VATAX PRO

VATAX PRO Personal & Company TAX
and
Organization VAT Consultancy and Solution Firm.

08/06/2026

ভ্যাট আইনে Exclusive VAT ও Inclusive VAT কি এবং কীভাবে গণনা করা হয়?

Exclusive VAT পদ্ধতিতে পণ্য বা সেবার মূল্য ও ভ্যাট আলাদা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয় যেখানে বিক্রয়মূল্যে ভ্যাট যোগ করে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং এই পদ্ধতি সাধারণত আদর্শ ১৫% ভ্যাট হারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। এই পদ্ধতির সূত্র হলো Output VAT = Net Selling Price (Excluding VAT) × VAT Rate এবং Total Price = Net Selling Price + Output VAT। উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক একটি পণ্যের বিক্রয়মূল্য VAT বাদে ১০,০০০ টাকা এবং ভ্যাট হার ১৫% তাহলে Output VAT = ১০,০০০ × ১৫% = ১০,০০০ × ০.১৫ = ১,৫০০ টাকা এবং Total Price VAT সহ = ১০,০০০ + ১,৫০০ = ১১,৫০০ টাকা। আরেকটি উদাহরণে ধরা যাক একটি সেবার বিক্রয়মূল্য VAT বাদে ৫০,০০০ টাকা এবং ভ্যাট হার ১৫% তাহলে Output VAT = ৫০,০০০ × ১৫% = ৫০,০০০ × ০.১৫ = ৭,৫০০ টাকা এবং Total Price VAT সহ = ৫০,০০০ + ৭,৫০০ = ৫৭,৫০০ টাকা। উৎপাদন পর্যায়ের উদাহরণে ধরা যাক একটি উৎপাদনকারী কোম্পানি তাদের পণ্য বিক্রি করেছে ২,০০,০০০ টাকায় VAT বাদে এবং ভ্যাট হার ১৫% তাদের কাঁচামাল ক্রয়ে ইনপুট ভ্যাট প্রদান করা হয়েছে ১৫,০০০ টাকা তাহলে Output VAT = ২,০০,০০০ × ১৫% = ৩০,০০০ টাকা এবং Net VAT = Output VAT − Input VAT = ৩০,০০০ − ১৫,০০০ = ১৫,০০০ টাকা যা উৎপাদনকারীকে সরকারকে জমা দিতে হবে এবং এই হিসাবটি Exclusive VAT এর জন্য সম্পূর্ণ সঠিক তবে মনে রাখতে হবে রেয়াত বা রেয়াতজনিত সমন্বয় পেতে হলে অবশ্যই আদর্শ হার অর্থাৎ ১৫% ভ্যাটে লেনদেন করতে হয়।

Inclusive VAT পদ্ধতিতে পণ্য বা সেবার মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে যেখানে গ্রাহক যে মূল্য দেখে বা পরিশোধ করে তাতেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং এই পদ্ধতি সাধারণত হ্রাসকৃত ভ্যাট হারের ক্ষেত্রে যেমন ৫%, ৭.৫%, ১০% প্রযোজ্য হয়। তবে বাংলাদেশের ভ্যাট আইন অনুযায়ী ভ্যাট হার ১৫% আদর্শ হার হোক বা হ্রাসকৃত হার হোক পাইকারি বা সাধারণ ব্যবসায়িক সরবরাহের সময় মূসক-৬.৩ ভ্যাট চালান পত্রে পণ্য বা সেবার মূল্য এবং ভ্যাটের পরিমাণ আলাদা আলাদাই দেখাতে হয় এবং শুধুমাত্র খুচরা ক্যাশ মেমো বা ট্যাক্স ইনভয়েস দেওয়া হয় যেমন সুপারশপ রেস্তোরাঁ বা মিষ্টির দোকান সেখানে গ্রাহকের সুবিধার্থে মূল্যের ভেতরে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করে মোট মূল্য দেখানো থাকে। VAT বের করার সূত্র হলো VAT Amount = (Total Selling Price × VAT Rate) / (১০০ + VAT Rate) এবং Net Selling Price = Total Selling Price − VAT Amount। ৫% হারের উদাহরণে ধরা যাক একটি রেস্তোরাঁর মোট বিল VAT অন্তর্ভুক্ত ১০,৫০০ টাকা তাহলে VAT Amount = (১০,৫০০ × ৫) / (১০০ + ৫) = ৫২,৫০০ / ১০৫ = ৫০০ টাকা এবং Net Selling Price = ১০,৫০০ − ৫০০ = ১০,০০০ টাকা যা যাচাই করে দেখা যায় ১০,০০০ × ৫% = ৫০০ টাকা VAT এবং ১০,০০০ + ৫০০ = ১০,৫০০ টাকা মোট বিল। ৭.৫% হারের উদাহরণে ধরা যাক একটি মিষ্টির দোকানে মোট বিক্রয়মূল্য VAT অন্তর্ভুক্ত ২১,৫০০ টাকা তাহলে VAT Amount = (২১,৫০০ × ৭.৫) / (১০০ + ৭.৫) = ১,৬১,২৫০ / ১০৭.৫ = ১,৫০০ টাকা এবং Net Selling Price = ২১,৫০০ − ১,৫০০ = ২০,০০০ টাকা যা যাচাই করে দেখা যায় ২০,০০০ × ৭.৫% = ১,৫০০ টাকা VAT এবং ২০,০০০ + ১,৫০০ = ২১,৫০০ টাকা মোট মূল্য। ১০% হারের উদাহরণে ধরা যাক একটি মোটর গ্যারেজের মোট সার্ভিস চার্জ VAT অন্তর্ভুক্ত ৫৫,০০০ টাকা তাহলে VAT Amount = (৫৫,০০০ × ১০) / (১০০ + ১০) = ৫,৫০,০০০ / ১১০ = ৫,০০০ টাকা এবং Net Selling Price = ৫৫,০০০ − ৫,০০০ = ৫০,০০০ টাকা যা যাচাই করে দেখা যায় ৫০,০০০ × ১০% = ৫,০০০ টাকা VAT এবং ৫০,০০০ + ৫,০০০ = ৫৫,০০০ টাকা মোট চার্জ।

