Roy Law Chamber Bogra

Call Contact the business

Roy Law Chamber Bogra Civil and Criminal law Practitioner Since 1996 Judge Court Dhaka and Bogra. Civil
1. Declaration of Title

b. Recovery of Possession

c. Injunction

d. f. Dowry

A New Generation of Advocates Program at Freedom House" Judge Court Bogura, Bogura Zilla Advocates Bar Samity, Gauhor Ali Bhaban ( Ground Floor) Mobile:01712218242 Divorce & Family Law, Employment Discrimination & Employment Law
Contract Disputes,Land disputes.Commercial Litigation.Company Law,Hindu Law and Muhammadan Law . Land Litigation:



Any legal proceeding or dispute arising out of land or in-respect of land, more specifically the nature of suit or case includes but not limited by the followings;

a. Cancellation of Deeds/Instruments

e. Eviction

f. Specific Performance of Contract

g. Records and Mutation

h. Land survey tribunal issues

i. Partition

j. Money

k. Small Causes

l. Proceedings on the issue of transferring land by way of sale, gift (Heba), mortgage, lease, trust, will, probate, settlement, license, Contract for Sale (Baina), etc


2. Banking Matter



The proceedings relating to original Bank transactions which includes but not limited by the followings;

a. CIB Reports by Bangladesh Bank

b. Letter of Credit (L.C) matters

c. Calculation of Interests or other terms involve with Bank Account

d. Any other proceedings concerning Bank transaction


3. Artha Rin



Artha Rin matters mean the cases or suits initiated under the Artha Rin Ain. Lawyers Bangladesh has been assisting its clients in all kinds of artha rin matters. The nature of Artha Rin cases are including but not limited to the followings;

a. Repayment of Loan

b. Selling of property (Collateral Security)

c. Mortgage (Equitable Mortgage)

d. Installment process of loan

e. Arrest and Civil Imprisonment under artha rin ain. Issues of pledge goods

g. Auction sale of Property


4. Educational Institutional Matter
5. Corporation issues
6. Compensation & Financial Matter
7. Insurance Matter

Criminal
------------
Criminal Matters we do

1. Murder & Culpable Homicide
2. Arms & Explosive
3. Nari-O-Shishu
4.Theft
5. Robbery and Dacoity
6.Fraud
7. Misappropriation of money
8.Criminal Breach of Trust
9. Forgery
10. Adulteration
11.Negotiable Instruments (Check Dishonour)
12. Narcotics and Drugs
13.Trespass
14.Abduction/ Kidnap
15 .Enforced Disappearance
16.Rape
17. Acid Throwing
18.Dowry Demanding
19. Defamation
20.Assault and Battery
21. Mal Prosecution


Criminal Cases we conduct

A.Complaint Cases (C R Case)

B. Police Station Cases (G R Case)

C. Criminal Appeals

D. Criminal Revisions

E. Quashment (561A)

F. Miscellaneous Cases




Criminal Courts we appear

1.Judicial Magistrate Court

2. Court of Sessions Judge

3. Special Tribunal

4. Nari-O-S hishu Nirjatan Daman Tribunal

5. Druto Bichar Adalat

6. High Court Division

7. Appellate Division of the Supreme Court


Our Services

1. Bail and Anticipatory Bail Petition

2. Trial of Cases

3. Appeal stage

4. Revision Stage

5. Miscellaneous


Family Matter
-----------------

1. Divorce

2. Maintenance & Dower

3. Miscellaneous

4. Guardianship

5. Restitution of Conjugal Right

6. Domestic Violence

7.

06/10/2026

দায়রা জজ কর্তৃক নামঞ্জুর বেইল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মঞ্জুর/সাহসী ম্যাজিস্ট্রেট

06/10/2026

চেকের মামলা মানেই জেল নয়: কুড়িগ্রাম আদালতের একটি রায় যা শেখায়!

