ইনসাফ হজ্জ্ব কাফেলা

Website

ইনসাফ হজ্জ্ব কাফেলা Saudi Tourist Visa (Umrah Hajj)
Nusuk Account & Permit Support
Chattogram | WhatsApp Only

28/07/2026
নবীজি ﷺ-এর স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল… কিন্তু মাত্র ১০ বছরের জন্য!অর্থাৎ বুখারী শরীফের একটি হাদিসের উপর মাত্র ১০ বছর আমল হয়েছে...
12/04/2026

নবীজি ﷺ-এর স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল… কিন্তু মাত্র ১০ বছরের জন্য!
অর্থাৎ বুখারী শরীফের একটি হাদিসের উপর মাত্র ১০ বছর আমল হয়েছে নবীজির পর ‌।( এরপর ব্যাখ্যা সাপেক্ষ) ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি বুখারী শরীফের হাদিসের বিপরীত ফতোয়া দিয়েছেন। জা আজ ও কার্যকর । ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট প্রমাণ করে হাদিস সহি হলেই মানতে হবে এটা জরুরী নয়।

কখনো কি নিজেকে জিজ্ঞেস করেছ — কাবার দরজা কেন মাত্র একটা? আর কেন এত উঁচুতে?

সত্যি কথা হলো, আমরা এখন যে কাবা দেখি, এটা নবীজি ﷺ যা চেয়েছিলেন তা নয়।

নবীজির ইচ্ছা: নবীজি ﷺ হযরত আয়েশা রা.-কে বলেছিলেন — তোমার কওম যদি জাহেলিয়্যাত থেকে সদ্য মুক্ত না হতো, আমি কাবায় দুটো দরজা রাখতাম। একটা দিয়ে মানুষ ঢুকবে, আরেকটা দিয়ে বের হবে।

স্বপ্নের বাস্তবায়ন: বহু বছর পর সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র রা. সেই ইচ্ছা পূরণ করলেন। দুটো দরজা বানালেন এবং দরজাগুলো মাটির সাথে সমান রাখলেন। যেকেউ সহজে কাবায় প্রবেশ করতে পারতেন।

বড় পরিবর্তন: যখন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ মক্কায় প্রবেশ করল, সে সব উল্টে দেওয়ার নির্দেশ দিল। দ্বিতীয় দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিল, প্রথম দরজা উঁচুতে তুলে দিল এবং কাবাকে আবার পুরোনো আকৃতিতে ফিরিয়ে দিল। সেদিন থেকে সেই স্বপ্ন হারিয়ে গেল।

কেন আজও পরিবর্তন হয়নি: যখন আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলো, ইমাম মালিক রহ. বললেন — এই ঘরকে রাজা-বাদশাদের খেলার মাঠ বানিও না। সেই থেকে কাবার এই রূপ স্থায়ী হয়ে গেছে।

**এক. নবীজি ﷺ-এর বক্তব্য সংক্রান্ত হাদিস**

মূল হাদিসটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম উভয়েই বর্ণিত হয়েছে।

সহিহ বুখারি, কিতাবুল হজ্জ, বাবু ফাদলি মক্কা ওয়া বুনয়ানিহা — হাদিস নম্বর ১৫৮৩, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫৭ (দারু ইবনে কাসির, বৈরুত সংস্করণ)।

সহিহ মুসলিম, কিতাবুল হজ্জ, বাবু নাকদিল কা'বা ওয়া বিনাইহা — হাদিস নম্বর ১৩৩৩, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৬৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত সংস্করণ)।

হাদিসের মূল আরবি পাঠ হলো: عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لَهَا: يَا عَائِشَةُ، لَوْلَا أَنَّ قَوْمَكِ حَدِيثُو عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ، لَأَمَرْتُ بِالْبَيْتِ فَهُدِمَ، فَأَدْخَلْتُ فِيهِ مَا أُخْرِجَ مِنْهُ، وَأَلْزَقْتُهُ بِالْأَرْضِ، وَجَعَلْتُ لَهُ بَابَيْنِ: بَابًا شَرْقِيًّا، وَبَابًا غَرْبِيًّا

অনুবাদ: হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ তাঁকে বললেন — হে আয়েশা, তোমার কওম যদি জাহেলিয়্যাত থেকে সদ্য মুক্ত না হতো, তাহলে আমি কাবা ঘর ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতাম, হাতিমের অংশ ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করতাম, দরজা মাটির সমান করতাম এবং দুটো দরজা রাখতাম — একটি পূর্বে, একটি পশ্চিমে।