বাংলাদেশের ভ্যাট আইন অনুযায়ী দুটি পদ্ধতির প্রযোজ্যতা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে নির্ধারিত হয়েছে যেখানে আদর্শ হার ১৫% এর ক্ষেত্রে Exclusive VAT পদ্ধতি প্রযোজ্য এবং হ্রাসকৃত হার যেমন ১০%, ৭.৫%, ৫%, ২.৪%, ২% এর ক্ষেত্রে Inclusive VAT পদ্ধতি প্রযোজ্য হয় তবে ব্যবসায়িক সরবরাহের সময় মূসক-৬.৩ চালানে সবসময় মূল্য ও VAT আলাদা দেখাতে হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে গণনার পার্থক্য হলো আদর্শ হার ১৫% এর ক্ষেত্রে Output VAT = Net Selling Price (Excluding VAT) × ১৫% এবং হ্রাসকৃত হারের ক্ষেত্রে VAT = Selling Price × VAT Rate অথবা মূল্যের ভেতরে VAT থাকলে VAT = {Selling Price (With VAT) × VAT Rate} / (১০০ + VAT Rate)। Exclusive VAT পদ্ধতিতে চালানে মূল্য ও VAT আলাদা আলাদা দেখানো হয় যেমন মূল্য ১০,০০০ টাকা VAT ১,৫০০ টাকা মোট ১১,৫০০ টাকা আর Inclusive VAT পদ্ধতিতে খুচরা ক্যাশ মেমোতে মোট মূল্য দেখানো হয় যেমন মোট ১০,৫০০ টাকা VAT অন্তর্ভুক্ত। দুটি পদ্ধতির মৌলিক পার্থক্য হলো Exclusive এ VAT আলাদা দেখানো হয় এবং Inclusive এ VAT মূল্যের অংশ হিসেবে থাকে তবে আইনি দিক থেকে ব্যবসায়িক লেনদেনে সবসময় আলাদা ভ্যাট দেখানো বাধ্যতামূলক এবং সঠিক পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে পণ্য বা সেবার প্রকৃতি এবং প্রযোজ্য ভ্যাট হার অনুযায়ী।

“সঠিকভাবে ভ্যাট হিসাব করুন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখুন”

