Nasir Uddin

Nasir Uddin অ্যাডভোকেট , আয়কর,ভ্যাট ও কোম্পানি উপদেষ্টা।

10/06/2026

⚖️ চেক বাউন্স মামলা মানেই কি নিশ্চিত সাজা? আইনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তিশালী অভিযুক্তের আত্মপক্ষ জানেন কি?

NI Act ধারা ১৩৮-এর মামলা বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলোর একটি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—চেক ডিজঅনার হওয়া আর অপরাধ প্রমাণ হওয়া এক জিনিস নয়।

অনেক সময় অভিযোগকারী পক্ষ এমন ধারণা সৃষ্টি করেন যেন একটি চেক হাতে থাকা এবং সেটি বাউন্স হওয়াই দণ্ডাদেশের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আইন ও বিচারিক নজির সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে।

একজন দক্ষ প্রতিরক্ষা আইনজীবীর প্রথম প্রশ্ন হবে—

🔹 চেকটি কীভাবে অভিযোগকারীর হাতে এলো?

🔹 চেকটি কি প্রকৃতপক্ষে কোনো বৈধ দায় (legally enforceable liability) পূরণের জন্য দেওয়া হয়েছিল?

🔹 চেকটি কি নিরাপত্তা (Security Cheque) হিসেবে দেওয়া হয়েছিল?

🔹 চেকটি কি জোরপূর্বক, প্রতারণার মাধ্যমে অথবা বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল?

🔹 অভিযোগকারী কি প্রকৃতপক্ষে "Holder in Due Course"?

আইন স্বীকার করে যে, সব চেক সমান নয়।

যদি কোনো চেক—

✔️ চুরি হয়ে যায়,

✔️ প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়,

✔️ জবরদস্তি করে নেওয়া হয়,

✔️ কোনো বৈধ consideration ছাড়া হস্তান্তরিত হয়,

তাহলে সেই চেককে কেন্দ্র করে দায়-দেনার প্রশ্ন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

এ কারণেই অনেক ধারা ১৩৮-এর মামলা বিচার শেষে ব্যর্থ হয়, কারণ আদালত শুধু চেক নয়, চেকের পেছনের গল্পও শুনতে চান।

একটি চেক কেবল একটি কাগজ।

কিন্তু সেই কাগজের পেছনে যদি বৈধ লেনদেন, আইনগত অধিকার এবং গ্রহণযোগ্য consideration না থাকে, তাহলে অভিযোগকারীকে আদালতে আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

📚 প্রাসঙ্গিক নজির:

Shafiqul Islam and others Vs. Bangladesh and others, 2 SCOB [2015] HCD 1 at pp. 14-15 (Mirza Hussain Haider, J.)

মামলার ঘটনা

আবেদনকারীদের অন্যতম যুক্তি ছিল যে, সব ধরনের চেককে যান্ত্রিকভাবে ধারা ১৩৮-এর আওতায় আনা যায় না। বিশেষ করে চুরি, প্রতারণা, জোরপূর্বক সংগ্রহ অথবা বৈধ লেনদেনবিহীন চেকের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার অবশ্যই থাকতে হবে।

আদালতের সিদ্ধান্ত (Ratio)

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করেন যে, ধারা ১৩৮-এর পরিধি বিস্তৃত হলেও Negotiable Instruments Act-এর ধারা 43, 58 এবং 118 অনুযায়ী অভিযুক্তের প্রতিরক্ষা গ্রহণের অধিকার বহাল রয়েছে।

আদালত বলেন—

✔️ Fraudulently obtained cheque, stolen cheque বা unlawfully obtained cheque নিয়ে প্রতিরক্ষা তোলা যাবে;

✔️ Consideration ছাড়া ইস্যুকৃত চেক নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে;

✔️ অভিযোগকারী প্রকৃত Holder in Due Course কি না, তা বিচারযোগ্য বিষয়;

✔️ ধারা ১৩৮ কোনো ব্যক্তিকে প্রতিরক্ষাহীন করে না।

অর্থাৎ, আদালতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—চেকটি কেন, কীভাবে এবং কোন আইনি সম্পর্কের ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়েছিল।

একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী জানেন, অনেক সময় মামলার ভাগ্য নির্ধারণ করে চেকটি নয়—চেকের উৎস।

31/05/2026

🚨 ব্যাংকের লোন পরিশোধে দেরি হলেই কি গ্রেপ্তার বা জেল?
⚖️ অর্থঋণ মামলা হলে আতঙ্ক নয় — আগে জানুন আপনার আইনি অধিকার⚖️

📕 বর্তমান সময়ে ব্যবসায় মন্দা, চাকরি হারানো, চিকিৎসা ব্যয়, পারিবারিক সংকট কিংবা হঠাৎ আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে অনেক মানুষই সময়মতো ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যেই যখন ব্যাংকের লিগ্যাল নোটিশ, সমন বা অর্থঋণ আদালতের মামলার কাগজ হাতে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে ভয় কাজ করে।

🤔 অনেকে ভাবেন —
“এখন কি আমাকে জেলে যেতে হবে?”
“সব সম্পত্তি কি হারিয়ে ফেলবো?”
“সমাজে কি সম্মান থাকবে না?”

📌 বাস্তবতা হলো:
শুধুমাত্র ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া নিজে থেকে কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। বাংলাদেশে ঋণ আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট দেওয়ানি আইন রয়েছে, এবং সেই আইনে ঋণগ্রহীতাকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

📖 প্রাসঙ্গিক আইনসমূহ:
✔️ অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩
✔️ তামাদি আইন, ১৯০৮
✔️ নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১
✔️ বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল ও সুদ সংক্রান্ত নীতিমালা

🔰 ১. ব্যাংকের নোটিশ অবহেলা করবেন না
ব্যাংক সাধারণত আদালতে যাওয়ার আগে ঋণগ্রহীতাকে একটি আইনি নোটিশ পাঠায়।
⚠️ অনেকেই ভুল করে:
❌ নোটিশ গ্রহণ করেন না
❌ লুকিয়ে রাখেন
❌ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন
এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়।
✔️ বরং একজন আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যাংককে লিখিতভাবে জানান:
- কেন কিস্তি বন্ধ হয়েছে
- আপনার আর্থিক সংকট কী
- আপনি সমঝোতা বা সময় চান কিনা
📌 অনেক ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে মামলা ছাড়াই সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়।

🔰 ২. আদালতে Written Statement দাখিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
📖 অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩
ব্যাংক মামলা করলে আদালতের সমনের জবাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব (Written Statement) দিতে হয়।
এই জবাবে যাহা প্রযোজ্য, আপনি বলতে পারবেন
✔️ ব্যাংকের হিসাব ভুল
✔️ অতিরিক্ত সুদ যোগ করা হয়েছে
✔️ চুক্তির বাইরে চার্জ আরোপ করা হয়েছে
✔️ হিসাব স্বচ্ছ নয়
⚖️ আদালতে এটিই আপনার প্রধান আইনি প্রতিরক্ষা।

