aklegalaid.com

Website

aklegalaid.com Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from aklegalaid.com, Lawyer & Law Firm, চেম্বার নং:454, আইনজীবী এনেক্স ভবন1, জজআদালত চট্টগ্রাম, Chittagong.

Advocate and consultant, Supreme Court of Bangladesh and Judges court Chittagong.LLB(Hons)LLM,(10batchCU) For details please visit my website: aklegalaid.com, Cont: 01818096005/01876634063

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের (LST) সময়সীমা শেষ: তাহলে কি বিএস রেকর্ডের ভুল আর সংশোধন করা যাবে না?একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন...
19/07/2026

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের (LST) সময়সীমা শেষ: তাহলে কি বিএস রেকর্ডের ভুল আর সংশোধন করা যাবে না?

একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নের বিশ্লেষণ

ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—

"ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। এখন কি বিএস রেকর্ডের ভুল আর সংশোধন করা সম্ভব নয়?"

অনেকেই এ প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি বলেন—"আর কোনো উপায় নেই।"

কিন্তু আইনগত বাস্তবতা এতটা সরল নয়।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে, প্রতিটি ভূমি বিরোধের প্রকৃতি এক নয়। কোনো বিরোধ কেবল রেকর্ডের ভুলকে কেন্দ্র করে হতে পারে, আবার কোনো বিরোধের মূল প্রশ্ন হতে পারে প্রকৃত মালিকানা, উত্তরাধিকার, অংশীদারিত্ব বা স্বত্বের অধিকার।

তাই শুধু "LST-এর সময়সীমা শেষ"—এই একটি তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির সব ধরনের আইনগত প্রতিকার বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া সব ক্ষেত্রে যথার্থ নাও হতে পারে।

রেকর্ড কি মালিকানা সৃষ্টি করে?

বাংলাদেশের ভূমি আইনের একটি মৌলিক নীতি হলো—

রেকর্ড অব রাইটস (Record of Rights) নিজে মালিকানা সৃষ্টি করে না; বরং বিদ্যমান অধিকারকে লিপিবদ্ধ করে।

অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির নাম রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত থাকলেই তিনি প্রকৃত মালিক হয়ে যান না, আবার প্রকৃত মালিকের নাম ভুলবশত বাদ পড়লেও তার স্বত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় না।

রেকর্ড অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ; কিন্তু এটি সব ক্ষেত্রে স্বত্বের চূড়ান্ত নির্ধারক নয়।

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্য কী ছিল?

বিএস জরিপে সংঘটিত বিভিন্ন ভুল দ্রুত ও বিশেষ ব্যবস্থায় সংশোধনের জন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল।

এর মাধ্যমে নাগরিকরা—

- ভুল নাম অন্তর্ভুক্তি;
- প্রকৃত মালিকের নাম বাদ পড়া;
- অংশীদারিত্বের ভুল;
- উত্তরাধিকারগত ত্রুটি;
- অন্যান্য জরিপজনিত অসঙ্গতি

ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিকার চাইতে পারতেন।

তবে এই বিশেষ প্রতিকারের জন্য আইন নির্ধারিত সময়সীমা প্রদান করেছিল।

এখানেই শুরু হয় বিভ্রান্তি

অনেকের ধারণা—

"LST-তে মামলা করা যায়নি, সুতরাং এখন আর কোনো আদালতেই যাওয়া যাবে না।"

বাস্তবে বিষয়টি সব ক্ষেত্রে এত সরল নয়।

কারণ রেকর্ড সংশোধনের প্রশ্ন এবং প্রকৃত স্বত্ব নির্ধারণের প্রশ্ন সবসময় এক বিষয় নয়।

যখন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু স্বত্ব

ধরুন—

একটি জমি পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে বহুদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছে।

কিন্তু বিএস রেকর্ডে অন্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এখন প্রকৃত প্রশ্ন কি শুধু—

"রেকর্ডে কার নাম আছে?"

নাকি

"প্রকৃত মালিক কে?"