ধন্যবাদান্তে: কর আইন কন্ঠ।

আয়কর আইন ২০২৩: দ্যা ফাইন্যান্সিয়াল ব্লু প্রিন্ট Courtesy: Tax Touch
30/04/2026

আয়কর আইন ২০২৩: দ্যা ফাইন্যান্সিয়াল ব্লু প্রিন্ট

Courtesy: Tax Touch

14/04/2026

ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনের একটি পূর্ণাঙ্গ গাণিতিক সমস্যা (Case Study)
প্রতিষ্ঠানের নাম: মেসার্স সুপ্রিম কনজ্যুমার প্রোডাক্টস লিমিটেড।
নিবন্ধনের ধরন: কেন্দ্রীয়ভাবে নিবন্ধিত লিমিটেড কোম্পানি (উৎসে কর্তনকারী সত্তা)।
কর মেয়াদ: অক্টোবর, ২০২৫ (নতুন উৎসে কর বিধিমালা-২০২৫ কার্যকর হওয়ার পর)।
১. বিক্রয় বা সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য (Sales/Outputs):
অক্টোবর ২০২৫ মাসে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৩,০০,০০,০০০ টাকার (ভ্যাট ব্যতীত) পণ্য সরবরাহ করেছে, যার বিভাজন নিম্নরূপ:
• স্থানীয় সাধারণ বিক্রয়: ১৫% ভ্যাটযুক্ত পণ্য সরবরাহ ১,০০,০০,০০০ টাকা।
• টেন্ডারে বিক্রয়: একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৫% ভ্যাটযুক্ত পণ্য সরবরাহ ৫০,০০,০০০ টাকা (সরকারি প্রতিষ্ঠানটি বিল পরিশোধের সময় ভ্যাট কর্তন করে মূসক-৬.৬ প্রদান করেছে)।
• রপ্তানি: শূন্য-হারের (০%) আওতায় সরাসরি রপ্তানি ৫০,০০,০০০ টাকা।
• অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য সরবরাহ: প্রথম তফসিলভুক্ত ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত (Exempted) পণ্য সরবরাহ ১,০০,০০,০০০ টাকা।
২. ক্রয় বা উপকরণ সংগ্রহ ও ব্যয় (Purchases & Expenses):
(সবগুলো ক্রয় ১৫% ভ্যাটযুক্ত এবং এই উপকরণগুলো অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও ভ্যাটযোগ্য উভয় পণ্য উৎপাদনেই ব্যবহৃত হয়। ১ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধিত।)
• আমদানিকৃত কাঁচামাল: আমদানি পর্যায়ে ১৫% মূসক বাবদ ১০,০০,০০০ টাকা এবং ২% আগাম কর (AT) বাবদ ১,০০,০০০ টাকা পরিশোধিত।
• স্থানীয় কাঁচামাল ক্রয়: নিবন্ধিত সরবরাহকারীর নিকট থেকে কাঁচামাল ক্রয় (মূসক-৬.৩ প্রাপ্ত, পরিশোধিত ভ্যাট ৩,০০,০০০ টাকা)।
• বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল: কারখানার ইউটিলিটি বিলে পরিশোধিত ভ্যাট ১,০০,০০০ টাকা।
• সেবা আমদানি (Imported Service): বিদেশ থেকে ২,০০,০০০ টাকার একটি কারিগরি সফটওয়্যার সেবা গ্রহণ করা হয়েছে, যার ওপর ১৫% রিভার্স চার্জ প্রযোজ্য।
• রেয়াত অযোগ্য ক্রয় (Non Creditable ITC): অফিসের ব্যবহারের জন্য নতুন এসি ও আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ পরিশোধিত ভ্যাট ৫০,০০০ টাকা এবং কারখানার শেড সংস্কার ও মেরামত বাবদ পরিশোধিত ভ্যাট ১,০০,০০০ টাকা।
৩. প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সেবা গ্রহণ ও উৎসে মূসক কর্তন (VDS by Company):
কোম্পানিটি 'উৎসে কর্তনকারী সত্তা' হিসেবে নিম্নোক্ত বিল পরিশোধ করেছে:
• যোগানদার সেবা (Procurement Provider): একজন অনিবন্ধিত সরবরাহকারীর নিকট থেকে ২,০০,০০০ টাকার (ভ্যাট ব্যতীত) স্টেশনারি গ্রহণ। বিল পরিশোধের সময় ১০% হারে ২০,০০০ টাকা উৎসে মূসক কর্তন করা হয়েছে।
• অফিস ভাড়া: ১,০০,০০০ টাকার (ভ্যাট ব্যতীত) অফিস ভাড়ার বিল পরিশোধের সময় ১৫% হারে ১৫,০০০ টাকা উৎসে মূসক কর্তন করা হয়েছে।
৪. জরিমানা (Penalty):
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল্য সংযোজন কর দাখিলপত্র (রিটার্ন) পেশ না করার কারণে মূসক কর্মকর্তা ১০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করেছেন।
করণীয়: উক্ত কর মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির (ক) রেয়াত অযোগ্য ভ্যাট বা Blocked ITC, (খ) আংশিক রেয়াতের অনুপাত (Partial ITC Ratio) ও পরিমাণ, (গ) মোট উৎপাদ কর, (ঘ) বৃদ্ধিকারী ও হ্রাসকারী সমন্বয়, এবং (ঙ) ট্রেজারিতে জমাদানের জন্য নীট প্রদেয় মূসক নিরূপণ করুন।
বিস্তারিত গাণিতিক সমাধান (Step-by-Step Solution)
ধাপ ১: রেয়াত অযোগ্য খাত বা Blocked ITC নিরূপণ [ধারা ৪৬ ও ধারা ২(১৮ক)]
আইন অনুযায়ী নিচের ক্রয়গুলোর ওপর পরিশোধিত ভ্যাটের কোনো রেয়াত পাওয়া যাবে না:
• অফিসের জন্য এসি ও আসবাবপত্র ক্রয় (৫০,০০০ টাকা): এসি, আসবাবপত্র, অফিস সরঞ্জাম 'উপকরণ' সংজ্ঞার বহির্ভূত।
• কারখানা শেড মেরামত (১,০০,০০০ টাকা): ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ, মেরামত বা সংস্কার উপকরণের অন্তর্ভুক্ত নয়।
• অর্থাৎ, রেয়াত অযোগ্য ভ্যাট = ১,৫০,০০০ টাকা।
ধাপ ২: আংশিক রেয়াতের অনুপাত (Partial ITC Ratio) নির্ণয় [ধারা ৪৭]
প্রতিষ্ঠানটি একই সাথে ভ্যাটযুক্ত, শূন্য-হারের এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য সরবরাহ করায় তারা সাধারণ উপকরণের সম্পূর্ণ ভ্যাট রেয়াত পাবে না।
• রেয়াতযোগ্য সরবরাহ (Taxable + Export) = (১০০ লক্ষ + ৫০ লক্ষ) + ৫০ লক্ষ = ২,০০,০০,০০০ টাকা।
• রেয়াতের অযোগ্য সরবরাহ (Exempted) = ১,০০,০০,০০০ টাকা।
• মোট সরবরাহ = ৩,০০,০০,০০০ টাকা।
• রেয়াতযোগ্য অনুপাত (Eligible Ratio) = (২,০০,০০,০০০ ÷ ৩,০০,০০,০০০) = ৬৬.৬৭% (বা ২/৩ অংশ)।
ধাপ ৩: রেয়াতযোগ্য উপকরণ কর (Partial Input Tax Credit) নিরূপণ
সাধারণ উপকরণগুলোর মোট ভ্যাটের ৬৬.৬৭% রেয়াত হিসেবে দাবি করতে হবে।
• আমদানিকৃত কাঁচামালের ভ্যাট = ১০,০০,০০০ টাকা।
• স্থানীয় কাঁচামালের ভ্যাট = ৩,০০,০০০ টাকা।
• ইউটিলিটি বিলের ভ্যাট = ১,০০,০০০ টাকা।
• আমদানিকৃত সেবা (রিভার্স চার্জের ভ্যাট) = ৩০,০০০ টাকা (২ লক্ষ টাকার ১৫%)।
• বৈধ সাধারণ উপকরণের মোট ভ্যাট = ১৪,৩০,০০০ টাকা।
• এর মধ্যে প্রকৃত রেয়াতযোগ্য অংশ (১৪,৩০,০০০ × ২/৩) = ৯,৫৩,৩৩৩ টাকা।
ধাপ ৪: মোট উৎপাদ কর (Total Output Tax) নিরূপণ
• স্থানীয় সাধারণ বিক্রয় (১০০ লক্ষ টাকার ১৫%) = ১৫,০০,০০০ টাকা।
• টেন্ডারে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ (৫০ লক্ষ টাকার ১৫%) = ৭,৫০,০০০ টাকা।
• রপ্তানি (৫০ লক্ষ টাকার ০%) = ০ টাকা।
• অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য সরবরাহ (১০০ লক্ষ টাকার ০%) = ০ টাকা।
• সেবা আমদানি বা রিভার্স চার্জ (২ লক্ষ টাকার ১৫%) = ৩০,০০০ টাকা।
• সর্বমোট উৎপাদ কর = ২২,৮০,০০০ টাকা।
(নোট: রিভার্স চার্জের ৩০,০০০ টাকা একইসাথে উৎপাদ কর এবং রেয়াতযোগ্য উপকরণ কর হিসেবে গণ্য হবে)।
ধাপ ৫: বৃদ্ধিকারী সমন্বয় (Increasing Adjustments - নতুন বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী)
২০২৫ সালের নতুন 'উৎসে মূল্য সংযোজন কর কর্তন ও আদায় বিধিমালা' অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান অন্য কারও বিল থেকে ভ্যাট কর্তন করলে তা আলাদা ট্রেজারি চালানে জমা না দিয়ে সরাসরি নিজ রিটার্নে বৃদ্ধিকারী সমন্বয় (Increasing Adjustment) করবে।
• যোগানদার সেবার উৎসে কর্তন = ২০,০০০ টাকা।
• অফিস ভাড়ার উৎসে কর্তন = ১৫,০০০ টাকা।
• মোট বৃদ্ধিকারী সমন্বয় = ৩৫,০০০ টাকা।
ধাপ ৬: হ্রাসকারী সমন্বয় (Decreasing Adjustments)
• আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত আগাম কর (AT) সমন্বয় = ১,০০,০০০ টাকা।
• সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উৎসে কর্তিত ভ্যাট = ৭,৫০,০০০ টাকা (শর্ত: মূসক-৬.৬ প্রাপ্তি সাপেক্ষে)।
• মোট হ্রাসকারী সমন্বয় = ৮,৫০,০০০ টাকা।
ধাপ ৭: নীট প্রদেয় মূসক ও ট্রেজারিতে জমাদান (Net VAT Payable)
নীট প্রদেয় মূসক = (মোট উৎপাদ কর - রেয়াতযোগ্য উপকরণ কর) + বৃদ্ধিকারী সমন্বয় - হ্রাসকারী সমন্বয়
• নীট প্রদেয় মূসক = (২২,৮০,০০০ - ৯,৫৩,৩৩৩) + ৩৫,০০০ - ৮,৫০,০০০
• নীট প্রদেয় মূসক = ১৩,২৬,৬৬৭ + ৩৫,০০০ - ৮,৫০,০০০
• নীট প্রদেয় মূসক = ১৩,৬১,৬৬৭ - ৮,৫০,০০০
• নীট প্রদেয় মূসক = ৫,১১,৬৬৭ টাকা।
জরিমানা পরিশোধ:
রিটার্ন পেশে বিলম্বের কারণে ধার্যকৃত ১০,০০০ টাকা জরিমানা আলাদা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
চূড়ান্ত মন্তব্য: অক্টোবর ২০২৫ কর মেয়াদে মেসার্স সুপ্রিম কনজ্যুমার প্রোডাক্টস লিমিটেডকে নীট ভ্যাট বাবদ ৫,১১,৬৬৭ টাকা এবং জরিমানা বাবদ ১০,০০০ টাকা ট্রেজারি চালানে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে মূসক-৯.১ রিটার্ন দাখিল করতে হবে। ২০২৫ সালের নতুন বিধিমালার কারণে তাদের ভাড়ার ও যোগানদারের কর্তিত ভ্যাট আলাদা চালানে জমা দেওয়ার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা রিটার্নের ভেতরেই বৃদ্ধিকারী সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধ হয়ে গেলো। এই একটি অঙ্কে ভ্যাটের ৪৬ ও ৪৭ ধারার পাশাপাশি নতুন বিধিমালার চমৎকার সমন্বয় রয়েছে।