🔰 ৩. অতিরিক্ত সুদ ও চক্রবৃদ্ধি হিসাব চ্যালেঞ্জ করা যায়:
অনেক সময় ব্যাংক মূল ঋণের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ দাবি করে।
📌 কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী:
ব্যাংক ইচ্ছামতো অতিরিক্ত সুদ বা অস্বাভাবিক চার্জ আরোপ করতে পারে না।
যদি প্রমাণ করা যায় যে:
✔️ সুদের হিসাব অযৌক্তিক
✔️ চক্রবৃদ্ধি হারে বেআইনি হিসাব করা হয়েছে
তাহলে আদালত অতিরিক্ত অংশ বাতিল বা কমানোর সুযোগ দিতে পারেন।

🔰 ৪. দেরিতে মামলা করলে তামাদির প্রশ্ন উঠতে পারে
📖 Limitation Act, 1908 : আইনে মামলা করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত আছে।
যদি ব্যাংক দীর্ঘদিন পর মামলা করে, তাহলে আপনি “তামাদি” বা Time Bar এর প্রশ্ন তুলতে পারেন।
⚖️ নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে আদালত মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।

🔰 ৫. বন্ধকী সম্পত্তি কম দামে বিক্রির বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার আছে: লোনের বিপরীতে বন্ধক রাখা,
✔️ জমি
✔️ ফ্ল্যাট
✔️ বাড়ি
✔️ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
ব্যাংক নিলামে তুলতে পারে। তবে:
❌ বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে
❌ অনিয়ম করে
❌ গোপনে
সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা হলে আদালতে আপত্তি জানানো যায়।
⚖️আদালত ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দিতে পারেন।

🔰 ৬. আদালতের মাধ্যমেও আপোষ-নিষ্পত্তি সম্ভব
📖 অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ : মামলা হয়ে গেলেও সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। আপনি চাইলে:
✔️ কিস্তি পুনঃনির্ধারণ
✔️ আংশিক পরিশোধ
✔️ পুনঃতফসিল
✔️ সমঝোতা
এর জন্য আদালতের সহায়তায় ব্যাংকের সাথে আলোচনা করতে পারেন।
📌 অনেক ব্যাংক বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সমঝোতায় আগ্রহী থাকে।

🔰 ৭. চেক ডিজঅনার মামলা আলাদা বিষয়
📖 Negotiable Instruments Act, 1881 এর ১৩৮ ধারা : লোনের নিরাপত্তা হিসেবে দেওয়া চেক ব্যাংক ব্যবহার করলে আলাদা চেক ডিজঅনার মামলা হতে পারে।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: অর্থঋণ মামলা এবং চেকের মামলা একসাথে চলতে পারে। চেকের মামলায়:
✔️ জামিন
✔️ সমন
✔️ ওয়ারেন্ট
ইত্যাদি বিষয় আসতে পারে। তাই এটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

🟥 শেষ কথা
ব্যাংক লোনে সমস্যায় পড়লে:
❌ পালিয়ে যাবেন না
❌ দালালের ফাঁদে পড়বেন না
❌ আদালতের নোটিশ এড়িয়ে যাবেন না
⚖️ আইনের মধ্যেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রয়েছে।
সমস্যা যত দ্রুত আইনিভাবে মোকাবিলা করবেন, সমাধানের পথ তত সহজ হবে।

কোনো প্রকার নোটিশ বা শুনানির সুযোগ না দিয়ে বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আকস্মিকভাবে সরাসরি Bank Account/অ্যাকাউন্ট...
26/05/2026

কোনো প্রকার নোটিশ বা শুনানির সুযোগ না দিয়ে বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আকস্মিকভাবে সরাসরি Bank Account/অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা একটি সভ্য সমাজে প্রচলিত ‘অপর পক্ষের বক্তব্য শোনার অধিকার’ এবং নাগরিক রীতিনীতির পরিপন্থী। Violation of Principle of natural Justice এর "Audi Alteram Partem লঙ্ঘন .

ব্যাংক হিসাব জব্দ করা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা গুলোর মধ্যে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, এবং অন্যজন বনাম জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পক্ষে চেয়ারম্যান মামলাটি অন্যতম। আইনের ছাত্র ও আইনজীবীদের অধ্যায়নের সুবিধার্থে উক্ত Judgment আলোচনা করা হলো।

✅ Date of Judgment: ২৩/০৪/২০২৬

✅Facts of the case: মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং অন্য একজন। তারা নিয়মিত আয়কর দাতা এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। রিট পিটিশনার নং ১ (২০২৪-২০২৫ করবর্ষে ২,১৮,৭৮,৭৪১/- টাকা) এবং পিটিশনার নং ২ (২৮,০৭,৩১৫/- টাকা) তাদের পুত্রদেরসহ যথাযথভাবে কোটি টাকার ওপরে কর পরিশোধ করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন এবং কর কর্তৃপক্ষ তার প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ ও সনদপত্র ইস্যু করে।

🔴করদাতাদের উক্ত রিটার্নসমূহ আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৮১ ধারা অনুযায়ী কোনো অডিট (নিরীক্ষা) বা বকেয়া দাবির জন্য নির্বাচিত করা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করেই গত ১৪/১২/২০২৫ তারিখে পিটিশনার জানতে পারেন যে, কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (ITIIU) তথা কর কর্তৃপক্ষ তাদের, তাদের পরিবারের সদস্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমস্ত ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ড ও এফডিআর (FDR) অবরুদ্ধ বা ক্রোক (Freeze) করেছে।

🔴কর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার (রেসপন্ডেন্ট নং ৩) গত ১১/১২/২০২৫ এবং ১৮/১২/২০২৫ তারিখে যথাক্রমে দুটি স্মারকে ব্যাংক হিসাব ক্রোকের আদেশ জারি করেন। একই সাথে তিনি ব্যাংকগুলোকে বিগত ২০১৮ সাল থেকে পিটিশনারদের লেনদেনের তথ্য ৭ দিনের মধ্যে সরবরাহের জন্য আয়কর আইনের ২০০ ধারায় আরেকটি নোটিশ দেন।

✅How Aggrieved: পিটিশনারদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য দৈনন্দিন ব্যাংকিং লেনদেন, এলসি (L/C) খোলা এবং কার্যাদেশ (Work Order) নেওয়ার প্রয়োজন হয়। ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর ফ্রিজ করার কারণে তাদের সমস্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে।

🔴অ্যাকাউন্ট ক্রোক করার ফলে পিটিশনাররা তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও মজুরি পরিশোধ করতে পারছিলেন না, যা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ এবং শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি তৈরি করে।

🔴কোনো প্রকার নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আকস্মিকভাবে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করায় পিটিশনারদের মৌলিক অধিকার এবং স্বাভাবিক ব্যবসার অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।