"চেকের মামলায় আসামীর খালাস হয় না": এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। চেকে স্বাক্ষর থাকলেই সাজা অনিবার্য, এমন বিশ্বাসে অনেক নিরপরাধ মানুষ লড়াইয়ের আগেই হাল ছেড়ে দেন। কুড়িগ্রামের দায়রা আদালতের সাম্প্রতিক একটি আপিলের রায় দেখায়, চেকটি কেন এবং কী উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল, তা প্রমাণ করতে পারলে আসামী খালাস পেতে পারেন।

বাদীর দাবি ছিল, তিনি ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য আসামীকে ৫ লক্ষ টাকা দেন। টাকা ফেরত না পেয়ে আসামীর দেওয়া অগ্রণী ব্যাংকের চেকটি ২৬/০৮/২০২১ তারিখে জমা দিলে তা ডিজঅনার হয়। এরপর লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে তিনি নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় মামলা করেন।

বিচারিক আদালত (যুগ্ম দায়রা জজ, ১ম আদালত, কুড়িগ্রাম) ২৮/০৫/২০২৫ তারিখে আসামীকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেন। আসামী এই রায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ১১০/২০২৫ দায়ের করেন। অতিরিক্ত দায়রা জজ, ২য় আদালত, কুড়িগ্রাম আপিল মঞ্জুর করে সাজা বাতিল করেন এবং আসামীকে খালাস দেন।

১. চেকটি ছিল জামানতের, পাওনা পরিশোধের নয়।
আসামীপক্ষ দুটি চুক্তিপত্র আদালতে দাখিল করে। তাতে দেখা যায়, টাকার লেনদেন ছিল বরগুনার এক ব্যক্তি ও সিরাজগঞ্জের এক ব্যক্তির মধ্যে। আসামী ছিলেন প্রথম পক্ষের স্থানীয় জামিনদার, আর বাদী ছিলেন দ্বিতীয় পক্ষের জামিনদার ও মধ্যস্থতাকারী। চুক্তিতেই লেখা ছিল, জামিনদার হিসেবে আসামীর ৫ লক্ষ টাকার ওই চেকটি বাদীর কাছে জমা থাকবে।

২. বাদী ও আসামীর মধ্যে কোনো টাকার লেনদেন হয়নি।
আপিল আদালত সিদ্ধান্ত দেন, দুজনই কেবল জামিনদার হিসেবে যুক্ত ছিলেন, তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো লেনদেন ছিল না। বাদী নিজেও জেরায় স্বীকার করেন যে তিনি চুক্তিতে শুধু মধ্যস্থতাকারী ছিলেন এবং সেদিন চেক ছাড়া কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি।

৩. বাদী নিজের চুক্তিপত্রই আদালতে আনেননি।
নালিশে চুক্তির কথা উল্লেখ করলেও বাদী তা দাখিল করেননি। জবানবন্দিতে তিনি চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলতেও পারেননি।

৪. বিচারিক আদালত সাফাই সাক্ষ্য বিবেচনা করেননি।
আসামীপক্ষে দুজন সাক্ষী (ডি.ডব্লিউ-১ ও ২) সাক্ষ্য দেন এবং বাদীপক্ষ তাদের জেরাও করে। অথচ বিচারিক আদালতের রায়ে লেখা হয়, "আসামীপক্ষ কোনো সাক্ষ্য উপস্থাপন করেননি।" আপিল আদালত বলেন, এই সাক্ষ্য বিবেচনা করা অবশ্যই উচিত ছিল।

৫. ৩৪২ ধারার পরীক্ষায় ত্রুটি।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামীকে পরীক্ষার সময় তার বিরুদ্ধে কী কী সাক্ষ্য এসেছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি। আপিল আদালত একে ব্যত্যয় হিসেবে চিহ্নিত করেন।

আপিলে আরও কিছু যুক্তি তোলা হয়েছিল, যেমন লিগ্যাল নোটিশ না পাওয়া এবং ব্যাংক কর্মকর্তাকে সাক্ষী না করা। তবে খালাসের মূল ভিত্তি ছিল ওপরের বিষয়গুলো

সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা যারা চেক দেন:
ফাঁকা বা "জামানতের" চেক দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দিতেই হলে লিখিত চুক্তিতে চেকের নম্বর, টাকার অঙ্ক ও উদ্দেশ্য উল্লেখ করুন এবং চুক্তির কপি নিজের কাছে রাখুন। এই মামলায় সেই চুক্তিপত্রই আসামীকে বাঁচিয়েছে।
অন্যের লেনদেনে জামিনদার হওয়ার আগে ভালো করে ভাবুন।
মামলা হলে পালিয়ে না থেকে আদালতে হাজির হোন, সাক্ষী ও কাগজপত্র দিন।
সাজা হলে আপিলের সুযোগ আছে। তবে আপিল করতে সাধারণত চেকের অঙ্কের ৫০% জমা দিতে হয়।