যদি বিরোধের মূল বিষয় প্রকৃত মালিকানা, উত্তরাধিকার, অংশীদারিত্ব বা স্বত্বের অধিকার হয়, তাহলে বিষয়টি কেবল রেকর্ডগত ত্রুটির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

দেওয়ানি আদালতের গুরুত্ব

দেওয়ানি আদালত দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা, স্বত্ব, উত্তরাধিকার, দলিলের বৈধতা, অংশীদারিত্ব এবং অন্যান্য দেওয়ানি অধিকার সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রয়োগ করে আসছে।

ফলে কোনো ব্যক্তি যদি দাবি করেন যে তিনি প্রকৃত মালিক, অথচ রেকর্ডে তার অধিকার প্রতিফলিত হয়নি, তাহলে বিরোধের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইনের আলোকে তিনি তার স্বত্ব ঘোষণার প্রতিকার অনুসন্ধান করতে পারেন।

আদালত যদি প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত বলে ঘোষণা করেন, তাহলে সেই ঘোষণার আইনগত ফলশ্রুতিতে রেকর্ডে বিদ্যমান অসঙ্গতি দূর করার প্রশ্নও পরবর্তীতে উত্থাপিত হতে পারে।

বাস্তব অভিজ্ঞতা কী বলে?

বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ভূমি বিরোধে পক্ষগণ কেবল রেকর্ড সংশোধনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না থেকে মূল স্বত্বের প্রশ্ন আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন।

কারণ শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু রেকর্ড নয়, বরং প্রকৃত মালিকানা।

রেকর্ড একটি প্রমাণ; কিন্তু স্বত্বই মূল বিষয়।

তবে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি—

সব মামলায় একই আইনগত ফলাফল হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

মামলার ফলাফল নির্ভর করতে পারে—

- বিরোধের প্রকৃতির উপর;
- প্রযোজ্য আইনের উপর;
- সীমাবদ্ধতা আইনের প্রশ্নে;
- পূর্ববর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের উপর;
- দলিলের প্রকৃতির উপর;
- উত্তরাধিকার পরিস্থিতির উপর;
- প্রকৃত দখল ও ভোগদখলের উপর;
- মামলার প্রার্থিত প্রতিকারের উপর।

অতএব কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও বাস্তব অবস্থা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ

যদি আপনার জমির বিএস রেকর্ডে ভুল থাকে—

✅ আতঙ্কিত হবেন না;

✅ আপনার সকল দলিল ও পূর্ববর্তী রেকর্ড সংগ্রহ করুন;

✅ উত্তরাধিকার ও স্বত্বের ভিত্তি যাচাই করুন;

✅ দীর্ঘদিনের দখল ও ব্যবহার সংক্রান্ত প্রমাণ সংরক্ষণ করুন;

✅ অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন;

✅ শুধুমাত্র "LST-এর সময়সীমা শেষ" শুনে নিজের অধিকার পরিত্যাগ করবেন না।

শেষ কথা

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বিষয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি ক্ষেত্রে নাগরিকের সব ধরনের প্রতিকার চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

ভূমি বিরোধের প্রকৃতি, স্বত্বের ভিত্তি, প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইন অনুসারে অনেক ক্ষেত্রে এখনও আইনগত প্রতিকার অনুসন্ধানের সুযোগ থাকতে পারে।

সুতরাং রেকর্ডের নাম দেখেই নয়, বরং প্রকৃত স্বত্ব, দলিল, উত্তরাধিকার এবং বাস্তব দখলের আলোকে নিজের অবস্থান মূল্যায়ন করুন।

আইন জানুন, প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন এবং প্রয়োজন হলে যথাযথ আইনগত সহায়তা গ্রহণ করুন।

মো. আনোয়ারুল আলম (খোকন)
এডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও জজ আদালত, চট্টগ্রাম।
mobile:01818096005
Email: AnwarKhokan [email protected]
Website:

Md. Anwarul Alam Khokan – Advocate, Supreme Court of Bangladesh & Judges' Court, Chittagong. 18+ years of legal experience.

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা: আইন কী বলে?প্রায় ১৮ বছর ধরে আইন পেশায় কাজ করতে গিয়ে আমি অসংখ্...
11/07/2026

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা: আইন কী বলে?