Submissions of the Advocates: আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২২৩ ধারা অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব ক্রোক করতে হলে করদাতার আয় বা বিনিয়োগ গোপনের "সুনির্দিষ্ট তথ্য" কর্তৃপক্ষের কাছে থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমান মামলায় কর্তৃপক্ষ একদিকে ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে, অন্যদিকে একই দিনে তথ্য চেয়ে ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ক্রোক করার সময়ে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না।

🔴আয়কর আইনের ২০০ ধারা অনুযায়ী তথ্য তলবের নোটিশ দেওয়ার ক্ষমতা ন্যস্ত রয়েছে ‘উপ-কর কমিশনার’ (DCT) বা তার ঊর্ধ্বর্তন কর্মকর্তার ওপর। কিন্তু এই নোটিশটি দিয়েছেন একজন ‘অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার’ (রেসপন্ডেন্ট নং ৩), যা সম্পূর্ণ এক্তিয়ারবহির্ভূত।

🔴যদি পিটিশনারদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির কোনো সন্দেহ থাকত, তবে কর কর্তৃপক্ষ আইনের ১৮১, ১৮২ বা ২১২ ধারা অনুযায়ী অডিট বা মূল্যায়ন করতে পারত। তা না করে সরাসরি ২২৩ ধারার চরম পথ অবলম্বন করা আইনগতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (Malafide) এবং স্বেচ্ছাচারী।

✅প্রতিপক্ষ তথা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য (Submissions of the Respondents):
রাষ্ট্রপক্ষে Affidavit-in-Opposition দাখিল করে ক্রোকের আদেশকে সমর্থন করেন এবং বলেন:

🔴আয়কর আইনের ৮(৩) ধারা অনুযায়ী সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (CIC)-এর মহাপরিচালকের ওপর কর ফাঁকি রোধে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ন্যস্ত রয়েছে এবং রেসপন্ডেন্ট নং ৩ সেই ক্ষমতাবলেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

🔴ক্রোক আদেশের পর ২২/১২/২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক (ব্যাংক এশিয়া) যে হিসাব বিবরণী পাঠিয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট দেখা যায় যে পিটিশনাররা তাদের ট্যাক্স রিটার্নে বিপুল পরিমাণ এফডিআর (FDR)-এর তথ্য গোপন করেছেন। সুতরাং কর কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ বৈধ ছিল।

🔴রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তির সমর্থনে 20 ALR (HCD) 89 মামলার সিদ্ধান্ত নজির হিসেবে পেশ করে রুলটি খারিজ করার আবেদন জানান।

✅Observations of the Court: উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণসমূহ প্রদান করেন: Putting the cart before the horse-ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ার" শামিল;

🔴আদালত নথিপত্র (বিশেষ করে ব্যাংক এশিয়ার ২২/১২/২০২৫ তারিখের চিঠির সূত্র) পর্যালোচনা করে দেখেন যে, ব্যাংক বিবরণীটি কর কর্তৃপক্ষ পেয়েছে ক্রোক আদেশ জারির অনেক পরে। অর্থাৎ, যেদিন ১১/১২/২০২৫ তারিখে অ্যাকাউন্ট ক্রোকের নোটিশ ইস্যু করা হয়, সেদিন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য গোপনের কোনো সুনির্দিষ্ট উপাদান ছিল না। পরে পাওয়া তথ্য দিয়ে আগের অবৈধ আদেশকে বৈধ করা যায় না।

🔴২২৩ ধারার অধীনে সম্পত্তি বা অ্যাকাউন্ট ক্রোক করার প্রধান আইনি শর্তই হলো আদেশের মুহূর্তে কর্তৃপক্ষের নিকট "সুনির্দিষ্ট তথ্য" থাকতে হবে। বর্তমান মামলায় এই পূর্বশর্তটি সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত।

🔴কেবল এই আশঙ্কায় যে করদাতা টাকা সরিয়ে ফেলতে পারেন, কোনো নোটিশ বা শুনানির সুযোগ না দিয়ে সরাসরি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা একটি সভ্য সমাজে প্রচলিত ‘অপর পক্ষের বক্তব্য শোনার অধিকার’ এবং নাগরিক রীতিনীতির পরিপন্থী।

🔴রাষ্ট্রপক্ষ যে নজিরটি (20 ALR) দেখিয়েছে, সেই মামলায় কর কর্তৃপক্ষের কাছে শুরুতেই সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। কিন্তু বর্তমান মামলার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত নজিরটি এখানে প্রযোজ্য নয়। But in the case in hand, information with regard to statement of account was subsequently been supplied by the bank to respondent no. 3 who had thus no definite information about the concealment of any fund or investment of the petitioners which is tantamount to put the cart before the horse.

✅Judgment of the Court: আদালত পিটিশনারদের পক্ষে রুলটি Rule Absolute করা হয়। গত ১১/১২/২০২৫ এবং ১৮/১২/২০২৫ তারিখে ৩ নং রেসপন্ডেন্ট কর্তৃক পিটিশনারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও এফডিআর ক্রোক/ফ্রিজ করার আদেশসমূহ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করে তা সম্পূর্ণ বাতিল (Set Aside) করা হয়।

🔴রেসপন্ডেন্টদের (কর কর্তৃপক্ষকে) নির্দেশ দেওয়া হলো যে, এই আদেশের অনুলিপি বা কপি পাওয়ার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পিটিশনারদের এবং তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর অ্যাকাউন্টসমূহ অবিলম্বে পুনরায় সচল (Reopen) করতে হবে।

Your Gateway to Legal Excellence in Bangladesh

26/05/2026

আয়কর আইন,২০২৩(ধারা ২৭০)অনুযায়ী,কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া কর সংক্রান্ত কোনো নোটিশ(যেমন- রিটার্ন দাখিলের নোটিশ,হিসাব বা দলিল উপস্থাপনের নোটিশ) অমান্য করলে উপকর কমিশনার জরিমানা আরোপ করতে পারেন|এই জরিমানার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোট আয়ের উপর প্রদেয় করের পরিমাণের বেশি হতে পারে না|

আয়কর জরিমানা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

■ জরিমানার হার: আপনার মোট আয়ের উপর যে পরিমাণ কর (Tax) আসবে, তার সমান পরিমাণ অর্থ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

■ শুনানির সুযোগ: জরিমানা আরোপের আগে আইন অনুযায়ী করদাতাকে অবশ্যই শুনানির সুযোগ দিতে হবে বা কারণ দর্শাতে বলা হবে |

দ্রষ্টব্য: কর অঞ্চল বা পরিস্থিতি ভেদে জরিমানার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।করদাতার সুনির্দিষ্ট নোটিশ ও সমস্যার জন্য একজন অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