চেকের পেছনে প্রকৃত পাওনা থাকতে হবে এবং তার প্রমাণ (চুক্তি, রসিদ, সাক্ষী) সংরক্ষণ করুন।
জামানত হিসেবে রাখা অন্যের চেক দিয়ে মামলা করলে তা শেষ পর্যন্ত টেকে না।

এই রায়ের অর্থ এই নয় যে ভালো আইনজীবী থাকলেই চেকের মামলায় খালাস পাওয়া যায়। ১৩৮ ধারা কঠোর আইন, এবং প্রকৃত দেনার বিপরীতে চেক দিয়ে তা ডিজঅনার হলে সাজা হওয়াই স্বাভাবিক। এখানে আসামী খালাস পেয়েছেন কারণ দলিল ও সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে যে চেকটি কোনো দেনা পরিশোধের জন্য দেওয়া হয়নি। প্রতিটি মামলার ফল তার নিজস্ব তথ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভর করে, এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

06/10/2026

চেক ডিজঅনার মামলা: "পাওনাদারের এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্যই ছিল না" বললেই রেহাই নয়! ভারতের সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

চেক ডিজঅনার (চেক প্রত্যাখ্যান) মামলায় অনেক সময় আসামি বলেন, "বাদীর আয় তো সামান্য, তিনি এত টাকা ধার দিলেন কীভাবে?" ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি কুন্তেগৌড়া বনাম থুরুবাইয়া (২০২৬), আই.এন.এস.সি-৭৯০ মামলায় বলেছেন, শুধু এমন সন্দেহ তুলে পাওনা টাকা অস্বীকার করা যাবে না।

১. চেকে সই স্বীকৃত বা প্রমাণিত হলে আইন ধরে নেয়, চেকটি বৈধ পাওনা পরিশোধের জন্যই দেওয়া হয়েছিল। তখন উল্টোটা প্রমাণের দায়িত্ব আসামির।

২. "আমি টাকা নিইনি" বলা যথেষ্ট নয়। সাক্ষী, কাগজপত্র বা বাদীপক্ষকে জেরা করে দেখাতে হবে যে আসলে কোনো দেনা ছিল না।

৩. বাদীর আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রাথমিক দায়িত্ব আসামির। এই আপত্তি শুরুতেই, অর্থাৎ আইনি নোটিশের জবাবে স্পষ্টভাবে তুলতে হবে। তা না হলে বাদীকে নিজ থেকে তাঁর সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে না।

৪. আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য কখন তোলা হলো এবং তা আগাগোড়া একই রকম ছিল কি না, আদালত তা বিবেচনা করেন। পরে বানানো অজুহাত সহজে টেকে না।

বাদীর মাসিক আয় কম ছিল, তবে তিনি বিভিন্ন ব্যবসা ও চিট ফান্ডে (সমিতি ধরনের সঞ্চয় তহবিল) বিনিয়োগ করতেন। তিনি আরও দুজনের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করেছিলেন, এবং সেই দুই সাক্ষী আদালতে তা সমর্থন করেন। অন্যদিকে আসামি "চেকের অপব্যবহার হয়েছে" বলে যে দাবি করেন, তা তিনি পরে তুলেছিলেন এবং এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি।

ফলে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের খালাসের রায় বাতিল করে বিচারিক আদালত ও আপিল আদালতের দেওয়া সাজা বহাল করেন।

বাদীর সামর্থ্য না থাকা একটি বৈধ আত্মপক্ষ সমর্থন হতে পারে, তবে তা সময়মতো তুলতে হবে এবং প্রমাণ দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। শুধু সন্দেহ দিয়ে আইনের অনুমান খণ্ডন করা যায় না।

রায়টি ভারতের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলায় দেওয়া। বাংলাদেশেও একই নামের আইনে একই ধারা আছে, তবে এ দেশের আদালতে এই রায় বাধ্যতামূলক নয়, কেবল সহায়ক নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

