31/01/2026
লিগ্যাল অ্যাওয়ারনেস: পর্ব-১
বিষয়ঃ
চেক ডিসঅনার ও মামলা সংক্রান্ত আইন: সাধারণ মানুষের করণীয়
প্রযোজ্য আইন-
নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (সংশোধিত)
বিশেষত: ধারা ১৩৮, ১৩৮(এ), ১৪০
১. চেক ডিসঅনার কী?
ব্যাংকে জমা দেওয়া কোনো চেক যদি—
পর্যাপ্ত টাকা না থাকা
স্বাক্ষর অমিল
ভুল তারিখ / মেয়াদোত্তীর্ণ
স্টপ পেমেন্ট
ইত্যাদি কারণে ফেরত আসে, তাহলে তাকে চেক ডিসঅনার বলা হয়।
বাংলাদেশে এটি ফৌজদারি অপরাধ।
২. চেক ডিসঅনার হলে চেক গ্রহীতার করণীয় (Step-by-Step)
ধাপ–১: ব্যাংক রিটার্ন মেমো সংগ্রহ
চেক ফেরত এলে ব্যাংক থেকে লিখিত রিটার্ন মেমো নিতে হবে।
ধাপ–২: লিগ্যাল নোটিশ প্রদান (৩০ দিনের মধ্যে)
রিটার্ন মেমো পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে
চেক প্রদানকারীকে আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে।
ধাপ–৩: ১৫ দিনের অপেক্ষা
নোটিশে টাকা পরিশোধের জন্য ১৫ দিন সময় দিতে হবে।
ধাপ–৪: মামলা দায়ের
১৫ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে
পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করতে হবে।
৩. মামলা কোথায় ও কিভাবে?
আদালত: মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট / জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
মামলা প্রকৃতি: ফৌজদারি
সাক্ষ্য: চেক, রিটার্ন মেমো, নোটিশ, ডাক রসিদ/কুরিয়ার প্রমাণ
৪. শাস্তির বিধান
দোষ প্রমাণিত হলে আদালত দিতে পারেন—
সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড, অথবা
চেকের টাকার সমপরিমাণ বা দ্বিগুণ জরিমানা, অথবা
কারাদণ্ড ও জরিমানা উভয়ই
৫. চেক প্রদানকারীর (অভিযুক্ত) করণীয়
লিগ্যাল নোটিশ অবহেলা না করা
দ্রুত টাকা পরিশোধ বা সমঝোতার চেষ্টা করা
আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া
আদালতে হাজিরা ও আত্মপক্ষ সমর্থন করা
৬. সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
খালি চেকে কখনো স্বাক্ষর দেবেন না
চেকের অঙ্ক সংখ্যায় ও কথায় মিলিয়ে লিখুন
চেক দেওয়ার আগে হিসাবের ব্যালান্স নিশ্চিত করুন
বড় লেনদেনে লিখিত চুক্তি সংরক্ষণ করুন
৭. সমঝোতার সুযোগ
চেক ডিসঅনার মামলা সমঝোতাযোগ্য (Compounding Offence)।
মামলা দায়েরের আগেও বা চলাকালীন পারস্পরিক সমঝোতায় নিষ্পত্তি সম্ভব।
মূল বার্তা
চেক একটি আইনি প্রতিশ্রুতি। অবহেলা করলে ফৌজদারি দায় তৈরি হয়।
সঠিক সময়ে নোটিশ ও আইনি পদক্ষেপ নিলে পাওনা আদায় যেমন সম্ভব, তেমনি সচেতন থাকলে মামলা এড়ানোও যায়।