Courtesy: Bangladesh VAT & TAX Digest

31/10/2025

Pain/Burden of Excise Duty:

সবাই জানি, সারা বছর ধরে যেকোনো ব্যাংক হিসাবেই—তা সঞ্চয় (Deposit) হোক বা ঋণ (Loan)—একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে টাকা জমা বা উত্তোলন হলে, সরকারকে Excise Duty দিতে হয়। এর হার নিচে দেওয়া হলো:

২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত – শূন্য টাকা
২ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু ৫ লক্ষ পর্যন্ত – ১৫০ টাকা
৫ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু ১০ লক্ষ পর্যন্ত – ৫০০ টাকা
১০ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু ৫০ লক্ষ পর্যন্ত – ৩,০০০ টাকা
৫০ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু ১ কোটি পর্যন্ত – ৫,০০০ টাকা
১ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু ২ কোটি পর্যন্ত – ১০,০০০ টাকা
২ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু ৫ কোটি পর্যন্ত – ২০,০০০ টাকা
৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে – ৫০,০০০ টাকা

আগে যে কেউ KYC ফরম পূরণ করে ব্যাংক হিসাব না খুলেই সরাসরি FDR বা DPS করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে এই সুযোগ ‌তেমন নাই বল‌লেই চ‌লে। এখন সেভিংস, কারেন্ট বা SND হিসাব ছাড়া (মাদার হিসাব) কোনো DPS বা FDR খোলা প্রায় অসম্ভব । একইভাবে, ব্যাংক থেকে ঋণ (Loan) নিতে গেলেও আগে থেকেই ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক।

এখন দেখা যাক—একই টাকার জন্য সাধারণ মানুষ কতবার Excise Duty দিচ্ছে।

ধরুন, মি. মুরসা‌লিন ডিসেম্বর ২০২৪-এ তাঁর সেভিংস অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ২০ হাজার টাকা জমা দিলেন এবং সেই টাকা দিয়েই একই মাসে একটি ১ কোটি ১৫ হাজার টাকার FDR করলেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি FDR নগদায়ন করে আবার সেই টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা দিলেন এবং পরে ধা‌পে ধা‌পে উত্তোলন করলেন।

অন্যদিকে, মি. ইজাজ ডিসেম্বর ২০২৪-এ ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকার time loan or term লোন নিলেন ব‌্যবসায় করার জন‌্য, যা তার কা‌রেন্ট অ্যাকাউন্টে ‌বিতরণ করা হলো এবং ধাপে ধাপে উত্তোলন ক‌রে ব‌্যবসায় কা‌জে ব‌্যবহার করলেন। পরের বছর ২০২৫-এ তিনি সেই একই টাকার সমপরিমাণ কা‌রেন্ট হিসা‌বে জমা দিয়ে লোন পরিশোধ করলেন।

এখন Excise Duty-এর প্রভাব বিশ্লেষণ করি:

মি. মুরসা‌লিন:
২০২৪: সেভিংস অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ + FDR অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ = মোট ২০,০০০ টাকা Excise Duty
২০২৫: সেভিংস অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ + FDR অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ = মোট ২০,০০০ টাকা Excise Duty