01/10/2026

ফাঁকা চেক দিয়েছেন? পাওনার বেশি টাকা বসালে তা প্রতারণা হতে পারে: আপিল বিভাগ

বিশ্বাস করে অনেকেই পাওনাদারের হাতে সই করা ফাঁকা চেক তুলে দেন। পরে দেখা যায়, সেই চেকে আসল পাওনার চেয়ে অনেক বেশি টাকা লিখে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। টাকা না থাকায় চেক ফেরত আসে, আর চেকদাতার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীর জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

24 BLC (AD) 139 মামলায় আপিল বিভাগ বলেছেন, ফাঁকা চেকে প্রকৃত পাওনার চেয়ে বেশি টাকা বসানো প্রতারণার উপাদান। এটি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ প্রতারণা পুরো লেনদেনের ভিত্তিকেই নষ্ট করে দেয়।

আদালত আরও বলেছেন, চেকে টাকার অঙ্ক ও তারিখ হলো মৌলিক বিষয়। চেকদাতার সম্মতি ছাড়া এগুলো বদলানো বা বসানো হলে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কাউকে ঠকানোর উদ্দেশ্য এবং সেই সুযোগ কাজে লাগানোর উপায়, এই দুটি একসঙ্গে থাকলে সেখানে প্রতারণার উপাদান থাকতে পারে।

সহজ কথায়, ফাঁকা চেক দেওয়া মানে যা খুশি টাকা বসানোর অনুমতি দেওয়া নয়। পাওনা যদি ৫০ হাজার টাকা হয়, আর চেকে ৫ লাখ লেখা হয়, তবে সেই বাড়তি টাকার দাবি আইনের চোখে প্রশ্নবিদ্ধ।

তবে শুধু "চেকটা ফাঁকা ছিল" বললেই প্রতারণা প্রমাণ হয়ে যায় না। আদালতে প্রমাণ করতে হবে:

১. চেকটি ফাঁকা অবস্থায় দেওয়া হয়েছিল;
২. আসল পাওনা কত ছিল;
৩. চেকধারী জেনেশুনে তার চেয়ে বেশি টাকা লিখেছেন;
৪. চেকদাতা এতে সম্মতি দেননি;
৫. বাড়তি টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই চেকটি ব্যবহার করা হয়েছে।

ফাঁকা চেক দিলে কী কারণে দিলেন এবং আসল দেনা কত, তার লিখিত প্রমাণ রাখুন: চুক্তিপত্র, রসিদ, লেনদেনের কাগজ, মেসেজ বা সাক্ষী। বিরোধ দেখা দিলে এগুলোই আপনার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। আর যিনি ফাঁকা চেক নিচ্ছেন, তাঁকে মনে রাখতে হবে, চেকে শুধু প্রকৃত পাওনার অঙ্কই লেখা যাবে।

মনে রাখুন, পাওনার বেশি টাকা বসিয়ে চেক ডিজঅনার করানো শুধু চেকের মামলা নয়, প্রমাণ সাপেক্ষে এটি প্রতারণার বিষয়ও হতে পারে।

30/09/2026

শুধু খতিয়ানে সরকারের নাম থাকলেই জমি সরকারের নয়: হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়। ৭৮ ডিএলআর ৫২৫ | জেলা প্রশাসক, ঢাকা বনাম মো. আবুল হাসান ও অন্যান্য | প্রথম আপিল নং ৭১/২০২১

জমির খতিয়ানে সরকারের নাম উঠে গেলেই কি জমিটি সরকারের হয়ে যায়? সম্প্রতি ঢাকা ল রিপোর্টসে (ডিএলআর) প্রকাশিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায়ে এর উত্তর মিলেছে: না, শুধু খতিয়ানে নাম থাকাই মালিকানার প্রমাণ নয়।

প্রায় ১১৩ শতাংশ জমির মূল মালিক ছিলেন হলধর মণ্ডল। তাঁর মৃত্যুর পর ভাই বলহরি মণ্ডল জমিটি পান। ১৯৫৬ সালে তিনি রেজিস্ট্রি দলিলমূলে জমিটি মকবুল হোসেনের কাছে বিক্রি করেন। মকবুল হোসেন নামজারি করেন, খাজনা দেন এবং এসএ খতিয়ানেও তাঁর নাম ওঠে।