18/05/2026

কোম্পানি, সোসাইটি/ফাউন্ডেশন/ট্রাস্ট, পার্টনারশিপ ফার্ম, ট্রেড অর্গানাইজেশন, অলাভজনক কোম্পানি ইত্যাদি রেজিস্ট্রেশন, শেয়ার হস্তান্তর, শেয়ার বরাদ্দকরণ, কোম্পানির বিলুপ্তিকরন, বার্ষিক রিটার্ন দাখিল, টিআইএন, ট্যাক্স, ভ্যাট, ইমপোর্ট - এক্সপোর্ট লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স (শুধুমাত্র ঢাকায়), ট্রেডমার্ক, বিএসটিআই, পরিবেশ ও ফায়ার লাইসেন্স, প্রজেক্ট প্রোফাইলসহ যেকোনো বিষয়ে আইনগত পরামর্শের জন্য নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন।
২১,পুরানা পল্টন লাইন্স, গোলাম সরওয়ার বিল্ডিং,
(দোহাটেক এর নিকটে), পল্টন, ঢাকা -১০০০।
০১৯৫৪৯২৩১৯৪(whatsapp)

লিমিটেড কোম্পানী নিবন্ধন প্রক্রিয়া / How to register a Limited Company In Bangladesh

বাংলাদেশে প্রচলিত কোম্পানী আইন অনুযায়ী দুই ধরনের কোম্পানী রয়েছে- ১. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী এবং ২. পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২ জন এবং উর্ধে ৫০ জন পার্টনার পর্যন্ত হতে পারে, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে নিম্নে ৭ জন এবং সর্বোচ্চ যেকোন সংখ্যার পার্টনার থাকতে পারে।

সম্প্রতি কোম্পানী আইনের সংশোধনীতে One Person Company (OPC) বা শুধু মাত্র একজন ব্যক্তির দ্বারা একটি কোম্পানী খোলার বিধান রাখা হয়েছে। একক মালিকানার কোম্পানিতে সর্বনিম্ন ২৫ লক্ষ টাকা পেইড আপ ক্যাপিটাল বা পরিশোধিত মূলধন লাগে।

অনুমোদিত মূলধন (authorized capital):
কোন একটা কোম্পানী শুরুর সময় ঐ কোম্পানীর সর্বোচ্চ মূলধনের যে সীমা নির্ধারন করা হয় এবং অনুমোদন করা হয় সেটাই হল ঐ কোম্পানির অথরাইজড ক্যাপিটাল;

পরিশোধিত মূলধন (paid up capital) : অনুমোদিত মূলধন এর সমান বা এর কম যা সকল ডিরেক্টরদের সর্বমোট বিনিয়োগের পরিমাণ এবং যেটি কোম্পানির ব্যাংক একাউন্টে জমা করতে হয় সেটি হলো পরিশোধিত মূলধন। পরিশোধিত মূলধন ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যে কোন সময় উত্তোলন করা যায়।

মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন বা সংঘ স্মারক হল কোম্পানি কি কি ধরনের ব্যবসা করতে পারবে এ সম্পর্কে বর্ণনা।

এবং

আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশনে (সংঘ বিধি) কোম্পানি পরিচালনার নিয়মাবলী যেমন কিভাবে কোম্পানির পরিচালনা পরিষদ নির্বাচিত হবে, সভা, বার্ষিক সাধারণ সভা এবং বিশেষ সভা কিভাবে কখন আহ্বান করতে হবে, কিভাবে নতুন সদস্য নেওয়া যাবে, কিভাবে কোন সদস্যকে বহিষ্কার করা যাবে, কিভাবে লভ্যংশ বন্টন করা হবে, কিভাবে কোম্পানিটি বন্ধ করা যাবে এসব বিষয়গুলো বিশদভাবে বর্ণনা করা থাকে।

ভবিষ্যৎ ঝক্কি ঝামেলা ও ভুল ভ্রান্তি এড়াতে এ সংক্রান্ত কাজ অবশ্যই কোম্পানি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ এমন একজন লাইসেন্স প্রাপ্ত আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পন্ন করিয়ে নিন। একটি ভুলের কারণে কোম্পানির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যেতে পারে। তাই, দালাল ও প্রতারক চক্র থেকে দূরে থাকুন।

ধন্যবাদান্তে

নাছির উদ্দীন
অ্যাডভোকেট ও আয়কর উপদেষ্টা

01/05/2026

কখনো কখনো আদালতে বাদীর উকিল সাহেবরা বলেন, "আসামি বাদীকে সৌদি আরবের ভিসা দিবে বলেছিল, বাদী আসামির সেই কথা বিশ্বাস করে আসামিকে টাকা দিয়েছিল, আসামি কথা রাখেনি, ভিসা দেয়নি, আসামি বাদীর সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করে বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধ করেছে, এভাবেই 406 ধারার জামিন অযোগ্য অপরাধ হয়ে গেছে, ফলে আসামি আইনত জামিন পেতে পারে না ।"

কিন্তু বাদীর এই বিশ্বাস সেই বিশ্বাস নয়, এই বিশ্বাস ভঙ্গ সেই বিশ্বাস ভঙ্গ নয়, যা পেনাল কোডের 406 ধারায় শাস্তিযোগ্য।

পেনাল কোডের 406 ধারায় 'অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ' নামে একটি অপরাধ আছে, যে অপরাধের সংজ্ঞা 405 ধারায় প্রদান করা হয়েছে। সম গোত্রীয় আরেকটি অপরাধ হল- প্রতারনা, যা 420 ধারায় শাস্তিযোগ্য।

420 ধারার অপরাধ জামিনযোগ্য কিন্তু 406 ধারার অপরাধ জামিন অযোগ্য। 420 ধারায় মামলা হলে আসামির আসা মাত্র জামিন হয়ে যাবে কিন্তু 406 ধারায় মামলা হলে জামিন নাই; তাই ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে টাকা পয়সার লেনদেন বিষয়ে মামলা দায়ের করার সময় মামলার আরজিতে 'ধারাঃ 406/420' লিখে আনা হয়, লাগাও উভয় ধারা, ব্যাটা যেন বাদীর টাকা না দিয়ে জামিনে যেতে না পারে।

406 ধারার অপরাধের প্রাণ হল- জিম্মা দারিত্ব; এই অপরাধের ইংরেজি নাম হল criminal breach of trust, এর বাংলা 'অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ' না করে 'অপরাধজনক জিম্মা দারিত্ব ভঙ্গ' করলে ভাল হতো, তাহলে অনেক বিভ্রান্তি এড়ানো যেত।

যখন কোন অর্থ বা সম্পত্তি আসামিকে ভোগ করতে দেয়া হয় না; জমা রাখতে, বহন করতে, মেরামত করতে, পাহারা দিতে ইত্যাদি উদ্দ্যেশ্যে দেয়া হয়; তখন তা আসামি নিজে খেয়ে ফেললে বা ভোগ করে ফেললে বা অন্য কাউকে খেয়ে ফেলতে দিলে 406 ধারার অপরাধ হয়। সংক্ষেপে বলা যায়- যখন বেড়ায় খেত খেয়ে ফেলে তখন এই অপরাধ হয়।