**দুই. আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র রা.-এর পুনর্নির্মাণ**

ইবনে যুবায়র রা. ৬৪ হিজরিতে কাবা পুনর্নির্মাণ করেন এবং নবীজির ইচ্ছা অনুযায়ী দুটো দরজা স্থাপন করেন।

সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৩৩৩-এর পরবর্তী বর্ণনা।

আরো বিস্তারিত: ইমাম নববি রহ., শরহু সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৮৯-৯৩ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা সংস্করণ)।

ইবনে কাসির রহ., আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩২৮-৩৩৫ (দারু হিজর সংস্করণ)।

**তিন. হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পরিবর্তন**

হাজ্জাজ ৭৩ হিজরিতে ইবনে যুবায়র রা.-কে পরাজিত করার পর আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নির্দেশে কাবাকে পূর্বের কুরাইশি কাঠামোয় ফিরিয়ে নেন।

সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৩৩৩-এর বর্ণনার ধারাবাহিকতা।

ইমাম আজরাকি রহ., আখবারু মক্কা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৮-২৭৫ (দারুল আন্দালুস, বৈরুত সংস্করণ) — এটি মক্কার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সূত্র।

ইবনুল আসির রহ., আল-কামিল ফিত তারিখ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭৮-১৮৫ (দারু সাদির, বৈরুত সংস্করণ)।

**চার. ইমাম মালিক রহ.-এর অভিমত**

আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান ইমাম মালিক রহ.-এর কাছে কাবাকে পুনরায় ইবনে যুবায়রের কাঠামোয় ফিরিয়ে দেওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি বলেছিলেন — لَا تَجْعَلُوا هَذَا الْبَيْتَ مَلْعَبَةً لِلْمُلُوكِ অর্থাৎ এই ঘরকে রাজাদের খেলার সামগ্রী বানিও না।

সূত্র: ইমাম মালিক রহ., আল-মুওয়াত্তা, কিতাবুল হজ্জ, বাব মা জাআ ফিল কা'বা — রিওয়ায়াত ইয়াহইয়া আল-লায়সি, হাদিস নম্বর ৮৩৩, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫৩ (দারুল গারবিল ইসলামি সংস্করণ)।

ইমাম কুরতুবি রহ., আল-জামি লিআহকামিল কুরআন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৩ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যা সংস্করণ) — এখানে ইমাম মালিকের ফতোয়ার পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

**পাঁচ. আধুনিক তাহকিকি গ্রন্থ**

ড. আলি ইবরাহিম আস-সালুস, মাওসুআতু মাসাইলিল জুমহুর — এখানে এই পুরো বিষয়ের ফিকহি বিশ্লেষণ রয়েছে।

শায়খ সাফিউর রহমান মুবারকপুরি রহ., আর-রাহিকুল মাখতুম — বাংলা অনুবাদে আল-কারামাহ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৪৭-৫২ (মক্কার ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অধ্যায়)।

মসজিদুল হারামে কোথায় দাঁড়িয়ে দোয়া করলে বিশেষভাবে কবুল হয়, জানেন কি?মসজিদুল হারামের যেকোনো স্থানে করা দোয়া আল্লাহ ক...
11/04/2026

মসজিদুল হারামে কোথায় দাঁড়িয়ে দোয়া করলে বিশেষভাবে কবুল হয়, জানেন কি?

মসজিদুল হারামের যেকোনো স্থানে করা দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।
তবে কিছু নির্দিষ্ট স্থান আছে, যেখানে দোয়া কবুলের ব্যাপারে বিশেষ ফযিলত বর্ণিত হয়েছে।
হজ ও উমরার সময় এই স্থানগুলোতে দাঁড়ালে বান্দা ও রবের সম্পর্ক অন্যরকম হয়ে যায়।

🕋 কাবার ভেতরে সালাত
কাবা শরীফের ভেতরে নামাজ আদায় করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
যদিও সাধারণ হাজিদের জন্য সুযোগ থাকে না,
তবুও কাবার নিকটে দাঁড়িয়ে দোয়া করা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

🕋 মাতাফ
মাতাফ হলো কাবা শরীফকে ঘিরে তাওয়াফ করার স্থান।
তাওয়াফের সময় করা দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান।
এই সময়টা দোয়ায় কাটানোই উত্তম।

🕋 মুলতাজাম
হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মাঝের প্রায় দুই মিটার জায়গাকে মুলতাজাম বলা হয়।
এখানে কাবার দেয়ালে বুক, গাল ও হাত লাগিয়ে দোয়া করা সুন্নাহর আমল হিসেবে বর্ণিত।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) তাওয়াফ শেষে এখানে দাঁড়িয়ে দোয়া করতেন এবং বলতেন,
“এভাবেই আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দাঁড়াতে দেখেছি।”

