12/04/2026
নবীজি ﷺ-এর স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল… কিন্তু মাত্র ১০ বছরের জন্য!
অর্থাৎ বুখারী শরীফের একটি হাদিসের উপর মাত্র ১০ বছর আমল হয়েছে নবীজির পর ।( এরপর ব্যাখ্যা সাপেক্ষ) ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি বুখারী শরীফের হাদিসের বিপরীত ফতোয়া দিয়েছেন। জা আজ ও কার্যকর । ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট প্রমাণ করে হাদিস সহি হলেই মানতে হবে এটা জরুরী নয়।
কখনো কি নিজেকে জিজ্ঞেস করেছ — কাবার দরজা কেন মাত্র একটা? আর কেন এত উঁচুতে?
সত্যি কথা হলো, আমরা এখন যে কাবা দেখি, এটা নবীজি ﷺ যা চেয়েছিলেন তা নয়।
নবীজির ইচ্ছা: নবীজি ﷺ হযরত আয়েশা রা.-কে বলেছিলেন — তোমার কওম যদি জাহেলিয়্যাত থেকে সদ্য মুক্ত না হতো, আমি কাবায় দুটো দরজা রাখতাম। একটা দিয়ে মানুষ ঢুকবে, আরেকটা দিয়ে বের হবে।
স্বপ্নের বাস্তবায়ন: বহু বছর পর সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র রা. সেই ইচ্ছা পূরণ করলেন। দুটো দরজা বানালেন এবং দরজাগুলো মাটির সাথে সমান রাখলেন। যেকেউ সহজে কাবায় প্রবেশ করতে পারতেন।
বড় পরিবর্তন: যখন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ মক্কায় প্রবেশ করল, সে সব উল্টে দেওয়ার নির্দেশ দিল। দ্বিতীয় দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিল, প্রথম দরজা উঁচুতে তুলে দিল এবং কাবাকে আবার পুরোনো আকৃতিতে ফিরিয়ে দিল। সেদিন থেকে সেই স্বপ্ন হারিয়ে গেল।
কেন আজও পরিবর্তন হয়নি: যখন আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলো, ইমাম মালিক রহ. বললেন — এই ঘরকে রাজা-বাদশাদের খেলার মাঠ বানিও না। সেই থেকে কাবার এই রূপ স্থায়ী হয়ে গেছে।
**এক. নবীজি ﷺ-এর বক্তব্য সংক্রান্ত হাদিস**
মূল হাদিসটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম উভয়েই বর্ণিত হয়েছে।
সহিহ বুখারি, কিতাবুল হজ্জ, বাবু ফাদলি মক্কা ওয়া বুনয়ানিহা — হাদিস নম্বর ১৫৮৩, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৫৭ (দারু ইবনে কাসির, বৈরুত সংস্করণ)।
সহিহ মুসলিম, কিতাবুল হজ্জ, বাবু নাকদিল কা'বা ওয়া বিনাইহা — হাদিস নম্বর ১৩৩৩, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৬৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত সংস্করণ)।
হাদিসের মূল আরবি পাঠ হলো: عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لَهَا: يَا عَائِشَةُ، لَوْلَا أَنَّ قَوْمَكِ حَدِيثُو عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ، لَأَمَرْتُ بِالْبَيْتِ فَهُدِمَ، فَأَدْخَلْتُ فِيهِ مَا أُخْرِجَ مِنْهُ، وَأَلْزَقْتُهُ بِالْأَرْضِ، وَجَعَلْتُ لَهُ بَابَيْنِ: بَابًا شَرْقِيًّا، وَبَابًا غَرْبِيًّا
অনুবাদ: হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ তাঁকে বললেন — হে আয়েশা, তোমার কওম যদি জাহেলিয়্যাত থেকে সদ্য মুক্ত না হতো, তাহলে আমি কাবা ঘর ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতাম, হাতিমের অংশ ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করতাম, দরজা মাটির সমান করতাম এবং দুটো দরজা রাখতাম — একটি পূর্বে, একটি পশ্চিমে।
**দুই. আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র রা.-এর পুনর্নির্মাণ**
ইবনে যুবায়র রা. ৬৪ হিজরিতে কাবা পুনর্নির্মাণ করেন এবং নবীজির ইচ্ছা অনুযায়ী দুটো দরজা স্থাপন করেন।
সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৩৩৩-এর পরবর্তী বর্ণনা।
আরো বিস্তারিত: ইমাম নববি রহ., শরহু সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৮৯-৯৩ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা সংস্করণ)।
ইবনে কাসির রহ., আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩২৮-৩৩৫ (দারু হিজর সংস্করণ)।
**তিন. হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পরিবর্তন**
হাজ্জাজ ৭৩ হিজরিতে ইবনে যুবায়র রা.-কে পরাজিত করার পর আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নির্দেশে কাবাকে পূর্বের কুরাইশি কাঠামোয় ফিরিয়ে নেন।
সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৩৩৩-এর বর্ণনার ধারাবাহিকতা।
ইমাম আজরাকি রহ., আখবারু মক্কা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৮-২৭৫ (দারুল আন্দালুস, বৈরুত সংস্করণ) — এটি মক্কার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সূত্র।
ইবনুল আসির রহ., আল-কামিল ফিত তারিখ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭৮-১৮৫ (দারু সাদির, বৈরুত সংস্করণ)।
**চার. ইমাম মালিক রহ.-এর অভিমত**
আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান ইমাম মালিক রহ.-এর কাছে কাবাকে পুনরায় ইবনে যুবায়রের কাঠামোয় ফিরিয়ে দেওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি বলেছিলেন — لَا تَجْعَلُوا هَذَا الْبَيْتَ مَلْعَبَةً لِلْمُلُوكِ অর্থাৎ এই ঘরকে রাজাদের খেলার সামগ্রী বানিও না।
সূত্র: ইমাম মালিক রহ., আল-মুওয়াত্তা, কিতাবুল হজ্জ, বাব মা জাআ ফিল কা'বা — রিওয়ায়াত ইয়াহইয়া আল-লায়সি, হাদিস নম্বর ৮৩৩, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫৩ (দারুল গারবিল ইসলামি সংস্করণ)।
ইমাম কুরতুবি রহ., আল-জামি লিআহকামিল কুরআন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৩ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যা সংস্করণ) — এখানে ইমাম মালিকের ফতোয়ার পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
**পাঁচ. আধুনিক তাহকিকি গ্রন্থ**
ড. আলি ইবরাহিম আস-সালুস, মাওসুআতু মাসাইলিল জুমহুর — এখানে এই পুরো বিষয়ের ফিকহি বিশ্লেষণ রয়েছে।
শায়খ সাফিউর রহমান মুবারকপুরি রহ., আর-রাহিকুল মাখতুম — বাংলা অনুবাদে আল-কারামাহ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৪৭-৫২ (মক্কার ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অধ্যায়)।