অন্যদিকে, 420 ধারার প্রাণ হল- প্রতারনা, এই কারনে সমাজে প্রতারক শ্রেনীর মানুষকে 'ফোর টুয়েন্টি' বলে ডাকা হয়, বলা হয় "সে একটা 420"। যখন কোন কিছুর বিনিময়ে consideration হিসেবে কোন টাকা বা সম্পত্তি দেয়া হয়, তখন তা আসামিকে ভোগ করার জন্যই দেয়া হয়, তা আসামি খেয়ে ফেললে আত্মসাতের বা অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের অপরাধ হয় না, তবে তা লিখিত বা মৌখিক চুক্তি ভঙ্গের ঘটনা হতে পারে, যেমন:

* ভিসার জন্য কোন প্রবাসিকে বা আদম ব্যবসায়ীকে টাকা দেয়া,

* কাজের জন্য শ্রমিক বা শ্রমিকের মাঝিকে টাকা দেয়া,

* সম্পত্তির বিনিময় হিসেবে অন্য কোন সম্পত্তি বা টাকা দেয়া,

* বিক্রেতাকে মালের জন্য টাকা দেয়া,

* ক্রেতাকে বাকিতে মাল দেয়া ইত্যাদি।
এখানে আসামিকে যা দেয়া হয়েছে তা তাকে খাওয়ার জন্যই দেয়া হয়েছে, আমানত হিসেবে নয়, হেফাজতে রেখে তা ফেরত দেয়ার জন্য নয়, তা সে খেয়ে ফেললে অপরাধ হয় না। এমনকি, ফেরত দেয়ার শর্তে কোন টাকা বা ভোগ্য পণ্য ধার দিলেও তা খাওয়ার জন্যই দেয়া হয়, পরে সেই মানের সেই পরিমাণ টাকা বা খাদ্য ফেরত দেয়া হবে- এমন শর্ত থাকে, তা খেয়ে ফেললে কোন অপরাধই হয় না, কারণ খাওয়ার জন্যই তো দেয়া-নেয়া হয়েছিল; যেমন- গ্রামের মহিলারা রান্না করতে গিয়ে তেল, নুন, চাল, ডাল ইত্যাদিতে কমতি পড়লে পাশের বাড়ির মহিলা থেকে ধার নেয়। যে শর্তে সেই খাওয়ার বা ভোগ করার বা ব্যবহার করার সেই জিনিসটি দেয়া হল, সে শর্ত পূরন না করলে প্রতারনা করে সেই মাল গ্রহন করা হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন আসতে পারে, প্রতারনার ঘটনা ঘটলেই শুধু 420 ধারার অপরাধ হতে পারে। প্রতারনা করে টাকা বা মাল আসামি নিয়েছিল কিনা, তা আসামির ইনটেনশন বা মানসিকতা থেকে বুঝা যায়, এটাকে আইনের ভাষায় initial intention of deception বলা হয়; 420 ধারার অপরাধ হতে হলে ঘটনা বা লেনদেনের শুরু থেকেই আসামির সেই অসৎ মানসিকতা থাকতে হবে [46 DLR AD 180 ]।

এখন ইনটেশন তো থাকে আসামির বুকের ভিতর- মনে, না কি মাথায়! মন মহাশয় কোথায় বাস করেন? আসামির মনে বা মাথার ভিতরে কি আছে বা ছিল তা কেমনে দেখা যাবে!! তা কিন্তু দেখতে পাওয়া যায়! আশ্চর্য! কেমনে!! তা ঘটনার সার্বিক পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও আসামির সামগ্রিক আচরনে (surrounding circumstances and subsequent conduct of the accused) ফুটে উঠে [ 48 DLR AD 100]; যেমন-

* আগামি কাল বাড়ির আম গাছে থাকা মধুর বাসা ভেঙ্গে একদম খাটি মধু দিবো বলে টাকা নেয়া কিন্তু সেই মধু আর না দেয়া, এমনকি দেখা গেল তার বাড়ির আম গাছে কোন মধুর বাসাই নাই বা সব মধু টাকা নেয়ার আগের দিন অন্য লোককে বিক্রি করে দিয়েছিল;

* কাল ফেরত দিবো বলে টাকা ধার নিয়ে পরে অস্বীকার করা ও টাকা চাইলে মাইর খাবি বলে হুমকি দেয়া;

* ভিসা দিবো বলে টাকা নেয়া ও ভিসা দেয়ার কোন চেষ্টাই না করা বা ভিসা দেয়ার মত কোন উপায় তার নাই জেনেও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে টাকা নেয়া;

* মাল বিক্রি করে দাম দিবো বলে পাইকার থেকে মাল নিয়ে খুচরা বিক্রি শেষ করেও পাইকারের পাওনা না দেয়া ও কোন যোগাযোগ না করা;

* জমি বিক্রি করবো বলে বায়না করে টাকা নেয়া ও সেই জমি গোপনে অনত্র বিক্রি করে দেয়া বা সে জমি আগেই অনত্র বিক্রির পর বায়না করা ইত্যাদি
ঘটনায় ফোর টুয়েন্টি টাইপের লোকের মনের বা মাথার ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকি চিটারকে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে।

কিছু লেনদেন থাকতে পারে যেখানে বাদী আসামির নিকট টাকা পাওনা হলেও আসামির মোটেও কোন অপরাধ বা ফৌজদারি দায় থাকে না, তবে দেওয়ানি দায় থাকতে পারে, এগুলোকে ব্যবসায়িক লেনদেন বা দেওয়ানি প্রকৃতির দায় বলা হয়, সে টাকা দেওয়ানি প্রক্রিয়ায় আদায় যোগ্য হয়, যেমন:

* দীর্ঘ ও ধারাবাহিক ব্যবসায়িক একাধিক লেনদেনের পর হিসাব শেষে যদি আরও কিছু টাকা পাওনা থেকে যায়, তা দিতে না পারলে ও কোন তথ্য গোপন বা প্রতারনার উপাদান না থাকলে কোন অপরাধ হয় না [42 DLR AD 240, 19 BLD AD 128];

* ব্যবসায়িক পাওনা আংশিক পরিশোধ করার পর বাকি টাকা আসামির আর্থিক অসঙ্গতির জন্য দিতে ব্যর্থ হলে অপরাধ হয় না, তা একটি দেওয়ানি প্রকৃতির দায় ও দেওয়ানি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার যোগ্য; কিন্তু সেই Part payment ই যদি হয় প্রতারনার হাতিয়ার, তা দিয়েই যদি বাকি টাকা না দেয়ার অসৎ উদ্দ্যেশ্যে মাল সরবরাহ করার জন্য বাদীকে প্ররোচিত করা হয়, তাহলে 420 এর অপরাধ হয় [46 DLR AD 180];