পরে এই জমির ৩০ শতাংশ সরকার অধিগ্রহণ করে। কিন্তু আরএস জরিপের সময় জেলা প্রশাসক, ঢাকার নামে ১ নম্বর খতিয়ানে জমি রেকর্ড হয়ে যায়। এর মধ্যে বাদীর কেনা প্রায় ৫ শতাংশ (০.০৪৯৫ একর) জমিও পড়ে যায়। বাদী স্বত্বের মামলা করেন এবং বিচারিক আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন। সরকার হাইকোর্টে আপিল করে।

সরকারের পক্ষে সাক্ষ্য দেন একজন কানুনগো। তিনি স্বীকার করেন, মাত্র ৩০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল। বাকি ৮৩ শতাংশ সরকারি জমি কি না, তা তিনি বলতে পারেননি।

সবচেয়ে বড় কথা, বাদীর নির্দিষ্ট জমিটি যে অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছিল, সরকার তার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। রোয়েদাদ তালিকা, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রেকর্ড কিংবা অধিগ্রহণের মূল নথি আদালতে দাখিল করা হয়নি।

আদালতের দৃষ্টিতে "কিছু জমি অধিগ্রহণ হয়েছে" আর "এই জমিটিও অধিগ্রহণ হয়েছে" এক কথা নয়।

বাদী শুধু একটি কাগজের ওপর নির্ভর করেননি। তিনি দেখিয়েছেন:

ক) মূল মালিক থেকে ধারাবাহিক রেজিস্ট্রি দলিল
খ) নিজের ও পূর্বমালিকের নামে নামজারি
গ) নিয়মিত খাজনা পরিশোধ
ঘ) রাজউকের অনুমোদন নিয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণ
ঙ) পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ
চ) ঢাকা সিটি জরিপে (ডিপি খতিয়ান) নিজের নাম

সব প্রমাণ মিলিয়ে আদালত বাদীর দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন।

হাইকোর্ট বলেছেন, আরএস খতিয়ান নিজে কাউকে মালিকানা দেয় না, আবার কারো মালিকানা কেড়েও নেয় না। অধিগ্রহণের কাগজপত্র না থাকলে শুধু সরকারি খতিয়ানে নাম থাকলেই জমি সরকারের বলে প্রমাণ হয় না। তাই বিরোধীয় জমির ক্ষেত্রে সরকারের নামে করা রেকর্ড ভুল এবং তা বাদীর ওপর প্রযোজ্য নয়।

বিচারিক আদালত প্রার্থনার বাইরে প্রতিকার দিয়েছেন, সরকারের এমন আপত্তিও হাইকোর্ট গ্রহণ করেননি। শেষ পর্যন্ত আপিল খারিজ হয় এবং বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকে।

এই রায়ের মানে এই নয় যে খতিয়ানের কোনো দাম নেই। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৪ক ধারা অনুযায়ী খতিয়ানের লেখা সঠিক বলেই ধরা হয়, যতক্ষণ না উল্টো প্রমাণ হাজির হয়। আবার "খতিয়ান যার, জমি তার", এই ধারণাও ঠিক নয়। খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, কিন্তু শেষ কথা নয়।

আপনার জমি ভুল করে সরকারের নামে রেকর্ড হয়ে গেলে হতাশ হবেন না। দলিল, নামজারি, খাজনার রসিদ ও দখলের প্রমাণ গুছিয়ে রাখুন। মামলায় জানতে চান, সরকার কোন অধিগ্রহণ মামলায় জমি নিয়েছে, রোয়েদাদ তালিকা ও ক্ষতিপূরণের রেকর্ড কোথায়, আর আপনার দাগের ঠিক কোন অংশ অধিগ্রহণ হয়েছে।

খতিয়ানে নাম আর আইনগত মালিকানা এক জিনিস নয়। সরকার অধিগ্রহণের দাবি করলে, নির্দিষ্ট জমিটি যে অধিগ্রহণ হয়েছে তা কাগজে-কলমে প্রমাণ করতে হবে।

30/09/2026

চেকদাতা মারা গেলে চেক ডিসঅনারের মামলা কি ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে চলবে?

