25/09/2026
কথাসাহিত্যিক আরেফিন বাদল (টাঙ্গাইল)
সম্পাদক, তারকালোক
----------------------------------------------------
কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, গবেষক, সাংবাদিক ও সম্পাদক আরেফিন বাদল নানা গুণে একজন গুণি মানুষ। আরেফিন বাদল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ব্যক্তিত্ব।
তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
পড়াশোনা পাকুটিয়া পাবলিক স্কুল ও কলেজে। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
লিখেছেন অসংখ্য কবিতা, নাটক, উপন্যাস। এছাড়াও বেশকিছু গবেষণা ও সম্পাদনা গ্রন্থ রয়েছে তাঁর। চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকার সম্পাদনায় তাঁর রয়েছে ঈর্ষনীয় ভূমিকা।
ষাটের দশকে লেখালেখি শুরু করলেও সত্তর দশকেই ঘটে তাঁর পূর্ণ বিকাশ। এসময় তিনি একজন সচেতন সামাজিক মানুষ হিসেবে স্বাধীনতা পরবর্তী যাপিত জীবনের হতাশা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, শ্রেণী সংগ্রাম এবং মুক্তিযোদ্ধা পরবর্তী নানান পীড়াদায়ক ঘটনাসহ নিজের মনের ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন সাহিত্যের পাতায়।
আরেফিন বাদল দেশের প্রথম রঙিন বিনোদন পত্রিকা পাক্ষিক তারকালোক, সাপ্তাহিক আগামী, সাপ্তাহিক বিশ্ব বাঙালি, মাসিক কিশোর তারকালোকসহ বেশকিছু পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা, প্রকাশক ও সম্পাদক।
তিনিই বিটিভির প্রথম প্যাকেজ নাটক প্রাচীর পেরিয়ে ( ১৯৯৪) এর নির্মাতা। বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করেছেন তিনি নিরলসভাবে। এখনো লিখে চলেছেন সমানতালে।
সাম্যবাদের ভাবাদর্শে বিশ্বাসী আরেফিন বাদল স্বপ্ন দেখেন শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন একটি আদর্শ সমাজের।
২০২৩ এর একুশে বইমেলায় আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ 'এই যুদ্ধ সেই যুদ্ধ'।
প্রকাশিত হয়েছে তাঁর আলোচিত রাজনৈতিক উপন্যাস 'সারার ব্রীজ' যা ইতোমধ্যে পাঠক সমাজে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে।
কর্মের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি ১৯৮৭ ভাসানী পদক, ২০১৪ সালে চ্যালেন আই প্রবর্তিত ফজলুল হক স্মৃতি পুরষ্কার, বাসসাচ চলচ্চিত্র পুরষ্কার (২০১৪) ও ২০১৬ সালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ পুরষ্কারসহ দেশে বিদেশে অসংখ্য পুরষ্কার পেয়েছেন। এছাড়াও দেশ- বিদেশে নানা সেমিনার সভায় যোগদান করেন।
আরেফিল বাদল বাণীতে লিখেছেন" দেশপ্রেমের পরীক্ষা " এমনই- এতে একশ'তে নিরানব্বই পেলেও, পাশ করা যায় না।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আরেফিল বাদল তাঁর সৃষ্টি কাজের মাধ্যমে পাঠকের অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছেন। জন্মদিনে টাঙ্গাইলের এই কৃতি সন্তানের জন্য রইলো হৃদয় উৎসারিত প্রীতি ও ভালবাসা। সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
(তাঁরা আমাদেরও
ভয়েস অফ কাজল)