* আসামি বাদীর পাওনা পরিশোধে আন্তরিক, কিছু দিয়েছে ও দিচ্ছে, বাকিটা দিবে দিবে বলছে ও সময় চাচ্ছে, কোন তথ্য গোপন করছে না, বাদীকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে না, তখন প্রতারনার উপাদান থাকে না ও কোন অপরাধ হয় না [50 DLR AD 163, 49 DLR AD 132] ইত্যাদি।

খুব খুব কম ঘটনা আছে, যেটাতে এই দুই ধারার অপরাধ একত্রে হতে পারে, যেমন: কেউ বিদেশ থেকে দেশে আসতেছে; আসার সময় অন্য প্রবাসিরা তাদের পরিবারকে এনে দেয়ার জন্য সেই লোককে কিছু খেজুর, মোবাইল, নগদ টাকা ইত্যাদি দিবে; এইসব জিনিস দেশে এসে ঠিকমত বুঝিয়ে না দিয়ে খেয়ে ফেললে 406 ধারায় আত্মসাতের অপরাধ হয়; আরেক প্রবাসি তার বাড়িতে পাঠানোর জন্য কোন জিনিস দিতে আসেনি, তবুও সে দেশে আসা লোক তার কাছে গিয়ে "তোমার বাড়ির জন্য এটা দাও, সেটা দাও" বলে খুঁজে নিয়ে আসলো এবং সব মেরে দিলো!! এই খুঁজে আনা জিনিসের ক্ষেত্রে 420 ও 406 উভয় ধারার অপরাধ একত্রে হয়েছে; প্রথমতঃ সে মেরে দেয়ার অসৎ উদ্দ্যেশ্যে মানুষকে দেশের বাড়ির জন্য কিছু জিনিস তাকে দিতে প্ররোচিত করে চিটিং করেছে, দৃতীয়তঃ সেসব জিনিস এনে তার বাড়িতে বুঝিয়ে না দিয়ে খেয়ে ফেলে 406 ধারায় আত্মসাতের অপরাধ করেছে। তবুও এই রকম নগদ টাকা খরচ করে ফেলে পরে নিজের টাকা এনে দিয়ে দিলে অপরাধ হবে না, কিন্তু খেজুর-মোবাইল ইত্যাদি হুবহু আসলটা অসৎ উদ্দ্যশ্যে অবৈধ লাভের জধ্য বদল করে ফেললেও আত্মসাতের অপরাধ হবে।

406/420 ধারার অপ প্রয়োগ অহরহ হতে দেখা যায়। অতিরিক্ত জেলা জজ হওয়ার পর ফৌজদারি আপীল-রিভিশনে দেখলাম- এমন কিছু 406/420 ধারার মামলা হয়েছে, আসামির অনেক দিন জামিন হয়নি, এমনকি সাজা হয়ে গেছে!! যেখানে আসলে কোন অপরাধই হয়নি বা 420 ধারার অপরাধ হয়েছে কিন্তু 406 ধারা অন্যায়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। এই দুইটি অপরাধের মর্মার্থ ও পার্থক্য বুঝার ও সঠিকভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে আদালত পাড়ায় কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে পাওনা টাকা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে এই দুইটি ধারাকে একত্রে বুঝে-শুনে অপ প্রয়োগের আবেদন জানানো হয়, কোন কোন আদালত সেই আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে থাকেন, উদ্দ্যেশ্য অনেকটা সৎ ও পাওনা টাকা আদায় করে দেয়া, কিন্তু পাওনা টাকা আদায়ের অন্য আইনগত উপায় রয়েছে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য 406/420 ধারাকে অপ প্রয়োগ করা আইনকে ইচ্ছাকৃতভাব না মানার সামিল হয়ে যায়। সর্বদা আইন মেনে চলতে হবে, বিশেষ করে আদালতকে। আইনকে লিখিত রূপ দেয়া হয়েছে এই জন্য যে- সবাই যেন তা এক রকমভাবে মেনে চলতে বাধ্য হয়, কেউ যেন কোনটা ন্যায় বা কোনটা অন্যায় তা নিজের খাম খেয়ালের বশে ব্যাখ্যা করে যা ইচ্ছা তা করতে না পারে। প্রয়োজনে আইনকে বদলানো যেতে পারে, যেমন- পেশাদার চিটারদেরকে প্রতিরোধ করার জন্য 420 কে অজামিনযোগ্য করা যেতে পারে।

দেওয়ানি রোগে আক্রান্ত মক্কেল আসলেই টেনেটুনে বা মিথ্যা গল্প সাজিয়ে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে দেয়ার একটা প্রবনতা দেখতে পাওয়া যায়। স্বামী পরিত্যাক্ত অসহায় মহিলা আদালতে এসেছেন, তার আশা নিজের ও সন্তানের মোহরানা ও ভরণপোষণ পাওয়া, কিন্তু মিথ্যা ও কল্পনার রং মেখে দায়ের করে দেয়া হল- যৌতুকের মামলা! সাথে একটি নারী-শিশু নির্যাতনের মামলা! সাথে স্বামীর বৃদ্ধ মা-বাবা ও দূরে স্বামী গৃহে বসবাসরত ননদ-ননসও আসামি! সবাইকে জেল খাটিয়ে তছনছ। রেগে গিয়ে স্বামী দিলো বাদীকে তালাক!! অনেক বছর পর বিচারে দেখা গেল- যৌতুকের কোন ব্যাপার ছিল না, অন্য কারণে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল, মামলা খারিজ!!! তখনো ভরণপোষণ ও মোহরানা আদায়ের জন্য পারিবারিক মামলা করা হয়নি। ভরণপোষণের দাবিও তামাদি হয়ে যায়, শেষ, সব শেষ।

বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতও কোন কোন ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা দেনা-পাওনার ঘটনায় দায়েরকৃত আইনত অচল ফৌজদারি মামলা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে দেন। বিজ্ঞ আইনজীবী ও বিজ্ঞ আদালত উভয়ের সৎ উদ্দ্যেশ্য ও আশা: এতে আসামি বাদীর পাওয়া দিয়ে দিবে। এতে বরং বাদীর ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, কারণ এমন অচল মামলা শেষ পর্যন্ত টিকবে না, অনেক বছর পর উচ্চ আদালতে গিয়ে খারিজ হয়ে যাবে, তত দিনে বাদীর দম ও টাকা আদায়ের তামাদির মেয়াদ শেষ! তাই শুরুতে আপাত নিষ্ঠুর দেখালেও আইনত অচল মামলা ফাইলিং এর সময় খারিজ করে দেয়া ও বাদীকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেয়া উত্তম, যেন আইনত অচল ফৌজদারি মামলা চালাতে চালাতে বাদীর দম ও পাওনা আদায়ের তামাদির মেয়াদ ফুরিয়ে না যায়।

26/04/2026

আসসালামু আলাইকুম। মুসলিম আইনে

মুসলিম সম্পত্তি বণ্টনের ইসলামী উত্তরাধিকার আইন ও ফারায়েজ নীতি :-

১। স্ত্রীর দুই অবস্থাঃ
(ক) মৃত ব্যাক্তির সন্তান না থাকলে ১/৪,
( খ) আর থাকলে ১/৮ অংশ পাইবে।