প্রায় ১৮ বছর ধরে আইন পেশায় কাজ করতে গিয়ে আমি অসংখ্য উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং মামলা পরিচালনা করেছি। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অধিকাংশ বিরোধের মূল কারণ আইন নয়; বরং আইন সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা।

অনেকেই মনে করেন, পরিবার বা সমাজে দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে চলে আসছে, সেটাই আইন। আবার অনেকে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা পরিচিত ব্যক্তির পরামর্শকেই আইনের শেষ কথা বলে ধরে নেন। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের প্রচলিত মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন কথা বলে।

এই লেখায় মুসলিম উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ১০টি ভুল ধারণা এবং সে বিষয়ে আইনের অবস্থান সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

১. ভুল ধারণা: কেউ মারা গেলেই তার সব সম্পত্তি সরাসরি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে

আইন কী বলে?

এটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি। আইন অনুযায়ী, মৃত্যুর পরপরই সম্পত্তি ভাগ করা যায় না।

প্রথমে মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের যুক্তিসঙ্গত ব্যয় পরিশোধ করতে হয়। এরপর তার ঋণ পরিশোধ করতে হয়। তারপর আইনসম্মত সীমার মধ্যে করা অসিয়ত (Will) কার্যকর করা হয়। এসব সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

উদাহরণ: একজন ব্যক্তি ৫০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি রেখে মারা গেলেন, কিন্তু তার ১০ লক্ষ টাকা ঋণ ছিল। ঋণ পরিশোধের আগে পুরো সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া আইনসম্মত নয়।

২. ভুল ধারণা: দুই স্ত্রী থাকলে, একজন আগে মারা গেলেও স্ত্রীর অংশ দুই ভাগে ভাগ হবে

আইন কী বলে?

উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা হয় মৃত ব্যক্তির মৃত্যুকালে কারা জীবিত ছিলেন, তার ভিত্তিতে।

যদি একজন স্ত্রী স্বামীর আগেই মারা যান, তবে তিনি আর উত্তরাধিকারী থাকেন না। ফলে তার উত্তরাধিকারীরাও সেই অংশ দাবি করতে পারেন না। স্বামীর মৃত্যুকালে যে স্ত্রী জীবিত থাকবেন, তিনিই আইনে নির্ধারিত স্ত্রীর সম্পূর্ণ অংশ পাবেন।

উদাহরণ: করিমের দুই স্ত্রী ছিল। প্রথম স্ত্রী ২০১৮ সালে মারা যান। করিম ২০২৬ সালে মারা গেলে প্রথম স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা করিমের সম্পত্তিতে কোনো অংশ পাবেন না।

৩. ভুল ধারণা: পিতা বা মাতা ত্যাজ্যপুত্র বা ত্যাজ্যকন্যা ঘোষণা করলে তারা আর উত্তরাধিকার পায় না

আইন কী বলে?

এটি সমাজে অত্যন্ত প্রচলিত একটি ভুল ধারণা। অনেকেই মনে করেন, কোনো সন্তানকে ত্যাজ্যপুত্র বা ত্যাজ্যকন্যা ঘোষণা করলে অথবা এ মর্মে ঘোষণাপত্র বা সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে সে আর উত্তরাধিকার পাবে না।

কিন্তু মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে "ত্যাজ্যপুত্র" বা "ত্যাজ্যকন্যা" নামে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোনো বিধান নেই। কোনো সন্তান আইনগতভাবে উত্তরাধিকারী হলে, শুধুমাত্র পিতা বা মাতার ঘোষণা বা অসন্তুষ্টির কারণে সে উত্তরাধিকার হারায় না।

উদাহরণ: একজন বাবা রাগের মাথায় ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করলেন। পরে বাবা মৃত্যুবরণ করলে, কেবল এই ঘোষণার কারণে ছেলে তার আইনগত উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।

৪. ভুল ধারণা: পিতা বা মাতা দাদা-দাদী বা নানা-নানীর আগে মারা গেলে তাদের সন্তানরা কোনো উত্তরাধিকার পায় না

আইন কী বলে?

এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা।

Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে কোনো পুত্র বা কন্যা তার পিতা বা মাতার আগে মারা গেলে, তাদের সন্তানরা তাদের মৃত পিতা বা মাতা জীবিত থাকলে যে অংশ পেতেন, সেই অংশ পাওয়ার অধিকারী হতে পারে।

উদাহরণ: রহিম তার বাবার আগে মারা গেছেন। পরে রহিমের বাবা মারা গেলে, নির্দিষ্ট শর্তে রহিমের সন্তানরা তাদের বাবার প্রাপ্য অংশ দাবি করতে পারে।

৫. ভুল ধারণা: মায়ের সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ে সমান অংশ পায়

আইন কী বলে?

