজন জন্মান্ধ পিতার সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে না পাইলেও অন্ধের বৈধ সন্তান তাহার পিতামহের উত্তরাধিকারী হইতে হকদার।
(খ) সহজাত অঙ্গহানী: জন্মগতভাবে কোন ব্যক্তি খোঁড়া হইলে বা কোন অঙ্গ যেমন নাক বা জিহবা না থাকিলে উত্তরাধিকার পায় না। সহজাত পুরুষত্বহীনতাও উত্তরাধিকার লাভের অন্তরায়।
(গ) মস্তিষ্ক বিকৃতি: উত্তরাধিকার পাওয়ার সময়ে কোন ব্যক্তি বিকৃত মস্তিষ্ক সম্পন্ন থাকিলে উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হয়। মস্তিষ্ক বিকৃতি সহজাত হইতে হইবে এমন নয়।
(ঘ) বুদ্ধি জড়তা: বুদ্ধি জড় বা নির্বোধ ব্যক্তি উত্তরাধিকার পায় না। তবে শর্ত হইতেছে যে, ঐরুপ অবস্থা জন্মগত হইতে হইবে।
(ঙ) কুষ্ঠরোগী: কুষ্ঠরোগ মারাত্মক ধরনের এবং আরোগ্যের অযোগ্য হইলে এবং যদি সামাজিক মেলামেশার জন্য সে অযোগ্য বিবেচিত হয় তাহা হইলে সে উত্তরাধিকার পাইবে না।
(চ) অন্যান্য দূরারোগ্য ব্যাধি: উপরোক্ত কারণসমূহ ছাড়াও আরোগ্যের অযোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হয়।
(৪) খুন: হিন্দু আইনে প্রকৃত পক্ষে হত্যাকারীকে উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত করিবার কোন বিধান না থাকিলেও ন্যায়পরতা এবং সুবিবেচনার নীতি প্রয়োগ করিয়া ধার্য্য হইয়াছে যে, যাহাকে খুন করা হইয়াছে তাহার সম্পত্তিতে খুনী উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হইবে। উত্তরাধিকার লাভের দিন তাহাকে মৃত বলিয়া ধরিয়া লইতে হইবে। এমনকি উক্ত খুনীর মাধ্যমেও কেহ উত্তরাধিকার দাবী করিতে পারিবে না। একজন মহিলা বা একজন পুরুষ উত্তরাধিকারীত্বে বঞ্চিত হইলে আইনের দৃষ্টিতে তাহাকে মৃত জ্ঞানে পরবর্তী উত্তরাধিকারীর উপর উত্তরাধিকারীত্ব বর্তায়। যদি কেহ সন্ন্যাসব্রত গ্রহন করিয়া সংসার ত্যাগ করে, তাহা হইলে তাহাকে আইনের দৃষ্টিতে মৃত বলিয়া ধরা হয় এবং সে উত্তরাধিকারীত্ব হইতে বঞ্চিত হয়। যদি কোন ব্যক্তি উলি্লখিত কারণে উত্তরাধিকারীত্ব হইতে বঞ্চিত হয়, তাহা হইলে উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত ব্যক্তি, তাহার স্ত্রী এবং অবিবাহিত কন্যা সন্তানদি মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্যবিত্ত হইতে ভরণপোষণ পাইবে। অবিবাহিত কন্যা সন্তানাদির বিবাহ বাবদ ব্যয়ও মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্যবিত্ত হইতে পরিশোধিত হইবে। হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারীত্ব স্থগিত রাখা যায় না। হিন্দু আইনের ইহা একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি, কেহ একবার সম্পত্তি আইন সঙ্গতরুপে সম্পূর্ণ স্বত্বে পাইলে তাহা হইতে বঞ্চিত হয় না।