সূত্র: খলিলুর রহমান (মৃত), তাহার উত্তরাধিকারী নাজমান বেগম বনাম মো. হাবিবুল্লাহ, ৫৭ ডিএলআর (এইচসিডি) ৬০৩

আমাদের সমাজে ধার-দেনা বা ব্যবসায়িক লেনদেনে চেক দেওয়া খুব সাধারণ বিষয়। চেক ডিসঅনার হলে পাওনাদার সাধারণত দি নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় ফৌজদারি মামলা করেন। কিন্তু মামলা চলাকালে বা মামলার আগে চেকদাতা মারা গেলে কী হবে? তাঁর স্ত্রী, সন্তান বা অন্য ওয়ারিশদের কি আসামি করা যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে উপরোক্ত মামলায়।

খলিলুর রহমান মো. হাবিবুল্লাহকে একটি চেক দেন। চেকটি ব্যাংক থেকে ডিসঅনার হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারায় মামলা হয়। মামলা চলাকালে খলিলুর রহমান মারা যান। তখন প্রশ্ন ওঠে, চেক যেহেতু ডিসঅনার হয়েছে এবং অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাহলে তাঁর ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে কি মামলাটি চলবে?

হাইকোর্ট বিভাগ মূলত এই নীতিটি প্রতিষ্ঠা করেন যে ফৌজদারি দায় ব্যক্তিগত। অপরাধ যিনি করেছেন, শাস্তিও কেবল তাঁরই প্রাপ্য। চেকে সই করেছেন খলিলুর রহমান, নোটিশ পাওয়ার পর টাকা পরিশোধে ব্যর্থও হয়েছেন তিনি। তাঁর ওয়ারিশরা এই চেক ইস্যু করেননি, তাই তাঁদের কাঁধে অপরাধের দায় চাপানো যায় না।

ফলে আসামির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারার ফৌজদারি কার্যক্রম অবসান (abate) হয়ে যায়। ওয়ারিশদের আসামি হিসেবে প্রতিস্থাপন করে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের জন্য মামলা চালানো যায় না।

তাহলে পাওনাদারের টাকা কি ডুবে গেল? না। ফৌজদারি মামলা শেষ হলেও দেওয়ানি দায় শেষ হয় না। মৃত ব্যক্তির ঋণ তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে পরিশোধযোগ্য। পাওনাদার চাইলে:

মৃত চেকদাতার ওয়ারিশদের বিবাদী করে টাকা আদায়ের দেওয়ানি মামলা (Money Suit) করতে পারেন।
তবে ওয়ারিশরা দায়ী থাকবেন কেবল মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ পর্যন্ত। ওয়ারিশদের নিজস্ব অর্জিত সম্পত্তি থেকে এই দেনা আদায় করা যাবে না।
ডিসঅনার হওয়া চেকটি ঋণের অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেওয়ানি মামলায় ব্যবহার করা যাবে।

ক) চেকদাতা মারা গেলে ১৩৮ ধারার ফৌজদারি মামলা ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে চলবে না।
খ) ওয়ারিশদের জেল বা জরিমানার ভয় দেখানো আইনসম্মত নয়।
গ) পাওনাদার দেওয়ানি আদালতে টাকা আদায়ের মামলা করতে পারবেন।
ঘ) ওয়ারিশদের দায় সীমিত থাকবে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে।

তাই পাওনাদারদের পরামর্শ, চেকদাতার মৃত্যুর পর ফৌজদারি মামলা নিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে দেওয়ানি প্রতিকারের পথে যান এবং তামাদির মেয়াদের দিকে খেয়াল রাখুন।

28/09/2026

"ফাঁকা চেকে পাওনা টাকার চেয়ে বেশি টাকা বসিয়ে ডিজঅনার করা প্রতারণা"

অনেক সময় কোনো ব্যক্তি বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ফাঁকা চেক অন্যের কাছে দিয়ে থাকেন। পরে সেই চেকে প্রকৃত পাওনার চেয়ে অনেক বেশি টাকা লিখে ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে এবং চেকটি ডিজঅনার হলে—এ ধরনের ঘটনা নিয়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে ফাঁকা চেকে প্রকৃত দায়ের চেয়ে বেশি টাকা প্রতারণামূলকভাবে বসানোর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

24 BLC (AD) 139 মামলায় আদালত উল্লেখ করেছেন, ফাঁকা চেকে প্রকৃত দায় বা পাওনার চেয়ে বেশি অর্থের পরিমাণ বসানো এবং তা প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহার করা হলে সেটি fraud-এর উপাদান হতে পারে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত দায়ের চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ ফাঁকা চেকে বসানো একটি fraud-এর উপাদান, যা অনুমোদনযোগ্য নয়; কারণ fraud লেনদেনের মূল ভিত্তিকেই প্রভাবিত করে।

ফাঁকা চেক দিলেই কি ইচ্ছামতো টাকা বসানো যাবে?