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন:
“হাজরে আসওয়াদ ও দরজার মাঝের জায়গায় করা দোয়ার গ্রহণযোগ্যতার নিদর্শন দেখা যাবে।”
(Akhbaar Makkah)

🕋 হাজরে আসওয়াদ
কাবা শরীফের পূর্ব কোণে অবস্থিত এই পাথর জান্নাত থেকে অবতীর্ণ।
রাসুল ﷺ বলেছেন:
“হাজরে আসওয়াদ দুধের চেয়েও সাদা ছিল, কিন্তু মানুষের গুনাহ একে কালো করে দিয়েছে।”
(তিরমিযি)

🕋 রুকন ইয়ামানি
কাবা শরীফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ।
তাওয়াফের সময় এটি হাত দিয়ে স্পর্শ করা সুন্নাহ।
এই কোণ অতিক্রমের সময় রাসূল ﷺ দোয়া পড়তেন:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

🕋 হাতিম / হিজর ইসমাইল
কাবার সংলগ্ন অর্ধবৃত্তাকার অংশ, যা কাবার অংশ হিসেবে গণ্য।
এখানে নামাজ আদায় কাবার ভেতরে নামাজ আদায়ের সমান।

🕋 মাকামে ইবরাহীম
মাকামে ইবরাহীম হলো কাবার নিকটে একটি পাথর, যাতে নবী ইবরাহীম (আ.)-এর পদচিহ্ন রয়েছে। তাওয়াফ শেষে এর পিছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নাহ।
এরপর দোয়া করা হয়।

🕋 মাসআ:
মাসআ হলো সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝের পথ।
এখানেই সাঈ করা হয়, সাতবার যাতায়াতের মাধ্যমে।
এই সময় করা দোয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণিত হয়েছে।

হজ বা উমরায় এই স্থানগুলো সম্পর্কে আগে থেকে জানলে,
প্রতিটি মুহূর্ত দোয়া ও ইবাদতে আরও অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। 🤲

হজের দিনগুলো কাছে আসছে…আর সেই সাথে প্রস্তুত হচ্ছে আল্লাহর পবিত্র ঘর। 🕋প্রতি বছরের মতোই কাবার গিলাফ ধীরে ধীরে তুলে দেখা হ...
07/04/2026

হজের দিনগুলো কাছে আসছে…
আর সেই সাথে প্রস্তুত হচ্ছে আল্লাহর পবিত্র ঘর। 🕋

প্রতি বছরের মতোই কাবার গিলাফ ধীরে ধীরে তুলে দেখা হচ্ছে, যত্ন করে পরিষ্কার করা হচ্ছে।
নরম কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে যেন জমে আছে শতাব্দীর ইবাদতের স্মৃতি…

কত হৃদয়ের কান্না, কত দোয়া, কত আশা
সবকিছুকে আবার বরণ করে নিতে প্রস্তুত হচ্ছে এই পবিত্র ঘর। ✨

লাখো হাজি আসবেন ক্ষমা আর রহমতের আশায়…
কাবা প্রস্তুত হচ্ছে তাদের জন্য,
আমাদের হৃদয় কি প্রস্তুত হচ্ছে? 🤍

হৃদয়ের এই প্রস্তুতির জন্য
আপনি কি প্রস্তুত?

📌 হজ ২০২৬ প্রশিক্ষণ চলছে | চতুর্থ সেশন | ০৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার

আজকের সেশনে অংশ নিতে চাইলে এখনই যোগাযোগ করুন।
আজকের সেশনে অংশ নিতে প্রথম কমেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করুন 👇

❑ লাইলাতুল ক্বদরের রাতটি চেনার কিছু আলামত হাদিসে পাওয়া যায়। তা নিন্মরুপঃ(১) রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না। (২) নাতিশী...
12/03/2026

❑ লাইলাতুল ক্বদরের রাতটি চেনার কিছু আলামত হাদিসে পাওয়া যায়। তা নিন্মরুপঃ

(১) রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।
(২) নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।
(৩) মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।
(৪) সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে।
(৫) কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন।
(৬) ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।
(৭) সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত।
রেফারেন্স: [সহীহ ইবনু খুযাইমাহঃ ২১৯০, সহীহ বুখারীঃ ২০২১, সহীহ মুসলিমঃ ৭৬২]

মদিনা থেকে জমজম পানি সংগ্রহ করতে চান? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঅনেকেই জানেন না, মসজিদে নববি–এ একটি নির্দিষ্ট জায়গা আছে,...
11/03/2026