মি. ইজাজ:
২০২৪: কা‌রেন্ট অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ + লোন অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ = মোট ২০,০০০ টাকা Excise Duty
২০২৫: কা‌রেন্ট অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ + লোন অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ = মোট ২০,০০০ টাকা Excise Duty

অর্থাৎ, একই টাকার উপর, ব‌্যা‌ং‌কিং সি‌স্টেম-এর কার‌ণে শুধুমাত্র এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে স্থানান্তর (transfer) করার কারণেই বারবার Excise Duty দিতে হচ্ছে।

বিশ্বের অনেক দেশে ম‌তো বাংলা‌দে‌শেও যেমন Double Tax Avoidance Agreement (DTAA) অনুযায়ী একই আয়ের উপর দু’বার কর দিতে হয় না, তেমনি আমাদের দেশেও একই টাকার উপর গ্রাহ‌কের মাদার হিসাব থে‌কে নিজ অন‌্য হিসা‌বে স্থানান্তর ক‌রার প্রেক্ষি‌তে বারবার Excise Duty নেওয়া অযৌক্তিক ও অন্যায় বলে মনে ক‌রেন প্রায় সকল গ্রাহকগণ।

অসংখ্য সাধারণ মানুষ এ কারণে কষ্টে পড়ছেন, কারণ এই সামান্য টাকার উপরই হয়তো তাদের পুরো পরিবার নির্ভরশীল।

করণীয় কী?
এন‌বিআর তথা সরকারের উচিত—যেহেতু বর্তমানে গ্রাহক তার মাদার অ্যাকাউন্ট ছাড়া কোনো FDR, DPS বা Loan নেওয়া সম্ভব নয়, তাই একই টাকার জন্য শুধুমাত্র গ্রাহ‌কের মাদার হিসাব বা লোন হিসাবেই Excise Duty প্রযোজ্য করা। তাহলেই এই বৈষম্য দূর হবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে।

কার্টেসী: মো: মোর‌শেদ আলম

31/10/2025

📢 অডিট নিয়ে বিভ্রান্তি!

রিসেন্টলি “অডিট” নিয়ে অনেকের মধ্যে কনফিউশন তৈরি হয়েছে —
বিশেষ করে এখন যেহেতু ট্যাক্স অফিস বিভিন্ন ধারায় করদাতাদের চিঠি দিচ্ছে,
যারা আইন জানেন না তারা অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।
অনেকের ধারণা, ফাইল শুধু একবারই র‍্যান্ডম অডিটে পড়তে পারে,
এর বাইরে কর অফিস থেকে আর কোনোভাবে অডিট বা যাচাই করা হয় না।

চলুন দেখে নেই —
রিটার্ন সাবমিটের পর ৩ ধাপে ফাইল যাচাই বা অডিট হয়, আর শেষে কর নির্ধারণ হয়।

(বুঝতে পারার সুবিধার্থে ট্যাক্স অফিসের দেওয়া চিঠি সংযুক্ত করা হলো)

রিটার্ন সাবমিটের পর — ৩ ধাপে যাচাই/অডিট হয়

১️। রিটার্ন প্রসেস (প্রাথমিক যাচাই) — ধারা ১৮১

📍 কখন হয়:
যখন করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন, তখন উপকর কমিশনার রিটার্নটি পাওয়ার পর প্রথমে সেটি গাণিতিক ও তথ্যগতভাবে যাচাই করেন।
🔹 কী হয়:
যদি রিটার্নে কোনো গাণিতিক ভুল, অসঙ্গতি বা ভুল দাবি ধরা পড়ে, উপকর কমিশনার তা সংশোধন করে প্রদেয় বা ফেরতযোগ্য কর নির্ধারণ করেন এবং করদাতাকে নোটিশ করেন।
🔹 আপনার করণীয়:
নোটিশ পেলে শুনানিতে অংশগ্রহন করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকোমেন্টস দিন।
🔹 যদি না মানেন:
তাহলে উপকর কমিশনার পরবর্তী ধাপে কর নির্ধারণ (ধারা ১৮৩ বা ১৮৪) করতে পারেন।
📌 (এই ধাপটি হয় রিটার্ন সাবমিটের পরই, র‍্যান্ডম সিলেকশন ছাড়াই।)
________________________________________
২️। অডিট (র‍্যান্ডম ভিত্তিক নির্বাচন) — ধারা ১৮২

📍 কখন হয়:
রিটার্ন সাবমিটের পর বোর্ডের (NBR) নির্দেশনা অনুযায়ী র‍্যান্ডমভাবে কিছু ফাইল অডিটের জন্য বেছে নেওয়া হয়। রিটার্ন দাখিল করা করবর্ষের পরবর্তী ২ করবর্ষের মধ্যে অডিট নির্বাচন ও অনুমোদন করা হয়।
🔹 কী হয়:
যদি আপনার ফাইল র‍্যান্ডম অডিটে পড়ে, তাহলে উপকর কমিশনার আপনাকে জানিয়ে ফাইল পর্যালোচনা করেন —
রিটার্নে প্রদর্শিত আয়, ব্যয় ও পরিসম্পদ সঠিক আছে কি না তা যাচাই করেন।
🔹 আপনার করণীয়:
নোটিশ পেলে সময়মতো কাগজপত্র, প্রমাণ ও ব্যাখ্যা দিন, প্রয়োজনে সংশোধিত রিটার্ন ও কর পরিশোধ করুন।
🔹 যদি না মানেন:
তাহলে উপকর কমিশনার পরবর্তী ধাপে কর নির্ধারণ (ধারা ১৮৩ বা ১৮৪) করতে পারেন।
📌 (অর্থাৎ, রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ২ বছরের মধ্যেই অডিটে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।)
________________________________________
৩️। ফাইল রিওপেন (কর ফাঁকি বা আয় গোপন ধরা পড়লে) — ধারা ২১২