না।

কেউ ফাঁকা চেক প্রদান করেছেন—এ কারণে চেকের অর্থের ঘরে ইচ্ছামতো যেকোনো অঙ্ক বসানোর অধিকার সৃষ্টি হয় না। বিশেষ করে চেকদাতার প্রকৃত দায় বা পাওনার চেয়ে বেশি অর্থ বসানো হলে সেই অর্থের বৈধতা ও কীভাবে তা চেকে বসানো হয়েছে—এসব বিষয় আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

চেকে পরবর্তীতে তথ্য পূরণ করা কি সবসময় অবৈধ?

বিষয়টি এত সরল নয়।

রায়ের আলোচনায় বলা হয়েছে, চেকে amount এবং date পূরণ করা material matter। আবার চেকদাতার সম্মতি ছাড়া alteration করা হলে তার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

তবে কোনো ফাঁকা চেকে পরে কত টাকা লেখা হয়েছে, কেন লেখা হয়েছে, চেকদাতা কী অনুমতি দিয়েছিলেন এবং প্রকৃত দায় কত ছিল—এসব বিষয় প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

অর্থাৎ, শুধু “ফাঁকা চেক ছিল” বললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতারণা প্রমাণিত হবে না; একইভাবে ফাঁকা চেক হাতে পাওয়ার কারণে প্রকৃত পাওনার চেয়ে বেশি টাকা বসানোও বৈধ হয়ে যায় না।

কখন বিষয়টি প্রতারণার পর্যায়ে যেতে পারে?

যদি প্রমাণিত হয় যে—

* চেকটি ফাঁকা অবস্থায় দেওয়া হয়েছিল;
* প্রকৃত পাওনা বা দায় ছিল একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ;
* চেকধারী ইচ্ছাকৃতভাবে তার চেয়ে বেশি টাকা চেকে বসিয়েছেন;
* চেকদাতার এমন অর্থ বসানোর সম্মতি ছিল না; এবং
* অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে চেকটি ব্যবহার করা হয়েছে,

তাহলে বিষয়টি fraud বা প্রতারণার প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

আপিল বিভাগের আলোচনায় আরও বলা হয়েছে, যেখানে কাউকে প্রতারিত করার ইচ্ছা (intention) এবং সেই প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার উপায় (means) থাকে, সেখানে fraud-এর উপাদান থাকতে পারে।

আইনি শিক্ষা

এই রায়ের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—ফাঁকা চেক কখনোই ইচ্ছামতো অর্থ বসানোর লাইসেন্স নয়।

কেউ যদি ফাঁকা চেক দিয়ে থাকেন, তাহলে চেকটি কী উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল, প্রকৃত দায় কত ছিল এবং পরে চেকে কীভাবে অর্থের পরিমাণ লেখা হয়েছে—এসব বিষয় ভবিষ্যৎ বিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, কেউ যদি ফাঁকা চেক গ্রহণ করেন, তাহলে প্রকৃত লেনদেন ও পাওনার পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চেক ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং, ফাঁকা চেকে প্রকৃত পাওনার চেয়ে বেশি অর্থ বসিয়ে তা ব্যবহার করার ঘটনা কেবল চেক ডিজঅনারের বিষয় নয়; পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে এটি প্রতারণার প্রশ্নও সৃষ্টি করতে পারে।

📌 রেফারেন্স: 24 BLC (AD) 139
📌 বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ

আপনার কাছে কি ফাঁকা চেক নিয়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে? মতামত কমেন্টে জানাতে পারেন।

Address

Chandmari Ghat Road, Malotinagar , Bogura. Mobile No:+8801712218242
Bogura
5800

Opening Hours

Monday 09:00 - 21:00
Tuesday 09:00 - 21:00
Wednesday 09:00 - 21:00
Thursday 09:00 - 21:00
Friday 09:00 - 21:00
Saturday 09:00 - 21:00
Sunday 09:00 - 21:00

Telephone

+8801712218242

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Roy Law Chamber Bogra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Roy Law Chamber Bogra:

Shortcuts

Share