অনেকেই মনে করেন, শুধু বাবার সম্পত্তির ক্ষেত্রেই ছেলে বেশি পায়। বাস্তবে মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সাধারণ নিয়মে মায়ের সম্পত্তির ক্ষেত্রেও ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পায়।

উদাহরণ: একজন মা এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা গেলে, সাধারণ নিয়মে ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পাবে।

৬. ভুল ধারণা: দত্তক সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরাধিকারী

আইন কী বলে?

মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয় না।

তবে জীবদ্দশায় বৈধ হেবা (Gift) অথবা আইনসম্মত সীমার মধ্যে অসিয়তের মাধ্যমে সম্পত্তি প্রদান করা যেতে পারে।

৭. ভুল ধারণা: তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সব অবস্থায় স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী

আইন কী বলে?

সাধারণ নিয়মে বৈধভাবে তালাক কার্যকর হওয়ার পর সাবেক স্ত্রী আর স্বামীর উত্তরাধিকারী থাকেন না।

তবে তালাকের বৈধতা, কার্যকারিতা বা মৃত্যুর সময় বৈবাহিক সম্পর্কের আইনগত অবস্থা নিয়ে বিশেষ প্রশ্ন থাকলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনার বাস্তবতা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

৮. ভুল ধারণা: নিখোঁজ ব্যক্তি দীর্ঘদিন ফিরে না এলে তার সম্পত্তি ভাগ করে নেওয়া যায়

আইন কী বলে?

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকলেই কাউকে আইনগতভাবে মৃত ধরা যায় না।

আইনগতভাবে মৃত্যু প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণভাবে তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা উচিত নয়।

৯. ভুল ধারণা: যে উত্তরাধিকারী উত্তরাধিকারদাতাকে হত্যা করেছে, সেও সম্পত্তির অংশ পাবে

আইন কী বলে?

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের একটি মৌলিক নীতি হলো—কেউ নিজের অপরাধের মাধ্যমে লাভবান হতে পারে না।

তাই আইনগতভাবে দায়ী হত্যাকারী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

১০. ভুল ধারণা: বিদেশে বসবাস বা বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বাংলাদেশে উত্তরাধিকার পাওয়া যায় না

আইন কী বলে?

শুধু বিদেশে বসবাস করা বা বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করার কারণে বাংলাদেশে উত্তরাধিকার পাওয়ার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না।

তবে অন্য কোনো প্রযোজ্য আইনগত বাধা থাকলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।

উপসংহার

আমার দীর্ঘ আইন পেশার অভিজ্ঞতায় একটি বিষয় বারবার উপলব্ধি করেছি—উত্তরাধিকার নিয়ে অধিকাংশ বিরোধের কারণ সম্পত্তির পরিমাণ নয়; বরং আইন সম্পর্কে ভুল ধারণা।

সঠিক সময়ে সঠিক আইন জানা থাকলে অনেক পারিবারিক বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং সম্পর্কের অবনতি এড়ানো সম্ভব। তাই লোকমুখে প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে প্রচলিত আইন সম্পর্কে সচেতন হোন। প্রয়োজনে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন। আইন জানা থাকলে বিরোধ কমে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পারিবারিক সম্প্রীতিও বজায় থাকে।

দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি সাধারণ আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার বাস্তবতা ও প্রযোজ্য আইন ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট আইন এবং একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

আনোয়ারুল আলম খোকন
এডভোকেট
সুপ্রিম কোর্ট অফ বাংলাদেশ এন্ড
জাজেস কোর্ট, চট্টগ্রাম।
Mob:01818096005
Web:

Md. Anwarul Alam Khokan – Advocate, Supreme Court of Bangladesh & Judges' Court, Chittagong. 18+ years of legal experience in criminal, civil, family, and commercial matters.

বিলম্বিত দেনমোহর: ২০ বছর আগের টাকার মূল্য কি ২০ বছর পরও একই থাকবে ?আইন, বাস্তবতা ও সময়োপযোগী সংস্কারের ভাবনাসাম্প্রতিক ...
09/07/2026

বিলম্বিত দেনমোহর: ২০ বছর আগের টাকার মূল্য কি ২০ বছর পরও একই থাকবে ?