মদিনা থেকে জমজম পানি সংগ্রহ করতে চান? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

অনেকেই জানেন না, মসজিদে নববি–এ একটি নির্দিষ্ট জায়গা আছে, যেখান থেকে সরাসরি জমজমের পানি সংগ্রহ করা যায়।

📍 এই সংগ্রহকেন্দ্রটি রয়েছে গেট নং ৩১০–এর কাছে।
এখান থেকেই মদিনায় অবস্থানরত মুসল্লিরা বড় কন্টেইনারে জমজম পানি সংগ্রহ করেন।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আছে,
এখানে ছোট বোতল বা ছোট পাত্রে জমজম ভরা অনুমোদিত নয়।

✔️ সাধারণত যেসব কন্টেইনার ব্যবহার করা যায়:
• ১ থেকে ৫ লিটার বোতল/গ্যালন/পাত্র

❌ যেগুলো অনুমোদিত নয়:
• ১ লিটারের কম ছোট বোতল
• ছোট পাত্র

🕒 জমজম পানি সংগ্রহের সময়সূচি

• রাত ২:০০ – ভোর ৪:০০
• সকাল ৮:০০ – সকাল ১০:০০
• বিকাল ৪:০০ – বিকাল ৫:০০
• রাত ৮:০০ – রাত ১০:০০

ℹ️ দ্রষ্টব্য:
মসজিদ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।

যারা মদিনা অবস্থান করছেন এবং জমজম পানি সংগ্রহ করতে চান, তাদের জন্য গেট ৩১০–এর এই সংগ্রহকেন্দ্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার হজ্ব ও ভ্রমণের বিশ্বস্ত সহযাত্রী। “নিরাপদ যাত্রায় ইনসাফ হজ্ব কাফেলা পাশে আছে

📞 যোগাযোগ করুন এখনই:
📱+8801862 424044,
https://w.app/me/01862424044
📍 অফিস ঠিকানা: ১ম তলা , ইনসাফ হজ্ব কাফেলা, বড়পোল, হালিশহর, চট্টগ্রাম।
🌐www.facebook.com/insafhajjkafela

যারা মদিনায় আছেন, তারা তথ্যটি অন্যদের জানাতে শেয়ার করতে পারেন।

সিজদা হলো বান্দার জন্য আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম। এই অবস্থায় ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) পাঠ করার ফজিলত অত্...
09/03/2026

সিজদা হলো বান্দার জন্য আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম। এই অবস্থায় ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) পাঠ করার ফজিলত অত্যন্ত গভীর। নিচে হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

​১. আল্লাহর সর্বাধিক নৈকট্য লাভ
​রাসূলুল্লাহ (সা.) সিজদাবস্থায় দুআ ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে বলেছেন যে, এটিই আল্লাহর কাছে চাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়।

​হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"বান্দা যখন সিজদারত থাকে, তখন সে তার রবের (প্রতিপালকের) সবচেয়ে কাছে থাকে। সুতরাং তোমরা তখন বেশি বেশি দুআ করো।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৪৮২)

​২. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিজস্ব আমল
​রাসূল (সা.) নিজে সিজদায় গিয়ে ব্যাপক ও গভীর অর্থবহ ইস্তিগফার পাঠ করতেন। তিনি ছোট-বড় সকল গুনাহ থেকে পানাহ চাইতেন।

​রাসূল (সা.)-এর সিজদাহর ইস্তিগফার:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ
(আল্লাহুম্মাগফিরলী জাম্বী কুল্লাহু, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আউয়ালাহু ওয়া আখিরাহু, ওয়া আলানিয়াতাহু ওয়া সিররাহু)

​অনুবাদ: "হে আল্লাহ! আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন—ছোট গুনাহ, বড় গুনাহ, পূর্বের গুনাহ, পরের গুনাহ, প্রকাশ্যে করা গুনাহ এবং গোপনে করা গুনাহ।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৪৮৩)

​৩. দুআ কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়
​ইস্তিগফার নিজেই একটি দুআ। সিজদায় দুআ করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

​সহিহ মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: রাসূল (সা.) বলেছেন, "সিজদায় তোমরা দুআ করার জন্য খুব বেশি চেষ্টা করো, কারণ সিজদাবস্থায় তোমাদের দুআ কবুল হওয়ার উপযোগী।"

​৪. গুনাহ মোচনের মাধ্যম
​সিজদাহ্ হচ্ছে বিনয়ের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। একজন মুমিন যখন ধুলোয় মাথা ঠেকিয়ে নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং ইস্তিগফার করে, তখন আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং গুনাহ মিটিয়ে দেন।