২। স্বামীর দুই অবস্থাঃ
(ক) স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তান না থাকলে ১/২,
( খ) আর থাকলে ১/৪ অংশ পাইবে।

৩। কন্যার তিন অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র কন্যা থাকলে ১/২ ,
( খ) একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাইবে,
(গ) পুত্র কন্যা একসাথে থাকলে ২:১ অনুপাতে পাইবে।

৪। পিতার তিন অবস্থাঃ
(ক) মৃত্যু ব্যাক্তির পুত্র বা পৌত্র বা পুরুষ শ্রেনী বর্তমানে থাকলে ১/৬ অংশ পাইবে,
(খ) পুরুষ শ্রেনি না থাকলে এবং কন্যা বা পৌত্রী বা মহিলা শ্রেনী বর্তমানে থাকলে( ১/৬+অবশিষ্ট) অংশ পাইবে,
(গ)পুরুষ বা মহিলা শ্রেনী বর্তমানে না থাকলে অবশিষ্ট সকল অংশ পাইবে।

৫। মায়ের তিন অবস্থাঃ
(ক) মৃত্যু ব্যক্তির সন্তান বা একাধিক ভাইবোন থাকলে ১/৬ অংশ পাইবে,
(খ) মৃত্যু ব্যক্তির যদি কোন সন্তান না থাকে বা ভাইবোন ২ জনের কম থাকলে ১/৩ অংশ পাইবে,
(গ) স্বামী বা স্ত্রীর সাথে পিতা মাতা উভয়ে থাকলে , মৃত্যু ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দেয়ার পর বাকি সম্পত্তির ১/৩ অংশ পাইবে।

৬। বৈপিত্রীয় ভাইবোনদের তিন অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র বৈপিত্রীয় ভাইবোন থাকলে ১/৬ অংশ,
(খ) একাধিক থাকলে ১/৩ অংশ পাইবে
(গ) মৃত্যু ব্যাক্তির পুত্র বা পৌত্র,পিতা বা দাদা থাকলে বঞ্ছিত হইবে।

৭। পৌত্রীগনের ছয় অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র পৌত্রী থাকলে ১/২,
( খ) একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাইবে,
(গ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একজন মাত্র কন্যা থাকে তাহলে পৌত্রীগন ১/৬ অংশ পাইবে,
(ঘ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একাধিক কন্যা থাকে তাহলে পৌত্রীগন বঞ্ছিত হইবে,
(ঙ) মৃত্যু ব্যক্তির পৌত্রী ও পৌত্র একই সাথে থাকলে অংশীদার হইবে,
(চ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির পুত্র থাকে তাহলে পৌত্রীগন বঞ্ছিত হইবে।

৮। সহোদরা বোনদের পাঁচ অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র সহোদরা বোন থাকলে ১/২,
( খ) একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাইবে,
(গ) সহোদরা বোনের সাথে সহোদরা ভাই থাকলে আসাবা হইবে,
(ঘ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একজন মাত্র কন্যা বা পৌত্রী থাকে তাহলে সহোদরা বোনগন ১/৬ অংশ পাইবে। একাধিক কন্যা বা পৌত্রী থাকলে এবং অন্য কোন ওয়ারিশ না থাকলে অংশীদার হইবে,
(ঙ) মৃত্যু ব্যাক্তির পুরুষ শ্রেনীর ওয়ারিশ থাকলে সহোদরা বোনগন বঞ্ছিত হইবে।

৯। বৈমাত্রিয় বোনদের সাত অবস্থাঃ
(ক) যদি মৃত্যু ব্যাক্তির সহোদরা বোন না থাকে ও একজন মাত্র বৈমাত্রিয় বোন থাকলে ১/২,
(খ)একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাইবে,
(গ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একজন মাত্র সহোদরা বোন থাকে তাহলে বৈমাত্রিয় বোন ১/৬ অংশ পাইবে,
(ঘ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একাধিক সহোদরা বোন থাকে তাহলে বৈমাত্রিয় বোনগণ বঞ্ছিত হইবে,
(ঙ)যদি মৃত্যু ব্যক্তির একাধিক সহোদরা বোন থাকে এবং বৈমাত্রিয় বোনের সাথে বৈমাত্রিয় ভাই থাকলে একএে অংশীদার হইবে।
(চ) মৃত্যু ব্যাক্তির কন্যা বা পৌত্রী থাকলে এবং অন্য কোন ওয়ারিশ না থাকলে বৈমাত্রিয় বোনগণ অবশিষ্ট অংশ পাইবে,
(ছ) মৃত্যু ব্যক্তির পুরুষ ওয়ারিশ থাকলে বৈমাত্রিয় বোনগন বঞ্ছিত হইবে।

১০। দাদী নানীর ২ অবস্থাঃ
(ক) পিতৃ বা মাতৃ সম্পর্কের এক বা একাধিক যাহাই হোক ১/৬ অংশ পাইবে,
(খ) মৃত্যু ব্যক্তির মাতা জীবিত থাকলে বঞ্ছিত হইবে। তবে পিতা জীবিত থাকলে দাদী বঞ্ছিত হইবে।

দোয়া ও শুভ কামনা

নাছির উদ্দীন
অ্যাডভোকেট ও আয়কর উপদেষ্টা

16/04/2026

অবিটার ডিকটাম (obiter dictum) ?

আইনের জগতে একটি বহুল আলোচিত ল্যাটিন পরিভাষা হলো 'Obiter Dictum'. আদালত যখন কোনো মামলার রায় দেন, তখন রায়ের মূল সিদ্ধান্তকে বলা হয় Ratio Decidendi . কিন্তু বিচারক রায় লিখতে গিয়ে অনেক সময় মূল বিষয়ের বাইরে কিছু পর্যবেক্ষণ দেন বা মন্তব্য করেন। এটিই Obiter Dictum। যেমন বিখ্যাত মাসদার হোসেন মামলায় আপিল বিভাগের মূল সিদ্ধান্ত ছিল 'বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করতে হবে এবং বিচারকদের চাকরিতে বেতন, পোস্টিং, প্রমোশন আলাদা বিধিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে'।

কিন্তু এই রায় লিখতে গিয়ে আদালত অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ হিসেবে বললেন "সংসদ বিচার বিভাগ সংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারবে না, এটি সম্পূর্ণভাবে সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার"।

এই পর্যবেক্ষণটি মূল বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কোন কাজের ছিলো না, তারপরেও এই অবজারবেশন কোর্ট রায় লিখতে গিয়ে দিয়েছেন, তাই এটি Obiter Dictum। এইটা কেও মানতে বাধ্য নাহ। পরবর্তীকালে বিভিন্ন মামলায় কোর্টের এই অবজারভেশন লয়াররা ব্যবহার করেছেন আদালতকে কোন যুক্তি উপস্থাপন করার সময় মামলা জয়ের উদ্দ্যেশ্যে। কিন্তু stare decisis হিসেবে নয়। stare decisis মানে হলো আদালত পূর্বে একই ধরনের মামলায় যে রায় (Precedent) দিয়েছেন, পরবর্তী মামলাগুলোতে সেই একই সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে, যদি ঘটনা অনেকটা সিমিলার হয়।