📍 কখন হয়:
যখন পরবর্তীতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে করদাতা —
• আয় গোপন করেছেন,
• আয় কম দেখিয়েছেন,
• অতিরিক্ত ছাড়, অব্যাহতি বা লোকসান দেখিয়েছেন,
• ভুল তথ্য দিয়ে কর দায় কমিয়েছেন,
অর্থাৎ কর পরিশোধ এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
যদি কোনো রিটার্ন না দেওয়া থাকে ➤ যেকোনো সময় নোটিশ দেওয়া যাবে।
যদি রিটার্ন বা কর নির্ধারণ হয়ে থাকে ➤ সর্বোচ্চ ৬ করবর্ষ পেছনে গিয়েও ফাইল রিওপেন করা যায়।
🔹 কী হয়:
উপকর কমিশনার সেই করবর্ষের ফাইল পুনরায় খুলতে পারে এবং করদাতাকে নোটিশ পাঠিয়ে রিটার্ন ও দলিলাদি দাখিল ও বকেয়া কর পরিশোধ করতে বলেন।
🔹 আপনার করণীয়:
নোটিশ পেলে রিটার্ন ও প্রমাণাদি জমা দিন এবং কর পরিশোধ করুন।
🔹 যদি না মানেন:
তাহলে উপকর কমিশনার ধারা ১৮৩ বা ১৮৪ অনুযায়ী কর পুনর্নির্ধারণ করবেন।
📌 (অর্থাৎ, রিটার্ন জমা দিলেও ৬ বছর পর্যন্ত আপনার ফাইল পুনরায় খোলা যেতে পারে।)
________________________________________
📚 বিস্তারিত জানতে আইন দেখুন:
➡️ ধারা ১৮১ — রিটার্ন প্রসেস
➡️ ধারা ১৮২ — অডিট
➡️ ধারা ২১২ — ফাইল রিওপেন
➡️ ধারা ১৮৩ — সাধারণ কর নির্ধারণ
➡️ ধারা ১৮৪ — সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ
________________________________________

ধন্যবাদ সবাইকে

কার্টেসী: সমীর চন্দ্র সূত্রধর
ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার






11/08/2025

‘জিরো রিটার্ন এক্সট্রেমলি ডেঞ্জারাস, পাঁচ বছরের জেল’

রিটার্ন দাখিল সহজ করতে অনলাইন রিটার্ন বা ই-রিটার্ন চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঘরে বসে বা পৃথিবীর যেকোন জায়গা থেকে অনলাইনে এই রিটার্ন দেয়া যায়। কিন্তু করফাঁকি দিতে অনেক করদাতা রিটার্নে কোন সম্পদ, ব্যাংকে থাকা এফডিআর, ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ি কিছুই দেখাচ্ছেন না। বাধ্যতামূলক করায় কারো মাধ্যমে বা দোকানে বসে ‘জিরো বা শূন্য রিটার্ন’ দিয়ে দিচ্ছেন। জিরো রিটার্ন নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। তবে আয়কর আইনে ‘জিরো বা শূন্য রিটার্ন’ কনসেপ্ট বা কোনো নিয়ম নেই বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি জিরো রিটার্নকে ‘এক্সট্রেমলি ডেঞ্জারাস’ উল্লেখ করে বলেছেন, করদাতা রিটার্নে যা কিছু ডিক্লার করেছেন, সেটা তার বক্তব্য। যদি তা মিথ্যা হয়, তাহলে আয়কর আইনে পাঁচ বছরের জেলের বিধান আছে। সহসাই জিরো রিটার্ন বিষয়ে এনবিআর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান। শনিবার (৯ আগস্ট) আইসিএমএবি এর একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিল বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে দেখলাম। একটা আলোচনায়ও আসলো যে, অনলাইনে রিটার্ন দেয়ার ক্ষেত্রে নতুন কনসেপ্ট জিরো রিটার্ন। সব কিছুতে জিরো ফিলাপ করে দিলেই হয়ে যায়।’ এটা এক্সট্রেমলি ডেঞ্জারাস উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের আয়কর আইনে জিরো রিটার্ন বলে কোন কনসেপ্ট কোন নিয়ম নেই। আপনি ট্যাক্সপেয়ার হিসেবে যা কিছু ডিক্লার করছেন, এটা আপনার বক্তব্য। এটা যদি মিথ্যা হয়, আমাদের আয়কর আইনেও আছে যে পাঁচ বছরের জেল। আমাদের অনেক আইন আছে, কিন্তু এনফোর্সমেন্ট এত দুর্বল।’
ICMAB
আমেরিকার উদাহরণ দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমেরিকার জেলে অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষ জেল খাটে করফাঁকির মামলায়। কারণ এটা প্রমাণ করা একেবারে সোজা। কোনো খুনি ১০০টা খুন করেছেন, কিন্তু প্রমাণ হয়নি-সেজন্য সে বেঁচে গেছেন। হয়ত ১০১টার সময় তিনি ধরা পড়ছেন। কিন্তু আয়করের ক্ষেত্রে তা না। খুবই সহজ। আপনার ব্যাংকে এফডিআর আছে। রাজস্ব বিভাগের কাছে তথ্য আছে। আদালতে গিয়ে রেভিনিউ অফিসার বলবেন, মাই লড, উনি জিরো রিটার্ন দিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংকে উনার এফডিআর আছে। এই হলো তার ডকুমেন্ট। সুতরাং মিথ্যা হলফের জন্য সব দেশে আইন আছে, আমাদের দেশেও আছে যে পাঁচ বছরের জেল।’

