21/07/2026
হাতে হাতকড়া পরানো সংক্রান্ত আইন ও বিচারিক অবস্থান (বাংলাদেশ)
১. সাংবিধানিক ভিত্তি
বাংলাদেশের সংবিধান
* অনুচ্ছেদ ৩১ — প্রত্যেক নাগরিক আইনের আশ্রয় ও আইনানুগ আচরণ লাভের অধিকারী।
* অনুচ্ছেদ ৩২ — আইনানুযায়ী ব্যতীত ব্যক্তির জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
* অনুচ্ছেদ ৩৩ — গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে।
* অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) — কোনো ব্যক্তিকে নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর আচরণের শিকার করা যাবে না।
এসব বিধানের আলোকে অপ্রয়োজনীয় বা অপমানজনকভাবে হাতকড়া ব্যবহার অসাংবিধানিক বলে বিবেচিত হতে পারে।
২. Police Regulations of Bengal (PRB)
Rule 330(a), PRB অনুযায়ী, হাতকড়া ব্যবহার একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। এটি কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন যুক্তিসঙ্গতভাবে মনে করার কারণ থাকে যে—
* আসামি পালিয়ে যেতে পারে;
* সহিংস আচরণ করতে পারে;
* জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ; অথবা
* অন্য কোনো কম কঠোর ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।
অর্থাৎ, Routine handcuffing আইনসম্মত নয়।
৩. বাংলাদেশ হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত
(ক) Suo Motu Rule No. 11 of 2017
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজমুল হোসেনকে হাসপাতালের বেডে হাতকড়া পরিয়ে রাখার ঘটনায় হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।
আদালত বলেন—
* Rule 330(a) অনুসরণ করতে হবে;
* অপ্রয়োজনীয়ভাবে হাতকড়া ব্যবহার করা যাবে না;
* পুলিশকে হাতকড়ার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
(খ) আদালতে হাজির করার সময়
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে আসামিকে আদালতে হাজির করার আগে হাতকড়া বা শিকল খুলে ফেলতে হবে, যদি না বিশেষ নিরাপত্তাজনিত কারণ থাকে।
(গ) ২০২৪ সালের নির্দেশনা
হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দেন যে সকল আসামির ক্ষেত্রে নির্বিচারে বার ফেটার (পায়ে বেড়ি) বা হাতকড়া ব্যবহার করা যাবে না। কেবল শীর্ষ সন্ত্রাসী, জঙ্গি বা অত্যন্ত বিপজ্জনক অপরাধীর ক্ষেত্রে, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, তা বিবেচনা করা যেতে পারে।
৪. আন্তর্জাতিক নীতি
জাতিসংঘের Nelson Mandela Rules অনুযায়ী, restraints (যেমন হাতকড়া) কেবলমাত্র একান্ত প্রয়োজন হলে এবং সর্বনিম্ন সময়ের জন্য ব্যবহার করা উচিত; অপমান বা শাস্তি হিসেবে নয়।