​হাদিস: "তুমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সিজদাও করবে না এমন, যার বিনিময়ে আল্লাহ তোমার মর্যাদা এক ধাপ বাড়িয়ে দেবেন না এবং তোমার একটি গুনাহ ক্ষমা করবেন না।" (সহিহ মুসলিম)

​৫. সিজদায় ইস্তিগফারের বিশেষ তাৎপর্য
​সিজদাহ হলো মানুষের অহংকার বিসর্জন দেওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্ত। শরীরের সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গ 'কপাল' যখন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, তখন মানুষের হৃদয় বিনয়ে পূর্ণ থাকে। এই বিনয়াবনত অবস্থায় যখন কেউ বলে "হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করো", তখন আল্লাহর রহমত দরিয়ায় জোয়ার আসে।

​কুরআন ও সুন্নাহর সমন্বয়:
​কুরআনে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, "তুমি তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করো।" (সূরা আন-নাসর: ৩)। রাসূল (সা.) এই আয়াতের আমল সবচেয়ে বেশি সিজদাতেই করতেন।

​৬. সিজদায় পড়ার জন্য আরও কিছু মাসনুন দোয়া
​আপনি যদি সিজদায় ইস্তিগফার করতে চান, তবে সুন্নাহ সমর্থিত এই ছোট কিন্তু শক্তিশালী দোয়াগুলো পড়তে পারেন:

▪️​সহজ ও ছোট দোয়া:
​سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
(সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফিরলী)

অর্থ: "হে আমাদের রব আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি আপনার প্রশংসাসহ। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।" (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

ফজিলত: মা আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) রুকু ও সিজদায় এই দোয়াটি প্রচুর পরিমাণে পাঠ করতেন।

▪️​গুনাহ মাপের গভীর আবেদন:
​رَبِّ اغْفِرْ لِي مَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ
(রাব্বিগফিরলী মা আসরারতু ওয়া মা আ’লানতু)

অর্থ: "হে আমার রব! আমার গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন।" (নাসায়ি)

​৭. কেন সিজদাহ ইস্তিগফারের জন্য সেরা সময়?
​হাদিস বিশারদগণ সিজদায় ইস্তিগফারের তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন:

▪️​পর্দা উঠে যায়: বান্দা ও আল্লাহর মাঝখানে সিজদাবস্থায় কোনো আড়াল থাকে না।

▪️​শয়তানের পরাজয়: মানুষ যখন সিজদা করে, তখন শয়তান দূরে গিয়ে কাঁদে এবং বলে, "আফসোস! আদম সন্তান সিজদার নির্দেশ পেয়ে সিজদা করল এবং জান্নাত লাভ করল, আর আমি আদেশ অমান্য করে জাহান্নামী হলাম।" এমতাবস্থায় ইস্তিগফার করলে তা দ্রুত কবুল হয়।

▪️​বিনয়ের পরাকাষ্ঠা: শরীরের নিম্নতম অবস্থানে থেকে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা (সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা) করার পর ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তা ফিরিয়ে দেন না।

​৮. নফল নামাজে দীর্ঘ সিজদার ফজিলত
​বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ বা নফল নামাজে দীর্ঘ সিজদাহ করে কান্নাকাটি করা এবং ইস্তিগফার করা পূর্ববর্তী নেককার বান্দাদের (সালাফে সালেহীন) নিয়মিত অভ্যাস ছিল। অনেক সাহাবী সিজদাবস্থায় এত বেশি ইস্তিগফার করতেন যে, আশপাশের মানুষ মনে করত তারা হয়তো দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।

✅ ​কিছু জরুরি মাসয়ালা:

▪️​ফরজ নামাজে: ফরজ নামাজে ইমামের পেছনে থাকলে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইস্তিগফার করা সম্ভব না হতে পারে। তবে রুকু-সিজদাহর নির্ধারিত তসবিহ পড়ার পর সংক্ষিপ্ত ইস্তিগফার করা জায়েজ।

▪️​নফল বা সুন্নাত নামাজে: নফল ও তাহাজ্জুদ নামাজে সিজদাহ্ দীর্ঘ করে রাসূল (সা.)-এর শেখানো উপরের ইস্তিগফারটি পাঠ করা অনেক সওয়াব ও বরকতের কাজ।

​সিজদাবস্থায় নিজের ভাষায় বা মাসনুন দুআর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া একজন মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হতে পারে।
সংগ্রহিত

Address

1st Floor, Alam Plaza, Boropole Cercle, Halishahar, Chattogram
Chittagong
4216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইনসাফ হজ্জ্ব কাফেলা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share