চেয়ারম্যান সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সকলকে বলবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকলকে জানাবেন যে, যারা বলে দোকানে বসে বসে জিরো রিটার্ন দেয়া যায়, তা অ্যাবসুলেটলি ডেঞ্জারাস। করদাতা কিন্তু এই দায় এড়াতে পারবেন না। তিনি যদি তার ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড অন্য কাউকে দিয়ে দেন-তারপর বলেন যে আমি তো দেয়নি, অমুকে দিয়েছেন-এ কথা রকম বলার কোন সুযোগ নেই। পেপার রিটার্নের ক্ষেত্রেও সুযোগ নেই, অনলাইন রিটার্নের ক্ষেত্রে মোটেও সুযোগ নেই। কারণ তাকে ডিক্লার করতে হচ্ছে, তিনি যা কিছু দিয়েছেন-তা সত্য দিয়েছেন।’
মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের রেভিনিউ এত কম। আমরা সবাই কাজ করে এই রেভিনিউ বাড়াতে পারিনি। ট্যাক্স দিয়ে কিন্তু কেউ দরিদ্র হয় না। তবে পেনাল্ট্রি এবং জরিমানা দিয়ে অনেকে দেউলিয়া হয়ে যায়। আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, কোম্পানির মালিক জানেও না তার এমপ্লয়ীরা অতিরিক্ত করে একটা বড় আকারের মিসফাইড করে ফেলেছেন। এখন পেনাল্ট্রি যদি এমন হয় যে, এটা দিতে গিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হয়। রেভিনিউ অফিসার হিসেবে আমাদের টার্গেট হলো, ব্যবসা গ্রো করুক। তার থেকে, তার পরের জেনারেশন থেকে, তার পরের জেনারেশন থেকে আরো ট্যাক্স নেয়। আমরা যদি একটা অপরাধের কারণে বিজনেসগুলোকে মেরে ফেলি, তাহলে তো আমরা পরের জেনারেশন রেভিনিউ পাবো না।’

তিনি বলেন, বড় আকারের যারা ট্যাক্স ফাঁকি দেয়, তাদের কয়জনকে আমরা ধরতে পেরেছি। সত্যিকার অর্থে তা পারিনি। তবে আমাদের গোয়েন্দারা প্রচুর কাজ করছেন। বড় আকারের যেগুলো ট্যাক্স ফাঁকি হয়েছে, আমরা উদ্ঘাটন করে আদায়ও করছি। এদিক থেকে আমাদের সফলতা ভালো। হয়ত ভবিষ্যতে আপনারা আরো কড়া এনফোর্সমেন্ট দেখবেন।©

কার্টেসী: Business PASS

10/08/2025
10/08/2025

ই রিটার্ন অডিটের প্রস্ততি নিন, সাবধান হোন

ই-রিটার্ন (E-return) অডিট মূলত ট্যাক্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আপনার জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নের সঠিকতা যাচাই করার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে আয়কর আইন অনুযায়ী, এটি ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ (NBR) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রক্রিয়াটি সাধারণত এইভাবে চলে—

১. প্রাথমিক বাছাই (Risk-based Selection)
• NBR-এর সিস্টেমে সব ই-রিটার্ন স্ক্যান করা হয়।
• যেসব রিটার্নে সন্দেহজনক বিষয় থাকে (যেমন হঠাৎ বড় আয়ের বৃদ্ধি, খরচ ও আয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য, নির্দিষ্ট সেক্টরের রিটার্ন ইত্যাদি) সেগুলো অডিট লিস্টে চলে যায়।
• বাছাই প্রক্রিয়া এলোমেলো (random) ও ঝুঁকিভিত্তিক (risk-based) — দুইভাবে হতে পারে।

২. নোটিশ প্রদান
• যদি আপনার রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়, তাহলে অডিট নোটিশ (সাধারণত ৬ মাসের মধ্যে) ই-মেইল, ডাক বা NBR-এর e-return পোর্টালে দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা থাকবে:
• কোন বিষয় যাচাই হবে
• কী কী ডকুমেন্ট দিতে হবে
• কোন তারিখে বা কোথায় হাজির হতে হবে।

৩. ডকুমেন্ট যাচাই

NBR ট্যাক্স অফিসার আপনার দেওয়া তথ্যের সাথে নিম্নোক্ত প্রমাণ মিলিয়ে দেখবে—
• ব্যাংক স্টেটমেন্ট
• বেতন বা ব্যবসার আয় সংক্রান্ত কাগজপত্র
• সম্পত্তি ও বিনিয়োগের দলিল
• খরচের প্রমাণ (যেমন মেডিকেল, শিক্ষা, হাউস রেন্ট, ডোনেশন ইত্যাদি)
• পূর্ববর্তী বছরের রিটার্ন।

৪. মৌখিক শুনানি বা সাক্ষাৎকার
• ট্যাক্স অফিসার আপনাকে বা আপনার প্রতিনিধি (CA/Tax Lawyer) কে ডেকে প্রশ্ন করতে পারেন।
• অসামঞ্জস্য ধরা পড়লে আপনাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

৫. অডিট রিপোর্ট ও অ্যাডজাস্টমেন্ট
যদি হিসাব সঠিক হয় — অডিট ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
ভুল বা গোপন তথ্য পাওয়া গেলে:
• বাড়তি কর (additional tax) ধার্য করা হবে
• জরিমানা বা সুদ যোগ হতে পারে
• গুরুতর ক্ষেত্রে কর ফাঁকি মামলা হতে পারে।

৬. আপিলের সুযোগ
• আপনি NBR-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্যাক্স আপিল ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।

💡 গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
• ই-রিটার্ন দেওয়ার সময় সঠিক তথ্য ও প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
• কমপক্ষে ৫ বছর যাবত রিটার্নের সাথে সম্পর্কিত সকল ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে হবে।
• কর পরামর্শকের সাহায্য নিলে ভুলের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

ই-রিটার্ন অডিটে NBR সাধারণত যে বিষয়গুলো বেশি খতিয়ে দেখে, তার একটি বিস্তারিত তালিকা নিচে দিলাম—

NBR যেসব বিষয় বেশি যাচাই করে:

১. আয় সংক্রান্ত অসামঞ্জস্য:
• বেতন, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্স, ভাড়া, সুদ, লভ্যাংশ, পুঁজিগত লাভ ইত্যাদির ঘোষিত পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কম বা বেশি।
• ব্যাংক স্টেটমেন্টে জমা টাকার সাথে রিটার্নে ঘোষিত আয়ের মিল না থাকা।
• পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় হঠাৎ আয়ে বড় পরিবর্তন।

২. খরচ ও ছাড় (Deductions & Exemptions)
• মেডিকেল, শিক্ষা, দান (donation), হাউস রেন্ট, বিনিয়োগ ইত্যাদিতে অস্বাভাবিক বা সর্বোচ্চ সীমার ছাড় দাবি।
• ছাড় বা করমুক্ত আয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকা।
• প্রমাণপত্র জাল বা অবৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত।