In a recent case, Bangladesh v. Asaduzzaman Siddiqui, 77 DLR (AD) 134 [2025], at paragraph 89, the court observed that
"So from the above discussion, it is quite clear that the obiter dictum does not have any authority or binding force on other courts, but it can be cited as persuasive authority in future litigation"

08/04/2026

চেকের মামলায় যুগান্তকারী মোড়! বৈধ লেনদেনের প্রমাণ ছাড়া জেল হওয়ার দিন শেষ।

বাংলাদেশে চেক ডিসঅনারের মামলা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ মামলায় আসামিকে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদ- বা চেকের অঙ্কের তিনগুণ জরিমানা বা উভয় হতে পারে। কিন্তু মামলা টিকবে শুধুমাত্র যদি চেকটি কোনো বৈধ ঋণ বা দায় পরিশোধের জন্য ইস্যু করা হয়ে থাকে।

লেনদেন, দেনা-পাওনা বা কোনো প্রতিদান (কনসিডারেশন) না থাকা সত্ত্বেও যদি কোনোভাবে চুরি, জালিয়াতি, বলপ্রয়োগ, সিকিউরিটি হিসেবে বা ফাঁকা চেক হিসেবে চেক কারও হাতে চলে যায়, তাহলে সেই চেক দিয়ে সফল মামলা করা যাবে না।

প্রতিদানবিহীন হস্তান্তরযোগ্য দলিল বিষয়ে যখন পক্ষগণের মধ্যে কোন প্রতিদান (কনসিডারেশন) থাকে না, সেখানে হস্তান্তরযোগ্য দলিল অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিদান ছাড়া যেমন চুক্তি হয় না, তেমনি প্রতিদান ছাড়া কোন হস্তান্তরযোগ্য দলিল চেক কার্যকর করা যাবে না। কাজেই স্বাক্ষরসহ চেক কারও নিকট হস্তগত হলেই কিংবা ব্যাংক ডিসঅনার করলেই চেকের মামলায় আসামীকে শায়েস্তা করা যাবে না।

দেনা পাওনা বা লেনদেন প্রমাণ করতে না পারলে মামলায় আসামী খালাস পাবে-এমনটিই বলেছেন উচ্চ আদালত। (লোকমান বনাম আয়ুব আলী এবং রাষ্ট্র মামলা, যা ৩৮ বিএলডি, পৃষ্ঠা ৬১৬, ৬১৭-৬২০) উল্লেখ রয়েছে। কেস ষ্টাডিটি এরকম যে, বাদী কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামীর বিরুদ্ধে এই মর্মে নালিশী মামলা দাখিল করেন যে, আসামী বাদীর নিকট থেকে ঋণ হিসেবে ৪০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করার পর উক্ত ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে উক্ত পরিমাণ টাকা সম্বলিত একটি চেক বাদীর অনুকূলে ইস্যু করেন। উক্ত চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে ‘সিগনেচার ডিফারস’ অর্থাৎ চেকের স্বাক্ষরে মিল নেই মন্তব্যসহ ডিসঅনার হয়। এরপর বাদী আসামী বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। আসামী উক্ত লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্ত হলেও বাদীর অনুকূলে টাকা পরিশোধের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই। নালিশটি দায়েরের পর আসামী সমন প্রাপ্ত হয়ে জামিন হলে মামলাটি বিচারের জন্য কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ, ৪র্থ আদালতে আসলে আদালত উভয় পক্ষের সাক্ষ্য প্রমাণাদি নিয়ে আসামীকে এ মামলার দায় থেকে খালাস দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন যে, আসামী সাফাই সাক্ষ্যর মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, বাদীর সাথে তার বৈধ কোন লেনদেন বা চেক সম্পর্কিত কোন কনসিডারেশন ছিল না। উক্ত রায় ও আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারী আপিল দায়ের করলে হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ নিম্ন আদালত কর্তৃক প্রচারিত আদেশ বহাল রাখেন। ওই রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ এন.আই এ্যাক্টের ধারা ৯ এবং ৪৩ ধারা ব্যাখ্যা করে মন্তব্য করেন যে, মামলার ঘটনা এবং পরিবেশ পরিস্থিতি প্রমাণ করে না যে, বাদী আপিলকারী নালিশী চেকটির হোল্ডার-ইন-ডিউ কোর্স ছিলেন। আদালত আরও মন্তব্য করেন যে, নালিশী চেকটির বিপরীতে কী কনসিডারেশন ছিল তা বাদী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আসামী সাফাই সাক্ষী দিয়ে ডিফেন্স প্লী প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামী সাফাই সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আসামী কোন ঋণ পরিশোধের জন্য তর্কিত চেকটি বাদীর অনুকুলে ইস্যু করে নাই।

ধারা ১৩৮ এর অধীনে বিচার শুধুমাত্র চেকের বাহ্যিক সত্যতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আদালতকে অভিযোগকারীর দাবির ন্যায্যতা এবং আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়গুলোও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করতে হবে। (১৯ এএলআর, ৫৬)

আবার আসামীর স্বাক্ষর, টাকার অংক এবং পেয়ীর নাম ভিন্ন হাতের লেখা হলে এন.আই এ্যাক্টের ৩ (ই) ধারার বিধান অনুসারে এটাকে ইস্যুয়েন্স অব চেক বলা যাবে না। সেই চেক আইনানুগভাবে বৈধ হবে না। এ বিষয়ে ৫৬ ডিএলআর ৬৩৬ পৃষ্ঠায় একটি দারুন সিদ্ধান্ত আছে।

রাষ্ট্রপক্ষকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, চেক প্রদানের সময় বিনিময় প্রহণ করা হয়েছে। যদি অনুরূপ প্রমাণে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয় তবে মামলা ব্যর্থ হবে। উপসংহারে বলা যায় যে, বিনিময় প্রমাণে ব্যর্থ হলে, নালিশী চেক আসামী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হলেও বিনিময় নেই মর্মে গণ্য হবে। [২৬ বিএলসি (এইচসিডি) ২০২১, ৩১৫, এরশাদ আলী মোঃ এরশাদ উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র]

কাজেই শুধু চেক কারও নিকট থাকলেই চেকের মামলায় সাজা দেয়া যাবে না। লেনদেন, দেনা পাওনা কিংবা কোন প্রতিদান, কনসিডারেশন ছিল এমনটি প্রমাণ করতে হবে। নতুবা আসামী খালাস পাবে।

Address

Chittagong

Telephone

+8801712147374

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nasir Uddin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Nasir Uddin:

Shortcuts

Share