আইন, বাস্তবতা ও সময়োপযোগী সংস্কারের ভাবনা

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower) নিয়ে একটি আলোচিত রিট আবেদন দায়ের হয়েছে। রিটের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হলো—বর্তমান আইন অনুযায়ী বিলম্বিত দেনমোহর আদায়ের ব্যবস্থা নারীর প্রকৃত আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট কি না এবং এ বিষয়ে সময়োপযোগী আইনগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে কি না।

এই আলোচনা কেবল আদালতের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবারের বাস্তব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও সামাজিক প্রশ্ন।

দেনমোহর কী?

দেনমোহর (মোহরানা) মুসলিম বিবাহের একটি অপরিহার্য উপাদান এবং এটি স্ত্রীর স্বীকৃত আইনগত অধিকার। বিবাহের সময় কাবিননামায় যে পরিমাণ দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়, স্বামী তা পরিশোধে আইনগতভাবে বাধ্য।

বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এবং কাবিননামা নিবন্ধনের বিষয়টি Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-এর অধীনে পরিচালিত হয়। কাবিননামায় নির্ধারিত দেনমোহরের অঙ্কই পরবর্তীকালে আইনি দাবির ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দেনমোহর সাধারণত দুই ধরনের—

- তাৎক্ষণিক (Prompt Dower)
- বিলম্বিত (Deferred Dower)

তাৎক্ষণিক দেনমোহর বিবাহের পরপরই পরিশোধযোগ্য। অন্যদিকে বিলম্বিত দেনমোহর সাধারণত বিবাহবিচ্ছেদ, স্বামীর মৃত্যু অথবা কাবিননামায় নির্ধারিত অন্য কোনো সময়ে পরিশোধযোগ্য হয়।

বর্তমান আইনে কী হয়?

বর্তমান আইনগত বাস্তবতায় সাধারণভাবে কাবিননামায় উল্লেখিত দেনমোহরের অঙ্কই দাবির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। পারিবারিক আদালত বর্তমানে Family Courts Act, 2023-এর অধীনে এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তি করে।

অর্থাৎ, ২০ বা ৩০ বছর আগে কাবিননামায় যদি ৫০,০০০ টাকা বা ১,০০,০০০ টাকা বিলম্বিত দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়ে থাকে, তাহলে বহু বছর পরেও সাধারণভাবে সেই নির্ধারিত অঙ্কই দাবির বিষয় হয়ে থাকে।

তবে বর্তমান আইনে বিলম্বিত দেনমোহর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যস্ফীতি, স্বর্ণের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার কিংবা ব্যাংক ঋণের সুদের সঙ্গে সমন্বয় করে বৃদ্ধি করার কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।

এখানেই মূল প্রশ্ন

বাস্তবতা হলো—সময়ের সঙ্গে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়।

২০ বা ৩০ বছর আগে যে অর্থ দিয়ে একটি পরিবার বহু প্রয়োজন পূরণ করতে পারত, আজ সেই একই অর্থের প্রকৃত মূল্য অনেক কমে গেছে।

উদাহরণস্বরূপ—

- স্বর্ণের মূল্য বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে;
- নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে;
- চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে;
- নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

অর্থাৎ, অর্থের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা (Purchasing Power) সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—

২০ বছর আগে নির্ধারিত দেনমোহরের প্রকৃত মূল্য কি ২০ বছর পরও একইভাবে বিবেচিত হওয়া উচিত?

উচ্চ আদালতের বিচারিক নীতি

বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে ধারাবাহিকভাবে বলা হয়েছে যে, দেনমোহর স্ত্রীর একটি আইনগত অধিকার এবং বিলম্বিত দেনমোহর স্বামীর ওপর একটি ঋণ (Debt) হিসেবে বর্তায়।

অর্থাৎ, এটি কোনো অনুগ্রহ নয়; বরং একটি বাধ্যতামূলক আইনগত দায়। আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যুর পরও তার সম্পত্তি থেকে অন্যান্য বৈধ দেনার মতো দেনমোহর আদায়ের প্রশ্ন উঠতে পারে।

এই বিচারিক নীতি নারীর আর্থিক অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে।

নতুন করে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে

যদি বিলম্বিত দেনমোহর আইনগতভাবে একটি ঋণস্বরূপ হয়, তাহলে বহু বছর পরে পরিশোধের ক্ষেত্রে অর্থের মূল্যহ্রাসের বিষয়টি কি বিবেচনায় আনা উচিত?