৩. সম্পদ বিবরণী (Statement of Assets & Liabilities)
• ঘোষিত সম্পদের সাথে আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য।
• নতুন সম্পত্তি, গাড়ি, শেয়ার, জমি কেনার উৎস।
• ঘোষিত দায় (loan) এর প্রমাণ।

৪. ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেন:
• ব্যাংক একাউন্টে বড় অংকের জমা বা উত্তোলন যার ব্যাখ্যা নেই।
• একাধিক ব্যাংক একাউন্টে অস্পষ্ট লেনদেন।
• বিদেশি লেনদেন (inward/outward remittance) এর সঠিক ঘোষণা।

৫. বিনিয়োগ ও শেয়ার লেনদেন:
• শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, লাইফ ইন্স্যুরেন্সে বিনিয়োগের তথ্য।
• পুঁজিগত লাভ (capital gain) ঘোষণা না করা।
• বিনিয়োগের উৎসের অসামঞ্জস্য।

৬. বিদেশি আয় ও সম্পদ
• বিদেশি চাকরি, ফ্রিল্যান্স, অনলাইন ব্যবসা বা বিনিয়োগ থেকে আয় ঘোষণা না করা।
• বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন।
• বিদেশি ভ্রমণ ও তার খরচের উৎস।

৭. ভ্যাট, উৎসে কর ও TDS:
• ব্যবসার ক্ষেত্রে VAT ও উৎসে কর সঠিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে কি না।
• উৎসে কর কেটে রাখা হলেও রিটার্নে ঠিকভাবে সমন্বয় না করা।

৮. পুরোনো রিটার্নের সাথে অসঙ্গতি:
• গত বছরের আয়ের, সম্পদের, দায়ের সাথে চলতি বছরের তথ্যের বড় পার্থক্য।
• পূর্বে করা অডিটের পর্যবেক্ষণ সমাধান না করা।

💡 টিপস:
• সব আয়, খরচ, বিনিয়োগ ও সম্পদের প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করুন।
• বড় লেনদেনের আগে তার ট্যাক্স ইমপ্লিকেশন বুঝে নিন।
• রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগ সার্টিফিকেট, ভাড়া চুক্তি, রসিদ—সব কপি রেখে দিন।

** কম্পিউটারের দোকান থেকে আয়কর ই রিটার্ণ জমা না দেয়া উচিৎ হবে। ই রিটার্ণ অডিট হবে বৈজ্ঞানিক ও এআই দিয়ে সিলেকশন করে। প্রস্তুত হোন, সাবধান হোন, সচেতন হোন।

07/08/2025

✔️ ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার [ITP] পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন সবাইকে অনেক অনেক কংগ্রাচুলেশন।🎉

সেই সাথে আপনাদের জন্য আমার পক্ষ হতে ৬ টি অনুরোধ রইল:

১। ভালো অডিট ফার্ম থেকে আপনারা কাজ করিয়ে নিবেন যাতে একটি একাউন্টস অডিট হওয়ার পরে ট্যাক্স অফিস আর কোন ভুল ত্রুটি খুঁজে না পায়, এর ফলে আপনার, ওই অডিটরের এবং কোম্পানির সুনাম বৃদ্ধি পাবে, আপনি ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাবেন।

২। সঠিক এবং অথেন্টিক নাম্বার দিয়ে একাউন্টস তৈরি করবেন যাতে প্রতিটা ফিগারের এগেনস্টে সাপোর্টিং থাকে। এর ফলে আপনি এবং উক্ত কোম্পানি বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

৩। প্রতিটি asset addition এবং খরচের জন্য আইন অনুযায়ী যে পরিমাণ TDS এবং VDS দেওয়ার কথা সেই পরিমাণ দেওয়া হয়েছে কিনা নিশ্চিত করবেন। আর যদি না দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে সেটার জন্য Provision রাখা হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করবেন।

৪। কোম্পানির মালিকদেরকে সকল ধরনের ইনকাম একাউন্টে দেখাতে উৎসাহ দিবেন কারণ সেটা না করলে একদিন না একদিন ধরা খেতেই হবে কারণ একাউন্টিং সিস্টেম একটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া এটি হাইড করার কোন সুযোগ থাকে না। সাময়িকভাবে হাইড করতে পারবেন কিন্তু সঠিকভাবে তদন্ত করলে অবশ্যই ধরা পড়বে।

৫। আমাদের দেশে অনেক ছোটখাটো কোম্পানির রয়েছে যারা ডাবল এন্ট্রি সিস্টেমে হিসাব রাখে না, শুধু ক্যাশ এবং ব্যাংকের হিসাব রাখে। এই ধরনের কোম্পানির ক্ষেত্রে আপনারা Balance Sheet Approach ফলো করে একাউন্টস তৈরি করবেন এবং প্রথমেই Cash Basis Trial Balance কে Accrual Basis Trial Balance এ কনভার্ট করে নিবেন।

৬। আপনার প্রতিটি কাজে যেন মেধা এবং আপনার জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটে যেটা আপনাকে ধাপে ধাপে সুন্দর একটি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সবার জন্য শুভকামনা রইল।

03/08/2025

ব্যক্তি করদাতাগণের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে বহু বছর ধরে চলে আসা সনাতনি পদ্ধতিতে আয়কর রিটার্ন দাখিলের অবসান হলো। নি:সন্দেহে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত। এখন থেকে ট্যাক্স অফিসের দৌরাত্ম ও হ্যাসেল কমে যাবে, কমে যাবে সার্টিফিকেট বানিজ্য।

সতর্কতা: নিজে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে নির্ভুলভাবে করুন, কারন ফাঁকি ধরা এখন অটোমেটেড হয়ে গেছে। বিশেষ করে গাড়ি, ব্যাংক, সন্চয়পত্র, ভবন/বাড়ি নির্মান, ফ্লাট, ডিজিটালি রেজিষ্টার্ড যেকোনো কিছুর একসেস রাজস্ব বোর্ডের রয়েছে।

আয়কর উপদেষ্টা

Address

46/2/R, Jigatola, Dhanmondi
Dhaka
1209

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when VATAX PRO posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to VATAX PRO:

Share

Category