আমাদের দেশে ব্যাংক ঋণ দীর্ঘদিন পরিশোধ না করলে বিভিন্ন আর্থিক সমন্বয়ের কারণে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে বিলম্বিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে বহু বছর অপেক্ষার পরও যদি কেবল নামমাত্র অঙ্ক পরিশোধ করা হয়, তাহলে স্ত্রীর প্রকৃত আর্থিক অধিকার কতটা সংরক্ষিত হচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন জনপরিসরে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

আইন সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি?

এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

নিম্নে যে বিষয়গুলো আলোচনা করা হচ্ছে, সেগুলো বর্তমান আইনের বিধান নয়; বরং লেখকের ব্যক্তিগত আইন সংস্কার-সংক্রান্ত মতামত।

আমার মতে, ভবিষ্যতে আইন প্রণেতারা চাইলে এমন একটি ব্যবস্থা বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে দীর্ঘ সময় পরে বিলম্বিত দেনমোহর পরিশোধের ক্ষেত্রে—

- মূল্যস্ফীতির হার;
- অর্থের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তন;
- অথবা আদালত নির্ধারিত কোনো যুক্তিসঙ্গত আর্থিক সমন্বয়

বিবেচনা করার সুযোগ রাখা যেতে পারে।

এ ধরনের আইনগত ব্যবস্থা চালু হলে একদিকে নারীর ন্যায্য অধিকার আরও কার্যকরভাবে সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে দেনমোহর নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্যও বাস্তব অর্থে অধিকতর সফল হতে পারে।

সংবিধান ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ

বাংলাদেশের সংবিধানে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সমতার নীতির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে একটি নীতিগত প্রশ্ন উঠতে পারে—যদি দীর্ঘ সময়ে অর্থের প্রকৃত মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, তাহলে কেবল নামমাত্র অঙ্ক পরিশোধের মাধ্যমে দেনমোহরের উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়?

তবে এ ধরনের পরিবর্তন আনয়ন মূলত আইনসভা কিংবা আদালতের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের বিষয়।

তাৎক্ষণিক পরিশোধই উত্তম

আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, দেনমোহর দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে না রেখে যথাসম্ভব দ্রুত পরিশোধ করাই সবচেয়ে উত্তম।

এর ফলে—

- ভবিষ্যতের বিরোধ কমবে;
- পারিবারিক সম্পর্কের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে;
- দীর্ঘদিন পরে অর্থের মূল্য নিয়ে বিরোধের সম্ভাবনাও হ্রাস পাবে।

উপসংহার

দেনমোহর কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি একজন স্ত্রীর আইনগত অধিকার, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

সমাজ, অর্থনীতি এবং অর্থের মূল্য যখন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন বিলম্বিত দেনমোহর সম্পর্কিত আইন সময়োপযোগী হওয়া উচিত কি না—এ প্রশ্নটি এখন গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

উচ্চ আদালতে দায়েরকৃত সাম্প্রতিক রিট হয়তো সেই জাতীয় আলোচনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।

আইন সংস্কার হবে কি হবে না, সেটি আদালত ও আইন প্রণেতাদের বিষয়। তবে জনস্বার্থে এই আলোচনা যত বিস্তৃত হবে, ন্যায়ভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়নের সম্ভাবনাও তত সুদৃঢ় হবে।

আনোয়ার আলম খোকন
এডভোকেট
সুপ্রিম কোর্ট অফ বাংলাদেশ এবং জজ আদালত, চট্টগ্রাম।
Mobile:01818096005
Web:

Md. Anwarul Alam Khokan – Advocate, Supreme Court of Bangladesh & Judges' Court, Chittagong. 18+ years of legal experience in criminal, civil, family, and commercial matters.

Address

চেম্বার নং:454, আইনজীবী এনেক্স ভবন1, জজআদালত চট্টগ্রাম
Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when aklegalaid.com posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share